ঈদের ছুটিতে ঘুরতে চান

  • Ratul Islam 597 10/06/2018

ঈদের ছুটিতে আজকাল ঘোরার প্রবণতা বেড়ে গেছে। বিশেষ করে যাদের গ্রামের বাড়িতে যাওয়ার ব্যাপার নেই। তাদের জন্য এটা বেশী সহজ ও জরুরী। শহর খালি, অফিস বন্ধ, ঈদের দিন আত্মীয় স্বজনের বাড়িতে বেড়িয়ে শেষ। তাহলে এবার ছুট দেই দূরে কোথাও। লম্বা ছুটি পেয়ে কেউ কেউ দেশের বাইরেও যান। আজ ঈদের ছুটি নিয়ে কিছু টিপস শেয়ার করবো আপনাদের সাথে।

ঈদের ছুটিতে ভ্রমণ

ঈদের পরের ছুটি কিন্তু বিনোদন ট্যুর। যদিও আমাদের দেশের মানুষ সব ট্যুরে ইন্টারটেইন করে। আসলে সব ট্যুর এন্টারটেইন নয়। যেমন মেডিক্যাল ট্যুরিজম, হজ্জ, এডভেঞ্ছার ট্যুর ইত্যাদি। সব ট্যুরেই তবে আনন্দ হয়। আর বিনোদন হয় কিছু কিছু ট্যুরে। ঈদ ট্যুর সাধারণত বিনোদন উপাদান।

প্রাক প্রস্তুতি:

ঈদের ছুটিতে যদি ভ্রমণে যেতে চান। তাহলে অন্তত একমাস আগে থেকে সিদ্ধান্ত এবং প্রস্তুতি দুটো নিতে হবে। কারণ ছুটির সময় বলে ট্যুরিজম স্পটগুলোতে প্রচুর লোক সমাগম হয় এবং কোনোকিছুই সহজে পাওয়া যায়না যেমন টিকেট কিংবা হোটেল আবার দামও থাকে চড়া। তাই বাজেট করে ঘর থেকে বের হবেন। আর ঘোরার টাকাগুলো আলাদা করে তুলে রাখবেন। যাতে ঈদের সময় খরচ হয়ে না যায়। তবে এত গোপন জায়গায় রাখার দরকার নেয়, যেন ভ্রমণে বের হওয়ার সময় খুজে পেলেন না, বা ভুলে গেলেন। আজকাল কার্ডের যুগ। তাই বলতে হয়। ভ্রমণের টাকাটা ব্যালেন্স রেখে তারপর খরচ করুন। স্পটের খোজ খবর নিয়ে রাখতে ভুলবেন না যেন।

ঘর থেকে বের হওয়া

সব ভ্রমণের মতো ঈদের ভ্রমণেও সঙ্গী রাখুন। যে সঙ্গী আপনাকে প্রাণবন্ত আর হাসিখুশিতে ভরপুর রাখবে সে সঙ্গী রাখুন। লাইফ পার্টনার হলেতো কথাই নেই। আর বন্ধু বাণ্দব হলে মদ্যপ বন্ধু এড়িয়ে চলুন। ভ্রমণ মদ খাওয়ার জন্য নয়। ভ্রমণ জানা, শোনা, শেখা, কাজ থেকে ছুটি নেয়া, বিশ্রাম আর শরীরটা কিংবা মনটা ভালো রাখার জন্য। ঘর থেকে বের হওয়ার আগে অন্য ভ্রমণের মতোই প্রস্তুতি নিন। কি কি সঙ্গে নেবেন কোন কোন বিষয়ে সর্ত্ক থাকবেন সেগুলো আমি অন্য লেখায় বলেছি। এখানে বলে আর কথা বাড়াতে চাইনা। অবশ্যই শেষবারের মতো রাস্তার খবর নিয়ে ঘর ছাড়বেন। আর হোটেল বাস সব নিশ্চয় আগে বুকিং করে নিয়েছেন বলেই ধরে নিলাম।

