বাংলাদেশের ভৌতিক কিছু স্থান

  • Bushra Esrar 14772 04/03/2017

আধুনিক পৃথিবী যেভাবে ভূত-প্রেতের অস্তিত্বকে অস্বীকার করে চলে, সেখানে পৃথিবীর প্রায় সব দেশেই এখন অব্দি ছড়িয়ে থাকা শত শত ভুতুড়ে জায়গা কৌতুহল জাগায় বৈকি। তবে বাস্তবে হয়তো কখনো কখনো জনশ্রুতিতেই গড়ে ওঠে এমন অনেক ভূতুড়ে বাড়ি বা জায়গা। কোনোটায় বা থাকে অনুদঘাটিত কোনো রহস্য, যা এই জায়গাগুলোকে ঘিরে তৈরি করে ভূতুড়ে আবহ। অনেক হয়েছে বাইরের দেশের ভৌতিক ঘটনা নিয়ে আলোচনা। এবার হবে নিজের দেশ নিয়ে।  বাংলাদেশের নানা প্রান্তেও ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে নানা ভৌতিক জায়গা, যা নিয়ে গা ছমছমে গালগল্প চলে এই স্যাটেলাইট আর ইন্টারনেটের সময়েও। এগুলো কতটা বিশ্বাসযোগ্য তা সবাই জানেন। কিন্তু এসব পড়তে কার না ভালো লাগে?? আরেকটা কথা যতই অবিশ্বাস্যই হোক আপনাদের কারো এরকম মিথ জানা থাকলে জানাবেন।

গানস অফ বরিশাল

গুগলে লেখে সার্চ দিলেই পাবেন। ব্রিটিশরা বরিশালে আসার সময় নাম ছিল বাকেরগঞ্জ। বাকেরগঞ্জের ততকালীন ব্রিটিশ সিভিল সার্জন প্রথম ঘটনাটা লেখেন। বর্ষা আসার আগে আগে গভীর সাগরের দিক থেকে রহস্যময় কামান দাগার আওয়াজ আসতো। ব্রিটিশরা সাগরে জলদস্যু ভেবে খোজা খুজি করেও রহস্যভেদ করতে পারে নাই।

বগা লেক

কেওকারাডং এর আগে রুপসী বগা লেক। বম ভাষায় বগা মানে ড্রাগন। বমদের রুপকথা অনুযায়ী অনেক আগে এই পাহাড়ে এক ড্রাগন বাস করতো। ছোট ছোট বাচ্চাদের ধরে খেয়ে ফেলতো। গ্রামের লোকেরা ড্রাগনকে হত্যা করলে তার মুখ থেকে আগুন আর প্রচন্ড শব্দ হয়ে পাহাড় বিস্ফোরিত হয়। রুপকথার ধরন শুনে মনে হয়, এটা একটা আগ্নেয়গীরির অগ্ন্যুতপাত। উপজেলা পরিষদের লাগানো সাইনবোর্ডে সরকারী ভাবে এই রহস্যের কথা লেখা। এখনো এর গভীরতা কেউ বলতে পারে না। ইকো মিটারে ১৫০+ পাওয়া গেছে। প্রতিবছর রহস্যময় ভাবে বগা লেকের পানির রঙ কয়েকবার পালটে যায়। যদিও কোন ঝর্না নেই তবুও লেকের পানি চেঞ্জ হলে আশপাশের লেকের পানিও চেঞ্জ হয়। হয়তো আন্ডার গ্রাউন্ড রিভার থাকতে পারে। রহস্য ভেদ হয়নি এখনো।

চিকনকালা (নিফিউ পাড়া)

মুরং গ্রামটা বাংলাদেশ-বার্মা নো ম্যানস ল্যান্ডে। এখানে মৃত চিতাবাঘের ছাল দেখা গিয়েছে। দিনের বেলাতেই বার্কিং ডিয়ার আর ভাল্লুকের ডাক শুনা গিয়েছে। কাছের মুরং গ্রাম চিকনকালার লোকেরা বলে প্রতিবছর নাকি (দিনটা নির্দিষ্ট না) হঠাত কোন জানান না দিয়ে বনের ভিতর রহস্যময় ধুপ ধাপ আওয়াজ আসে। শিকারীরা আওয়াজটা শুনলেই সবাই দৌড়ে বন থেকে পালিয়ে আসে। কিন্তু প্রতিবছরেই কয়েকজন পিছে পড়ে যায়। যারা পিছে পড়ে তারা আর ফিরে আসে না। কয়েকদিন পরে বনে তাদের মৃত দেহ পাওয়া যায়। শরীরে আঘাতের চিহ্ন নেই। শুধু চেহারায় ভয়ঙ্কর আতঙ্কের ছাপ।

