সিলেট ভ্রমণের ট্যুর প্লান

  • Jahangir Alam Shovon 2824 26/11/2017

প্লান ১: ৩ দিনের সিলেট ও শ্রীমঙ্গল ট্যুর

 চলুন কোমল শীতের এই মৃদুমন্দ বাতাসে সিলেটের সবুজ প্রকৃতির হাওয়া লাগিয়ে আসি গায়ে। দেখতে যাবো ঝিরি ঝিরি মাধবকুন্ডের, পাথরের বিচানাপাতা বিছানাকান্দি আর দুটি-পাতা একটি কুড়ির সমারোহ দেখবো শ্রীমঙ্গল এর চা বাগানের ঢালে এছাড়া হযরত শাহ-জালাল আর শাহপরানের মাজারতো আছেই।

ভ্রমণসূচী:

শুভযাত্রা: ২০ ডিসেম্বর, ঢাকা থেকে বাসে চড়ে ছুট দেবেন সরাসরি। পরের দিন ২১ ডিসেম্বর ভোরে সিলেটে নেমে ফ্রেস হওয়া তারপর চলে যাব বিছানাকান্দি আর জাফলং। সকালে বিছানাকান্দি ঘোরাঘোরি আর বিকেলে জাফলং এ ঘুরে রাতে ফিরে আসবো সিলেটে। এসে বিশ্রাম।

 পরের দিন ২২ ডিসেম্বর সকালে প্রথম শাহজালালের মাঝার তারপর শাহপরানের মাঝার দেখে চলে যাবেন মাধবকুন্ড। এখানে দেখা ও ঘোরাঘোরির পর বিকেলে চলে যাবেন শ্রীমঙ্গল। শ্রীমঙ্গল লাউয়াছড়া ইকোপার্কে রাতযাপন করবো

তার পরের ২৩ ডিসেম্বর দিন ইকোপার্কে ঘোরাঘোরি আর দেখা দেখা। লাউয়াছড়া পার্ক ঘুরে বিকেলে বাসে শ্রীমঙ্গল থেকে ফিরে আসবো ঢাকা।

অথবা ২০ তারিখ ঢাকা থেকে রওনা দিয়ে ২১ তারিখ গিয়ে নামবো শ্রীমঙ্গল। সারাদিন চাবাগান আর ইকোপার্কে ঘুরে বিকেলে ইকোপার্কে রাতযাপন।

পরের দিন ২২ তারিখ সকালের নাস্তা করে চলে যাবো মাধবকুন্ড। সেখানে দেখাদেখি ও দুপুরের লাঞ্জ করে চলে যাবো সিলেট শহর। হোটেলে চেকইন করে বের হবো মাঝার দেখতে বিকেল ও সন্ধ্যায় মাঝার দেখে আমরা ফিরে আসবো হোটেলে।

 তার পরের দিন ২৩ তারিখ সকালে বের হবো বিছানাকান্দি ও জাফলং এর উদ্দেশ্যে। এখানে সারাদিন কাটিয়ে ফিরে আসবো। বিকেলে সিলেট শহর থেকে ঢাকায় ফেরার বাস ধরবো।

 

খাবার: তিনদিনের ব্রেকফাস্ট, লাঞ্ছ ও ২ দিনের ডিনার

সকালে: রুটি বা পরটার সাথে ডালভাজি ও ডিম

দুপুরে: ভাতের সাথে সবজি ও ডাল একদিন, মাছ, একদিন মাংশ একদিন গরু।

রাতে: একদিন বারবি কিউ একদিন স্পেশাল খিচুড়ি।

ট্যুরের খরচের মধ্যে রয়েছে:

ঢাকা থেকে সিলেট ও সিলেট থেকে ঢাকা ননএসি বাস

হোটেল থেকে ট্যুরিজম স্পট পর্যন্ত নেয়া। লেগুনা বা সিএনিজি যোগে ও খাবার।

 

