ডায়েরির পাতা থেকে 25/10/2016



একলা পথ চলা যায় ঠিকই, একলা পথ চলার মাঝে কোন সুন্দর স্মৃতি থাকে না। সুন্দর স্মৃতি থাকে প্রিয় মানুষ, পরিবার অথবা বন্ধুদের সাথে। কিছু সময় থাকে যে সময় গুলোতে আমরা  পুরাতন স্মৃতির ডায়েরিটা নিয়ে বসি। ডায়েরির উপর কিছুটা ধুলার স্পর্শ থাকলেও আলতো হাতের ছোঁয়াতে মুছেফেলেই স্মৃতির ছোট ছোট অংশগুলো শরণ করতে থাকি। কখনো সে স্মৃতি ঠোঁটের কোনে এনেদেয় মিষ্টি হাসি অথবা বিষণ্ণতার ছায়া।

কয়েকটা বছর আগের কথা। খুব একটা বেশি পুরাতন না ২০০৮ সালের শেষ এর দিকের কথা। গিয়েছিলাম বাংলাদেশ এর উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল রংপুর বিভাগে। রংপুর শহরটা গুছানো ছিল, অপরিচিত শহরের রাস্তা আর অলি গলি বার বার বলছিল, অতিথি তোমায় স্বাগতম। রংপুরে গিয়েছিলাম জীবনে অর্থ উপার্জনের শেষ পড়াশুনা করতে।রংপুরে থেকে পড়াশুনা শেষ করার মতো ভালবাসাটা পেইয়েছিলাম না রংপরে। তাই বেরিয়ে পরেছিলাম রংপুর শহরের ঐতিহ্যময় দর্শনীয় স্থানগুলো দেখার জন্য।

জমিদারবাড়ি শুনতেই মনের মাঝে পুরাতন যুগটা ভেসে উঠে। এমনটা হয় আমার, আপনাদের মনে এমন হয় কিনা তা আপনারাই ভালো বলতে পারবেন।ঘুরতে গিয়েছিলাম রংপুরের ঐতিহ্যময় স্থান জমিদারবাড়িতে। মেইন শহর থেকে ৩ কি.মি দূরে এই জমিদারবাড়িটি অবস্থিত। রংপুরে  যতগুলো প্রাচীন ঐতিহ্য রয়েছে, তার মধ্যে তাজহাট জমিদার বাড়ি অন্যতম। জমিদার বাড়িটি অনেকের কাছে তাজহাট রাজবাড়ি হিসেবে পরিচিত।

আঁকাবাঁকা রাস্তা আর কিছুটা সময় পার করে পৌঁছে গিয়েছিলাম দক্ষিণ-পুর্ব লালবাগ নামক এলাকায়। রিক্সা থেকে নেমেই হাতের বাম দিকটাতে ছিল ছোট ছোট কিছু চা এর দোকান আর ডান  দিকে তাকাতেই চোখে পড়েছিল,লাল রং এর গেট । জমিদারবাড়ির সদর দরজা । ভেবেছিলাম তেমন একটা ভালো লাগবেনা কিন্তু  আমার ধারনাটা ভুল ছিলো । কিছু মানুষ জন যাওয়া আসা করছিলো। গেট  পার হওয়ার পরে চোখে পড়ে আশেপাশে পরিষ্কার পরিছন্নতা , সোজা রাস্তাটাও ছিল সম্পূর্ণ পরিষ্কার। রংপুরে আসার পরে সবচেয়ে বেশি ভালো লেগেছিল এই  তাজহাট জমিদারবাড়ি।

জমিদারবাড়ির সামনের দিকটা চোখে পড়তেই মনে হয়েছিল আহসান মঞ্জিল, সাদা রং এ আমার সামনে। শুধু আমার নয় যখন আপনি এই জমিদারবাড়িতে যাবেন তখন আপনারও এমনটা মনে হবে। বিংশ শতাব্দীর মাঝামাঝি রাজা গোপাল প্রায় ২ হাজার রাজমিস্ত্রির সহায়তায় একটি জমিদার বাড়ি নির্মাণ করেন।তাজহাট জমিদার বাড়িটি লাল ইট, শ্বেত পাথর ও চুনা পাথর দ্বারা নির্মিত।

জমিদারবাড়ির ভিতরের অবস্থাটা ছিল অন্য সব জমিদারবাড়ির মতই। বাড়িটির তৃতীয় ও চতুর্থ তলায় রয়েছে রাজা গোপালের ব্যবহৃত নানা জিনিস। আরও রয়েছে অসংখ্য কক্ষ, গোসলখানা ও অতিথি শয়নশালা।

রাস্তাটুকুর দুই পাশে সবুজ গাছের সারি। প্রথম দর্শন আর চারিপাশের পরিবেশ আপনার মনকে ভরিয়ে তুলবে। চারদিকে রয়েছে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অপরূপ শোভা, ফুলের বাগান, উত্তর ও দক্ষিণাংশে কামিনী, মেহগনি, কাঁঠাল ও আমবাগান। মনে জায়গা করে নিয়েছিল প্রাসাদের বড় আকর্ষণ সামনের দিকের শ্বেতপাথরের সিঁড়ি এবং মার্বেল পাথরের এক ফোয়ারা। 

জমিদারবাড়িতে যাওয়ার পরে দেখেছিলাম, আমাদের দেশ এর সৌন্দর্য দেখার জন্য অন্য দেশ এর টুরিস্টরা দল বেধে এসেছে। জমিদারবাড়িটি জাদুঘরে রূপান্তরিত হওয়ার পর থেকে রংপুরবাসীর কাছে এর গ্রহণযোগ্যতা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রাচীন এই রাজবাড়িটি শুধু জমিদার গোপাল রায়ের স্মৃতিই বহন করছে না, বরং প্রাচীন ঐতিহ্য বহন করে চলছে।

জমিদারবাড়িটা ঘুরতে ঘুরতে চোখে পড়েছিল পেঁচানো সিঁড়িটা। দুই জানালার মাঝ বরাবর সিঁড়ি কাঁটাতারে পেছানো ছিল।

প্রাসাদ থেকে বের হয়ে সামনের দিকটাতে দাঁড়ালে আশেপাশের পরিবেশের সবটুকুই চোখে পড়ে।

গাছের নিচে ছায়াঘেরা জায়গাগুলোতে বসার ব্যাবস্থাও রয়েছে। কিছুটা সময় পার করেছিলাম অন্যদের মতো পুকুর পাড়ে বসে বাদাম খেতেখেতে। 

সত্যিই অনেক সুন্দর সময় পার করেছিলাম সে দিনটাতে।আজও মনে পড়ে। আপনিও চাইলে ঘুরে আসতে পারেন রংপুরের তাজহাট জমিদারবাড়ি থেকে।

যদি ভ্রমণ প্রেমি হয়ে থাকেন তাহলে ভ্রমণ সম্পর্কিত তথ্য জানতে ভিজিট করুনঃ www.tour.com.bd & facebook: www.tour.com.bd

লিখেছেন : ইফফাত আরা (ইরানী)