চুয়াডাঙ্গা

চুয়াডাঙ্গার আলিয়াপুর নামক গ্রামে নাকি প্রতি আমাবস্যায় রাত ১২টা থেকে রাত ৩টা পর্যন্ত একদল কুকুর দলবেঁধে গ্রামটি ঘিরে চক্কর দেয়।। অনেকেই সেই কুকুরের দলকে দেখতে পেয়েছেন।। আশ্চর্যের ব্যাপার হলো, তারা শুধুমাত্র আমাবস্যার রাতেই উপস্থিত হয় এবং সারা মাসে তাদের আর দেখা যায় না।। কয়েক যুবক মিলে একবার রাত করে তাদের দেখার জন্য প্রস্তুতি নেয়।। তাদের মাঝে ২ জন কুকুরের কামড়ে মারাত্মক ভাবে আহত হয়।। যুবকদের প্রায় সকলেই একই স্বীকারউক্তি দেয় যে, সেই সব কুকুরগুলো কালচে বর্ণের ছিলো, কারন অন্ধকারে তাদের স্পষ্ট দেখা যাচ্ছিল না।। তারা একটা ছন্দ মিলিয়ে এক লাইনে হাঁটছিলো এবং তাদের প্রত্যেকের চোখ থেকেই এক প্রকার নীলচে আভা বের হচ্ছিল।

পুরান ঢাকা

পুরান ঢাকাতে কিছু মিষ্টির দোকান আছে যেখান থেকে কিছু লোক কয়েকদিন পর পর এসে রাত ৮টার দিকে ১০-১২ কেজি মিষ্টি কিনে নিয়ে যায়।। তারা যেই দোকানে ঢুকে সেই দোকানের মালিককে লাইট নিভিয়ে দিতে বলে।। অন্ধকারে তারা আসে, অন্ধকারে চলে যায়।। এই লোকগুলো আকারে অনেক লম্বা এবং তাদের চেহারা আজ পর্যন্ত কেউ ভালো করে দেখতে পারে নি।। ধারণা করা হয়, এরা জীন প্রজাতি।। পুরান ঢাকার বেশিরভাগ মিষ্টির দোকানের লোকেরাই উনাদের কথা জানেন।

পুরান ঢাকার ১টা গার্লস স্কুলের সামনে দিয়ে নাকি রাত ১২টার পর একটা বউকে হেঁটে যেতে দেখা যায়।। যার পড়নে থাকে লাল পার দেয়া একটা হলুদ শাড়ি।। সে কোথা থেকে আসে এবং কোথায় যায় তা কেউ আজ পর্যন্ত শনাক্ত করতে পারে নি।। অনেকেই নাকি বউটাকে দেখেছে।

লালবাগ কেল্লা

লালবাগ কেল্লার নিচ দিয়ে অনেক গুলো সুড়ঙ্গ আছে, যেগুলো জমিদার আমলে করা।। জমিদাররা বিপদ দেখলে সেইসব পথে পালিয়ে যেতো।। তেমনই একটা সুড়ঙ্গ আছে, যার ভেতরে কেউ ঢুকলে তাকে আর ফিরে পাওয়া যায় না।। মানে, সে আর ফিরে আসে না।। পরীক্ষা করার জন্য একবার ২টা কুকুরকে চেইনে বেঁধে সেই সুড়ঙ্গে নামানো হয়েছিলো।। চেইন ফেরত আসে কিন্তু কুকুর দুটো ফিরে আসে নি।

