গাজীপুরের ১০ টি মনোলোভা রিসোর্ট সম্বন্ধে জেনে নিন 29/10/2016



কর্মব্যস্ত নাগরিক জীবনে হাঁপিয়ে ওঠে অনেকেই খোঁজেন প্রশান্তির ছোঁয়া। অল্প সময়ের ছুটিতেও দু-দণ্ড প্রকৃতির সান্নিধ্য পেলে মন্দ হয় না। রাজধানী ঢাকার অদূরে গাজীপুরের প্রত্যন্ত এলাকায় মনোরম দৃশ্যমাখা গ্রামীণ পরিবেশে গড়ে উঠেছে অর্ধ-শতাধিক বেসরকারি রিসোর্ট। এখানে প্রকৃতিপ্রেমী ও ভ্রমণপিপাসুদের আনাগোনা থাকে সবসময়। আর হাতের কাছে এমন সুন্দর, নয়নাভিরাম প্রাকৃতিক সৌন্দর্য দেখতে রাজধানীসহ দেশের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের কাছে এখন জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে গাজীপুরের রিসোর্টগুলো। এসব রিসোর্টে বিদেশি পর্যটকসহ দেশের খ্যাতিমান প্রতিষ্ঠান বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করে থাকে। তেমনই কয়েকটি রিসোর্ট নিয়ে  আজকের আয়োজন……

নক্ষত্রবাড়ী

গাজীপুরে অবস্থিত বেসরকারি রিসোর্টগুলোর মধ্যে সৌন্দর্যমণ্ডিত ‘নক্ষত্রবাড়ী’। নক্ষত্রবাড়ী প্রকৃতিপ্রেমী ও ভ্রমণপিপাসুদের কাছেও অতি জনপ্রিয় নাম। প্রকৃতিপ্রেমীদের সব সুযোগ-সুবিধা সংবলিত ঢাকার খুব কাছে একটি রিসোর্ট বানানোর কথা চিন্তা করে অভিনেতা তৌকীর আহমেদ ও বিপাশা হায়াত দম্পতি ১৪ বিঘা জমির ওপর ‘নক্ষত্রবাড়ী’ নির্মাণ করেন। ২০১১ সালের ১৬ ডিসেম্বর আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয় নক্ষত্রবাড়ীর ।

এর বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো, পুকুরের পানির ওপর কাঠ-বাঁশের সমন্বয়ে নির্মিত ১১টি কটেজ। যার বারান্দায় বসে রাতের জোছনা বা পূর্ণিমা দেখা যায়। শুধু তাই নয়, প্রকৃতির মাঝে হারিয়ে যেতে, অতি সৌন্দর্যের কটেজ এগুলো।

এখানে বসে শোনা যায় ব্যাঙের ডাক, ঝিঁঝিঁ পোকার ডাক, জোনাকির আলো ছড়ানো টিপ টিপ বাতি জ্বলা-নিভা। পুকুরের পশ্চিম পাশের পানির ওপর গজারী গাছ দিয়ে নির্মিত এসব কটেজ। কটেজগুলোর ওপর রয়েছে ছনের ছাউনি। পুকুরের পূর্ব পাশে ব্রিটিশ আমলের দরজা-জানালা সংবলিত একটি ঘর রয়েছে। একটু পুবে রয়েছে সুইমিং পুল। রয়েছে আরও একটি বিল্ডিং কটেজ। রয়েছে একটি কনফারেন্স রুম ও খাবার হোটেল।

আর এই হোটেলে রয়েছে বাংলা, চাইনিজ, ইন্ডিয়ান, থাই, কন্টিনেন্টাল খাবার। এখানে বিভিন্ন ধরনের গাছ-গাছালি রয়েছে। এখানে সার্বক্ষণিক ৪০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী রয়েছেন। তারা সবসময় অতিথিদের সেবায় ব্যস্ত থাকেন। নক্ষত্রবাড়ী কর্তৃপক্ষ সবসময়ই অতিথিদের সব ধরনের সেবা দেওয়ার চেষ্টায় থাকে। এখানে আগতদের বেশির ভাগই প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করতে আসেন। প্রকৃতিকে খুব কাছ থেকে উপভোগ করতে চাইলে নক্ষত্রবাড়ী চলে আসতে পারেন।

ভাড়া: পানির ওপর কটেজগুলো ২৪ ঘণ্টার ভাড়া ১০ হাজার ৭৫২ টাকা। বিল্ডিং কটেজের ভাড়া কাপলবেড ৮ হাজার ২২২ টাকা এবং টু-ইন বেড ৬ হাজার ৯৫৮ টাকা। দর্শনার্থীদের জন্য প্রবেশ মূল্য ৫০০ টাকা।

