ভ্রমনের জন্য জনপ্রিয় বিশ্বের ৫ টি রোমান্টিক স্থান 24/02/2016



প্রিয়জনকে নিয়ে সুন্দর সময়কে আরো মোহময় করতে পারে সমুদ্রের নীল ঢেউ, ঘন সবুজ বন, পাহাড় বা জলপ্রপাত। সৌন্দর্য্যের ডালি সাজিয়ে প্রকৃতি আছে আপনার অপেক্ষায়। আসুন জেনে নেই বিশ্বেরএমন ৫ টি স্থান সম্পর্কে, যেগুলো জনপ্রিয় রোমান্টিক স্থান হিসাবে। নিজের হানিমুনে বা বিশেষ কোন দিনে অনায়াসে বেড়িয়ে আসতে পারেন চোখধাঁধানো সুন্দর এসব জায়গায়।

বালি, ইন্দোনেশিয়া- 
বালি রোমান্টিক জুটিদের সময় কাটানোর জন্য একটি অসাধারণ জায়গা। এর চমৎকার দৃশ্য, পানির সবুজাভ নীল রঙ এক মোহময় আবহাওয়ার তৈরি করে যা আপনাকে বারবার বালি ভ্রমণে আকৃষ্ট করবে। এছাড়া এখানকার মানুষের সংস্কৃতি, জীবনযাত্রাও দেবে অন্যরকম আনন্দ। বালির সানুর বীচে দেখতে পারেন সূর্যাস্ত। এখানে আরো আছে ১৫ শতকের মন্দির তানাহ লট। পাথরের তৈরি মন্দিরটি সমুদ্রের একেবারে কাছেই অবস্থিত। বালিতে আরো দেখতে পাবেন ৫ টি চমৎকার জলপ্রপাত। এগুলো বেডুগুল এবং সিঙ্গারাজার মাঝামাঝি অবস্থিত। নিরিবিলি সময় কাটাতে সবচেয়ে উপযোগী হল বালির সেমিনায়কের ইকো বীচ। সব মিলিয়ে বালি হতে পারে আপনার জন্য সবচেয়ে স্মরণীয় রোমান্টিক ট্যুর।

ব্রাগ, বেলজিয়াম-
রূপকথার ব্রাগ যেকোন ভ্রমণপিপাসুর মনকে পুলকিত করতে যথেষ্ট। এখানকার খোলা প্রান্তর, খেয়ালি কুটির, এলোমেলো পথ একটা রোমান্টিক পরিবেশ তৈরি করে। নগরের খালগুলোতে নৌকা ভ্রমণের ব্যবস্থা রয়েছে। ব্রাগে দেখার আছে অনেক কিছু। বার্গ এর দক্ষিণ দিকে মূল চত্বরের কাছে আছে ঘন্টাঘর। দক্ষিণ-পশ্চিম দিকে আছে বার্গের টাউনহল যা ১৩৭৬-১৪২০ সালের মধ্যে নির্মিত। এটি বেলজিয়ামের সবচেয়ে প্রাচীন স্থাপত্যের একটি। পূর্বে রয়েছে ১৭ শতাব্দীর ব্রাগের লিবার্টি ভবন। আরো দেখবেন গ্রোনিঞ্জ মিউজিয়াম, ম্যাম্লিং মিউজিয়াম, ডিজভার মেনসন। বিভিন্ন দর্শনীয় চার্চের মধ্যে রয়েছে সিন্ট-সাল্ভাটোর্স ক্যাথেড্রাল, সি৯ন্ট জ্যাকবস্কার্ক, জেরুজালেম কার্ক। পুরো শহরটিই প্রাচীন ঐতিহ্যে ভরপুর।

প্যারিস, ফ্রান্স- 
এই শহরের আলো যেন প্রেমের বার্তাই বহন করে। প্যারিস এমনই একটি জায়গা যেখানে হয়ত আপনি শুধুই হাতে হাত রেখে হাঁটছেন অথবা কোন রেস্তোরায় কফি খেতে বসেছেন, সেটিও আপনার অসাধারণ লাগবে। আইফেল টাওয়ারের রাতের দৃশ্য খুবই চমৎকার। আরো আছে ভালোবাসার দেয়াল বা Love of wall, যেখানে বিভিন্ন ভাষায় লেখা আছে একটিই কথা, 'ভালোবাসি'। প্যারিসের আরেকটি আকর্ষন নটরড্যাম ক্যাথেড্রাল। প্যারিসের সবচেয়ে বড় সমাধিক্ষেত্র প্যারি লেচেস সমাধিক্ষেত্রটিও দেখে আসতে পারেন। রাতের ভ্রমণের তালিকায় রাখতে পারেন স্কয়ার ভার্ট গ্যালেন্ট, অথবা লাফায়্যাতে গ্যালারীর ফ্যাশন শো। প্যারিস ভ্রমণে কোনভাবেই মিস করবেন না এখানকার অসাধারণ মিউজিয়াম গুলো।

ভেনিস, ইতালি- 
ভেনিসকে বলা হয় মধুচন্দ্রিমার শহর। এখানকার রোমান্টিক পরিবেশ প্রেমের জন্যই যেন তৈরি। এখানে প্রথমেই ওয়ান স্কয়ার থেকে দেখুন শহরের দৃশ্য। নেপোলিয়ান একে বলেছেন, ইউরোপের বারান্দা। এখান থেকে দেখতে পাবেন সেন্ট মার্ক এর রাজ প্রাসাদ,ডগস পেলেস, ক্লক টাওয়ার। এরপর যাবেন গন্ডোলার জলপথে নৌভ্রমণে, এটি ছাড়া আপনার ভ্রমণই অসম্পূর্ণ থেকে যাবে। শিল্পের নগরী ভেনিসে বিভিন্ন শিল্পকর্ম অবশ্যই দেখতে যাবেন, এর মধ্যে আছে টাইটান, টিনটরেট্টো, সেনলেট্টো, টাইপোলো। এগুলো সবই ১৭ শতকের আগে তৈরি। ভেনিসের খাবারের অপূর্ব স্বাদ অবশ্যই আপনার জীভে লেগে থাকবে। এখানকার বিভিন্নরকম খাবার খেয়ে দেখবেন, বিশেষ করে সামুদ্রিক খাবারগুলো।

কেরালা, ইন্ডিয়া-
কেরালার অসাধারণ বীচ আর ঘন জঙ্গল যেন নীল আর সবুজের অপূর্ব মিতালী। প্রেমিক যুগলদের অন্যতম পছন্দ এই জায়গাটি আয়ুর্ভেদিক চিকিৎসার জন্যেও বিখ্যাত। এখানকার বিশদ অঞ্চলে এখনো পর্যটনের ছোঁয়া লাগে নি। তাই প্রকৃতির আদিম স্বাদ পাবেন এখানে। কেরালায় রয়েছে ছোট ছোট পাহাড়ে চা বাগান। আরো আছে বিভিন্ন ধরণের স্পা পার্লার, যা পর্যটকদের জন্য অন্যতম আকর্ষণ। কেরালার ঠেকাড্ডি এবং মান্নুরে যাওয়ার জন্য বরাদ্দ রাখুন একটি দিন। এখানে গেলে দেখতে পাবেন চমকপ্রদ জলপ্রপাত আর বন্যপ্রাণীদের বর্ণিল জীবন।

You might like