পঞ্চগড়ের ভিতরগড়ে 22/09/2016



 

বাংলাদেশের সবচেয়ে বড়ো প্রাচীন দূর্ঘ নগরী পঞ্চগড়ের ভিতরগড়। বাংলাদেশে আবিষ্কৃত সবচেয়ে বড় এই দুর্গনগরী পঞ্চগড় জেলা সদর থেকে ১৬ কিলোমিটার উত্তর-পূর্ব দিকে অবস্থিত। ভিতরগড় দুর্গনগরীটির আয়তন প্রায় ২৫ বর্গকিলোমিটার। এলাকা দেখলেই মনে হয় এটি একসময় রাজবাড়ি বা রাজসিংহাসন ছিল। ষষ্ঠ ও সপ্তম শতকে স্থাপিত এই বিশাল স্থাপনা আজ কিছু ইটের স্তুপ ছাড়া আর কিছুই নেই। আজ থেকে ১৬ শ বছর আগের একজন নৃপতির কেমন দোর্দন্ড প্রতাপ থাকলে ২৫ বর্গ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে একটি এলাকা উন্নয়ন করা যায়।

 
আজ থেকে ১৬ বছর আগে  পৃথু রাজা  রাজধানীকে শত্রুর আক্রমণ থেকে রক্ষা করার জন্য চার দিকে নির্মাণ করেন সুউচ্চ দূর্ঘ। এর নাম ছিলো গড়।  গড় মানে হচ্ছে, মাটির তৈরী উচু প্রাচীর। এখনো সেই মাটির  প্রাচীরের ধ্বংসাবশেষ কালের সাক্ষী হয়ে  দাঁড়িয়ে আছে।  কথিত আছে, শত্রুর কবল থেকে আত্মহত্যার জন্য পৃথু রাজা সপরিবারে ‘মহারাজার দীঘি’তে আত্মাহুতি দিয়েছিলেন।
দীঘির দৈর্ঘ্য ৮ শ’ গজ ও প্রস্থ ৪ শ’ গজ। গভীর এই দিঘীতে শুকনো মওসুমেও  পানির গভীরতা থাকে প্রায় ৬০-৭০ ফুট। দীঘির পানি খুবই স্বচ্ছ ও পরিষ্কার।
দুর্গনগরীর অমূল্য প্রত্মসম্পদ, অভ্যন্তরে অবস্থিত অসংখ্য প্রাচীন স্থাপত্যিক নিদর্শন মানুষের হস্তক্ষেপে বিলীন হতে চলেছে।
দীঘির পানিতে সাঁতার কাটা কিংবা খাদ্য দিয়ে বড় বড় মাছ দেখার মজাই আলাদা।

কিভাবে যাবেন?

 দেশের যেকোনো জায়গা থেকে নাইট কোচ, বিআরটিসি বা ট্রেনে আসতে পারেন। নাবিল পরিবহনের বাসগুলো বেশ জনপ্রিয় পঞ্চগড় যাওয়ার জন্য। পঞ্চগড় শহরে সেন্ট্রাল প্লেজা, আমন্ত্রণ, হিলটন, রাজনগর, সার্কিট হাউজসহ অনেক থাকার জায়গা রয়েছে। এসব আবাসিক হোটেলে কম খরচেই রাত যাপন করা সম্ভব। এ ছাড়া মৌচাক, আমন্ত্রণ, করতোয়া, রহমানিয়া, কলাপাতা, নীরব প্রভৃতি হোটেলে রুচিসম্মত খাবারের সুব্যবস্থা রয়েছে।
পঞ্চগড় শহর থেকে কয়েক কিলোমিটারের রাস্তা যেতে হবে মিশুক, রিকশা কিংবা ভ্যানে ভিতরগড় মহারাজার দীঘি যাওয়া যেতে পারে। মাইক্রো ও কারের ভাড়া তিন থেকে পাঁচ শ’ টাকা, মিশুক ভাড়া ২ শ’ টাকা এবং রিকশা কিংবা ভ্যানের ভাড়া এক থেকে দেড় শ’ টাকা। লোকাল অটোতে গেলে জনপ্রতি ৫০ টাকা খরচ হতে পারে।

লেখক: জাহাঙ্গীর আলম শোভন

ছবি: মিজান রহমান

You might like