পিকনিক আয়োজনের নানা দিক

  • Jahangir Alam Shovon 1158 11/09/2017

পিকনিক পার্টির বিস্তারিত

জাহাঙ্গীর আলম শোভন

পিকনিক আমাদের দেশে ভ্রমণের পুরনো ঐহিত্য। এটা যখন দূরে হয় তখন সেটা আসলে ভ্রমণ। যখন পেশাদার ভ্রমণ কোম্পানী ছিলো না কিংবা নিজেরা নিজেরা দলগত ভাবে ভ্রমণের প্লান করতো তখন সেটাকে পিকনিক বা বনভোজন বলা হতো। এতে দলীয়ভাবে নিজেরাই নিজেদের কাজগুলো করতো রান্না বান্না থেকে সবকিছু। বড়জোর গাড়ির চালক আর বাবর্চি বাইরে থেকে নেয়া হতো। প্রথম দিকে বনে গিয়ে বন্ধু বান্ধব পরিবারের সদস্যরা মিলে চড়ুইভাতি করতো বলে এটার নাম বনভোজন হয়। কিন্তু পরে সাগর পাহাড় কিংবা কোনো শিক্ষামূলক স্থান কিংবা ঐতিহাসিক স্থানেও বনভোজন বা পিকনিক হতো।

সিদ্ধান্ত

পিকনিকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া খুব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। প্রথমে ঠিক করতে হবে উদ্দেশ্য. মানে কি উদ্দেশ্যে পিকনিক আয়োজন করা হচ্ছে? এটা নির্ভর করে কোন বয়সী লোকজন বেশী থাকবে। ছাত্র বেশী থাকলে শিক্ষামূলক স্থানে যাওয়া উচিত। এজন্য প্রাথমিক ভাবে অভিজ্ঞ কয়েকজনের সাথে পরামর্শ করে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। যে স্থোনে যাবেন সেখানকা, রাস্তাঘাট, নিরাপত্তা, থাকা খাওয়ার সুবিধার বিস্তারিত ও সর্বশেষ আপডেট জানা থাকতে হবে। সবচেয়ে ভালো সেখানে নিজস্ব কোনো লোক থাকলে অথবা কেউ একজন আগে গিয়ে ঘুরে আসলে তা যদি সম্ভব না হয় তাহলে কোম্পানী ট্যুর অপারেটর বা গাইডের সাহায্য নিতে ভুলবেন না।

 

বিবেচ্য বিষয়

একটি পিকনিক আয়োজনের জন্য যেসব বিষয় বিবেচনায় রাখবেন সেগুলো একটু চোখ বুলিয়ে নেন।

১। কোথায় যাবেন কেন যাবেন? সেখানে শিক্ষনীয় কি কি বিষয় আছে সেগুলো কোনো বই থেকে বা ইন্টারনেট থেকে জেনে নিতে পারেন। সেগুলোর ইতিহাস সম্পর্কে বলে ভ্রমণকালীন এক সময় সবাইকে  চমকে দিন। কোনো একটা এলাকায় গিয়ে সে এলাকা সম্পর্কে না জানলে ভ্রমণ করাটা বৃথা।

২। যেখানে যাবেন সেখানে যেতে কত সময় লাগবে, আসতে কত সময় লাগবে? পথে ট্রাফিক জ্যামের সম্ভাবনা আছে কিনা? খাওয়ার সময় কেমন লাগবে। কয়টা জায়গা ঘুরবেন কতক্ষণ সময় লাগবে? ইত্যাদি একেবারে কাগজে কলমে লিখে প্লান করে দেবেন। অন্তত ২ ঘন্টা রিজার্ভ টাইম রাখবেন সারাদিনের জন্য। কোনো কিছুই কাঁটায় কাঁটায় করতে যাবেন না।

