ট্রাভেলার এবং ট্যুরিস্ট এর মাঝে পার্থ্ক্য কি?

  • Mohammad Emran 180 20/12/2018

আমাদের দেশে আমরা বেশীরভাগ মানুষই বুঝিনা কোনটি ট্রাভেল আর কোনটি ট্যুরিজম। আমরা কেন ভ্রমণ করি সেটাই আমাদের কাছে পরিষ্কার নয়। ফলে আমরা ভ্রমণ আর পর্যটন এক করে ফেলি। এতে করে প্রতিটি সফর আমাদের ব্যর্থ হয়। সেখানে কিছু খাবার খাওয়া আর সেলফি তোলা ছাড়া আমাদের কিছুই থাকে না। আবার আমরা ট্রাভেল এবং ট্যুরিজমকে এক করে ফেলি। তারপর উভয়ের খরচ নিয়ে তুলনা করি, সুযোগ সুবিধা একই রকম আশা করি পুরো বিষয়টা না বুঝে সমালোচনা করি। আসুন আমরা আজ ট্যুর এবং ট্রাভেল সম্পর্কে জেনে নিই।

 

পার্থক্য

ট্রাভেলার

ট্যুরিস্ট

১. কাকে বলে

১. ভ্রমণ হচ্ছে লোকজনের তুলনামুলকভাবে দূরতম ভৌগোলিক স্থানের মধ্যে নানাবিধ উদ্দেশ্যে বা দেখার উদ্দেশ্য চলন বা গমন করা। সাধারণত কষ্টকর জার্নিকে ট্রাভেল বলা হয় ট্যুর নয়। ট্রাভেলার মানে হলো সেসব ভ্রমণকারী যারা আরাম আয়েশ ত্যাগ করে বিলাসী ভ্রমণের চেয়ে কষ্টকর ভ্রমণ করে থাকেন। ট্রাভেলার বলতে বাঁধনহারা, উদ্দেশ্যহীন কঠিন ভ্রমণকেও বোঝানো হয়, যারা হয়তো ব্যাগপ্যাক নিয়ে কিংবা ব্যাকপ্যাক ছাড়া বেরিয়ে পড়তে পারেন।

পর্যটন হচ্ছে দূরে বা কাছে অবকাশ যাপন অথবা দেখা কিংবা ধর্মীয়, খেলা, কনফারেন্স, চিকিৎসা, শিক্ষা ইত্যাদি কর্মকান্ডে গমন করা। আর ট্যুরিস্ট বলতে আয়েশী ভ্রমণকারীদের বোঝায়। যারা পরিবার নিয়ে একটু বেশি নিরাপত্তার সঙ্গে ঘুরে আসতে বেরিয়ে পড়েন তাদের আমরা ট্যুরিস্ট বলে থাকি। যদিও আজকাল কিছু কষ্টকর জার্নি এডভেঞ্চার ট্যুরিজম নামে পরিচিত হলেও সেটা মূলত রেগুলার ট্যুরিজম বা পর্যটন নয়।

২. সময়ের হিসেবে

খুব স্বাভাবিক অর্থে যিনি ভ্রমণ করেন তিনি ভ্রমণকারী বা যিনি ট্রাভেল করেন তিনি ট্রাভেলার। শুধু কোথাও যাওয়া আসা করলেও ট্রাভেলার হিসেবে গন্য করা যায়।

একজন ট্রাভেলার কতসময় অবস্থান করছেন সেটা বিবেচ্য নয়।

 

কোনো ব্যক্তি যদি ২৪ ঘন্টার কম সময়ের জন্য অন্যদেশে যান তিনি  ট্যুরিস্ট বা পর্যটক নন। ১৯৩৬ সালে জাতিসংঘ বিদেশী পর্যটকের সংজ্ঞা নির্ধারিত করেছিল। এতে বলা হয়েছিল যে, বাইরের দেশে কমপক্ষে ২৪ ঘন্টা অবস্থান করবেন তাঁরা পর্যটকরূপে বিবেচিত হবেন।

৩. গমনাগমন

ভ্রমণ ওয়ান ওয়ে হতে পারে আবার আপডাউনও হতে পারে। মানে ভ্রমণে কেবল আসা থাকতে পারে বা কেবল যাওয়া থাকতে পারে।