প্লান ২:  তিন দিনের সিলেট ভ্রমণ

যা দেখবেন: সংগ্রামপুঞ্জি ঝরনা, খাসিয়া পল্লী, শাহ পরানের মাজার, শাহজালাল ( রহ:) এর মাজার, আরেকটূ দূরে শাহজালাল ইউনিভার্সিটির সুন্দর ক্যাম্পাস, রাতারগুল, লালাখাল, লাকাতুয়া চা বাগান, মালিনীছড়া চা বাগান, বিছানাকান্দী , পান্থুমাই, লক্ষনছড়া।

প্রথম দিন : জাফলং – সংগ্রামপুঞ্জি ঝরনা, খাসিয়া পল্লী, শাহ পরানের মাজার
সিলেট থেকে থেকে জাফলং। বাসে অথবা সিএনজিতে। সিএনজি ভাড়া ( ১৫০০-২০০০ টাকা) , বাসেও যাওয়া যায় কম খরচে কিন্তু যাত্রা পথের ফিলিংস টা পাওয়া যাবেনা। জাফলং তো যাবেন ঝর্ণা দেখতে। দেখতে পারেন খাসিয়া পল্লীতে গিয়ে খাসিয়াদের জীবন। খাসিয় পল্লীতে যাওয়ার জন্য নৌকায় মাথাপিছু ১০-২০ টাকা নেবে । ফেরার পথে শাহ পরানের মাজার ঘুরে আসতে পারবেন।বিকেলে ঘুরে আসতে পারেন শাহজালাল ( রহ:) এর মাজার|


দ্বিতীয় দিনঃ রাতারগুল, লালাখাল
রাতারগুল যাওয়ার জন্য সারাদিনের সিএনজি ভাড়া সারা দিনের জন্য , ভাড়া ১২০০-১৫০০ টাকা হওয়া হবে। কোথায় কোথায় যাবেন পরিষ্কার বলে নেবেন। চাইলে অন্য কোনো গাড়িও নিয়ে যেতে পারেন।
প্রথমে রাতারগুলা গিয়ে ঘাটে গিয়ে নৌকা ভাড়া করতে হবে। ভাড়া হবে ৫০০-৭০০ ঘুরে আসবেন রাতারগুল সোয়াম্প ফরেষ্ট । তারপর যাবেন লালাখাল  এখানেও ঘন্টা খানেক সময় কাটালে ভালো লালাখালে নৌকা ভাড়া করতে হবে, খরচ ৫০০-৭০০ টাকা । বেশী সময় নিলে সেদিন আর অন্য কোথাও যেতে পারবেন না।  সন্ধার আগে পরে সময় পেলে ঘুরে আসতে পারেন শহরের নিকটে লাকাতুয়া চা বাগান, মালিনীছড়া চা বাগান।

তৃতীয় দিনঃ  বিছানাকান্দী , পান্থুমাই, লক্ষনছড়া
সারাদিন  ঘোরার জন্য এর জন্য সিএনজি ভাড়া ১৫০০-১৭০০ টাকা। চাইলে গাড়ি নিতে পারেন।  সকালেই বের হবেন তাতে ঘোরার সময় পাবেন। ঘুরতে গিয়ে ঘুমিয়ে সময় কাটানোর মানে হয়না। বিছানাকান্দি যেতে ২ থেকে ৩ ঘন্টা সময় লেগে যায়।  হাদারপাড় নৌকা ঘাটে সিএনজি থেকে নেমে  ইঞ্জিন চালিত নৌকা ভাড়া করতে হবে, মাঝিকে বলে নিবেন সবগুলা লোকেশন এর কথা  যেমন বিছানাকান্দী , পান্থুমাই, লক্ষনছড়া, ভাড়া নিবে ১০০০-১২০০ টাকা। সময়ের সংকট থাকলে  পান্থুমাই বাদ দিতে পারেন, তাতে নৌকা ভাড়াও কমবে।  লক্ষনছড়ায় যেতে পারেন সেখানকার পানিতে কিছু সময় কাটালে ভালো লাগবে।
লাস্ট এ যাবেন বিছানাকান্দি যত আগে যেতে পারেন ততই ভালো।কারণ বেলা পাচ টার পর সেখানে থাকতে দেয়া হয়না , ভালো হয় তৃতীয় দিন বিছানাকান্দিতে যাওয়ার সময় আপনি হোটেল থেকে চেক আউট করে গেলে তা না হলে  হোটেলে দুইদিন এর ভাড়া দিতে হবে আর চাইলে সেদিনই ফিরতে পারবেন ঢাকায়।