যেভাবে যাবেন : নিজস্ব পরিবহন বা যাত্রীবাহী বাসে করে গাজীপুর চৌরাস্তা হয়ে ঢাকা-কাপাসিয়া মহাসড়কের রাজাবাড়ী বাজারে নামতে হবে। পরে রাজাবাড়ী বাজার থেকে দেড় কিলোমিটার দক্ষিণে চিনাশুখানিয়া গ্রামের বাঙালপাড়া এলাকায় নক্ষত্রবাড়ীর অবস্থান, যা কাপাসিয়া-শ্রীপুরের সীমানা বেষ্টিত এলাকা।

ছুটি

ছুটি রিসোর্টে রয়েছে নৌভ্রমণের ব্যবস্থা, বিরল প্রজাতির সংরক্ষিত বৃক্ষের বনে রয়েছে টানানো তাঁবু। ছনের ঘর, রেগুলার কটেজ, বার্ড হাউস, মাছ ধরার ব্যবস্থা, হার্বাল গার্ডেন, বিষমুক্ত ফসল, দেশীয় ফল, সবজি, ফুলের বাগান, বিশাল দুটি খেলার মাঠ, আধুনিক রেস্টুরেন্ট, দুটি পিকনিক স্পট, গ্রামীণ পিঠা ঘর, বাচ্চাদের জন্য কিডস জোনসহ সারা দিন পাখির কলরব, সন্ধ্যায় শিয়ালের হাঁক, বিরল প্রজাতির বাঁদুড়, জোনাকি পোকার মিছিল ও আতশবাজি, ঝিঁঝিঁ পোকার হৈচৈ। আর ভরা পূর্ণিমা হলে তো কথাই নেই।

রিসোর্টের নিয়ম অনুসারে চাঁদনী রাতে বিদ্যুতের আলো জ্বালানো হয় না। ভরা পূর্ণিমা এবং রিমঝিম বর্ষা উপভোগ করার জন্য এই ছুটিই হচ্ছে অন্যতম রিসোর্ট। এখানে আগত দর্শনার্থীদের নানা ধরনের মৌসুমি ফল সম্পূর্ণ ফ্রি দেওয়া হয়। অতিথিদের জন্য এখানে সকালে পরিবেশন করা হয় চালের নরম রুটি অথবা চিতই পিঠা, সঙ্গে দেশি নানা প্রকার সবজি, ডাল ভুনা ও মুরগির গোশত। একবারে কাছ থেকে বিল-ঝিলের আনন্দ উপভোগ করা যায় এখানে। ৫৪ বিঘা জমির উপর গড়ে তোলা হয়েছে এই রিসোর্টস। ছুটি রিসোর্টসে বড় আকর্ষণ ফিশিংয়ের ব্যবস্থা। আগত দর্শনার্থীরা ভিতরের লেকে ইচ্ছামতো মাছ শিকার করতে পারবেন। অবশ্য এ জন্য একটু আলাদা ফি লাগে।

ভেতরের বড় বড় ৩টি লেক দেখলে মনে হয় যেন একেকটি বিশালাকার বিল-ঝিল। আগত দর্শনার্থীদের সুবিধার্থে ফুটবল, ক্রিকেট, ব্যাডিমিন্টন খেলার মাঠ রয়েছে। এসি, নন-এসি ২১টি কটেজ রয়েছে। এখানে দুই ধরনের থাকার ব্যবস্থা আছে। পরিপূর্ণ গ্রামীণ আমেজের প্রাণময় লোকজ বসবাস অথবা ইট কাঠ বালুর কটেজ। রয়েছে সুইমিং পুল। রয়েছে দুটি কনফারেন্স রুম। খাবার হোটেলে বাংলা, চাইনিজ, ইন্ডিয়ান, থাই, কন্টিনেন্টাল খাবার পাওয়া যায়।

ভাড়া : কটেজগুলো ২৪ ঘণ্টার ভাড়া ৩ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা। কনফারেন্স রুম ২০ হাজার থেকে ৫০ হাজার টাকা এবং পিকনিকের জন্য ১০০ থেকে ২০০ জনের ভাড়া ৯০ হাজার টাকা।

