খুলে গেল চারদেশীয় সড়ক সংযোগ 22/02/2016



বাংলাদেশ, ভারত, ভুটান ও নেপালের মধ্যে চার দেশীয় সড়ক সংযোগ বাংলাবান্ধা স্থলবন্দরের উদ্বোধন করা হয়েছে।
বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এবং ভারতের কেন্দ্রীয় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জেনারেল (অব.) বিজয় কুমার সিংহ তেঁতুলিয়ার বাংলাবান্ধায় ইমিগ্রেশন চেকপোস্টের উদ্বোধন করেন।
 
 
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ভারতের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জেনারেল (অব.) বিজয় কুমার সিংহ বলেন, 'বাংলাদেশ আমাদের ভালো প্রতিবেশি এবং বন্ধু। মহান মুক্তিযুদ্ধে বঙ্গবন্ধ শেখ মুজিবর রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে বলেই আজ আমরা এর উদ্বোধন করতে পারলাম।'
 
এ সময় দুই দেশের হাই কমিশনারসহ উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
 
বাংলাবান্ধা খুলে যাওয়ায় চার দেশীয় ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসারসহ পর্যটন শিল্পের বিকাশ ঘটবে বলে মনে করা হচ্ছে।
 
উদ্বোধনের পর পাসপোর্টধারীরা বিদ্যমান নিয়ম অনুযায়ী যাতায়াত করতে পারবেন। বাংলাবান্ধা হবে চার দেশের মধ্যে চলাচলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ ও স্থলবন্দর।
 
উদ্বোধনের পর প্রথম বারের মত বাংলাদেশ থেকে পঞ্চগড় চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি আশরাফুল আলম পাটোয়ারীসহ ৩২ ব্যবসায়ী ভিসা নিয়ে ভারতে প্রবেশ করেন। সেখানে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ তাদের ফুলের তোরা ও চায়ের প্যাকেট দিয়ে  স্বাগত জানান।
১৯৯৭ সালের ১ সেপ্টেম্বর এই স্থলবন্দর চালু হয়। এতদিন এই বন্দর দিয়ে বাংলাদেশ, ভারত এবং নেপালের মধ্যে শুধুমাত্র পণ্য পরিবহন হত। উদ্বোধনের পর থেকে এই বন্দর দিয়ে পাসপোর্টধারী বাংলাদেশিরা ভারত হয়ে নেপাল ভূটান যাতায়াত করতে পারবেন। 
 
সূত্র জানায়, বাংলাবান্ধা স্থলবন্দরের ইমিগ্রেশনের পর সহজেই চার দেশের মধ্যে যোগাযোগ ব্যবস্থা স্থাপন হবে। বাংলাবান্ধা থেকে ভারতের শিলিগুড়ির দূরত্ব  ১০ কিলোমিটার, নেপালের দূরত্ব ৪০ কিলোমিটার ও ভুটানের দূরত্ব মাত্র ৬০ কিলোমিটার।
 
চার দেশের মধ্যে বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর দিয়ে যোগাযোগের রুট হবে- ঢাকা থেকে হাটিকুমরুল-বগুড়া-রংপুর-বাংলাবান্ধা হয়ে ভারতের ফুলবাড়ী-পানিটাঙ্কি দিয়ে নেপালের কাকরভিটা হয়ে কাঠমান্ডু।
 
ঢাকা থেকে হাটিকুমরুল-বগুড়া-রংপুর-বাংলাবান্ধা হয়ে ভারতের ফুলবাড়ী-শিলিগুড়ি হয়ে নাগারকতা দিয়ে ভুটান।
 
এ স্থলবন্দর ছাড়া অন্য রুটে যেভাবে চার দেশের যোগাযোগ স্থাপন হবে সেগুলো হচ্ছে- ভারতের কলকাতা থেকে পেট্রাপোল হয়ে বাংলাদেশের বেনাপোল-যশোর-ঢাকা-চট্টগ্রাম, চট্টগ্রাম থেকে ঢাকা-হাটিকুমরুল-বগুড়া-রংপুর-বুড়িমারী হয়ে ভারতের চ্যাংরাবান্ধা-শিলিগুড়ি এবং ঢাকা থেকে হাটিকুমরুল-বগুড়া-রংপুর-বুড়িমারী হয়ে ভারতের চ্যাংরাবান্ধা-জায়াগন হয়ে ভুটানের ফুয়েন্টসোলিং হয়ে থিম্পু পর্যন্ত। এ ছাড়া ভারতের কলকাতা থেকে বাংলাদেশের ঢাকা-সরাইল-সিলেট-তামাবিল হয়ে ভারতের ডাউকি-শিলং-গৌহাটি হয়ে ভুটানের সামদ্রুপ ঝংকার পর্যন্ত।
 
 
বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর ঘোষিত চার দেশের সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। দেশের অন্যান্য বাণিজ্যিক সীমান্তপথে স্থলবন্দরগুলোর মধ্যে বাংলাবান্ধা অন্যতম। বাংলাবান্ধা বন্দর থেকে মাত্র ১০ কিলোমিটার দূরে ভারতের শিলিগুড়ি শহর। সেখান থেকে রেল, আকাশ ও সড়কপথে ভারতের যে কোনো প্রান্তে অনায়াসে যাতায়াত সম্ভব। ব্যবসায়িক, পর্যটনসহ সব সুবিধা শিলিগুড়ি শহরে বিদ্যমান। আর ভারতের সেভেন সিস্টার খ্যাত রাজ্যগুলোতে প্রবেশের একমাত্র করিডোর হচ্ছে শিলিগুড়ি শহর।
সৌজন্যে : সমকাল
 
 

 

You might like