প্লান ৩: টাঙ্গুয়ার হাওর 

 

টাঙ্গুয়ার হাওর সুনামগঞ্জ জেলার ধর্মপাশা ও তাহিরপুর উপজেলার ভারতের মেঘালয় পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত। মেঘালয় পাহাড় থেকে ৩০টিরও বেশি ঝরনা এসে মিশেছে এই হাওড়ে। ছোট খাট ৫১টি হাওরের সমন্বয়ে ৯,৭২৭ হেক্টর এলাকা নিয়ে টাঙ্গুয়ার হাওড় জেলার সবচেয়ে বড় জলাভূমি এবং দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম হাওড় । প্রায় ২০০ প্রজাতির মাছ ,জলজ উদ্ভিদে ভরপুর এই হাওড়।


আপনি যদি প্রকৃতির খুবই কাছাকাছি যেতে চান, মন ভরে স্বাদ নিতে চান সিলেটের অকৃত্রিম সুন্দর্যের তাহলে আপনাকে টাঙ্গুয়ার হাওড়ে আসতেই হবে। এখানে শীতকালে সকাল হয় পাখির কিচিরমিচির শব্দে। ভোরে খুব ভোরে এক কাপ চা হাতে নৌকার ছাঁদে বসে সূর্যদয় দেখার অনুভূতি ভাষায় প্রকাশের নয়।

টাঙ্গুয়ার হাওড় প্যাকেজঃ (এক দিন, এক রাত)
প্রথম দিন, প্রথম রাত
* চেক ইন।
* টাঙ্গুয়ার হাওড়ে নৌকা দিয়ে ভ্রমন।
* দুপুরের খাবার।
* হোটেলে অথবা নৌকায় রাত্রি যাপন।

 

প্লান ৪:  ১৫ টি দর্শনীয় স্থান)

