টাঙ্গুয়ার হাওড় ও তার নীল জলরাশি

  • Ratul Islam 1088 09/05/2018

যতদূর চোখ যায় শুধু বিস্তীর্ণ নীলচে সবুজ জলরাশি, পানিতে অর্ধনিমজ্জিত বৃক্ষরাজি। দূরে পাহাড়ের গায়ে ধোয়ার মত মেঘ যেন হাতছানি দিয়ে আপনাকে ডাকছে তার বহুযুগের লুকোনো কোন রহস্য উন্মোচনের জন্য। নৌকার ইঞ্জিনের শব্দ ছাড়া চারদিকে নেই আর কোন শব্দ। যেন এক বোবা সৌন্দর্যের মাঝে আপনি হারিয়ে যাচ্ছেন।


টাঙ্গুয়া হাওর বা টাঙ্গুয়ার হাওর। স্থানীয় লোকদের কাছে যা “নয়কুড়ি কান্দার ছয়কুড়ির বিল” নামে পরিচিত। ৯৭২৭ হেক্টর এলাকা জুড়ে অবস্থিত এই হাওড়টি আন্তর্জাতিকভাবে ঘোষিত বাংলাদেশের দ্বিতীয় ‘ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ রামসার সাইট’ (জলাভূমি সংরক্ষণবিষয়ক আন্তর্জাতিক কনভেনশন)। সুনামগঞ্জের তাহিরপুর ও ধরমপুর উপজেলায় ভারতের মেঘালয় পাহাড়ের কোলঘেষে এর অবস্থান। প্রতিদিন অসংখ্য পর্যটক ছুটে আসেন টাঙ্গুয়ার হাওড়ের অপরূপ সৌন্দর্য উপভোগ করতে।
বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম মিঠাপানির জলাশয় এই টাঙ্গুয়ার হাওড় এলাকায় রয়েছে ছোট বড় প্রায় ৫২ টি বিল। মেঘালয় পাহাড় থেকে ৩০ টিরও বেশি ঝর্ণা এসে হাওড়ে মিশেছে। দেশের জলচর পরিযায়ী পাখির সবচেয়ে বড় বিচরণক্ষেত্র এটি। বিলুপ্তপ্রায় বিভিন্ন রকমের শৈবাল, উদ্ভিদ, জলজ প্রাণি ও পাখির দেখা মেলে এখানে।

কোথায় কোথায় যাবেন
- টাঙ্গুয়ার হাওড় 
YouTube: https://www.youtube.com/watch?v=iZ8GkGILGEI&feature=youtu.be

- টেকেরঘাট ও নিলাদ্রী লেক
YouTube: https://www.youtube.com/watch?v=HHFYXR9EGmI&t=74s

