রাসমেলার বর্ণিল উৎসবে সুন্দরবন ভ্রমণ 28/09/2016



সুন্দরবনের রাশমেলা শুধুমাত্র বাগেরহাটের জন্যই একটি বড় মেলা নয় বরং এটি নিঃশন্দেহে বাংলাদেশের সব থেকে বড়মেলা । বাংলাদেশ একটি উৎসবমুখর দেশ । বছরের বিভিন্ন সময়ে এদেশের মানুষ বিভিন্ন রকম উৎসবে মেতে ওঠে । রাসমেলাও এমনই একটি উৎসব । প্রতিবছর কার্তিক -অগ্রাহায়ন মাসের পূর্ণিমা তিথিতে ৫-৭ দিন যাবত এই মেলা বসে । এই মেলার ধর্মীয় তাৎপর্য রয়েছে, এটা রাসলীলা বা পূর্ণিমার ভিত্তিতে পালিত হয় । বাংলাদেশের মুণীপুরি হিন্দু সম্প্রদায়ের বিষ্ণুপ্রিয়া গোষ্ঠীর বেশিরভাগ মানুষজন এই উৎসব পালন করে থাকে । এটি তাদের প্রধান উৎসব । দেশ ও বিদেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে অসংখ্য হিন্দু পুণ্যার্থী আর পর্যটক এ উৎসবে শামিল হতে ছুটে আসেন সুন্দরবনের পাশের ছোট্ট এই চরে। বঙ্গোপসাগরের বুকে জেগে ওঠা এই চরের নাম দুবলার চর, যা কিনা সুন্দরবনেরই একটি ছোট্ট অংশবিশেষ ।

রাস মেলা দুবলার চর ছাড়াও কুয়াকাটার কলাপাড়ায়, মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ এবং ভারতের কুচবিহার ও পশ্চিমবঙ্গেও পালিত হয় ।

দুবলার চরের আয়তন ৮১ বর্গ কি.মি. । আলোরকোল, কোকিলমনি, মাঝিরকিল্লা, কবরখালি, হলদিখালী, অফিসকিল্লা, নারকেল বাড়িয়া, ছোট আমবারিয়া, মেহের আলির চর এবং শেলার চর নিয়ে দুবলার চর গঠিত ।  দুবলার চরের রাস মেলার ইতিহাস নিয়ে নানান মত প্রচলিত আছে।
জানা যায় ১৯২৩ সালে হরি ভজন নামে এক হিন্দু সাধু এই মেলার প্রচলন করেছিলেন। এই সাধু চব্বিশ বছরেরও বেশি সময় ধরে সুন্দরবনে গাছের ফলমূল খেয়ে অলৌকিক জীবনযাপন করতেন। নিকটবর্তী গ্রাম গুলোতে তার অনেক শিষ্য ছিল । অন্য একটি মতে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের অবতার শ্রীকৃষ্ণ শত বছর আগের কোনও এক পূর্ণিমা তিথিতে পাপমোচন এবং পুণ্যলাভে গঙ্গাস্নানের স্বপ্নাদেশ পান। সেই থেকে শুরু হয় রাস মেলা।


আবার কারও কারও মতে, শারদীয় দুর্গোৎসবের পর পূর্ণিমার রাতে বৃন্দাবনবাসী গোপীদের সঙ্গে রাসনৃত্যে মেতেছিলেন শ্রীকৃষ্ণ। এ উপলক্ষেই দুবলার চরে পালিত হয়ে আসছে রাস উৎসব। হরি ভজনের বিভিন্ন কার্যক্রম গুলোর মধ্যে একটি উল্লেখযোগ্য কাজ হলো এই রাশমেলা । হরি ভজন মূলত ঠাকুর হরি চাঁদের শিষ্য ছিলেন । গুরুর স্মৃতি ধরে রাখার জন্যই ভক্তরা মূলত জেলেরা প্রতিবছর ৫ দিন ব্যাপী এই রাসমেলার আয়োজন করে থাকেন ।

দেশের বিভিন্ন জায়গা ছাড়াও বিদেশ থেকে বিশেষ করে ভারতের বিভিন্ন রাজ্য থেকে প্রচুর পুণ্যার্থী ও পর্যটকের সমাগম ঘটে দুবলার রাস মেলায় । প্রায় অর্ধ লক্ষ মানুষ প্রতি বছর এ উৎসবে অংশ নেন। বিভিন্ন রকম হস্তশিল্প সামগ্রী এবং কাঠের তৈরী মূল্যবাণ সামগ্রীর সমাগম ঘটে এ মেলায়। হিন্দুদের নানান পূজার্চনার ফাঁকে সন্ধ্যায় ওড়ানো হয় ফানুস ।