পর্যটনে আসা যাওয়া দুইই থাকতে পারে। যেমন, একজন মানুষ স্থায়ীভাবে বাংলাদেশে এসে আর যাননি তিনি পর্যটক নন।

৪. উদ্দেশ্য

যেকোনো উদ্দেশ্যে মানুষ ভ্রমণ করতে পারে। যেকোনো উদ্দ্যেশে লোকেরা অনস্থানে গমন করলে সেটা ভ্রমণ হতে পারে। সেটা স্থানীয় অর্থনীতির উপর প্রভার ফেলতে পারে আবার নাও ফেলতে পারে।

 

সাধারণত অবকাশ যাপন পর্যটনের মধ্যে পড়লেও আজকাল অর্থনীতির উপর কোনো প্রভাব ফেলে তাহলে সেটাই পর্যটনের মধ্যে পড়ে যায়।

৫. সেবাগ্রহণ শর্ত

কোনো স্থান গমনাগমন করলে তা ট্রাভেল হয়। ট্রাভেলার হওয়ার জন্য সেখানে বাস্থান ও খাবারসেবা নেয়া জরুরী নয়। যিনি ট্রাভেলার হবেন তাকে কেবল একটি শর্ত সেটা হলো ভ্রমণ করা।

 

 

 

কোনো দেশ দেখা, সেদেশের খাবারের স্বাদ নেয়া ইত্যাদি কারণেও পর্যটন হতে পারে। পর্যটক হওয়ার জন্য আপনাকে সেখানে কিছু একটিভিতে অংশ নিতে হবে যেমন, খাবার গ্রহণ, (Food) স্থান দেখা, (Sight Seeing) সেখানে অবস্থান করা (Accomodation)ও স্মারকপন্য (Souvenir) কেনা ইত্যাদি।

 

৬. পরিচয় বা কারা ট্রাভেলার বা ট্যুরিস্ট

আবার গহীন অরন্যে কষ্টকর ভ্রমণকারী ট্রাভেলার তিনি ট্যুরিস্ট নন। একজন সাইক্লিস্ট যিনি সাইকেলে ভ্রমণ করেন এবং রাতে ক্যাম্প বানিয়ে রাতযাপন করেন তিনি ট্রাভেলার হবেন। যেমন একজন মরু অভিযাত্রীর অভিযান ট্রাভেল এর পর্যায়ে পড়ে।  যেমন একজন এভারেস্ট অভিযাত্রীর অভিযান ট্রাভেল এর পর্যায়ে পড়ে।

যিনি পরিবারের সাথে অবকাশ যাপনে যান তিনি ট্যুরিষ্ট। যিনি সমুদ্র সৈকতে রেস্টে আসেন তিনি ট্যুরিস্ট। আজকাল হজ্জযাত্রী, চিকিৎসা যাত্রী, কনফারেন্স অতিথিদের পর্যটক হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তবে গহীন পাহাড়ে গিয়েও কেউ বিলাসী জীবনের স্বাদ নিলে তাকেও ট্যুরিস্ট হিসেবে ধরা হয়।

৭. কারা ট্রাভেলার বা ট্যুরিস্ট নয়

বর্তমানে নন রেসিডেন্সিয়াল নাগরিকদের পর্যটক হিসেবে বিবেচনা করা হয় যদি তারা ২৪ ঘন্টার বেশী ও ৬ মাসের কম সময় অবস্থান করেন এবং একজন পর্যটকের মতোই অর্থনৈতিক কর্মকান্ডে অংশ নেন। তারা ট্রাভেলার নন। আয়েশি কোনো সফরই ট্রাভেল নয় সেটা ট্যুরিজম।

যারা কাজের বা উপার্জনের উদ্দেশ্যে ভ্রমণ করেন তারা পর্যটক নন কিন্তু ভ্রমণকালীন অবস্থায় তিনি একজন ট্রাভেলার। যেমন একজন মানুষ সকালে ভারতে গেলো আর বিকেলে চলে আসলো তিনি পর্যটক নন ট্রাভেলার। আবার একজন মানুষ আমেরিকা গিয়ে ৫ বছর থাকলো তিনিও সেদেশের জন্য পর্যটক নন।

 