৩। যেখানে যাচ্ছেন সেখানকার স্থানীয় বাহন, রাস্তা, থাকার ব্যবস্থা, কতটুকু হাটতে হবে? নিরাপত্তা সমস্যা, স্থানটি শিশুদের জন্য শালীন কিনা? নারীদের জন্য নিরাপদ কিনা? এবং বয়স্কদের জন্য উপযুক্ত কিনা সেটা বিবেচনায় নিয়ে সদস্য নির্বাচন করুন।

৪। ফেইসবুকে মজাদার এড দেখে লাইসেন্সবিহীন কিংবা অপরিচিত কারো অফারে ভ্রমণ করতে গিয়ে পরে নিজেই নিজেকে প্রবোধ দেয়ার দরকার নেই। হয়তো পরিচিত কোনো গ্রুপের সাথে যান নয়তো পেশাদার ট্যুর অপারেটর এর সাথে কথা বলুন। আপনি ফেসবুকে অপেশাদার লোকদের কাছে গিয়ে পরে ধরা খেয়ে সব অপারেটর এর নামে ভরসা হারাবেন এটা যেন না হয়।

৫। যাদের সাথে যাচ্ছেন তাদের সম্পর্কে জেনে নিন। যারা নেতৃত্বে দিচ্ছে তাদের কাজগুলো খেয়ালকরুন সঠিকভাবে করছে কিনা? ভরসা না পেলে না যাওয়াই ভালো।

৬। আগেই জেনে নিন থাকা খাওয়া ও যাতায়াত সুবিধা কোন মানের? আপনি যদি নিজে লিডার হোন সেটা অন্যকে জানিয়ে দিন। খাবার কেমন মানের হবে? রেসিপি বা মেন্যু কি হবে? হোটেল রুম কোনমানের এক রুমে কতজন থাকবে? পারলে রুমের ছবি শেয়ার করুন। বাস বা অন্যান্য তথ্যও পরিষ্কার রাখুন। যাতে কোনো ভুল বোঝাবোঝি না হয়।

৭। টাকা পয়সা বিশেষ করে চাঁদা বা ফি এর হিসেব এর ব্যাপারে হেলাফেলা করবেন না। সঠিকভাবে হিসেব রাখুন। তাতে সমস্যা কমে যাবে।

 

প্রস্তুতি

কমপক্ষে তিনমাস আগে প্রস্তুতি নিন। একমাস স্টাডি করুন একমাস আলোচনা করুন এবং একমাস আগে ইভেন্ট ঘোষনা করুন। প্রয়োজনীয় কেনাকাটা সারুন। সদস্যদের জানিয়ে দিন কি ধরনের প্রস্তুতি নিয়ে আসতে হবে। যেখানে যাচ্ছেন সেখানে রান্না বা খাবারের ব্যবস্থা হোটেল ও স্থানীয় পরিবহন আগেই নিশ্চিত করে রাখুন। দূরে কোথাও গেলে যাত্রীদের আইডি কাড নিয়ে রাখুন। সবাইকে আইনগত ব্যাপার ও পরিবেশ পরিষ্কার রাখার বিষয়ে সচেতন করুন।

কার্যাবলী

একটি পিকনিকের অনেক কাজ থাকে। আজকাল অনেকে সেগুলো কোনো ট্যুর অপারেটরকে দিয়ে নিজেরা নিশ্চিন্তে থাকেন। যেখানে যাচ্ছেন সেটা যদি দেখার মত জায়গা হয় তাহলে অন্যান্য কাজগুলো অন্যের দায়িত্বে দিয়ে নিজেরা সবার সাথে আনন্দে যোগ দিলেই ভালো। আর যদি নিজেরা করতে চান, তাহলে কেনাকাটা ও পেশাদার লোক নেয়ার কাজটি করে রাখুন। যেমন নিজেরা রান্না করে খেতে চাইলে একজন বাবর্চি দরকার হতে পারে। গাড়ি ও থাকার ব্যবস্থা করা, কোনো গিফট কেনা। গিফটটা গরুত্বপূর্ণ কারণ সেটা ভ্রমনের স্মুতি হিসেবে থেকে যায়। এক্ষেত্রে যে এলাকায় যাবেন সেখানকার স্থানীয় কোনো পন্য দিতে পারেন।