মেলার মূল প্রার্থনা শুরু হয় ভোরের প্রথম জোয়ারে পুণ্য স্নানের মধ্য দিয়ে। এইদিন সূর্য ওঠার আগেই সমুদ্রের বেলাভূমিতে প্রার্থণায় বসেন পুণ্যার্থীরা। সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে সমুদ্রেও জোয়ার শুরু হয়। জোয়ারের পানি পুণ্যার্থীদের ছুঁলেই স্নানে নামেন তারা। দীর্ঘ তিন মাস বিরতির পর সুন্দরবনে মাছ ধরার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হয় রাস মেলার এই প্রার্থনার মধ্য দিয়ে। তাই জেলেরা এই দিনটির জন্য অধীর আগ্রহে থাকে । কারন মাছ ধরেই তাদের জীবিকা নির্বাহ করতে হয় । দুবলার চরে কয়েক হাজার জেলের বসবাস। সমুদ্র থেকে মাছ ধরে এসব জেলেরা এখানে সাধারণত শুঁটকি তৈরি করেন। এ জায়গায় তাই দেখা যাবে জেলেদের বৈচিত্র্যময় জীবনধারা। এছাড়া জেলেদের মাছ ধরার নানান দৃশ্য আর কলাকৌশলও দেখা যাবে দুবলার চরে।

বর্তমান কালে এই উৎসবটি একটি সাম্প্রদায়িক উৎসবে পরিণত হয়েছে কিন্তু প্রাচীন কালে এটি শুধুমাত্র রাজ পরিবারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল । এ বছর নভেম্বর এর ১৩ তারিখ থেকে রাস মেলা শুরু হচ্ছে, তাই স্থানীয় প্রশাসন পর্যটকদের জন্য যথাযথ নিরাপত্তার বাবস্থা করেছেন ।  কারন রাস মেলাকে কেন্দ্র দেশ-বিদেশের বিভিন্ন স্থান থেকে সুন্দরবনে লাখ লাখ পর্যটকদের সমাগম ঘটে । দেশ-বিদেশের পর্যটকদের  নিরাপত্তার বলয়ে ঘিরে রাখতে স্থানীয় প্রশাসন তাদের কার্যক্রম ইতিমধ্যেই শুরু করে দিয়েছে । 

আসছে রাশ মেলা, এই বছর নভেম্বর থেকে শুরু, মেলা দেখার পাশাপাশি সুন্দরবন থেকেও ঘুরে আসতে পারেন।



সুন্দরবন বিশ্বের সবচেয়ে বড় শ্বাসমূলীয় বন। দুবলারচর সুন্দরবনের একটি ছোট্ট দ্বীপ। এই দ্বীপে প্রতি বছর কার্তিক-অগ্রহায়ণের পূর্ণিমা তিথিতে বসে রাসমেলা। রাস মেলাকে কেন্দ্র করে Tour.Com.Bd নিয়ে এলো সুন্দরবন ভ্রমণের জন্য বিশেষ অফার ।

আপনিও চাইলে আমাদের সঙ্গে যোগ দিতে পারেন এই রাস মেলায় ।

রাস মেলায় সুন্দরবন ভ্রমণের প্যাকেজটি নীচে দেওয়া হল-

৪ রাত / ৩ দিন সুন্দরবন বিশেষ ভ্রমণ প্যাকেজ 
জনপ্রতি মাত্র ৮,৯৯৯ টাকা (নন এসি বাস)
জনপ্রতি মাত্র ৯,৯৯৯ টাকা (এসি বাস)
বুকিং হটলাইন : ০১৮১১৪৮০৮৩৩, ০১৮৮১১১৪৮০৮৩২
আমাদের এই ট্যুরে আপনি পুরো সময় টা থাকবেন লঞ্চে, ঘুরে বেড়াবেন সুন্দরবনের গহীনে আকর্ষনীয় সব দর্শনীয় স্থান, এবং দেখতে পারবেন হরিণ, কুমির, বানর সহ অসংখ্য বন্যপ্রানী ও অতিথি পাখি (খুব বেশী ভাগ্যবান হলে বাঘ দেখাও সম্ভব)।



ঢাকা - খুলনা - সুন্দরবন - খুলনা- ঢাকা
ভ্রমণের সময়কালঃ
ভ্রমণ শুরুঃ ১২ ই নভেম্বর , ২০১৬
ভ্রমণ শেষঃ ১৬ ই নভেম্বর, ২০১৬ 

** সুন্দরবনের দর্শনীয় স্থান সমূহ: 
১। করমজল
২। কটকা অভয়ারন্য 
৩। কটকা ওয়াচ টাওয়ার
৪। জামতলা সী-বিচ
৫। বাদামতলা
৬। তিন কোনা দ্বীপ 
৭। কোকিল মনি
৮। কচিখালী
৯। আলোর কোল
১০। দুবলার চর
১১ । হাড়বাড়িয়া