** ভ্রমণের স্থান সমুহঃ 
১. জাফলং
২. বিছানাকান্দি
৩. রাতারগুল
৪.মালনিছড়া চা বাগান
৫. লাক্ষাতুড়া চা বাগান
৬. হযরত শাহজালাল মাজার
৭.হযরত শাহ পরানের মাজার
৮. আলি আমজাদের ঘড়ি
৯. হাছন রাজা যাদুঘর
১০. কীন ব্রীজ
১১.পান্থমাই ঝর্ণা
১২. সংগ্রামপুঞ্জী মায়াবী ঝর্ণা
১৩.লালাখাল
১৪. জিরো পয়েন্ট
১৫. তামাবিল ( ভারত বাংলাদেশ) সিমান্ত
** ভ্রমণের সম্ভাব্য বর্ণনাঃ
-প্রথম দিন ভোরে সিলেট নেমে হোটেলে চেকইন। এর পর আমরা সোজা চলে যাব রাতারগুল সেখানে পানিতে ডুবে থাকা জলাবন নৌকা করে ঘুরবো, রাতারগুল সোয়াম্প ফরেস্টের ওয়াচ টাওয়ারে উঠে দেখবো পুরো রাতারগুলের এড়িয়াল দৃশ্য । ওখান থেকে বিছনাকান্দি চলে যাব । স্বচ্ছ পানিতে পাথরের সাথে মিতালী করবো পাড়ার ডানপিঠে ছেলেটির মত । সেখান পানিতে ঝাপিয়ে ক্ষুধা বাড়িয়ে চলে যাব হাদার পাড়ে গনী মিয়ার বিখ্যাত ভুনা খিচুরী খেতে । পেট ভরে খেয়ে এরপর যাবো পান্থুমাই ঝর্না দেখতে। সেখানে হৃদয় ভিজিয়ে সারাদিনে রোমান্চকর স্মৃতি নিয়ে ফিরবো সিলেট শহরে । ডিনার করবো সিলেটের বিখ্যাত একটি রেষ্টুরেন্টে। এর পর হোটেলে ফিরে মনের সুখে আড্ডা । সব শেষে হোটেলে ফিরে শান্তির ঘুম ।
-দ্বিতীয়দিন সকালের নাস্তা সেরে চলে যাবো লালাখাল। সেখান থেকে সোজা চলে যাব জাফলং। জাফলং ঘুরে আমরা চলে যাবো সংগ্রামপুঞ্জী ঝর্ণায় সেখানে দেহ মন ভিজিয়ে ঝর্ণার পানিতে গোসল করে পিয়াইন নদীর তীরেই হবে দুপুরের খাবার । সেখান থেকে সোজা জিরো পয়ন্টে সবুজের সমারোহে কিছু ছবি তুলে চলে যাব তামাবিল (বাংলাদেশ ভারত) সিমান্তে সেখানে কিছু সময় অপেক্ষা করে সন্ধ্যায় আবার ফিরে আসবো শান্তির শহর সিলেটে । এসে ফ্রেশ হয়ে সিলেটের বিখ্যাত পানসী হোটেলে জম্পেস একটি ডিনার করবো । এরপর চলে যাব ক্বীন ব্রীজ সেখানে দাড়িয়ে সুরমা নদীর কলকল ধ্বনী শুনা আর অজান্তই গেয়ে উঠা সেই প্রিয় গান । পাশেই আমজাদের ঘড়ির ঢং ঢং ঘন্টা ধ্বনী শুনে হোটেলে ফিরেই ফ্রেশ একটা ঘুম ।
-তৃতিয় দিন সকালের নাস্তা শেষে চলে যাব সোজা শাহ জালাল (র:) মাজারে । পাশেই কিংবাদন্তি চিত্রনায়ক সালমান শাহ্ এর কবর । তার পর সেখান থেকে রওনা দেব শাহা পরান (র:) মাজারে । ওখান থেকে ফিরে এসে দুপুরে সিলেটের বিখ্যাত “পাঁচ ভাই রেষ্টুরেন্টে” খাব সিলেটের বিখ্যাত খাবার “সাতকড়া মাংশ ভূনা” দিয়ে গরম গরম ভাত । তার পর একটু রেষ্ট নিয়েই ঢুকে পরবো হাসন রাজার যাদুঘরে । সেখানে সম্ভব হলে হাসন রাজার ২ টি গান শুনে চলে যাব মালনী ছড়া চা বাগানে । সেখানে মন ভরে সবুজ আর প্রান ভরা প্রশান্তি নিয়ে লাক্কাতুরা চা বাগানের ছোট্ট পাহাড়ে দাড়িয়ে ফানুশ উড়িয়ে বর্ষাবিলাস-২০১৭ এর ইতি টানবো ।
তারপর রাতের খাবার খেয়ে সিলেটকে বিদায় জানিয়ে ঢাকার বাসে উঠবো।

 

প্লান ৫: ১৭ টি দর্শনীয় স্থান)

 

** ভ্রমণের স্থান সমুহঃ 
১. জাফলং
২. বিছানাকান্দি
৩. রাতারগুল
৪.মালনিছড়া চা বাগান
৫. লাক্ষাতুড়া চা বাগান
৬. হযরত শাহজালাল মাজার
৭.হযরত শাহ পরানের মাজার
৮. আলি আমজাদের ঘড়ি
৯. হাছন রাজা যাদুঘর
১০. কীন ব্রীজ
১১.পান্থমাই ঝর্ণা
১২. সংগ্রামপুঞ্জী মায়াবী ঝর্ণা
১৩. সেলফি ব্রীজ
১৪. লক্ষন ছড়া
১৫.লালাখাল
১৬. জিরো পয়েন্ট
১৭. তামাবিল ( ভারত বাংলাদেশ) সিমান্ত

