বজ্রপাতে আমাদের করণীয়

  • Ratul Islam 927 04/04/2018

মে-জুন মাস কালবৈশাখী ঝড়ের মৌসুম হলেও বড় কোনো ঝড় বা বৃষ্টিপাত ছাড়াই সামান্য ঝড়ো বাতাসের সঙ্গেই ঘটছে বজ্রপাতের ঘটনা। আর এতে করে মারা যাচ্ছে বহু মানুষ।বজ্রপাতের বিদ্যুৎ থেকে প্রায় ১০ হাজার এম্পিয়ার বিদ্যুৎ উৎপন্ন হয় এবং তা থেকে ৫০ হাজার কেলভিন তাপশক্তি রিলিজ হয় মাত্র শতভাগের একভাগ মিলি সেকেন্ড সময়ের মধ্যে। সেজন্যই বজ্রপাতে নিমিষেই বুঝে উঠার আগেই মানুষের শরীর পুড়ে ঝাঁঝড়া হয়ে যায়। 

আকাশে থাকা চলন্ত মেঘ রাশিমালা যখন এদিকে ওদিকে চলাচল করতে থাকে একটির সাথে আরেকটি ধাক্কা বা ঘর্ষণ খেতে থাকে। এভাবে পাশাপাশি দুই বা তার অধিক মেঘের ধাক্কা খাওয়ার ঘর্ষণের ফলে সেই স্থানে বিদ্যুতায়িত হয়ে পড়ে। সেই বিদ্যুতের জন্যই আমরা আকাশে তাৎক্ষণিক আলো জ্বলতে দেখি। তখন সেটার দূরত্বের ওপর নির্ভর করে শব্দটা তখন আমাদের কানে চলে আসে। কাছে হলে শব্দ আগে এবং দূরে হলে শব্দ অপেক্ষাকৃত বেশি সময় পরে শোনা যায়। কারণ আমরা জানি শব্দের গতির চেয়ে আলোর গতি অনেক বেশি, সেজন্য আলো দেখার অনেক পর আমরা এর শব্দ শুনতে পাই। যেসব বজ্রপাতের সময় দেখা যাবে যে, বজ্রপাত হওয়ার সাথে সাথেই শব্দও চলে আসছে, তখন বুঝতে হবে বজ্রপাত খুব কাছের কোনো স্থানে হচ্ছে। সেজন্য সবাইকে তখনি সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগের মতো এটিও একটি নিয়ন্ত্রণহীন দুর্যোগ। কাজেই এ থেকে সম্পূর্ণ পরিত্রাণ পাওয়া হয়তো কখনোই সম্ভব নয়। তারপরও কিছু বৈজ্ঞিানিক সতর্কতামূলক পন্থা রয়েছে। যেগুলো অনুসরণ করলে কিছুটা হলেও রেহাই পাওয়া যেতে পারে।

রাস্তায় থাকাকালীন এমন পরিস্থিতি সামনে পড়লে কী ভাবে সুরক্ষিত থাকবেন :

পাকা বাড়ির নীচে আশ্রয় নিন ঘন ঘন বজ্রপাত হতে থাকলে কোনো অবস্থাতেই খোলা বা উঁচু জায়গায় না থাকাই ভালো। এ অবস্থায় সবচেয়ে ভালো হয় যদি কোনও দালানের নীচে আশ্রয় নিতে পারেন। উঁচু গাছপালা ও বিদ্যুতের লাইন থেকে দূরে থাকুন। বজ্রপাত হলে উঁচু গাছপালা বা বিদ্যুতের খুঁটিতে বজ্রপাতের সম্ভাবনা বেশি থাকে। তাই এ সব জায়গায় যাবেন না বা কাছাকাছি থাকবেন না। ফাঁকা জায়গায় কোনও যাত্রী ছাউনি বা বড় গাছ ইত্যাদিতে বজ্রপাত হওয়ার সম্ভাবনা অত্যন্ত বেশি থাকে।জানালা থেকে দূরে থাকুন। বজ্রপাতের সময় বাড়িতে থাকলে জানালার কাছাকাছি থাকবেন না। জানালা বন্ধ রাখুন এবং ঘরের ভেতর থাকুন।

ধাতব বস্তু এড়িয়ে চলুন। বজ্রপাত ও ঝড়ের সময় বাড়ির ধাতব কল, সিঁড়ির রেলিং, পাইপ ইত্যাদি স্পর্শ করবেন না। এমনকি ল্যান্ড লাইন টেলিফোনও স্পর্শ করবেন না। বজ্রপাতের সময় এগুলোর সংস্পর্শ এসে অনেকে আহত হন। টিভি-ফ্রিজ থেকে সাবধান বজ্রপাতের সময় বৈদ্যুতিক সংযোগযুক্ত সব যন্ত্রপাতি স্পর্শ করা থেকে বিরত থাকুন। টিভি, ফ্রিজ ইত্যাদি বন্ধ করা থাকলেও ধরবেন না। বজ্রপাতের আভাষ পেলে আগেই এগুলোর প্লাগ খুলে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন করুন। অব্যবহৃত যন্ত্রপাতির প্লাগ আগেই খুলে রাখুন।

বজ্রপাতের সময় রাস্তায় গাড়িতে থাকলে যত দ্রুত সম্ভব বাডড়িতে ফেরার চেষ্টা করুন। যদি প্রচন্ড বজ্রপাত ও বৃষ্টির সম্মুখীন হন তবে গাড়ি কোনও বাড়িবারান্দা বা পাকা ছাউনির নীচে নিয়ে যান। এ সময় গাড়ির কাঁচে হাত দেওয়া বিপজ্জনক হতে পারে। খালি পায়ে বা পা খোলা জুতো নয় বজ্রপাতের সময় চামড়ার ভেজা জুতা বা খালি পায়ে থাকা খুবই বিপজ্জনক। যদি একান্ত বেরোতেই পা ঢাকা জুতো পড়ে বের হোন। রবারের গাম্বুট এ ক্ষেত্রে সব থেকে ভালো কাজ করবে।

চার পাশে খেয়াল রাখুন বজ্রপাতের সময় রাস্তায় চলাচলের সময় আশেপাশে খেয়াল রাখুন। যে দিকে বাজ পড়ার প্রবণতা বেশি সে দিক বর্জন করুন। কেউ আহত হলে তাঁকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করুন।

 

সর্বোপরি অন্যান্য যেকোনো সময়ের তুলনায় এ বর্ষা মৌসুমে উপরোক্ত সতর্কতাগুলো একটু গুরুত্বের সাথে মেনে চলতে চেষ্টা করতে হবে।



আরও পড়ুন...

Quick Search