যেভাবে যাবেন : প্রথমে গাজীপুরের চৌরাস্তায় আসতে হবে। সেখান থেকে নিজস্ব পরিবহন বা যাত্রীবাহী বাসে করে গাজীপুর ডিসি অফিসের সামনে (রাজবাড়ী)। সেখান থেকে মাত্র তিন কিলোমিটার পূর্বে আমতলী বাজার থেকে একটু উত্তরে সুকুন্দী ছুটি রিসোর্টের অবস্থান ।

অঙ্গনা

অপরূপ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি হওয়ায় এই রিসোর্টের নামকরণ করা হয়েছে ‘অঙ্গনা’। গ্রামীণ সৌন্দর্যের বেসরকারি রিসোর্টস অঙ্গনার মালিক উপমহাদেশের জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী রুনা লায়লার ভাই সৈয়দ আলী মুরাদ ২০০৪ সালে ১৮ বিঘা জমির ওপর এটি নির্মাণ করেন। যার অবস্থান গাজীপুরের কাপাসিয়ার সূর্যনারায়ণপুর গ্রামে। নগর জীবনে একাধারে চলতে চলতে ক্লান্তি এসে যায় মনে। আর এই ক্লান্তি দূর করতে রাজধানীর অদূরে কাপাসিয়ার সূর্যনারায়ণপুর গ্রামে গড়ে তোলা হয়েছে বেসরকারি এই রিসোর্ট ‘অঙ্গনা’।

ভাওয়াল পরগনার লালমাটির পাহাড়বেষ্টিত এই রিসোর্ট। পুরো রিসোর্ট এলাকা একটি শক্তিশালী নিরাপত্তা বেষ্টনীতে ঘেরা। এই নিরাপত্তার স্বার্থে সিসিটিভি ক্যামেরা রয়েছে পুরো রিসোর্ট এলাকায়। প্রাকৃতিকভাবে সাজানো বাগান। এখানে রয়েছে দুটি খেলার মাঠ, রয়েছে দুটি বিশালাকার পুকুর। মিটিং, প্রশিক্ষণ, কর্মশালা এবং ব্রেইন স্টরমিং বৈঠকের ব্যবস্থা। রয়েছে শিশুদের জন্য পুরো কেটারিংয়ের ব্যবস্থা। বিশাল জলাশয় রয়েছে। একটি সুইমিং পুল, একটি ব্যাডমিন্টন কোট ও একটি ডির পার্কও রয়েছে এখানে। অঙ্গনার সবচেয়ে আকর্ষণ হচ্ছে সুন্দরবনের অপরূপ হরিণ। বিশালাকৃতির দুটি খাঁচায় রয়েছে অন্তত ১৬টি হরিণ। সঙ্গে হরিণের বাচ্চাও রয়েছে কয়েকটি। কয়েকটি বাঁশ বাগান পুকুরপাড়ের সৌন্দর্য বাড়িয়ে দিয়েছে।

রয়েছে মাটির ঘর, আকর্ষণীয় একটি ফোয়ারা ও সুইমিং পুল। যা আগতদের আকর্ষণ আরও বাড়িয়ে দেয়। এখানে রয়েছে একটি জামে মসজিদ। রয়েছে দুটি সড়কের নামফলক। এর মধ্যে একটি দীনা লায়লা এবং অপরটি এমদাদ সরণি। একটি বাংলোয় ১৪টি কক্ষ রয়েছে। আগত দর্শনার্থীদের সার্বক্ষণিক সেবা দিতে ১৮ জন কর্মচারী রয়েছেন। এখানে শ্রীলঙ্কানরা বেশি আসেন। সময় পেলে ঘুরে আসতে পারেন।

ভাড়া : কটেজগুলোর প্রতি কক্ষ ২৪ ঘণ্টার ভাড়া ৫ হাজার টাকা। পিকনিক বা বিভিন্ন অনুষ্ঠানের জন্য পুরো অঙ্গনার ভাড়া ৭০-৮৫ হাজার টাকা।

যেভাবে যাবেন : নিজস্ব পরিবহন বা যাত্রীবাহী বাসযোগে গাজীপুর চৌরাস্তা হয়ে ঢাকা-কাপাসিয়া মহাসড়কের পাবুররাস্তা নামক স্থানে নামতে হবে। পরে পাবুররাস্তার মোড় থেকে এক কিলোমিটার দক্ষিণে সূর্যনারায়ণপুর গ্রামে অঙ্গনার অবস্থান।