পিকনিক শেষ হওয়ার পর যে জায়গাটা ব্যবহার করেছেন সেটি অবশ্যই পরিষ্কার করে আসবেন। নিজেরা না পারলে স্থানীয় কোনো মজুর বা শ্রমিককে দিয়ে কাজটি করিয়ে নেবেন। আপনি যেখানে ছিলেন সেখানে আপনি নিশ্চয় আপনার বাজে কোনো স্মৃতি রাখতে চাননা। ফিরে আসার পর প্রতিটি সদস্যকে বাড়িতে পৌছানোর ব্যাপারে সতর্ক থাকুন। যাদের বাসা দুরে তাদেরকে ফোন করে খবর নিন তারা বাসায় ফিরেছে কিনা?

 কিছু বাড়তি কাজ

ভ্রমণকে আনন্দময় করার জন্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করতে পারেন। রাখতে পারেন খেলাধুলা ও কোনো প্রতিযোগিতা সাথে আকর্ষনীয় পুরষ্কার। প্রতিটি ভ্রমণে একটি মেসেজ ক্যারি করতে পারেন। এতে আপনার ভ্রমণ শুধু ভ্রমণ না হয়ে এটা একটা সামাজিক কাজ হয়ে যাবে। যেমন- আসুন পরিচ্ছন্ন দেশ চাই, অথবা ধুমপানের চেয়ে ভ্রমণ উত্তম ইত্যাদি। যে এলাকায় যাবেন সেখানকার মানুষের জন্য কিছু করার চেষ্টা করবেন বিশেষ করে যদি গরিব এলাকা হয়। মানুশের সাথে মিশতে তাদেরকে জানতে তাদের জীবনযাত্রাকে উপলব্দি করতে স্থানীয়দের সাথে মিশুন। তবে সতর্কভাবে।

সর্তকতা

যেখানে ভ্রমণে যাবেন কিছু কমন সর্তকতা অবলম্বন করুন। যেমন

১। পর্যাপ্ত পানি রাখুন। পানির ব্যাপারে অবহেলা করবেন না। আগুন নিয়ে কাউকে খেলতে দেবেন না। চুরি চাকু লাঠি এগুলো নিয়ে দুস্টুমি করবেন না। আহত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে এমন কোনো খেলা দেবেন না।

২। খাবার গ্রহনে সতর্ক থাকুন। বিরানী খিচুড়ি না খাওয়াই ভালো। পারলে মাংশ এড়িয়ে চলুন। তবে তেল ঝাল ও মসলা জাতীয় খাবার ছুবেন না। ধুমপানে সতর্ক হবেন। মাদক ছুবেন না। গাজা খাবেন না। অনেকে ভ্রমণে গিয়ে মদগাজা খায় এটা একধরনের কূপমন্ডতা।

৩। নিজের ব্যাগে প্রয়োজনীয় জিনিস রাখুন। অপ্রয়োজনী জিনিস দিয়ে ব্যাগ ভরে ভারি করে রাখবেন না। যদি যেখানে যাবেন সেখানে গোসল করার প্রয়োজন হয় তাহলে বাড়তি কিছু হালকা কাপড় রাখার কথা ভুলে যাবেন না।

৪। যেখানে যাবেন সেখানকার মানুষের ভাষা ও সংস্কৃতির প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকুন। কাউকে কটাক্ষ করবেন না। কাউকে নিয়ে হাসাহাসি করবেন না।

৫। দলগত কথা মাথায় রাখুন। শুধু নিজের স্বার্থে কাজ করবেন না। খাবার বা নাস্তা গ্রহনের সময় হড়োহুড়ি করবেন না।

