মুরাদপুর ও গুলিয়াখালী ওয়াইল্ডবিচ অপার সৌন্দের্যের হাতছানি

  • Jahangir Alam Shovon 1074 24/11/2017

 

দুটো বিচ মাত্র ১ কিলোমিটারের মতো দূরত্ব আসলে একই জায়গা। যাওয়া রাস্তা দুটো আর সমুদ্রের সাথে লাঘানো খালও আছে দুটো। তাই একটি স্থানের নাম মুরাদপুর অনটির নাম গুলিয়াখালি মূল ঘাস আর গাছের ছায়ায় মাতানো বীচটা কিন্ত অখন্ডই বলা যায়। যদিও ঘাসের ভেতর দিয়ে ছোট ছোট ছড়া বা জলা বয়ে গেছে। এটা আসলে পলিমাটির বিচ। কাঁদা জমেছে শতবছর ধরে সে কাঁদায় এখন ঘাষ আর গাছ গজিয়েছে আর সমুদ্রের ডেউ সেই ঘাসকে ধুয়ে পরিষ্কার করে একেবারে সবুজের গালিচা বানিয়ে রেখেছে যেন।

সীতাকুন্ড থেকে সিএনজি করে গুলিয়া বিচে যাওয়া যায় ভেড়ি বাঁধ পর্যন্ত!  এক পাশে বিশাল সবুজ মাঠ আর সারি সারি খেজুর গাছ, অন্যপাশে ছড়ানো ছিটানো কেওড়া বন ও ও কিছু ম্যানগ্রো। উদ্ভিধ। আসলে অযত্নে অবহেলায়  বেড়ে উঠেছে এগুলো। সমুদ্রের ঢেউয়ের সাথে ভেসে আসা ডাল আর বীজ মাটিতে গেঁথে জন্ম হয়েছে এই বনের। যদি আরো সৈকত গাছ যেমন ঝাউ নারকেল কিংবা গোলপাতাও লাগানো যায়। গরান কেওড়া আর ছইলা গাছের সমাহার করা গেলে এখানে সুন্দর একটি বন হতে পারে। করা যেতে পারে নিঝুম দ্বীপের মত কৃত্রিম বনায়ন।  আর সাগর পারের সৌন্দর্য কিন্তু নারিকেল আর ঝাউ গাছ। নারকেল ছায়া সুনিবিড় সৈকত উপহার দেয়। সমুদ্র পারের বালুময় সৈকতে নারিকেল খুব দ্রুতি বেড়ে উঠে আর বেশ বড় হয় পানিও থাকে বেশী। এগুলোতে একটু লবণ থাকে বলে অতি উন্নত মানের ন্যাচারাল ওরস্যালাইন হিসেবে কাজ করে এই ডাব।  সৈকতে যারা ঘুরতে যান ডাব তাদের প্রিয় হয়ে থাকে। বিশেষ করে গরমের সিজনে ডাবের পানি ডিহাইডেশান থেকে অভিযাত্রীদের মুক্তি দেয়। তাই এখানে সামাজিক বনায়নের মাধ্যমে এসব গাছ লাগানো যেতে পারে।

এই অপরিসর বনের ভেতর দিয়ে বয়ে চলেছে ছোট ছোট চিকন চিকন খাল। এগুলোতে জোয়ারভাটা হয় কারণ এগুলো সমুদ্রের খুব কোছে। সাগরের সাথে জয়েন্ট ছোট খালগুলোতে সামুদ্রিক মাছ পাওয়া যায় তবে বেশী মেলে কাঁকড়া। বর্তমানে ঢাকা চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশে কলকারখানার হওয়ার কারণে খালগুলোতে বজ্য থাকে। এভাবে যেতে যেতেই এক আপনি বনপেরিয়ে তেপান্তরের মাঠ মানে সমুদ্রের সৈকতে চলে আসবেন।  এটাই গুলিয়া বিচ।  আয়তনে অনেক বড় না হলেও একটা ওয়াইল্ড বিচে যা থাকা দরকার সবই ওখানে আছে বলা যায়।

এমনিতে সন্দীপ যাওয়ার পথ সীতাকুন্ড শহর হয়ে ফেরী ঘাট দিয়ে।  কখনো সীতাকুন্ড ইকোপার্ক ও চন্দ্রনাথ মন্দির কিংবা মিরশ্বরাই মহামায়া লেক কিংবা মহামায়া ঝর্ণা দেখতে আসলে সে সাথে গুলিয়া বিচও দেখে যেতে পারেন।

ঢাকা বা চট্টগ্রাম থেকে বাসে এসে সীতাকুন্ড নামবেন। ভাড়া ৪৮০ টাকা। আর ফেনীর বাসে করে ফেনী নেমে তারপর লোকাল বাসে গেলে অবশ্য ১০০ টাকা সেভ হবে। সীতাকুন্ড নামার বাজার থেকে মুরাদপুর পর্যন্ত সিএনজিতে যেতে হবে। সেখান থেকে আবার সিএনজি ভাড়া করে নেয়া যাবে। অথবা সীতাুকন্ড থেকেও সিএনজিতে করে সরাসরি যাওয়া যাবে।  

শীতকালে গেলে খেজুরের রস পাবেন আর সব সময় পাবেন সমুদ্রের মাছ।



আরও পড়ুন...

Quick Search