রাজেন্দ্র রিসোর্ট

গাজীপুর চৌরাস্তা থেকে বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্কের বিপরীত দিকের বড় সড়ক থেকে ডানের গলিপথ ধরে সবুজের অরণ্যে হঠাটি  হারিয়ে জাবেন আপনি। ভবানীপুর বাজার পেরিয়ে চিকন রাস্তা ধরে আরও কিছুটা দূর...। পথের দুধারে ঘন শালবন। যতদূর চোখ যায়, শুধুই গাছ আর গাছ। পুকুরপাড়ের গাছটিতে মাছরাঙা পাখি শিকারের আশায় বসে। পুকুরের তীর ঘেঁষে বকের হাঁটাহাঁটি। হরেক রকম পাখি দেখে মনে হতে পারে, হয়তো কোনো গহীন জঙ্গলে এসে পড়েছেন। সত্যিই গহীন অরণ্য। রাস্তার দুধারে দূরের শালবন ছাড়াও খেজুরগাছ, বটগাছ। রাস্তার পাশে আদিবাসীদের কিছু বাড়িঘর।


ভবানীপুর থেকে প্রায় ৪ কিলোমিটার দূরে ‘রাজেন্দ্র ইকো রিসোর্ট’র পথের ধারে নরম ঘাসে খালি পা মাড়াতে হয়তো ইচ্ছে হবে আপনার। এই রিসোর্টের কাজ ২০০৯ সালে শুরু হয়। রিসোর্টটি প্রায় ৮০ বিঘা জমির ওপর গড়ে তোলা হয়েছে।

এই রিসোর্টের সেবকের ভূমিকায় রয়েছে ‘ইয়েস গ্রুপ ম্যানেজমেন্ট’।’ এই রিসোর্টের প্রকল্পের মধ্যে আছে ‘পিকনিক পার্ক’, প্রকৃতিতে নিরিবিলি বসবাসের জন্য ২৬টি কটেজ পার্ক। এই কটেজ পার্কে ২০৮টি রুম রয়েছে। এছাড়া ‘ওয়াটারফ্রন্ট কটেজ’ অর্থাৎ অর্গানিক লিভিং ইন নেচার-এ ২২টি কটেজ আছে, এতে রয়েছে ১৩২টি রুম। এই রিসোর্টের বিশেষত্ব হচ্ছে, এখানে অর্গানিক ফার্মে প্রাকৃতিক খাদ্যের স্বাদ পাবার ব্যবস্থা যেমন থাকছে তেমনি রিসোর্টের ভিতরে লেকে মাছ ধরা, নৌকা চালানো, শাক-সবজির বাগান, ডেইরি-পোল্ট্রি ফার্মও রয়েছে। রিসোর্টকে ঘিরে ‘মানুষ গড়ি একাডেমি’ জনগণের অংশগ্রহণে গড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানও থাকছে। আবার গলফ ক্লাব, অরফানেজ হোমও গড়ে তোলা হবে।
এ ছাড়াও থাকছে সুইমিংপুল, ম্যাসাজ পার্লার, ইটের তৈরি কিন্তু মাটির প্রলেপ দেয়া ঘর, ছনের ঘর, ক্যাফেটরিয়া। কটেজগুলোর ওয়াচটাওয়ারে উঠলে চারিদিকে শুধু সবুজ আর সবুজ চোখে পড়বে। আর পাখির কলরব শুনতে পাওয়া যাবে চারপাশজুড়ে। 

শাল বনের একদম গহীনে, সবুজের মাঝে মিশে থাকা রাজেন্দ্র রিসোর্টটি অন্যতম সেরা রিসোর্ট (ফাইভ স্টার রিসোর্ট বাদে)। রিসোর্টটি এতটাই গহীনে যে মাঝে মাঝে মনে হয় সভ্য জগতের বাইরে চলে এসেছি। মেজর কবির এর তত্বাবধানে রিসোর্টটি বেশ পরিচ্ছন্ন এবং সাজানো গুছানো ।

দৃশ্যাবলী :

রিসোর্টটি দেখতে এক কথায় অসাধারণ। এটি আপনার চোখে প্রশান্তির চশমা পরিয়ে দেবে ।  রাজেন্দ্রপুর ক্যান্টনমেন্ট থেকে যে বনের শুরু তাও প্রায় ৮ কি:মি: গহীনে এর অবস্থান। চার পাশেই ঘন বন, মাঝে রিসোর্টগুলো দাড়িয়ে।চারদিকে শুধু সবুজ আর সবুজ, কয়েকটি রিসোর্ট এর রুমের বারান্দায় দাড়িয়ে শালবন ছোয়া যায়। রাতে সেদিকে তাকাতে ভয় করে, এমনই ঘন সে বন।