পিকনিক আয়োজন টিপস

জাহাঙ্গীর আলম শোভন

পিকনিক আমাদের দেশে ভ্রমণের পুরনো ঐহিত্য। এটা যখন দূরে হয় তখন সেটা আসলে ভ্রমণ। যখন পেশাদার ভ্রমণ কোম্পানী ছিলো না কিংবা নিজেরা নিজেরা দলগত ভাবে ভ্রমণের প্লান করতো তখন সেটাকে পিকনিক বা বনভোজন বলা হতো। এতে দলীয়ভাবে নিজেরাই নিজেদের কাজগুলো করতো রান্না বান্না থেকে সবকিছু। বড়জোর গাড়ির চালক আর বাবর্চি বাইরে থেকে নেয়া হতো। প্রথম দিকে বনে গিয়ে বন্ধু বান্ধব পরিবারের সদস্যরা মিলে চড়ুইভাতি করতো বলে এটার নাম বনভোজন হয়। কিন্তু পরে সাগর পাহাড় কিংবা কোনো শিক্ষামূলক স্থান কিংবা ঐতিহাসিক স্থানেও বনভোজন বা পিকনিক হতো।

সিদ্ধান্ত

পিকনিকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া খুব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। প্রথমে ঠিক করতে হবে উদ্দেশ্য. মানে কি উদ্দেশ্যে পিকনিক আয়োজন করা হচ্ছে? এটা নির্ভর করে কোন বয়সী লোকজন বেশী থাকবে। ছাত্র বেশী থাকলে শিক্ষামূলক স্থানে যাওয়া উচিত। এজন্য প্রাথমিক ভাবে অভিজ্ঞ কয়েকজনের সাথে পরামর্শ করে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। যে স্থোনে যাবেন সেখানকা, রাস্তাঘাট, নিরাপত্তা, থাকা খাওয়ার সুবিধার বিস্তারিত ও সর্বশেষ আপডেট জানা থাকতে হবে। সবচেয়ে ভালো সেখানে নিজস্ব কোনো লোক থাকলে অথবা কেউ একজন আগে গিয়ে ঘুরে আসলে তা যদি সম্ভব না হয় তাহলে কোম্পানী ট্যুর অপারেটর বা গাইডের সাহায্য নিতে ভুলবেন না।

 

বিবেচ্য বিষয়

একটি পিকনিক আয়োজনের জন্য যেসব বিষয় বিবেচনায় রাখবেন সেগুলো একটু চোখ বুলিয়ে নেন।

১। কোথায় যাবেন কেন যাবেন? সেখানে শিক্ষনীয় কি কি বিষয় আছে সেগুলো কোনো বই থেকে বা ইন্টারনেট থেকে জেনে নিতে পারেন। সেগুলোর ইতিহাস সম্পর্কে বলে ভ্রমণকালীন এক সময় সবাইকে  চমকে দিন। কোনো একটা এলাকায় গিয়ে সে এলাকা সম্পর্কে না জানলে ভ্রমণ করাটা বৃথা।

২। যেখানে যাবেন সেখানে যেতে কত সময় লাগবে, আসতে কত সময় লাগবে? পথে ট্রাফিক জ্যামের সম্ভাবনা আছে কিনা? খাওয়ার সময় কেমন লাগবে। কয়টা জায়গা ঘুরবেন কতক্ষণ সময় লাগবে? ইত্যাদি একেবারে কাগজে কলমে লিখে প্লান করে দেবেন। অন্তত ২ ঘন্টা রিজার্ভ টাইম রাখবেন সারাদিনের জন্য। কোনো কিছুই কাঁটায় কাঁটায় করতে যাবেন না।

৩। যেখানে যাচ্ছেন সেখানকার স্থানীয় বাহন, রাস্তা, থাকার ব্যবস্থা, কতটুকু হাটতে হবে? নিরাপত্তা সমস্যা, স্থানটি শিশুদের জন্য শালীন কিনা? নারীদের জন্য নিরাপদ কিনা? এবং বয়স্কদের জন্য উপযুক্ত কিনা সেটা বিবেচনায় নিয়ে সদস্য নির্বাচন করুন।