** ভ্রমণের সম্ভাব্য বর্ণনাঃ
-প্রথম দিন ভোরে সিলেট নেমে হোটেলে চেকইন। এর পর আমরা সোজা চলে যাব রাতারগুল সেখানে পানিতে ডুবে থাকা জলাবন নৌকা করে ঘুরবো, রাতারগুল সোয়াম্প ফরেস্টের ওয়াচ টাওয়ারে উঠে দেখবো পুরো রাতারগুলের এড়িয়াল দৃশ্য । ওখান থেকে বিছনাকান্দি চলে যাব । স্বচ্ছ পানিতে পাথরের সাথে মিতালী করবো পাড়ার ডানপিঠে ছেলেটির মত । সেখান পানিতে ঝাপিয়ে ক্ষুধা বাড়িয়ে চলে যাব হাদার পাড়ে গনী মিয়ার বিখ্যাত ভুনা খিচুরী খেতে । পেট ভরে খেয়ে এরপর যাবো পান্থুমাই ঝর্না দেখতে। যাবার পথেই লক্ষন ছড়ার অপরুপ সুন্দর্য্যে নয়ন ভরে চলে যাব ফাটাছড়ি ঝর্ণা বা পান্থমাই ঝর্নায় । সেখানে হৃদয় ভিজিয়ে সারাদিনে রোমান্চকর স্মৃতি নিয়ে ফিরবো সিলেট শহরে । ডিনার করবো সিলেটের বিখ্যাত পালকি রেষ্টুরেন্টে। এর পর সেলফি ব্রিজে মনের সুখে সেলফি আর আড্ডা । সব শেষে হোটেলে ফিরে শান্তির ঘুম ।
-দ্বিতীয়দিন সকালের নাস্তা সেরে চলে যাবো লালাখাল। সেখান থেকে সোজা চলে যাব জাফলং। জাফলং ঘুরে আমরা চলে যাবো সংগ্রামপুঞ্জী ঝর্ণায় সেখানে মনের সুখে ঝর্ণার পানিতে গোসল করে পিয়াইন নদীর তীরেই হবে দুপুরের খাবার । সেখান থেকে সোজা জিরো পয়ন্টে সবুজের সমারোহে কিছুু ছবি তুলে চলে যাব তামাবিল (বাংলাদেশ ভারত) সিমান্তে সেখানে কিছু সময় অপেক্ষা করে সন্ধ্যায় আবার ফিরে আসবো শান্তির শহর সিলেটে । এসে ফ্রেশ হয়ে সিলেটের বিখ্যাত পানসী হোটেলে জম্পেস একটি ডিনার করবো । এরপর চলে যাব ক্বীন ব্রীজ সেখানে দাড়িয়ে সুরমা নদীর কলকল ধ্বনী শুনা আর অজান্তই গেয়ে উঠা সেই প্রিয় গান । পাশেই আমজাদের ঘড়ির ঢং ঢং ঘন্টা ধ্বনী শুনে হোটেলে ফিরেই ফ্রেশ একটা ঘুম ।
-তৃতিয় দিন সকালের নাস্তা শেষে চলে যাব সোজা শাহ জালাল (র:) মাজারে । পাশেই কিংবাদন্তি চিত্রনায়ক সালমান শাহ্ এর কবর । তার পর সেখান থেকে রওনা দেব শাহা পরান (র:) মাজারের । ওখান থেকে ফিরে এসে দুপুরে সিলেটের বিখ্যাত “পাঁচ ভাই রেষ্টুরেন্টে” খাব সিলেটের বিখ্যাত খাবার “সাতকড়া মাংশ ভূনা” দিয়ে গরম গরম ভাত । তার পর একটু রেষ্ট নিয়েই ঢুকে পরবো হাসন রাজার যাদুঘরে । সেখানে সম্ভব হলে হাসন রাজার ২ টি গান শুনে চলে যাব মালনী ছড়া চা বাগানে । সেখানে মন ভরে সবুজ আর প্রান ভরা প্রশান্তি নিয়ে লাক্কাতুরা চা বাগানের ছোট্ট পাহাড়ে দাড়িয়ে ফানুশ উড়িয়ে বর্ষাবিলাস-২০১৭ এর ইতি টানবো ।
তারপর রাতের খাবার খেয়ে সিলেটকে বিদায় জানিয়ে ঢাকার বাসে উঠবো।

 