প্রতিটি ভবন ৪ তলা, একেকটি তলায় ৪ টি করে রুম। প্রতিটির ছাদে রয়েছে অবজারভেশন টাওয়ার যাতে উঠলে পুরো বন দেখা যায় পাখির দৃষ্টিতে।

প্যাকেজ :

আপাতত দুটি প্যাকেজ আছে  :

১. ডে প্যাকেজ : সকালের নাস্তা, দুপুরের খাবার, ১ টি রুম (২ জনের জন্য ) = জনপ্রতি ২৫০০ টাকার মধ্যেই

২. ডে নাইট প্যাকেজ  : সকালের নাস্তা, দুপুরের খাবার, রাতের খাবার, ১ টি রুম (২ জনের জন্য ) = জনপ্রতি ৪,০০০ টাকা।

এর সাথে সুইমিং পুল ফ্রি, বাচ্চাদের খেলাধূলার জায়গা । 

দুজনের কম গেলে রুম দেয়া হয় না। হলেও অতিরিক্ত টাকা দিতে হয়।

খাবার : ভাত, মাছ, মাংশ, সবজি, ডাল

কিভাবে যাবেন ?

এটাই সমস্যা। নিজের গাড়ি না থাকলে যাওয়া দুষ্কর। সিএনজি নিয়ে হয়তো যেতে পারবেন তবে বোঝাতে পারবেন না জায়গাটা কোথায়। আমি সংক্ষেপে বলছি।

গাজীপুর চৌরাস্তা থেকে সোজা ময়মনসিংহ রোড ধরে ৫/৬ কি:মি: যেতে হবে। এরপর যে রাস্তাটা গেছে রাজেন্দ্রপুর ক্যান্টনমেন্টের দিকে (কাপাসিয়ার দিকে ) সেটা ধরে আরো ৪ কি:মি: গেলেই দেখবেন ক্যান্টমেন্ট কলেজ। এখান থেকে হাতের বা দিকে ছোট্ট একটা রাস্তা চলে গেছে বনের দিকে। এ রাস্তা ধরে ৫ কি:মি: গেলে পরবে গ্রিণটেক রিসোর্ট। এর পাশের রোড দিয়ে আরো সোয়া ২ কি: মি: বনের মধ্যে ঢুকলেই চোখে পড়বে রাজেন্দ্র ইকো রিসোর্টটি।

কিছু সীমাবদ্ধতা :

অতিরিক্ত কোন খাবার পাওয়া যায়না (চা বিস্কিটের দোকান অবশ্য আছে। কিন্তু আপনি যদি চিকেন ফ্রাই খেতে চান পারবে না দিতে ।

সোহাগপল্লী

১১ একর উঁচু-নিচু জমিতে সবুজে ঘেরা এই রিসোর্টের অন্যতম আকর্ষণ হলো জলাশয়ের ওপর নির্মিত অপরূপ সৌন্দর্যমণ্ডিত ঝুলন্ত সাঁকো আর এর পিলার ও বেলকনিতে খোঁদাই করা বিভিন্ন কারুকাজ- যা আগত দর্শনার্থীদের মুগ্ধ করে। বিশাল এক জলাশয়ের মাঝখানে ঝুলন্ত সাঁকো থাকায় দর্শনার্থীদের আকৃষ্ট করে বেশি। জলাশয়ের পূর্ব পাশে রয়েছে একটি দ্বিতল রেস্টুরেন্ট। রেস্টুরেন্টটির নাম রাখা হয়েছে মেজবান। শুধু তাই নয়, কৃত্রিমভাবে একটি লেক নির্মাণ করা হয়েছে। যাতে বর্ষা বা শুষ্ক সবসময়ই পানি থাকে। আর এই লেকের পানিতে বিভিন্ন জাতের মাছের বিচরণ দেখা যায়।

রয়েছে উন্নতমানের কয়েকটি কটেজ। কটেজগুলোর আকর্ষণও কম নয়। কটেজগুলো এমনভাবে নির্মিত, দেখতে মনে হয় যেন ইতালির রোম শহরের একটি সাজানো গ্রাম। কটেজগুলোর ঠিক সামনে দিয়ে বয়ে গেছে লেক। রয়েছে একটি সুইমিং পুল আর কনফারেন্সের জন্য একটি হলরুম। ৪০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী রয়েছে সার্বক্ষণিক সেবা দেওয়ার জন্য। দর্শনার্থীদের চাহিদা অনুযায়ী ভাড়ার তারতম্য রয়েছে। বিভিন্ন অনুষ্ঠানের জন্যও ভাড়া দেওয়া হয়। এখানে রয়েছে উঁচু পাহাড়। যার নিচে এক পাশে রাক্ষসের হাঁ করা মুখমণ্ডল, উপরে সুন্দরী ললনার কোলে জলভর্তি কলসি এবং পাহাড়ের সামনে দু-পাশে দুটি করে জিরাফ ও হরিণের প্রতিকৃতিসহ এমন অনেক প্রতিকৃতি রয়েছে।