৪। ফেইসবুকে মজাদার এড দেখে লাইসেন্সবিহীন কিংবা অপরিচিত কারো অফারে ভ্রমণ করতে গিয়ে পরে নিজেই নিজেকে প্রবোধ দেয়ার দরকার নেই। হয়তো পরিচিত কোনো গ্রুপের সাথে যান নয়তো পেশাদার ট্যুর অপারেটর এর সাথে কথা বলুন। আপনি ফেসবুকে অপেশাদার লোকদের কাছে গিয়ে পরে ধরা খেয়ে সব অপারেটর এর নামে ভরসা হারাবেন এটা যেন না হয়।

৫। যাদের সাথে যাচ্ছেন তাদের সম্পর্কে জেনে নিন। যারা নেতৃত্বে দিচ্ছে তাদের কাজগুলো খেয়ালকরুন সঠিকভাবে করছে কিনা? ভরসা না পেলে না যাওয়াই ভালো।

৬। আগেই জেনে নিন থাকা খাওয়া ও যাতায়াত সুবিধা কোন মানের? আপনি যদি নিজে লিডার হোন সেটা অন্যকে জানিয়ে দিন। খাবার কেমন মানের হবে? রেসিপি বা মেন্যু কি হবে? হোটেল রুম কোনমানের এক রুমে কতজন থাকবে? পারলে রুমের ছবি শেয়ার করুন। বাস বা অন্যান্য তথ্যও পরিষ্কার রাখুন। যাতে কোনো ভুল বোঝাবোঝি না হয়।

৭। টাকা পয়সা বিশেষ করে চাঁদা বা ফি এর হিসেব এর ব্যাপারে হেলাফেলা করবেন না। সঠিকভাবে হিসেব রাখুন। তাতে সমস্যা কমে যাবে।

 

প্রস্তুতি

কমপক্ষে তিনমাস আগে প্রস্তুতি নিন। একমাস স্টাডি করুন একমাস আলোচনা করুন এবং একমাস আগে ইভেন্ট ঘোষনা করুন। প্রয়োজনীয় কেনাকাটা সারুন। সদস্যদের জানিয়ে দিন কি ধরনের প্রস্তুতি নিয়ে আসতে হবে। যেখানে যাচ্ছেন সেখানে রান্না বা খাবারের ব্যবস্থা হোটেল ও স্থানীয় পরিবহন আগেই নিশ্চিত করে রাখুন। দূরে কোথাও গেলে যাত্রীদের আইডি কাড নিয়ে রাখুন। সবাইকে আইনগত ব্যাপার ও পরিবেশ পরিষ্কার রাখার বিষয়ে সচেতন করুন।

কার্যাবলী

একটি পিকনিকের অনেক কাজ থাকে। আজকাল অনেকে সেগুলো কোনো ট্যুর অপারেটরকে দিয়ে নিজেরা নিশ্চিন্তে থাকেন। যেখানে যাচ্ছেন সেটা যদি দেখার মত জায়গা হয় তাহলে অন্যান্য কাজগুলো অন্যের দায়িত্বে দিয়ে নিজেরা সবার সাথে আনন্দে যোগ দিলেই ভালো। আর যদি নিজেরা করতে চান, তাহলে কেনাকাটা ও পেশাদার লোক নেয়ার কাজটি করে রাখুন। যেমন নিজেরা রান্না করে খেতে চাইলে একজন বাবর্চি দরকার হতে পারে। গাড়ি ও থাকার ব্যবস্থা করা, কোনো গিফট কেনা। গিফটটা গরুত্বপূর্ণ কারণ সেটা ভ্রমনের স্মুতি হিসেবে থেকে যায়। এক্ষেত্রে যে এলাকায় যাবেন সেখানকার স্থানীয় কোনো পন্য দিতে পারেন।