১. ভ্রমণ হচ্ছে লোকজনের তুলনামুলকভাবে দূরতম ভৌগোলিক স্থানের মধ্যে নানাবিধ উদ্দেশ্যে বা দেখার উদ্দেশ্য চলন বা গমন করা। সাধারণত কষ্টকর জার্নিকে ট্রাভেল বলা হয় ট্যুর নয়। ট্রাভেলার মানে হলো সেসব ভ্রমণকারী যারা আরাম আয়েশ ত্যাগ করে বিলাসী ভ্রমণের চেয়ে কষ্টকর ভ্রমণ করে থাকেন। ট্রাভেলার বলতে বাঁধনহারা, উদ্দেশ্যহীন কঠিন ভ্রমণকেও বোঝানো হয়, যারা হয়তো ব্যাগপ্যাক নিয়ে কিংবা ব্যাকপ্যাক ছাড়া বেরিয়ে পড়তে পারেন।

পর্যটন হচ্ছে দূরে বা কাছে অবকাশ যাপন অথবা দেখা কিংবা ধর্মীয়, খেলা, কনফারেন্স, চিকিৎসা, শিক্ষা ইত্যাদি কর্মকান্ডে গমন করা। আর ট্যুরিস্ট বলতে আয়েশী ভ্রমণকারীদের বোঝায়। যারা পরিবার নিয়ে একটু বেশি নিরাপত্তার সঙ্গে ঘুরে আসতে বেরিয়ে পড়েন তাদের আমরা ট্যুরিস্ট বলে থাকি। যদিও আজকাল কিছু কষ্টকর জার্নি এডভেঞ্চার ট্যুরিজম নামে পরিচিত হলেও সেটা মূলত রেগুলার ট্যুরিজম বা পর্যটন নয়।

 

২. খুব স্বাভাবিক অর্থে যিনি ভ্রমণ করেন তিনি ভ্রমণকারী বা যিনি ট্রাভেল করেন তিনি ট্রাভেলার। শুধু কোথাও যাওয়া আসা করলেও ট্রাভেলার হিসেবে গন্য করা যায়।

যিনি ছয় মাসের সময়ের মধ্যে কোন স্থানে ভ্রমণ ও নিজ অবস্থানের বাইরে দর্শনীয় স্থান পরিদর্শনের উদ্দেশ্যে অবসর, বিনোদন বা ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ড পরিচালনাসহ অন্যান্য বিষয়াদির সাথে জড়িত থাকেন, তিনি পর্যটক বা ট্যুরিস্ট।

৩. ভ্রমণ ওয়ান ওয়ে হতে পারে আবার আপডাউনও হতে পারে। মানে ভ্রমণে কেবল আসা থাকতে পারে বা কেবল যাওয়া থাকতে পারে।

পর্যটনে আসা যাওয়া দুইই থাকতে পারে। যেমন, একজন মানুষ স্থায়ীভাবে বাংলাদেশে এসে আর যাননি তিনি পর্যটক নন।
 

৪. যেকোনো উদ্দেশ্যে মানুষ ভ্রমণ করতে পারে। যেকোনো উদ্দ্যেশে লোকেরা অনস্থানে গমন করলে সেটা ভ্রমণ হতে পারে। সেটা স্থানীয় অর্থনীতির উপর প্রভার ফেলতে পারে আবার নাও ফেলতে পারে।

সাধারণত অবকাশ যাপন পর্যটনের মধ্যে পড়লেও আজকাল অর্থনীতির উপর কোনো প্রভাব ফেলে তাহলে সেটাই পর্যটনের মধ্যে পড়ে যায়।

 

৫. কোনো স্থান গমনাগমন করলে তা ট্রাভেল হয়। ট্রাভেলার হওয়ার জন্য সেখানে বাস্থান ও খাবারসেবা নেয়া জরুরী নয়।

কোনো দেশ দেখা, সেদেশের খাবারের স্বাদ নেয়া ইত্যাদি কারণেও পর্যটন হতে পারে।

 

৬.  একজন ট্রাভেলার কতসময় অবস্থান করছেন সেটা বিবেচ্য নয়।

কোনো ব্যক্তি যদি ২৪ ঘন্টার কম সময়ের জন্য অন্যদেশে যান তিনি  ট্যুরিস্ট বা পর্যটক নন। ১৯৩৬ সালে জাতিসংঘ বিদেশী পর্যটকের সংজ্ঞা নির্ধারিত করেছিল। এতে বলা হয়েছিল যে, বাইরের দেশে কমপক্ষে ২৪ ঘন্টা অবস্থান করবেন তাঁরা পর্যটকরূপে বিবেচিত হবেন।