**এই প্যাকেজের মধ্যে যা যা পাচ্ছেন :
* ঢাকা-খুলনা- ঢাকা নন এসি বাস টিকেট
* ২ রাত ভ্যাসেলের কেবিনে থাকা।(শেয়ার কেবিন)
* সকালের নাস্তা, দুপুরের খাবার, রাতের খাবার (যাত্রা পথের ডিনার অন্তর্ভুক্ত নয়)।
* বনের ভেতরে প্রবেশের ও ভ্রমণের জন্য ছোট নৌকা ।
* জঙ্গল ট্রেকিং
* সুন্দরবনে প্রবেশের পাস
* গাইড সার্ভিস
* বন বিভাগ থেকে সিকিউরিটি গার্ড
* জেনারেটর ব্যাবস্থা

** যা যা সাথে নিতে পারেনঃ
* ছোট সাইজের ট্রাভেল ব্যাগ
* শীতের কাপড়
* তোয়ালে বা গামছা
* স্যান্ডেল, কেডস, মশার কয়েল
* ক্যামেরা, মেমোরী কার্ড, ব্যাটারী ও চার্জার
* টর্চ লাইট + অতিরিক্ত ব্যাটারী
* ওডোমস ক্রিম
* সানক্রিম ও লোশন
* সানগ্লাস ও সানক্যাপ বা হ্যাট
* টুথপেষ্ট+ ব্রাশ+ সাবান+শ্যাম্পু
* ব্যক্তিগত ঔষধপত্র
* লঞ্চে বসে খেলার জন্য দাবা, লুডু বা কার্ড
* বিচে খেলার জন্য ফুটবল
* টিস্যু
* পানির বোতল
** জরুরী কিছু নোটঃ
• কোনো রকম মাদকদ্রব্য বহন, ব্যবহার অথবা কোনো ভাবে সম্পৃক্ত থাকা যাবেনা ।
• নিরাপত্তা বিঘ্নিত হয় এমন কিছু কোনভাবেই করা যাবেনা ( এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ )
• সমালোচনা বা মজা করতে গিয়ে কাউকে ব্যক্তিগত আক্রমন বা অসম্মান করা যাবেনা ।
• পরিবেশ নষ্ট হয় এমন কাজ করা যাবে না।
• যারা ভ্রমনে ছোট খাটো সমস্যাগুলো নিজের মনে করে মেনে নিতে পারেন না তাদের কোন গ্রুপ ভ্রমনে না যাওয়াই শ্রেয়।
• ভ্রমণকালীন যে কোন সমস্যা নিজেরা আলোচনা করে সমাধান করতে হবে।
• ভ্রমণ সুন্দর মত পরিচালনা করার জন্য সবার সর্বাত্মক সহায়তা কাম্য ।
যেভাবে বুুকিং করতে পারবেন :
                                                                          বুকিং পলিসি
                               ========================****** = ====================
১। Brac bank (যে কোন ব্রাঞ্চ থেকে টাকা জমা দেয়া যাবে)
একাউন্ট নম্বর : 1512203027806001 
একাউন্ট নাম : Tour.com.bd
২। বিকাশ : যদি কেউ বিকাশ করতে চান তাহলে এই নাম্বারে বিকাশ করতে পারবেন : 0১৮১১৪৮০৮২৬ (পারসোনাল)
                                                                           কাপল পলিসি
                               ========================******=======================
** কাপলদের জন্য আলাদা রুম দেয়া হবে । 
যারা আগে বুকিং করবেন তারা বিশেষ সুবিধা পাবেন । কাপল রুম বেশি নেই তাই আগ্রহী কাপলদের দৃষ্টি আকর্ষণ পূর্বক বলা যাচ্ছে যে আপনারা যত দ্রুত সম্ভব বুকিং করে ফেলুন । 
                                                                            শিশু পলিসি
                                ========================*******=======================
* ০ - ৩ বছরের বাচ্চাদের কোন খরচ লাগবে না (কোন খাবার পাবে না, বাসে সীট পাবে না, লঞ্চে বাবা-মায়ের সাথে থাকবে)
* ৪-৬ বছরের বাচ্চাদের ৭৫% দিতে হবে এডাল্ট প্রাইসের
* ৭-১২ বছরের বাচ্চাদের ১০০% দিতে হবে এডাল্ট প্রাইসের

অফিসের ঠিকানা :
Arma Majeda Malik Tower (3rd Floor), Pragoti Sarani Road, Merul Badda, Dhaka-1212.
http://tour.com.bd/tours/world’s-largest-mangrove-forest-sundarbannon-ac?

লিখেছেন ঃ শামীমা আকতার আতিকা 

You might like