- বারেকের টিলা 
YouTube: https://www.youtube.com/watch?v=pyzWG4c389Y&t=81s

- যাদুকাটা নদী
YouTube: https://www.youtube.com/watch?v=pyzWG4c389Y&t=81s

- শিমুল বাগান
YouTube: https://www.youtube.com/watch?v=3OWpImF6cmI

- হাসন রাজা মিউজিয়াম
YouTube: https://www.youtube.com/watch?v=-d72gsJ-UPA

কীভাবে যাবেন
টাঙ্গুয়ার হাওড় যেতে হলে আপনাকে প্রথমেই যেতে হবে সুনামগঞ্জ। যেহেতু সুনামগঞ্জের সাথে রেল,বিমান বা নৌপথে কোন যোগাযোগ ব্যবস্থা নেই তাই যেতে হবে সড়কপথে। রাজধানীর সায়েদাবাদ অথবা কমলাপুর থেকে শ্যামলী পরিবহন অথবা হানিফ এন্টারপ্রাইজের বাসে রাত ১১ টার দিকে রওনা দিলে আপনি সুনামগঞ্জ গিয়ে পৌছাবেন ভোর ৫/৬ টার দিকে। নন-এসি বাসের ভাড়া প্রায় ৫০০ টাকা। বাস যেখানে নামাবে সেখানে রাস্তার উল্টোদিকে পাবেন হোটেল রোজ গার্ডেন। এখানে হাতমুখ ধুয়ে ফ্রেশ হয়ে খিচুড়ি দিয়ে সারতে পারেন সকালের নাস্তা।
সেখান থেকে অটোতে ব্রিজের ঢাল বললেই নিয়ে যাবে নদীর ব্রিজের কাছের। ভাড়া ১০ টাকা। সেখান থেকে তাহিরপুর যাওয়ার সিএনজি,লেগুনা,বাইক পাবেন। সিএনজি এবং লেগুনাতে ভাড়া জনপ্রতি ১০০ টাকা আর বাইকে ১৫০ টাকা। পৌছাতে সময় লাগবে প্রায় ৪০ মিনিট।
তাহিরপুর বাজারে গেলেই অনেক মাঝির দেখা পাবেন। তাদের সাথে দরদাম করে নৌকা ভাড়া করতে হবে। একটা বড় নৌকায় ১৭-১৮ জন থাকতে পারবেন। যদি গোটা একটা দিন এবং রাতের জন্য ভাড়া করেন তাহলে ভাড়া পড়বে প্রায় ৭-৮ হাজার টাকা। আর যদি শুধু সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ভাড়া করেন তাহলে ৩-৪ হাজারেই পেয়ে যাবেন। তাহিরপুর বাজারে স্থানীয় কয়েকটা খাবার হোটেল আছে। মায়ের দোয়া,চার ভাই হোটেলের খাবারের মান মোটামুটি ভালো। তবে চাইলে বাজার থেকে রান্নার সব সামগ্রী কিনে মাঝিকে দিলে রান্নার ব্যবস্থা করে দেবে। নৌকাতেই তাহলে খাওয়া সারতে পারবেন। 
এরপর ভেসে চলা হাওড়ের বুকে। মাথার উপরে নীল আকাশ, চতুর্দিকে হাওড়ের অথৈ জল, দূরে পাহাড়। সব মিলিয়ে মনোমুগ্ধকর এক পরিবেশ। হাওড়ের স্বচ্ছ পানির নিচে দেখতে পাবেন নানা রকমের উদ্ভিদ। হাওড়ের মাঝে রয়েছে ওয়াচ টাওয়ার। সেখান থেকে পুরো হাওড়ের অসাধারণ এক ভিউ পাবেন। ট্যাকেরঘাট পৌছাতে প্রায় ২ ঘন্টা সময় লাগবে। 
ট্যাকেরঘাটে নেমে হেটে সামনে গেলেই দেখবেন নীলাদ্রি লেক এবং লেকের ওই পাড়েই পাহাড়ের সারি। সেখানে রয়েছে চুনাপাথর খনি প্রকল্প। ঘুরে আসতে পারেন লাখামছড়া ঝর্ণাও। নৌকা ট্যাকেরঘাটে রেখেই রাত কাটাতে পারবেন। যদি আকাশে চাঁদ থাকে তাহলে তো কথাই নেই। জীবনের একটি স্মরণীয় রাত হয়ে থাকবে এটি।
পরদিন সকালে রওনা হয়ে যান বারেকটিলার উদ্দেশ্যে। বারেকটিলায় সকালের নাস্তা সেরে নিতে পারেন। বারেকটিলা থেকে যাদুকাটা নদী ঘুরে শিমুলবাগান। ট্যাকেরঘাট থেকে বারেকটিলা ও যাদুকাটা নদী হয়ে শিমুলবাগান যাওয়ার জন্য ট্যাকেরঘাট থেকেই বাইক পাবেন। প্রতি বাইকে ২ জন উঠতে পারবেন। ভাড়া ৩০০ টাকা। এক স্পট থেকে আরেক স্পটে যেতে সময় লাগবে প্রায় ৩০ মিনিট।
এরপর শিমুলবাগান থেকে অটোতে যেতে হবে মিয়ারঘাট। অটোভাড়া ২০০ টাকা। এক অটোতে ৬ জন ভালোভাবে বসতে পারবেন। মিয়ারঘাট থেকে ট্রলারে জনপ্রতি ১০ টাকা ভাড়া দিয়ে সুনামগঞ্জ। এরপর ঢাকা।

সাথে কী কী নেবেন
• লাইফ জ্যাকেট
• শুকনা খাবার
• পানি
• ছাতা
• সানগ্লাস
• গ্লুকোজ

মাঝির ফোন নম্বরঃ ০১৭৩৪৫৮৯৮৯০ (পীযুষদা)



আরও পড়ুন...

Quick Search