বিনাপুঁজিতে ব্যবসা করার ১০টি চরম আইডিয়া

  • Mohammad Emran 860 22/10/2018

আমরা অনেকে বলি, আমার টাকা পয়সা নেই। অথচ আমি ব্যবসা করতে চাই। টাকা পয়সা না থাকার কারণে ব্যবসা করতে পারছিনা। কিন্তু দেখুন আজকের সকল ব্যবসায়ীদের জীবন ঘাটলে দেখা যায় তারা অনেকেই বাপের পকেট থেকে টাকা এনে আজ বড়ো ব্যবসায়ী হয়নি। তারা জীবনে কিছু পথ খুঁজে নিয়েছে সেখান থেকে সুযোগকে কাজে লাগিয়ে বিনা পুঁজিতে নিজেকে ব্যবসা করেছে। পরবর্তীতে ব্যবসাকে বড়ো করার জন্য হয়তো তাদের নিজের লাভের টাকার সাথে কোনো বিনিয়োগ বা লোন নিয়েছে।

আপনার যদি টাকা না থাকে। শুরুতে স্বাধীনভাবে ইনকাম করার জন্য আপনি কিছু উপায় অবলম্বন করতে পারেন। আজ সেগুলো নিয়ে আমরা আলোচনা করব।

১. এফ কমার্স

আমরা জানি ফেসবুকে দোকান খুলে ব্যবসা করা যায়। অনেকে এই কাজে ভালো করছে। আপনিও এই মাধ্যমটিকে কাজে লাগাতে পারেন। ফেসবুকে শপ খুলে শুরু করতে পারেন বেচাকেনার কাজ। প্রশ্ন হলো ফেসবুক না হয় কোনো টাকা নেবেনা। কিন্তু যে পন্যগুলো কিনে আনবো সেগুলো কিনতেতো টাকা লাগবে। এক্ষেত্রে আপনি একটা কৌশল অনুসরণ করতে পারেন। আপনি এমন একটা পন্য বেছে নিতে পারেন যেটার আপনার পরিচিত কারো সে ব্যবসা, ফ্যাক্টরী বা দোকান আছে। আপনি সুন্দর ছবি তুলে পোস্ট করবেন। আর অর্ডার পাওয়ার পর ডেলিভারী করে মূল্য পরিশোধ করবেন।

২. অনলাইন শপ বাই মোবাইল:

এ্যাফিলিয়েটেড মার্কেটিং। এটা এক ধরনের অনলাইন দালালী। আপনি বিভিন্ন অনলাইন কোম্পানীর পন্য আপনার রেফারেন্সে আপনার সাইট থেকে বিক্রয় করে দেবেন বিনিময়ে তারা আপনাকে কমিশন দেবে। এটা হতে পারে বিমান টিকেট কিংবা হোটেল বুকিং। হতে পারে অন্যকোনো পন্য। বাংলাদেশেও এর সুযোগ রয়েছে।

  বাইমোবাইল নামে একটি অনলাইন শপ তাদের অনলাইন পোর্টালের মাধ্যমে এই সুযোগ করে দিয়েছে। মাইশপে সাইন-আপ করে যে কেউ একটি নিজস্ব স্টোর তৈরি করতে পারবে বিনামুল্যে, এবং বাইমোবাইলে যত রকম পণ্য রয়েছে সে তার স্টোরে যুক্ত করতে পারবে। তার স্টোরে যুক্ত পণ্যের লিংক থেকে বিক্রি হওয়া প্রতিটি পণ্যের মুল্যের ভিত্তিতে তার অ্যাকাউন্টে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ কমিশন যুক্ত হবে।

 

৩. ফ্রি ল্যান্সিং:

 ফ্রি ল্যান্সিং কথাটা ইদানিং বহল প্রচলিত। যেকোনো স্বাধীন পেশাই ফ্রি ল্যান্সিং। যেমন অনকলে ডাক্তার, বাসার ছুটা বুয়া এরা সবাই ফ্রি ল্যান্সিং করে। যদিও আমরা ফ্রি ল্যান্সিং বলতে অনলাইন ফ্রি ল্যান্সিং বুঝি। আপনি যদি কোনো লেখালেখি, অনুবাদ, ডেটা এন্ট্রি, গবেষণা, ডিজাইন, এনিমেশন, সফটওয়ার ওয়েব ডিজাইন এসব কিছুর যেকোনো একটা কিছু পারেন তাহলে আপনি আউটসোর্সিং সাইটগুলোতে একাউন্ট করে বিনাপুজিতে আয় করতে পারেন। বিস্তারিত জানতে ইউটিউবের বিভিন্ন ভিডিও দেখে নিতে পারেন।

৪. ট্যুরিজম ও বুকিং

আমরা জানি অনেকে আজকাল বিনাপুঁজিতে ট্যুরিজম ব্যবসা করে। যেমন ফেসবুকে একটি পেজখুলে ইভেন্ট দেয়। তারপর আগ্রহীদের কাছ থেকে বুকিং নিয়ে সেটাকা দিয়ে ট্যুর পরিচালনা করে ব্যবসা করে। কিন্তু আমরা এটাও জানি যারা এভাবে করতে গেছে তারা প্রায় সবাই ধরা খেয়েছে। কারণ প্রথমত ট্রিপে ১০-১৫ জনের কম হলে ট্রিপ সফল করা যায়না এবং লাভ হয়না। কিন্তু বেশীরভাগ সময় ৫/৬ জনের বেশী লোক হয়না। আরেকটি কারণ হলো বেশীরভাগ লোক ছুটির দিনে যেতে চায়। অথচ ছুটির দিনে বড়ো বড়ো কোম্পানী সব হোটেল বুকিং দিয়ে রাখে আগেই। ফলে তাদের সাথে প্রতিযোগিতা করা যায়না।

কিন্তু একটু অন্যভাবে করলে এই ব্যবসা থেকে টেনশন ছাড়া ইনকাম করা যায়। যেমন আমরা যদি নিজে কোনো ট্রিপ না দিয়ে প্রতিষ্ঠিত কোম্পানী গুলোর ট্রিপ সেল করি। সেক্ষেত্রে আমাকে অগ্রিম বুকিং দিয়ে হোটেল বুক করতে হবে না আবার লোক কম হলেও ট্রিপ ক্যানসেল করতে হবেনা। আমি যদি ৫ জন লোকও পাই ৫০০ টাকা করে হলে ২৫০০ টাকা। এভাবে যদি মাসে ১০টি ট্রিপ সেল করি তাতেই হয়ে যায়। আপনি www.tour.com.bd এর সাথে যোগাযোগ করতে পারেন।

 

৫. বিভিন্ন প্রশিক্ষণ:

অবাক হচ্ছেন তাইনা? আসলে অবাক হওয়ার মতো ব্যপার। প্রশিক্ষণ দিয়ে আপনি বিনাপুঁজিতে রুজি করতে পারেন। ভাবছেন এটাইতো সবচেয়ে বড়ো পুঁজির মামলা। একটা ট্রেনিং সেন্টার ভাড়া নিতে হবে। ডেকোরেশন করতে হবে। আরো কতো কি? সঠিকভাবে সঠিক কাজটি করতে পারলে কিছুই করা লাগবেনা। শুনুন তাহলে। সেসব কোচিং বা ট্রেনিং সেন্টারে সারাদিন ক্লাস হয়না। সেগুলো একটার সাথে কন্টাক্ট করুন। এভাবে যে আমি আপনার এখানে কম্পিউটার শেখাবো। যখন আপনার ক্লাস থাকে না তখন। বিনিময়ে আমি কোনো ভাড়া বা এডভান্স দেবনা। আমি যদি স্টুডেন্ট প্রতি ৩ হাজার টাকা পাই তাহলে আপনি পাবেন ১ হাজার টাকা। ৩ জন হলে পাবেন ৩ হাজার টাকা আর ১০ জন হলে পাবেন ১০ হাজার টাকা। এতে করে আসলে আপনি তার সাথে যৌথভাবে ট্রেনিং ব্যবসায় শুরু করলেন। তার বিনাপুঁজিতে। কারণ টাকাটাতো আপনি তাকে দেবেন শিক্ষার্থীর কাছ থেকে নেয়ার পর। ঢাকার বাড্ডায় বনিক কো ওয়ার্কিং স্পেসে এরকম একটি ট্রেনিং সেন্টার রয়েছে। চাইলে সেখানে যোগাযোগ করতে পারেন।