 

৭.যিনি ট্রাভেলার হবেন তাকে কেবল একটি শর্ত সেটা হলো ভ্রমণ করা। কেবল একস্থানে গেলেন আর ফিরে আসলেন তাতেও আপনি সেখানকার জন্য ট্রাভেলার হতে হবেন।

পর্যটক হওয়ার জন্য আপনাকে সেখানে কিছু একটিভিতে অংশ নিতে হবে যেমন, খাবার গ্রহণ, (Food) স্থান দেখা, (Sight Seeing) সেখানে অবস্থান করা (Accomodation)ও স্মারকপন্য (Souvenir) কেনা ইত্যাদি।

 

৮. ভ্রমণ এবং পর্যটনের পার্থক্য যেমন অতি সূক্ষ্ম ও শর্তসাপেক্ষ তেমনি ট্রাভেলার্স ও ট্যুরিস্টদের মধ্যে পার্থক্য করাও খুব কঠিন। কেউ একাধারে ট্যুরিস্ট ও ট্রাভেলার হতে পারেন। মূলত বেশীরভাগ মানুষই একাধারে ট্যুরিস্ট এবং ট্রাভেলার্স। কারণ দুটোই অর্থনৈতিক কর্মকান্ডকে প্রভাবিত করে। কার্যত আধুনিক যুগে অর্থনৈতিক কর্মকান্ডের এক রেখায় চলে এসেছে ট্রাভেল এবং ট্যুরিজম এর পার্থক্য। তবে শুধুমাত্র যিনি ভ্রমণে পরিবহন (Tranportation) সেবা নেন অন্যকোনো সেবা নেননা তিনি একজন ট্রাভেলার্স হতে পারেন কিন্তু ট্যুরিস্ট নন।

আবার গহীন অরন্যে কষ্টকর ভ্রমণকারী ট্রাভেলার কিন্তু ট্যুরিস্ট নন।

একজন সাইক্লিস্ট যিনি সাইকেলে ভ্রমণ করেন এবং রাতে ক্যাম্প বানিয়ে রাতযাপন করেন তিনি ট্রাভেলার হবেন। যেমন একজন মরু অভিযাত্রীর অভিযান ট্রাভেল এর পর্যায়ে পড়ে।  যেমন একজন এভারেস্ট অভিযাত্রীর অভিযান পর্যটনের পর্যায়ে পড়তে পারে আবার নাও পড়তে পারে।  যারা কাজের বা উপার্জনের উদ্দেশ্যে ভ্রমণ করেন তারা পর্যটক নন কিন্তু ভ্রমণকালীন অবস্থায় তিনি একজন ট্রাভেলার। কিন্তু যারা লেখাপড়ার উদ্দেশ্যে আসেন তারা যদি কাজে জড়িয়ে না পড়েন তাহলে তারাও পর্যটক। যেমন একজন মানুষ সকালে ভারতে গেলো আর বিকেলে চলে আসলো তিনি পর্যটক নন ট্রাভেলার। আবার একজন মানুষ আমেরিকা গিয়ে ৫ বছর থাকলো তিনিও সেদেশের জন্য পর্যটক নন। যিনি ২৪ ঘন্টার বেশী এবং ৬ মাসের কম সময়ের জন্য অন্যদেশে বা এলাকায় ভ্রমণে যাবেন তিনি পর্যটক হিসেবে বিবেচিত হবেন। যেমন বিমানের ক্রু পর্যটক নন। অভিবাসীরা ওয়ানওয়ে ট্রাভেলার হতে পারেন কিন্ত পর্যটক নন। যদিও বর্তমানে নন রেসিডেন্সিয়াল নাগরিকদের পর্যটক হিসেবে বিবেচনা করা হয় যদি তারা ২৪ ঘন্টার বেশী ও ৬ মাসের কম সময় অবস্থান করেন এবং একজন পর্যটকের মতোই অর্থনৈতিক কর্মকান্ডে অংশ নেন।



আরও পড়ুন...