গদ্রবঙ্গা

বাংলাদেশের সাঁওতাল উপজাতিরা অনেক দেব/দেবীর পুজা করে।। এই সব দেব/দেবীর মাঝে কিছু আছে যারা অপদেবতা।। তেমনি এক ধরনের অপদেবতার পুজা করে সাঁওতালরা যাদের "গদ্রবঙ্গা" বলা হয়।। এইসব দেবতারা সাইজে ২-৩ ফিট হয়।। চেহারাও ছোট বাচ্চাদের মতো।। ওরা বিভিন্ন সাঁওতাল পরিবারেও পালিত হয়ে থাকে। ওদেরকে লালন, পালন, আর পুজা দেয়ার কারন হলো, এইসব দেবতারা যেইসব পরিবারে পালিত হয় তাদেরকে অনেক ধনী করে দেয়।।এইসব দেবতারা অন্য বাড়িঘর থেকে স্বর্ণ চুরি করে তা নিজ পালিত ঘরের মালিককে দেয়।।তবে, এর বিনিময়ে তারা যা দাবি করে তা খুবই ভয়ঙ্কর।। স্বর্ণ দেয়ার বদলে এইসব অপদেবতারা যে বাড়িতে পালিত হয়, সেই বাড়ির মালিকের ছোট ছোট ছেলে সন্তানগুলোকে চায়।। তারা এইসব ছোট ছেলেদেরকে মেরে ফেলে (কথিত আছে, খেয়ে ফেলে, কারন সেইসব ছোট বাচ্চাদের আর পাওয়া যায় না)।  আর বাড়ির মালিক যদি তাদের এই চাহিদা পূরণ করতে না পারে, তাহলে "গদ্রবঙ্গা" রা ঐ পরিবারকে ধ্বংস করে দেয়।। এসব জানার পরও এখনো সাঁওতাল অনেক পরিবারই ধনী হবার লোভে এইসব অপদেবতা পালন করে আসছে।

তেজগাঁও

ঢাকার তেজগাঁও এর মনিপুরীপাড়া এলাকায় একটা পুরনো খ্রিস্টান বাড়ি আছে।। এই বাড়িতে ভাড়া থাকা প্রায় সব ভাড়াটিয়াই বিভিন্ন অদ্ভুত বা ভূতুড়ে কাণ্ডকারখানার সম্মুখীন হন।। অনেক সময়ই গভীর রাতে(রাত ১-২টার দিকে) বাড়িটার নিচের উঠোনের দোলনায় কাউকে দুলতে দেখা যায়।। ঘটনাটি দেখেছেন এমন লোকের সংখ্যা নেহায়েত কম নয়।। এছাড়াও বাড়ির ছাদে অনেকসময় নাকি গভীর রাতে কারা হইচই করে।। কিন্তু তৎক্ষণাৎ ছাদে গেলেও কাউকে দেখা যায় না।। এই বাড়িটিকে ঘিরে লোক মনে কৌতূহলের কোনো শেষ নেই।। শোনা যায়, উক্ত বাড়িওয়ালার মেয়ে প্রায় ১৬ বছর আগে গলায় ফাঁস দিয়ে নিজ ঘরে মারা যায়।। মেয়েটি মানসিকভাবে অসুস্থ ছিলো।। এই আত্মহত্যার পর থেকেই এমন অদ্ভুতুড়ে কার্যকলাপ শুরু হয়।
 

মিরপুর ইনডোর স্টোডিয়াম

মিরপুর ইনডোর স্টোডিয়ামে আগে যখন পুকুর ছিল তখন যে ২/৩বছর পর পর একজন করে মানুষ নিত।শেষ মানুষ টার কথাই আমার মনে আছে আমি তখন খুব ছোট, তখন একদিন দুপুর বেলা ৬নং সেকশনের নান্টু নামে একজন পুকুরে গোসল করতে নামে প্রতিদিনের মত কিন্তূ সে আর উঠে আসে না,পুকুর পারে তার সেন্ডেল লুন্গি গামছা সব পরে থাকে।তারপর কত ডুবুরি কত মানুষ পুকুরে তন্ন তন্ন করে খুজল কিন্তূ নান্টু মিয়াকে আর খুজে পেলনা।তারপর ২৪ ঘন্টা পর তার লাশ ভেসে উঠছিল কোনরকম কিছুই হয়ছিলনা লাশের শরিরে।সবাই বলছিল শিকলে নিয়ে গেছিল।স্টোডিয়াম বানাবার সময়ও নাকি অনেক সমস্যা হয়েছিল বলে শুনা গিয়েছে।

ফয়েসলেক (চট্টগ্রাম)

এখানে একটি কালো ছায়া দেখতে পাওয়া যায় বলে লোকমুখে শোনা যায়। আবার অনেকে সাদা শাড়িতে খোলা চুলে একটি নারীকেও প্রায়ই ঘোরাফেরা করতে দেখতে পান বলে জানিয়েছেন।

শুত্রঃ ইন্টারনেট

 



আরও পড়ুন...