ছুটির দিনে গোলাপের রাজ্যে আপনাকে স্বাগতম 25/10/2016



একটু সুযোগ পেলেই যারা ঘুরতে বেড়িয়ে পরেন তাদের জন্য আজকের এই লেখাটা । যান্ত্রিকতাকে ছুটি জানিয়ে মনের ক্লান্তি কে দূরে পাঠিয়ে দিতে ঘুরে আসুন গোলাপ গ্রাম থেকে ।

এই গ্রামকে গোলাপ-গ্রাম না বলে গোলাপের রাজ্য বললে ভুল হবে না । মন মাতানো ফুলের ঘ্রাণ আর সৌন্দর্যে যে কোন পর্যটক অভিভূত হয়ে যাবে । যে দিকে তাকাবেন শুধু ফুল আর ফুল । ফুলে ফুলে ছেয়ে আছে গ্রামের চারদিক । ঢাকার অত্যন্ত কাছেই এই গ্রামে যেতে মোটেও আপনার বেশি সময় লাগবে না । কম খরচে ব্যাপক বিনোদনের জন্য অনেকেই ভিড় জামাচ্ছেন গোলাপ গ্রামে । শীতবুড়ি কড়া নাড়ছে দরজায়, শীতের আগমনে গোলাপ গ্রাম সেজে ওঠে আরো নতুনরূপে । হাজার হাজার রঙিন গোলাপ ফুটে চারদিকে তার মোহ ছড়িয়ে দিয়ে আপনাকে আলিঙ্গন করবে ।

উত্তরার দিয়াবাড়ি নিশ্চয়ই এতদিনে অনেক বার দেখা হয়ে গেছে ? এবার তাহলে ঘুরে আসুন গোলাপ গ্রাম থেকে ।

গোলাপ এর রাজ্য ছাড়াও আপনাকে মুগ্ধ করার মত এখানে রয়েছে নদী তীরের মনোহর দৃশ্য গুলো । দিয়াবাড়ি বটতলা ঘাট থেকে সাদুল্লাহপুর ঘাটে যাওয়ার সময়টা সত্যি মুগ্ধ হবার মতো। ঘাঁটে সারিবাঁধা নৌকা আপনাকে নিয়ে যাবে অন্য এক জগতে ।

এখানে মিরান্ডি জাতের গোলাপ বেশি উৎপাদিত হয় । কত রঙ বেরংয়ের যে গোলাপ আছে এখানে তার ইয়ত্তা নেই । লাল, সাদা, হলুদ বর্ণে ছেয়ে আছে চারদিক ।

গোলাপ গ্রামের প্রকৃত নাম হচ্ছে সাদুল্লাপুর বা সাহদুল্লাপুর । গ্রামের এই নাম প্রায় ঢাকা পড়ে যাচ্ছে গোলাপের রাজত্তের কাছে । সাহদুল্লাপুর কে সবাই গোলাপ গ্রাম নামেই চেনে । এখানে গোলাপ ফুল ছাড়াও অন্যান্য বাহারি ফুলের চাষ হয় – যেমন জারভারা, গ্লা্ডিওলাস ইত্যাদি । ঢাকার বেশিরভাগ গোলাপের চাহিদা এখান থেকেই মেটানো হয় ।

গোলাপের বাজার ঃ

শ্যামপুর নামক গ্রামে প্রতি দিনই বসে গোলাপের বাজার । স্থানীয় চাষিরা নিজেদের ব্যবসাকে এগিয়ে নিতে এই দারুন পদক্ষেপটি গ্রহণ করেছে । আবুল কাশেম মার্কেটের সামনেই বসে গোলাপের বিরাট হাট-বাজার । বিভিন্ন স্থান থেকে ফুলের পাইকাররা গোলাপ কিনতে এখানে ভিড় জমায় । রাজধানীর আগারগাও, শাহবাগ এবং খামারবাড়ির ফুলের চাহিদা এখান থেকেই মেটে । সারা বছরই জমজমাট বেচা-কেনা চলতে থাকে ।

কীভাবে যাবেন :

ঢাকার বিভিন্ন স্থান থেকে বাস সার্ভিস আছে, যেগুলো মিরপুর বেড়িবাঁধে আসে। সেসব বাসে উঠে বটতলা ঘাটে নামতে হবে। মিরপুর এক নম্বর গোল চত্বর কিংবা গাবতলী থেকে রিকশাতেই দিয়াবাড়ি বটতলা ঘাট যাওয়া যায়। সিএনজিতেও অনায়াসে যেতে পারবেন ঘাটে। ঘাটে ট্রলার ছাড়ে ৩০ মিনিট পরপর। জনপ্রতি ভাড়া হিসেব করে দিতে হবে। স্পিডবোট, শ্যালো নৌকা চুক্তিতে ভাড়া নিয়েও যাওয়া যায় সাদুল্লাপুর। সে ক্ষেত্রে ট্রলারে ৩০০ টাকা, স্পিডবোট ৫০০ টাকা। হেঁটেই পুরো সাদুল্লাপুর ঘোরা যায়। চাইলে রিকশা নিয়েও গ্রামটি ঘুরে দেখতে পারেন ।

আপনার চোখ আটকে যাবে বিশালাকার বটগাছে। শতবর্ষের এই গাছ ঢাকার নবাবদের স্মৃতি বহন করে চলেছে । বটগাছের নিচেই চোখে পড়বে কিছু দোকানপাট। এখান থেকে আপনি কিছু খাবার কিনতে পারেন ।

বট পেরুতেই গোলাপের রাজ্যে চোখ আটকে যাবে যে কারো। একটি-দু’টি নয়। চোখ যতদূর যায়, শুধু লাল-সাদা গোলাপের সমারোহ! ঘাট থেকেই ভেসে আসবে গোলাপের সুগন্ধ। সুগন্ধ আর চোখ জুড়ানো দৃশ্য নিয়ে সেজে আছে পুরো গ্রাম। রাস্তার দু’ধারে দেখা যায় অসংখ্য গোলাপের বাগান। ঢাকার খুব কাছেই সাভারের বিরুলিয়া ইউনিয়নে তুরাগ নদীর তীরে এই গোলাপ রাজ্যের অবস্থান।  ছুটিতে যারা একদিনের জন্য কোথাও যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন তাদের জন্য এটি হতে পারে আদর্শ বেরানোর জায়গা।

শাহবাগসহ রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে ফুলের যোগান দেন এখানকার ফুলচাষীরা। 

আর দেরি না করে এখনই বেরিয়ে পড়ুন । 

You might like