ভাড়া : দর্শনার্থীদের জন্য প্রবেশ মূল্য ৫০ টাকা।

যেভাবে যাবেন : নিজস্ব পরিবহন বা যাত্রীবাহী বাসে করে গাজীপুর চৌরাস্তা হয়ে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের চন্দ্রা মোড়ে নামতে হবে। পরে চন্দ্রা মোড় থেকে ৪ কিলোমিটার উত্তর-পূর্ব দিকে কালামপুর গ্রামে সোহাগপল্লীর অবস্থান।

ড্রিম স্কয়ার

গাজীপুরের মাওনার অজহিরচালা গ্রামে ‘ড্রিম স্কয়ার’ নামে বিশালাকৃতির বেসরকারি রিসোর্ট রয়েছে। ১২০ বিঘা জমির ওপর নির্মিত বিভিন্ন প্রজাতির ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের সমন্বয়ে গড়ে উঠেছে ড্রিম স্কয়ার রিসোর্ট। এর প্রধান আকর্ষণ বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে সবুজের সমারোহ। ড্রিম স্কয়ারের আকর্ষণীয় স্থানের মধ্যে রয়েছে তেলের ঘানি, ডেইরি ফার্ম, মৎস্য হ্যাচারি, কম্পোস্ট সার প্লান্ট, বায়োগ্যাস প্লান্ট। ড্রিম স্কয়ারের আলাদা বৈশিষ্ট্য হলো রেস্টুরেন্টের খাবারের সবজি এর ভেতরেই চাষাবাদকৃত, যা সম্পূর্ণ সার ও কীটনাশকমুক্ত।

রয়েছে প্রাকৃতিকভাবে গড়ে ওঠা বিশালাকৃতির কয়েকটি লেক। রয়েছে ১৬টি ছোট-বড় পুকুর। ভেতরে সবুজে বেষ্টিত বাগানের মাঝখানে রয়েছে জাতীয় মাছ ইলিশের দুটি প্রতিকৃতি। আর বিভিন্ন গাছে রয়েছে বানরের প্রতিকৃতি।

এখানে নানান প্রজাতির পাখির অভয়াশ্রম রয়েছে। ড্রিম স্কয়ারে প্রতি বছর শীতের সময় অতিথি পাখির মেলা বসে। আছে একটি রেস্টুরেন্ট, রয়েছে ওয়াই-ফাই সুবিধা। এখানে সবচেয়ে বেশি বিদেশি পর্যটকদের আনাগোনা।

এখানে ২০টি উন্নতমানের কটেজ রয়েছে। এখানে টু-ইন কেবিন, টেরাস, অনার্স, গ্রিন, ইকো এমন বিভিন্ন মানের কটেজ রয়েছে।

ভাড়া : পিকনিক বা বিভিন্ন অনুষ্ঠানের জন্য ৫০ জনের মধ্যে জনপ্রতি ৩ হাজার টাকা। ৫০ জনের অধিক হলে তুলনামূলক জনপ্রতি কম হয়। ডিলাক্স কটেজ ভাড়া ৪০ হাজার আর রেগুলার কটেজ ভাড়া ৬ হাজার ৩২৫ টাকা।

যেভাবে যাবেন : নিজস্ব পরিবহন বা যাত্রীবাহি বাসে ঢাকা থেকে গাজীপুর হয়ে মাওনা যেতে হবে। মাওনা থেকে পশ্চিমের রাস্তা দিয়ে একটু সামনে গিয়ে উত্তরে সাড়ে ৫ কিলোমিটার যেতে হবে। সেখানে গেলেই চোখে পড়বে ড্রীম স্কয়ার। যা গাজীপুর জেলার সর্ব উত্তরে অবস্থিত।

রাঙামাটি

গাজীপুরে দিন দিন রিসোর্টের সংখ্যা বাড়ছে। পর্যটকদের ভিড় বাড়ার কারণেই গাজীপুরের রিসোর্টগুলোর দিকে মানুষ বেশি ঝুঁকছে। তেমনই একটি রিসোর্টের নাম রাঙামাটি। রাঙামাটি নাম শুনে হয়তো অনেকের মনে হবে এটি পার্বত্য এলাকার রাঙামাটি জেলা। আসলে এই রাঙামাটি সেই রাঙামাটি নয়, এটি ঢাকার পাশে গাজীপুরের কালিয়াকৈরে বেসরকারি একটি রিসোর্টের নাম।