পিকনিক শেষ হওয়ার পর যে জায়গাটা ব্যবহার করেছেন সেটি অবশ্যই পরিষ্কার করে আসবেন। নিজেরা না পারলে স্থানীয় কোনো মজুর বা শ্রমিককে দিয়ে কাজটি করিয়ে নেবেন। আপনি যেখানে ছিলেন সেখানে আপনি নিশ্চয় আপনার বাজে কোনো স্মৃতি রাখতে চাননা। ফিরে আসার পর প্রতিটি সদস্যকে বাড়িতে পৌছানোর ব্যাপারে সতর্ক থাকুন। যাদের বাসা দুরে তাদেরকে ফোন করে খবর নিন তারা বাসায় ফিরেছে কিনা?

 কিছু বাড়তি কাজ

ভ্রমণকে আনন্দময় করার জন্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করতে পারেন। রাখতে পারেন খেলাধুলা ও কোনো প্রতিযোগিতা সাথে আকর্ষনীয় পুরষ্কার। প্রতিটি ভ্রমণে একটি মেসেজ ক্যারি করতে পারেন। এতে আপনার ভ্রমণ শুধু ভ্রমণ না হয়ে এটা একটা সামাজিক কাজ হয়ে যাবে। যেমন- আসুন পরিচ্ছন্ন দেশ চাই, অথবা ধুমপানের চেয়ে ভ্রমণ উত্তম ইত্যাদি। যে এলাকায় যাবেন সেখানকার মানুষের জন্য কিছু করার চেষ্টা করবেন বিশেষ করে যদি গরিব এলাকা হয়। মানুশের সাথে মিশতে তাদেরকে জানতে তাদের জীবনযাত্রাকে উপলব্দি করতে স্থানীয়দের সাথে মিশুন। তবে সতর্কভাবে।

সর্তকতা

যেখানে ভ্রমণে যাবেন কিছু কমন সর্তকতা অবলম্বন করুন। যেমন

১। পর্যাপ্ত পানি রাখুন। পানির ব্যাপারে অবহেলা করবেন না। আগুন নিয়ে কাউকে খেলতে দেবেন না। চুরি চাকু লাঠি এগুলো নিয়ে দুস্টুমি করবেন না। আহত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে এমন কোনো খেলা দেবেন না।

২। খাবার গ্রহনে সতর্ক থাকুন। বিরানী খিচুড়ি না খাওয়াই ভালো। পারলে মাংশ এড়িয়ে চলুন। তবে তেল ঝাল ও মসলা জাতীয় খাবার ছুবেন না। ধুমপানে সতর্ক হবেন। মাদক ছুবেন না। গাজা খাবেন না। অনেকে ভ্রমণে গিয়ে মদগাজা খায় এটা একধরনের কূপমন্ডতা।

৩। নিজের ব্যাগে প্রয়োজনীয় জিনিস রাখুন। অপ্রয়োজনী জিনিস দিয়ে ব্যাগ ভরে ভারি করে রাখবেন না। যদি যেখানে যাবেন সেখানে গোসল করার প্রয়োজন হয় তাহলে বাড়তি কিছু হালকা কাপড় রাখার কথা ভুলে যাবেন না।

৪। যেখানে যাবেন সেখানকার মানুষের ভাষা ও সংস্কৃতির প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকুন। কাউকে কটাক্ষ করবেন না। কাউকে নিয়ে হাসাহাসি করবেন না।

৫। দলগত কথা মাথায় রাখুন। শুধু নিজের স্বার্থে কাজ করবেন না। খাবার বা নাস্তা গ্রহনের সময় হড়োহুড়ি করবেন না।

 আজ এটুকু। আবার হয়তো হাজির হবো অন্যকোনো বিষয় নিয়ে। সে পর্যন্ত ভালো থাকুন।

 

 

 

 

 

 

 



আরও পড়ুন...

Quick Search