কিভাবে যাবেন সিলেট

সিলেট থেকে ঢাকা। ট্রেন ভাড়া শোভন ৩০০ টাকা, নন এসি বাস ভাড়া ৪০০-৪৫০ টাকা। ট্রেনে যাতায়াত করতে চাইলে আগেই টিকেট নিয়ে রাখবেন। অনলাইনেও টিকেট পাওয়া যায়। একটি ডেবিট বা ক্রেডিট কার্ডয দিয়ে ৪টি টিকেট নিতে পারবেন। বাসেও এইরকমই। তবে এসিবাসে একটু বেশী পড়বে।
কোথায় থাকবেন।
সিলেটে সব মানের হোটেল রয়েছে। মাজাররোডে সবচে বেশী হোটেল।

কোথায় খাবেন?
সিলেটে বেশকিছু ভালোমানের রেস্টুরেন্ট রয়েছে। তবে দা,ম একটু বেশী। জেনে নিয়ে অডার করবেন।

স্যুভেনির হিসেবে কি কিনবেন?

কোথাও ঘুরতে গেলে সেখানকার স্থানীয় পন্য কেনা ট্যুরিজম এর একটি অংশ। সিলেটে আপনি প্রথমত চা পাতা কিনতে পারেন। দ্বিতীয়ত কিনতে পারেন হাতকড়ার আঁচার। একটু তেতো কিন্তু হজমির জন্য ভালো। সিলেটের কমলা আনারসও খেতে পারেন যদি সিজনে যান।

মনে রাখবেন

যেকোনো ভ্রমণ যত আগে প্লান করবেন তত ভালো হবে। বন্ধুদের সাথে ঘুরতে গেলে আরো ভালো। কোনো ট্যুর কোম্পানী থেকে অফার করলে সেটা ধরে যেতে গেলে নিজের টেনশান নেই। কারণ হোটেল খাবার গাড়িভাড়া এসব নিয়ে দরদাম করতে হয়। এগুলো সব সময় একরকম থাকেনা। ভিড়ের সময় দাম বেড়ে যায়। তাছাড়া ঘোরার জন্য গাইডও প্রয়োজন হয়। আজকাল এসব কোম্পানী সার্ভিস চার্জ নিলেও ১০/২০ জন একসাথে যায় বলে খরচ বেশী পড়েনা, প্রচুর আনন্দ হয় আর নিরাপত্তা নিয়ে ভাবতে হয়না।

 

 

জেনে রাখা ভালো

১. দূরপাল্লা ভ্রমণে যেতে অবশ্যই নিজের ভোটাই আইডি কাডের ২/৩টা করি করে নেবেন।

২. শীতের জামাকাপড় নেবেন। প্রেটোলিয়াম জেলি কিংবা লোশন নিতেও ভুলবেন না।

৩. মাথায় যেন কুয়াশা না পড়ে সেজন্য টুপি বা মাফলার নেবেন।

৪. ঝর্নায় ও বিছানাকান্দিতে নামতে চাইলে বাড়তি কাপড় সাথে নেবেন।

৫. গাড়িতে বমি করার অভ্যাস থাকলে ওষধ ও টকজাতীয় খাবার সাথে নেবেন যেমন আচার।

৬. কোনো জায়গায় বেশীক্ষণ ঘুরে সময় নষ্ট করবেন না।

৭. যেখানেই যান আগেই সিদ্ধান্ত নিন। শেষ মুহর্তে সিদ্ধান্ত নিলে হোটেল কিংবা গাড়ী পেতে কষ্ট হয়ে যায়।

৮. কোথাও ঘুরতে গেলে সবকিছু আপনার মনের মত হবে এমনটা মনে করার কারণ নেই। তাই পরিস্থিতির সাথে নিজেকে মিলিয়ে নিতে চেষ্টা করুন।

৯. কোনো সমস্যা দেখা দিলে হৈচৈ না করে নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে সমাধান করে নিন।

১০. যেখানে যাবেন সে এলাকা সম্পর্কে বিস্তারিত আগে জেনে নেবেন। এবং কি কি লাগবে সঠিকভাবে প্রস্তুতি নিয়ে ঘর থেকে বের হবেন।

 

 



আরও পড়ুন...