রাঙামাটি নাম রাখা হলেও এখানে রাঙামাটির মতো পাহাড়-পর্বত নেই। এখান প্রাকৃতিক সৌন্দর্য পর্যটকের চোখ ভরিয়ে দেবে মুগ্ধতায়। এখানে প্রকৃতি-বিনোদনের ব্যবস্থা রয়েছে। কালিয়াকৈরের সিনাবহ এলাকার ভাওয়াল শালবনের ভিতর বিশাল এলাকাজুড়ে গড়ে তোলা হয়েছে রাঙামাটি রিসোর্ট। ৬০ বিঘা জমির ওপর রয়েছে বড় বড় ফুলের বাগান। ৭টি কটেজ, একটি সুইমিং ও লেক রয়েছে। রয়েছে শিশুদের থ্রি-ডি বিনোদনের ব্যবস্থা। একটি কনফারেন্স রুম ও খাবার হোটেল রয়েছে। বিভিন্ন প্রজাতির ফলদ, ঔষধি, বনজ গাছের সমন্বয়ে গড়ে উঠেছে রাঙামাটি রিসোর্ট।

ভিতরে একটি লেক রয়েছে। এই লেকের মাঝে একটি কাঠ-বাঁশের ঝুলন্ত সাঁকো রয়েছে, যা দর্শনার্থীদের আকৃষ্ট করে বেশি। একটি সুইমিং পুলও রয়েছে এখানে। এই আয়োজনগুলো দর্শনার্থীর মন ভরিয়ে দেবে।

ভাড়া : কটেজের প্রতি কক্ষ ২৪ ঘণ্টার ভাড়া ৭ থেকে ১২ হাজার টাকা। পিকনিক বা বিভিন্ন অনুষ্ঠানের ভাড়া ৮০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা।

যেভাবে যাবেন : নিজস্ব পরিবহন বা যাত্রীবাহী বাসে করে গাজীপুর চৌরাস্তা হয়ে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের চন্দ্রা মোড়ে নামতে হবে। পরে চন্দ্রা মোড় থেকে সাড়ে ৪ কিলোমিটার উত্তর-পূর্ব দিকে সিনাবহ গ্রামে রাঙামাটির অবস্থান।

সাবাহ গার্ডেন রিসোর্ট

বিশ্বের বিভিন্ন নামি-দামি মনীষীর অমিয় বাণী দিয়ে পুরো রিসোর্টটি সাজিয়ে রাখা হয়েছে । রিসোর্টটির নাম সাবাহ গার্ডেন রিসোর্ট। দেশের একমাত্র রিসোর্ট এটি যেখানে রয়েছে একটি লাইব্রেরি। বিশ্বের নামি-দামি লেখকের বই রিসোর্টটিকে ভিন্ন রূপ এনে দিয়েছে। এখানে রয়েছে গ্রামের মাটির ও টিনের ঘর। ৩৬ বিঘার ওপর নির্মিত এই রিসোর্টসের বিভিন্ন লোকেশনে রয়েছে বড় বড় মনীষীদের প্রতিকৃতি। রয়েছে সৌন্দর্যমণ্ডিত কয়েকটি কটেজও। রয়েছে ৬টি ছোট-বড় পুকুর। রয়েছে বাঘ, হাতিসহ কয়েকটি প্রাণির প্রতিকৃতিও। বিভিন্ন প্রজাতির ফলজ, ঔষধি, বনজ গাছের সমন্বয়ে গড়ে উঠেছে সাবাহ গার্ডেন রিসোর্টস।

এর প্রধান আকর্ষণ বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে সবুজের সমারোহ। আর এই সাবাহ গার্ডেন রিসোর্টটি প্রতিষ্ঠা করেন হাসান উদ্দিন সরকার। তিনি জানান, প্রকৃতির সঙ্গে বিনোদন, বই নিয়ে ব্যস্ত থাকার চিন্তার ফসল এটি।

ভাড়া : পিকনিক বা বিভিন্ন অনুষ্ঠানের জন্য ৬০ হাজার থেকে ৭০ হাজার টাকা।

যেভাবে যাবেন : রিসোর্টটি বেশ পরিচিত। গাজীপুরের বাঘেরবাজার এলাকায় পৌঁছলে সহজেই এখানে আসতে পারবেন। নিজস্ব পরিবহন বা যাত্রীবাহী বাসে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের বাঘেরবাজার আসতে হবে। এখানেই রিসোর্টটি অবস্থিত।