ভ্রমণ উপভোগ

পথে পথে খালি খালি লাগতে পারে। এটা ভালো দিক। ট্রাফিক জ্যামের আশংকা থাকবেনা। পথে হাইওয়ে রেস্টুরেন্ট বন্ধ থাকতে পারে সাথে হালকা নাস্তা ও পানি নিয়ে রাখতেই পারেন। জায়গামতো পৌছে হালাকা রেস্ট নিতে নিতে যেসব জায়গায় যাবেন সেগুলো গাড়ি পর্যাপ্ত কিনা আর যেসব খাবার খাবেন সেগুলো আছে কিনা খবর নিয়ে রাখুন। কাজে লাগবে। বৃষ্টির মৌসুমতো, তাই সঙ্গী করে নিতে পারেন ছাতা কিংবা রেইনকোর্ট।  যেখানে যাবেন সেখানে পানি আর কাঁদাটা কেমন হয় জেনে নিতেই ভুলবেন কেন। সমুদ্রে বা নদীতে গেলে সহসা কোনো বিপদ সংকেত আছে কিনা সেটা জেনে নেয়ার কথাতো বলাই বাহুল্য।

সাবধানী হোন

আগেই বলেছি ঈদের ছুটিতে পর্যটকের ভীড় লেগে যায়। সবার যেখানে যায় সেটা বাদ দিয়ে অন্য কোথাও ঠিক করতে পারেন। তবে ঈদের সময় ভ্রমণের সবচেয়ে ভালো জায়গা হলো যেকোনো গ্রামে চলে যাওয়া। জরুরী নয়যে, নিজের গ্রামেই যেতে হবে। যেতে পারেন ভিন্ন ভিউর কোনো গ্রামে। সেক্ষেত্রে কোনো দ্বীপ পাহাড়ী গ্রাম, হাওড় ইত্যাদিও হতে পারে।

আর

ভ্রমণে পথের নিরাপত্তা নিয়ে সব সময় সতর্ক থাকুন। একটি দূর্ঘটনাযে সারা জীবনের কান্না। গাড়ী নির্বাচনে সতর্ক থাকুন, সড়কের খোজ খবর রাখুন আর ড্রাইভার বা চালকের দিকে খেয়াল রাখুন। কোন পথ দিয়ে কখন যাচ্ছেন সেটাও খেয়াল করতে ভুলবেন। পথের ডাকাতরা বয়ে আনতে পারে কোনো দু:সংবাদ। সঙ্গীর পথে খেয়াল রাখুন। অচেনা স্থানে একা হবেন না। নারী সঙ্গীকে হোটেলে একা রেখে যাওয়ার আগে ভাবুন। পুলিশের ব্যাপারে থাকুন সাবধান। লোকে বলছে পুলিশ নাকি নিষিদ্ধ মাদক আপনার ব্যাগে পুরে দিয়ে আপনাকে ফেলতে পারে বিপদে। এসব হয়তো কদিাচিতই হয়। তবুও সাবধানের নাকি মাইর নাই। ও হ্যাঁ যেহেতু বর্ষা চলছে, তাই সাথে নিতে পারেন ছাতা কিংবা রেইনকোর্ট। আর জামা কাপড় ভিজতে পারে সেজন্য বাড়তি পোষাকের কথাও ভাবুন। ব্যাগটা যদি হয় ওয়াটার প্রুফ তবে কতোইনা ভালো হবে।

যেখানেই বেড়াতে যাবেন। সে স্থানটি নোংরা করবেন না। বিশেষ করে প্লাস্টিক বজ্য ফেলবেন না। প্লাস্টিকের বোতলটি। মুচড়ে ব্যাগের এক কোনায় রেখে দিন। তারপর এমন কোনো স্থানে রাখুন বা ফেলুন যেখান থেকে এটি রিসাইকেল প্রসেসে যেতে পারে। ভ্রমণের সতর্কতা এবং ভ্রমণকে আরামদায়ক করার জন্য আমার অন্যন্য লেখাগুলো পড়তে পারেন।

লেখা: জাহাঙ্গীর আলম শোভন



Quick Search