 

৬. ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট

এখনকার দিনে গায়ে হলুদ, বৌভাত, বিয়েবার্ষিকী, জন্মদিনের অনুষ্ঠান ইত্যাদি ডেকোরেশনের দায়িত্ব আয়োজকরা ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট টিমের কাছে দেয়। আকর্ষণীয় ব্যক্তিত্ব ও কমিউনিকেশন স্কিল, একটু সাহসী, বুদ্ধিমান ও আত্মবিশ্বাসী হলে নিজ উদ্যোগেই প্রতিষ্ঠা করে ফেলতে পারেন ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট ফার্ম। তবে বড়ো বড়ো কোম্পানীর কাজ পেতে আপনাকে হয়তো ওয়েবসাইট বানাতে হতে পারে বা কিছু আগেই খরচ করার দরকার হতে পারে। পরিচিতদের মধ্যে ছোটখাটো কাজ করার জন্য তারাই আপনাকে অগ্রিম পে করবে। অবশ্যই সেভাবে নিজেকে তুলে ধরতে হবে। আর একাজে অভিজ্ঞতা থাকাও জরুরী।

 

৭. অনলাইনে কর্মাশিয়াল কনটেন্ট:

আজকাল নিজেদের ওয়েবসাইটে দেয়ার জন্য বিভিন্ন ধরনের ভালো মানের কনটেন্ট দরকার হয়।  আবার অনেক ওয়েবসাইট আছে যেগুলোতে ভিজিটর আনার জন্য ব্লগ থাকে। আপনার যদি লেখার হাত থাকে। আর আপনি যদি সেসব বিষয়ে লিখতে পারেন। তাহলে ব্লগ লিখেও আয় করতে পারেন। বাংলা  এবং ইংরেজী উভয় ধরনের ব্লগ লিখে আয় করা যায়। যেসব বিষয়ে লিখলে ভিজিটর বেশী হয় সেগুলো হলো, ট্যুরিজম, লাইফ স্টাইল, স্বাস্থ্য, প্রোডাক্টস রিভিউ, টেকনিক্যাল নলেজ, টিউটোরিয়াল ইত্যাদি। এই বিষয়ে ভালো করার জন্য আপনার যেমন জানতে হবে লেখালেখির বিভিন্ন দিক। লেখাও হতে হবে ইউনিক, সুন্দর ও সুখপাঠ্য। আর সবচেয়ে যেটা বেশী জানা দরকার সেটা হলো এসইও ও কী ওয়ার্ড রিসার্চ। আপনাকে অবশ্যই কী ওয়ার্ড রিসার্চ করে জানতে হবে কিভাবে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে লেখাটি লিখলে তাতে গুগল সার্চিংএ সহজে পাওয়া যাবে।

 

৮. ভার্চুয়াল চালান:

শুনতে অদ্ভুত লাগলেও এই কাজটি আপনি নিজেই অহরহ করে থাকেন ব্যাংক কিংবা কোন আর্থিক প্রতিষ্ঠানে। আপনার একটি নিজস্ব ওয়েবসাইট থাকলে সেখানে গুগল চেকআউটের মত ট্রানজেকশন হ্যান্ডল করতে পারেন। বিভিন্ন ব্র্যান্ড তাদের অনলাইন চালানসমূহ অর্গানাইজ করার জন্য আপনাকে খুঁজে নেবে। আপনি তাদের সাইট থেকে পণ্যের ছবি বিবরণ কপি করে নিজের ওয়েবসাইটে আনুন। তারপর নির্দিষ্ট আর্থিক চুক্তির বিনিময়ে নেমে পড়ুন পণ্য বিক্রয়ে।