সী গাল রিসোর্ট

না, কক্সবাজারের ‘সী গাল’ নয়। এটি গাজীপুরের একটি রিসোর্টের নাম। ঢাকার খুব কাছেই এই রিসোর্টটি পর্যটকদের মন কেড়েছে। এখান সবুজের সমারোহ মনকে শান্ত করে। দেশি-বিদেশি নানা বৃক্ষের সমারোহ ‘সী গাল’ রিসোর্টে। অস্ট্রেলিয়ান পাম গাছ, পাম সুপারিসহ এমন অনেক নাম না-জানা বিদেশি বৃক্ষ রয়েছে এখানে। আর এই সী গাল রিসোর্টটি গাজীপুরের মাওনা এলাকার সিংগারদিঘি গ্রামে ৪২ বিঘা সমতল জমির ওপর নির্মিত।

এখানে ১৮টি কটেজ ও একটি লেক রয়েছে। রয়েছে শিশুদের বিনোদনের ব্যবস্থা, কনফারেন্স রুম ও খাবার হোটেল রয়েছে। বিভিন্ন প্রজাতির ফলদ, ঔষধি, বনজ গাছের সমন্বয়ে গড়ে উঠেছে সী গাল রিসোর্ট। রয়েছে একটি খেলার মাঠ। এখানে আপনি চাইলে নিভৃতে সময় কাটাতে পারেন।

ভাড়া : কটেজগুলোর প্রতি কক্ষ ২৪ ঘণ্টার ভাড়া ৩ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা। পিকনিক বা বিভিন্ন অনুষ্ঠানের জন্য ভাড়া পড়বে ৮০ হাজার থেকে এক লাখ টাকা।

যেভাবে যাবেন : নিজস্ব পরিবহন বা যাত্রীবাহী বাসে করে ঢাকা চৌরাস্তা পেরিয়ে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে উঠতে হবে। এই মহাসড়ক ধরেই মাওনা চৌরাস্তায় পৌঁছাবেন। সেখান থেকে ৪ কিলোমিটার পশ্চিমে সিংগারদিঘি গ্রামে সী গাল রিসোর্টের অবস্থান।

আনন্দ রিসোর্ট

গাজীপুরের কালিয়াকৈরের পরিচিত রিসোর্ট হলো ‘আনন্দ’। আনন্দ রিসোর্টটি নামের সঙ্গে বেশ আবেগের মিল রেখেছে। আনন্দদানের সব উপকরণই এখানে জোগাড় করার চেষ্টা করা হয়েছে। শুধু চোখে দেখে নয়, বরং বিভিন্ন খেলার রাইডে চড়ে আনন্দের দেখা মিলবে এখানে। বিলঘেঁষা এই আনন্দ রিসোর্টের বৈশিষ্ট্য হলো, এখানে সরাসরি বিল থেকে মাছ শিকারের ব্যবস্থা রয়েছে। মাছ শিকারিদের জন্য এই সুযোগ অবশ্যই বাড়তি পাওনা।

ছিপ ফেলে মাছের জন্য অপেক্ষায় কাটবে সময়। এ ছাড়া রয়েছে ছোটদের খেলার নানা উপকরণ। একটি সুইমিং রয়েছে। ৪২ বিঘা উঁচু-নিচু টিলা ভূমিতে গড়ে তোলা হয় আনন্দ রিসোর্ট। কালিয়াকৈরের সিনাবহের তালতলি এলাকায় এর অবস্থান। বিভিন্ন প্রজাতির ফলজ গাছ ও ৬টি কটেজ রয়েছে এখানে।

ভাড়া : কটেজগুলোর প্রতিকক্ষ ২৪ ঘণ্টার ভাড়া ৩ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা। পিকনিক বা বিভিন্ন অনুষ্ঠানের জন্য ভাড়া পড়বে ৭০ হাজার থেকে এক লাখ টাকা।

যেভাবে যাবেন : নিজস্ব পরিবহন বা যাত্রীবাহী বাসে করে গাজীপুরের চৌরাস্তা হয়ে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে উঠতে হবে। এই মহাসড়ক ধরে সফিপুর বাজার যেতে হবে। সেখান থেকে ২ কিলোমিটার উত্তরে সিনাবহ বাজারের পাশে এই রিসোর্টের অবস্থান। 

Please Contract Us  01811480832, 01811480833, 01811480838