বালিয়াটি জমিদার বাড়ি এবং পাকুটিয়া জমিদার বাড়ির ঐতিহ্য 06/10/2016



জমিদারের জমিদারিত্ব নেই আছে শুধু জমিদারের ইতিহাসের সাক্ষী । বালিয়াটি জমিদার বাড়ি এবং পাকুটিয়া জমিদার বাড়ির পরতে পরতে রয়েছে কালের নিদর্শন । 

জমিদার বাড়ির অপূর্ব কারুকার্য খচিত বিশাল ভবন। দেয়ালের পরতে পরতে রয়েছে সৌন্দর্যের ছোঁয়া দিয়ে সাজানো ছবির মতন। ইতিহাস ঐতিহ্যের সাক্ষী হয়ে ঠায় দাঁড়িয়ে থাকা অন্য জমিদারবাড়ির চেয়ে একটু হলেও বাড়তি সৌন্দর্য খুঁজে পাওয়া যায় টাংগাইলের নাগরপুর উপজেলার পাকুটিয়া জমিদার বাড়িতে। এখানে পাশাপাশি রয়েছে চমৎকার কারুকার্যখচিত বেশ কয়েকটি ভবন। প্রকৃতির মনোরম পরিবেশে যা পর্যটকদের দৃর্ষ্টি কাড়ে। 


অগাধ বিত্তের মালিক জমিদার অভিজাত শ্রেণীর ভোগবিলাসী জীবনযাপনের কথা সর্বজনবিদিত। প্রজাদের কাছ থেকে আদায়কৃত অর্থের একটি বড় অংশ জমিদাররা ব্যয় করতো নিজেদের প্রমোদ ও বিলাসিতায়। টাংগাইলের নাগরপুর উপজেলার পাকুটিয়াতে জমিদাররা গড়ে তুলেছিল দৃষ্টিনন্দন স্থাপত্য কৌশলে বহুব্যয়ে নির্মিত প্রাসাদোনুপম বাসভবন। কালের সমুদ্রে বিলুপ্ত হয়ে যাওয়া জমিদার শ্রেণীর প্রতিভু হয়ে যা ধবংসস্তূপের মাঝে আজও টিকে আছে।
ঊনিশ শতকের দিকে লন্ডন ও কলকাতা থেকে আনা নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহার করে গড়ে তোলা হয় দুইতলা বিশিষ্ট বেশ কয়েকটি অট্টালিকা। পাকুটিয়া জমিদার বাড়ির ৩টি ভবন টিকে আছে আজও অবিকৃত অবস্থায়।
আমাদের এবারের জমিদার বাড়ি দর্শনের আর একটি উদ্দেশ্য হল— গ্রামের পূজা দেখা।  


বালিয়াটি জমিদার বাড়িতে রয়েছে মোট সাতটি পুরানো দালান যার মধ্যে প্রায় ২০০টি কক্ষ। ২০ একর জমির উপর এই বাড়িটি অবস্থিত। বালিয়াটি জমিদার বাড়ির প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ছিলেন গোবিন্দ রাম সাহা। তিনি একজন লবণ ব্যবসায়ী ছিলেন। এই প্রাসাদের সামনের বাড়ি গুলি ব্যবহার করা হত ব্যবসায়িক কাজে আর পেছনের দিকের প্রাসাদগুলো ছিল অন্দরমহল। আঠার শতকের শেষদিকে শুরু হওয়া এই জমিদারি ছিল ভারত-পাকিস্তান ভাগ হবার সময় পর্যন্ত। ১৯৮৭ সালে বাংলাদেশ সরকারের প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর বালিয়াটি প্রাসাদ অধিগ্রহণ করে এবং তখন থেকে সরকারি ব্যবস্থাপনায় এটি পরিচালিত হয়। ঢাকার জগন্নাথ কলেজের প্রতিষ্ঠাতা কিশোরী লাল রায় এই পরিবারের বংশধর।
এখানে মূল প্রাসাদে রয়েছে একটি ছোট্ট যাদুঘর যেখানে জমিদার বাড়ির আসবাবপত্র আর ব্যবহারি জিনিসপত্র রয়েছে। প্রাসাদের চারপাশে সুউচ্চ দেয়াল দ্বারা পরিবেষ্টিত। প্রাসাদে রয়েছে তিনটি প্রবেশপথ যার প্রত্যেকটিতে আছে খিলান আকৃতির সিংহ খোদাই করা তোরণ।


বাড়ির সামনে এবং ভিতরে রয়েছে বড় বড় দুটি পুকুর। বাইরের পুকুরটিতে মানুষজন দলবেঁধে গোসল করছে।
প্রাসাদের সামনের পিলারগুলো সবসময় আমাকে আকর্ষণ করে। মোটা লম্বা লম্বা সারিবাঁধা পিলারগুলো জমিদারদের বৃহত্বের কথা, বিশালতার কথা মনে করিয়ে দ্যায়।
বালিয়াটি জমিদার বাড়ি থেকে মাত্র ৮ কিলোমিটার দূরেই রয়েছে পাকুটিয়া জমিদার বাড়ি।

ভ্রমণের খরচঃ জনপ্রতি ১,৩৫০ টাকা মাত্র 
ভ্রমণের তারিখঃ ১৮/১১/২০১৬ 
বুকিং এর শেষ তারিখঃ ৭/১১/২০১৬
বুকিং হটলাইনঃ ০১৮১১৪৮০৮৩২, ০১৮১১৪৮০৮৩৩,০১৮১১৪৮০৮৩৮

ভ্রমণ বৃত্তান্তঃ 
সকাল ৭ঃ০০ এর দিকে মানিকগঞ্জের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু। প্রথমে বালিয়াতি জমিদার বাড়িতে ঘুরবো। সেখানে প্রতিটি স্পট ঘুরে দুপুরের খাবার খেয়ে কিছুটা বিশ্রাম নিয়ে বেরিয়ে পড়ব পাকুটিয়া জমিদার বাড়ির উদ্দেশ্যে। পাকুটিয়া জমিদার বাড়ি ঘুরে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওয়ানা দিব।

যেহেতু একদিনের ট্যুর সেহেতু আপনারা আপনাদের পরিবার, আত্মীয়স্বজন এবং বন্ধু বান্ধব দের নিয়ে ঐতিহাসিক স্থানগুলো ঘুরে আসতে পারেন।

যা যা পাবেনঃ 
১) এসি ট্রান্সপোর্ট 
২) সকালের নাস্তা, দুপুরের খাবার ও বিকালের নাস্তা 
৩) প্রবেশ ফি
৪) র‌্যাফেল ড্র
৫) গেমস
http://tour.com.bd/…/%E0%A6%8F%E0%A6%95%E0%A6%A6%E0%A6%BF%E…