কেন, কিভাবে জনপ্রিয় হলো সুন্দরবনের রাসমেলা?

  • Ratul Islam 1123 30/09/2018

প্রতি বছর কার্ত্তিক মাসের পূর্নিমা তিথিতে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের রাসমেলা বসে। এটা মূলত মনিপুরীদের উৎসব। রাস মানে রস তবে এই রস রাধাকৃষ্ণের আধ্যাত্মিক প্রেমরস। একে রাস উৎসব ও রাসলীলাও বলা হয়। বাংলাদেশের সুন্দরবনের দুবলার চর, কুয়াকাটা, দিনাজপুরের কান্তজিও মন্দির ও মৌলভিবাজারে এই রাস উৎসবকে ঘিরে রাসমেলা অনুষ্ঠিত হয়। তারপরে রয়েছে কুয়াকাটা, দিনাজপুর ও মৌলভী বাজারের রাস উৎসব ও মেলা। এছাড়া ভারতের কুচবিহারের বিশাল আড়ম্বরে রাসমেলা অনুষ্ঠিত হয় এই মেলা নীল কমল নামে পরিচিত। 

দুবলার চর দ্বীপটি এমনিতে পূণ্যস্নানের জন্য  বিখ্যাত। সাম্প্রতিক সময়ে সুন্দরবনের গভীরে ও সমুদ্রতটে অবস্থান বলে দুবলার চরের রাসমেলা পর্যটকদের কাছে সবচেয়ে বেশী জনপ্রিয়। এখানে প্রায় ২০০ বছরে ধরে চলে আসছে রাস উৎসব। হাজারো মানুষের সমাগমকে ঘিরে পসরা সাজায় মৌসুমী বিক্রেতারা। রাসউৎসবের মূল আয়োজন মনিপুরী নৃত্য। রাধা ও কৃষ্ণের প্রেমলীলাকে বিভিন্ন ভাবে নাচে ও গানে ফুটিয়ে তোলে ভক্তরা।  প্রতিবছর অসংখ্য হিন্দুএসময় পূন্যস্নান করতে আসেন।  সূর্যোদয়ের পর  জলে  তারা ভাসিয়ে দেন দেবতার ভোগ বা নানা ফল-ফলাদি।

আব্দুল জলিলের সুন্দরবনের ইতিহাস গ্রন্থ থেকে জানা যায়, বিংশ শতাব্দীর দ্বিতীয় দশকে ফরিদপুর জেলার ওড়াকান্দি গ্রামের জনৈক হরিচাঁদ ঠাকুর স্বপ্নাদিষ্ট হয়ে পূজা পার্বণাদি ও অনুষ্ঠান শুরু করেন দুবলার চরে গিয়ে। তারপর থেকে মেলা বসছে। সুন্দরবনে রাসমেলাকে জনপ্রিয় করে তুলেছেন মেজর জিয়া উদ্দীন ওরফে বাঘমামা খ্যাত একব্যক্তি। একসময় জলদস্যুদের ভয়ে সুন্দরবনে গভীরে যাওয়ার চিন্তাই কেউ করতো না। তিনি প্রথমদিকে জলদস্যুদের একরকম ম্যানেজ করেই বাইরের জগতের লোকদের সেখানে নিয়ে যান। পরে রাসমেলাকে কেন্দ্র করে প্রচুর আর্থিক লেনদেন হয় এতে স্থানীয়রা লাভবান হলে জলদস্যুরা এ ব্যাপারে শিথিলতা দেখায় এভাবে রাসমেলা হয়ে উঠে বাংলাদেশের অন্যতম পর্যটন আকরষণ। 

সুন্দরবনে রাসমেলা মাছের মৌসুমে, তখন প্রায় ১২ হাজার জেলে অস্থায়ী ডেরা গেড়ে দুবলার চরে। তারা এখানে শুঁটকিও তৈরিকরে। দেখা যাবে জেলেদের জীবনধারা।এখানে উভচর, সরীসৃপ, স্তন্যপায়ী প্রাণী, ডাঙায় বাঘ আর জলে কুমির। হরিণ কিংবাপাখির কুজনতো আছেই।  আছে  বানর, মদনট্যাক, মাছরাঙ্গা।  

এই মেলা যখন হয় তখন আগে থেকেই অগ্রিম বুকিং থাকে এখানকার বোটগুলো। তাই রাসমেলায় যেতে আগে থেকে প্রস্তুতি নিতে ভুলবেন না।

দরকারী তথ্য
সন্ধ্যায় ৮টায় ঢাকা থেকে খুলনা বা মংলাগামী বাসে ধরে অথবা কল্যাণপুর বা গাবতলী দিয়ে খুলনার বাসে উঠতে হবে। রাতভর বাসে থেকে সকালে নেমে রিকসায় করে ঘাট পর্যন্ত তারপর। সুন্দরবনের ভেতর দিয়ে দুবলার চর যাবার ৮টি রুট থাকলেও জনপ্রিয় রুট ২টি।প্রতিবছর অসংখ্য হিন্দুএসময় পূন্যস্নান করতে আসেন।  সূর্যোদয়ের পর  জলে  তারা ভাসিয়ে দেন দেবতার ভোগ বা নানা ফল-ফলাদি।

এক. রিজার্ভ ট্যুরিস্ট বোট অথবা সাধারণ ট্রলারে, রিজার্ভ ট্যুরিস্ট বোটে যেতে হলে আপনাকে নন-এসিতে আট হাজার থেকে ১৪হাজার টাকা আর এসি শিপ ১২ হাজার থেকে ২০ হাজার টাকা খরচ করতে হবে, এটা বোট ভাড়া। এক ভোটে ১০-১৫ জন যেতে পারেন

ঘুমাতে হবে ট্রলারে, রান্না খাওয়া, টয়লেট সব বোটেই করতে হবে। চারদিকে অনিন্দ্য প্রকৃতি হলেও বোটের শ্যালো মেশিনের শব্দ মাঝে মধ্যে বিরক্ত করে তুলতে পারে।

খাবার জন্য ট্যরি কোম্পানীগুলো বিভিন্ন প্যাকেজ অফার করে। কখনো সুন্দরবনে একা যাওয়ার চেষ্টা করবেন না। কারণ সুন্দর বনে যেতে হলে বনবিভাগের অনুমতি নিতে হয়। এবং সেজন্য ফিও দিতে হয়। দিতে হয় দুইজন প্রহরীর সম্পূর্ণ খরচ। তাই একা গেলে খরচেও পোষাবেনা। তাছাড়া কোথায় কখন কি দেখা যাবে সেটা না জানলে অনেক কিছু মিস করবেন। সবচেয়ে ভালো হয় কোনো ট্যুর অপারেটর এর সাহায্য নেয়া।

অনুমতি ছাড়া বনে নামবেন না। নদীর জলে পা দেবেন না। কুমির আছে। অহেতুক শব্দ করবেন না। রঙীন জামা পরবেন না। প্লাস্টিক বজ্য নদীতে ও বনে ফেলবেননা । এগুলো কুচকে ব্যাগে নিয়ে এসে লোকালয়ে ডাস্টবিনে ফেলবেন। পরিবেশের প্রতি এতটুকু দায়িত্ব পালন করতে না পারলে আপনার প্রকৃতির কাছাকাছি না যাওয়াই ভালো।

লেখা: জাহাঙ্গীর আলম শোভন, ছবি: ইন্টারনেট