বঙ্গোপসাগরের জেগে উঠেছে নতুন আইল্যান্ড 

  • Ratul Islam 14978 27/05/2017

সেন্টমার্টিন দ্বীপের মতই বাংলাদেশের বঙ্গোপসাগরে জেগে উঠেছে  একটি নতুন দ্বীপ । ইতিমধ্যে দ্বীপটির নামকরণ করা হয়েছে বঙ্গবন্ধু আইল্যান্ড নামে । সমুদ্রবুকে জেগে উঠা নতুন আইল্যান্ডকে ঘিরে তৈরি হয়েছে অপার সম্ভবনা । সুন্দরবনের হিরণ পয়েন্ট, দুবলারচর ও লোনা পানির মাছের খনি সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ডের মাঝামাঝি বঙ্গোপসাগরের গভীরে জেগে ওঠা বিশাল ভুখণ্ডই হচ্ছে বঙ্গবন্ধু আইল্যান্ড।

নগরীর একটি সেমিনারে স্পিকার বলেন, বঙ্গোপসাগরে দুবলারচর এর নিকটবর্তী নবগঠিত 'বঙ্গবন্ধু দ্বীপ' একটি বিশ্বমানের পর্যটন গন্তব্য এবং নীল অর্থনীতির উৎস হতে পারে।নতুন এই দ্বীপটির আয়তন ৭.৮৪ বর্গ কিলোমিটার । শুক্রবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বঙ্গবন্ধু দ্বীপের গবেষক অধ্যাপক মো. শহীদুল ইসলাম বলেন এই দ্বীপটি সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় দুই মিটার উচ্চতায় অবস্থিত।

ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগ আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে শহীদুল ইসলাম বলেন, ‘দ্বীপটি প্রথম আবিষ্কৃত হয় ১৯৯২ সালে। মৎস্য শিকারি মালেক ফরাজীসহ দুইজন জেলে প্রথম এই দ্বীপে অবতরণ করেন। বঙ্গবন্ধুর একনিষ্ঠ ভক্ত হওয়ায় তিনি সেই সময়ই বঙ্গবন্ধু দ্বীপ নামে একটি সাইনবোর্ড লাগিয়ে দেন। এরপর আর কোনো খবর ছিল না।’

শহীদুল ইসলাম বলেন, ‘সম্প্রতি ফেসবুকে একটি পোস্ট দেখে দ্বীপটি গবেষণার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। দুইজন সহকর্মীসহ ২৯ সদস্যের একটি দল নিয়ে গত ১১ ফেব্রুয়ারি দ্বীপের উদ্দেশে আমরা রওনা হই। দ্বীপটি মংলা বন্দর থেকে অনেকটাই দূরে হওয়ার কারণে সেখানে আমাদের পৌঁছাতে তিন দিন সময় লাগে। দ্বীপটি নিয়ে ১৬ দিন গবেষণা করার পর আমরা ঢাকায় ফিরে আসি।’

গবেষণার ফলাফল সম্পর্কে এই গবেষক জানান, ‘গত ২৫ বছরে দ্বীপের পরিধি অনেকটাই বিস্তৃত হয়েছে। বর্তমানে দ্বীপের আয়তন ৭.৮৪ কিলোমিটার, যা সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে দুই মিটার উচ্চতায় অবস্থিত। এই দ্বীপে সর্বমোট নয় কিলোমিটার লম্বা সাগর সৈকত রয়েছে। দ্বীপটিতে আমরা চোরাবালির চিহ্ন পাইনি। অন্যান্য সাগর সৈকতের তুলনায় এই সৈকতের পানি এতটাই স্বচ্ছ যে এখানে সহজেই ভয়হীনভাবে সাঁতার কাটা যায়।’

বঙ্গবন্ধু দ্বীপের এই গবেষক বলেন, ‘এই দ্বীপের প্রধান আকর্ষণ লাল কাঁকড়া। দূর থেকে দেখে মনে হয় যেন লাল রংয়ের সৈকত। এই সৈকতে আমরা বিশাল জঙ্গলের সন্ধান পেয়েছি। সেখানে আমরা গবেষণা করে কোনো সরীসৃপ পায়নি। সরীসৃপ বাদে আমরা সব মিলিয়ে প্রায় ৬০ থেকে ৭০টি জীববৈচিত্রের সন্ধান পেয়েছি। তবে আমাদের গবেষণা স্বল্প পরিসর হওয়ায় পুরো জঙ্গলে পুঙ্খানুপুঙ্খানুভাবে গবেষণা করা যায়নি। আমরা যতটুকু অনুসন্ধান করেছি তাতে বাঘের কোনো চিহ্ন না পেলেও হরিণের চিহ্ন পেয়েছি।’

শহীদুল ইসলাম আরও জানান, ‘দ্বীপের গবেষণা বিষয়ে সব কাগজপত্র আমরা সরকারের কাছে দাখিল করবো। কারণ আমরা মনে করি অন্যান্য সাগর সৈকতের তুলনায় এই সৈকতের সৌন্দর্য কোনো অংশে কম নয়। এছাড়াও এই দ্বীপের আশপাশে ২০ কিলোমিটার পর্যন্ত কোনো মানববসতি নেই। যার কারণে এই দ্বীপটি অনেকটাই সুনসান। এজন্য সরকারি পর্যায়ে এই দ্বীপের আন্তর্জাতিক প্রচারণা প্রয়োজন। এমনকী দেশের মানুষও জানে না যে এই দেশে এত সুন্দর দ্বীপ রয়েছে।’

অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক। তিনি বলেন, ‘দেশের মধ্যে এত সুন্দর দ্বীপ আছে, তা আমার কাছেও অজানা ছিল। বেশ কয়েকদিন আগে গবেষকদের সঙ্গে বৈঠকে আমি এই দ্বীপের কথা জানতে পারি। এই দ্বীপে পর্যটক বাড়াতে হলে সরকারি পর্যায়ে প্রচার প্রচারণা প্রয়োজন। তবেই সেখানে পর্যটক আসবে।’

দেশের অর্থনীতিকে এগিয়ে নিতে এই দ্বীপটি যথেষ্ট সাহায্য করবে বলে অনেকেই আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন । এই বিষয়ে সরকার কি সিদ্ধান্তে উপনীত হবেন তা এখনও সবার অজানা। তবে বান্দরবান, রাঙ্গামাটি এবং সাজেকে বাংলাদেশ আর্মি সুষ্ঠ ও সুন্দরভাবে বেশ কিছু নান্দনিক রিসোর্ট গড়ে ্তুলেছেন এবং সেগুলোর পরিচালনা অত্যন্ত সুনামের সাথে করছেন । ঠিক সেভাবেই যদি সেন্টমার্টিন দ্বীপ এবং নতুন জেগে ওঠা বঙ্গবন্ধু আইল্যান্ড এ তাদের কার্যক্রম শুরু করেন তাহলে দ্বীপ গুলোকে আমরা অত্যন্ত চমৎকারভাবে বিশ্বের দরবারে তুলে ধরতে পারব আশা করি।



আরও পড়ুন...