 

৯.  : হোস্টিং রিসেলার ঃ 

একজন হোস্টিং রিসেলার হয়ে আপনি ক্রয়কৃত হোস্টিং সেবাটি আপনি নিজের সুবিধামত প্লান তৈরি করে আবার অন্যের কাছে সেল করতে পারেন। এটাই রিসেলার হোস্টিং। যেকোনো ব্যবসার চেয়ে এটা সহজ ও নিরাপদ। সেজন্য আপনাকে দেশীয় কোনো ভালো কোম্পানীর হোস্টিং রিসেলার হতে হবে। এবং হোস্টিং সম্পর্কে ধারণা থাকতে হবে। এক্ষেত্রে আপনি jolpaihost.com দেখতে পারেন। 

 একজন রিসেলার হিসেবে আপনি আপনার হোস্টিং বিভিন্ন ক্লায়েন্ট এর কাছে সেল করতে পারবেন। আপনি প্রত্যেকটি আলাদা আলাদা প্লানের বিস্তারিত বিষয়ে আপনি সহজেই হিসাব রাখতে পারবেন। বাসায় বসে সহজে করা যায় এটা ভদ্রলোকের ব্যবসা বলে আজকাল শিক্ষিত ছেলেমেয়েরা এই পেশায় ঝুঁকছে। কেউ যদি মনে করেন আমি আইটিতে লেখাপড়া করিনি আমি এই ব্যবসায় করতে পারবনা। তাহলে আপনার ধারণা ভুল। আপনি হোস্টিং সম্পর্কে কয়েকদিন সময় দিয়ে একটু ভালো করে জেনে নিলেই হবে। তাছাড়া এজন্য আপনাকে আপনার হোস্টিং কোম্পানী সবকিছু বুঝিয়ে দেবে।

 

১০. ক্রস বর্ডার ই কমার্স

বাংলাদেশে কিছু ই-কমার্স আছে। যারা পরের ধনে পোদ্দারী করে। তাদের চালাকিটা হলো তারা এমন কিছু পন্য বিক্রয় করে যেগুলো শুধু তাদের সাইটে পাওয়া যায় হতে পারে কসমেটিক্স কিংবা গহনা অথবা মূল্যবান কোনো পাথর বা ফ্যাশন আইটেম। তারা বিদেশী সাইট থেকে ছবি নিয়ে নিজের সাইটে দেয়। তারপর অর্ডার নেয়ার সময় অগ্রিম বা ৫০% টাকা নিয়ে নেয়। তারপর সে টাকা দিয়ে পন্যগুলো চায়ণা কিংবা সেদেশে থেকে কিনে এনে দেয়। এভাবে আপনি চাইলে প্রথমদিকে ফেসবুকের মাধ্যমে পরে ওয়েবসাইট খুলে এই ব্যবসা করতে পারেন। তবে সেজন্য আপনার প্রথমে যেটা দরকার হবে সেটা হবে এমন একটি ব্যবসায়িক চ্যানেল যারা আপনাকে সঠিক সময়ে সঠিক দামে পন্যটি এনে দিতে পারবে।

 

অনেকে বলে থাকে, মোম, কয়েল, সাবান, কলম এসব ব্যবসা অল্প পয়সায় করে শিল্পপতি হওয়া যায়। কথাটা সঠিক নয়। কারণ এখন এলইডি চার্জার লাইট আসার পর মোমের বিক্রি কমে গেছে। কয়েলের বাজারে প্রচুর কম্পিটিশিন, আর ব্রান্ডের সাবান ছাড়া মানুষ অন্য সাবান ব্যবহার করে না আর কলমের ক্ষেত্রে মার্কেটে অন্যরা যে দামে কলম দেয় আপনি সে দামে পারবেন না। আজ পর্যন্ত এরকম ক্ষুদ্র কোনো কলম ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠিত হয়নি। তারচেয়ে অনলাইন ব্যবসাগুলো নিরাপদ যদি আপনি শিখে নিতে পারেন।



আরও পড়ুন...