ঘুরে আসুন সাচার রথ

  • Mohammad Emran 311 05/10/2017

কচুয়া উপজেলার ১নং সাচার ইউনিয়নে প্রাচীনকালে একটি জমিদার বাড়ি ছিলো। যা বর্তমানে সাচার বাজারে অবস্থিত শ্রী শ্রী জগন্নাথ ধাম। সাচারের তৎকালীন জমিদার বাড়ির পাশে ছিলো জমিদারদের রঙমহল ভবন। যা বর্তমানে জমিদারদের স্মৃতিরূপে দাঁড়িয়ে আছে। এ বাড়িতে বাস করতো গঙ্গাগোবিন্দ সেন। তিনি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন সাচার জগন্নাথ ধাম। তিনি ছিলেন এক মহান ব্যক্তিত্ব। লোভ-লালসা তার জীবনকে কখনো স্পশৃ করেনি। জগন্নাথ দর্শনের জন্য তৎকালীন সময়ে পায়ে হেঁটে তিনি ভারতের শ্রীক্ষেত্র যেতেন। বাড়ি থেকে তার প্রয়োজনীয় কাপড়-চোপড় ও শুকনো খাবার নিয়ে পদযাত্রা শুরু করতেন জগন্নাথ দর্শনে। পথিমধ্যে যেখানেই রাত হতো সেখানেই রাত্রিযাপন করতেন। কথিত আছে রাত্রিকালে শ্রী শ্রী জগন্নাথ জমিদার গঙ্গাগোবিন্দ সেনকে স্বপ্নাদেশে বলেন, ওহে গঙ্গাগোবিন্দ সেন! তোমার আর পায়ে হেঁটে শ্রীক্ষেত্রে যেতে হবে না। তুমি বাড়ি ফিরে যাও। আমিই তোমার বাড়িতে যাবো। তিনি বুঝে ওঠতে না পারলে পুনরায় তাকে স্বপ্নাদেশে বললেন, ‘তোর বাড়িতে একটি মন্দির স্থাপন করবি, তোর দিঘিতে ৩ টুকরো নিম গাছ ভেসে আসবে। এ কাঠ জয়ধ্বনি দিয়ে বাড়িতে নিবি। এ কাঠ দিয়ে জগন্নাথ, শুভদ্রা, বলরাম, শ্রীকৃষ্ণের বিগ্রহ তৈরি করার জন্য তোর কাছে অভিজ্ঞ সূত্রধর আসবে।’ স্বপ্নাদেশ মোতাবেক নিমকাঠ আসলো। বিগ্রহ তৈরিতে সূত্রধর আসলো। গোবিন্দ সেন জগন্নাথ মন্দির স্থাপন করলেন। ৩০/৪০ ফুট উঁচু একটি রথ নির্মাণ করলেন। রথটির চারপাশে চারযুগের ভবিষ্যৎ বাণী চিত্রসহ খচিত ছিলো।

কথিত আছে দ্বাপর যুগে কুরুক্ষেত্রে কুরু-পান্ডবের যুদ্ধের সময় মহাভাগ্যবান ও ভগবদ ভক্ত স্বর্গীয় গঙ্গাগোবিন্দ সেন কাশি নামক বাদ্যযন্ত্র বাজিয়েছিলেন। সেই পূণ্যের ফলে ভগবান শ্রীকৃষ্ণ তার বাড়িতে টুন্ডা রূপে অবতীর্ণ হন। যার রূপ দর্শন করলে পুনর্জন্ম বারণ হয় সেই জগন্নাথ টুন্ডা রূপে সাচারে স্থাপন হয়। যার কারণে বহু ভাগ্যবান হিন্দু ধর্মাবলম্বী ভক্তবৃন্দ সাচারে প্রতি বছর আষাঢ় মাসের ২য় তিথিতে জগন্নাথ দর্শনে দেশ-বিদেশ হতে সমবেত হয়। ভারতের শ্রীক্ষেত্রে জগন্নাথ দর্শনে না গিয়ে সাচারেই জগন্নাথ দর্শন করেন। সাচারের জগন্নাথ দর্শনে বাংলাদেশে ও পাশ্ববর্তী দেশগুলো থেকেও ভক্তরা আসেন।



আরও পড়ুন...