মুছাপুর ক্লোজারে বাড়ছে পর্যটকদের ভিড় 20/09/2016



মুছাপুর ক্লোজারে বাড়ছে পর্যটকদের ভিড়

জাহাঙ্গীর আলম শোভন

সাগরে যখন জোয়ারের পানি উথলে উঠে তখন আছড়ে পড়ে ছোট-বড় ঢেউ। ঢেউয়ের উচ্চাস ছুয়ে যাবে আপনার মনকেও। কয়েক কিলোমিটার প্রস্থের সমুদ্র সৈকতের যেকোনো জায়গায় দাঁড়িয়ে দেখতে পারেন সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত । দূর থেকে দেখা  ঢেউয়ের তালে তালে দুলতে থাকা  নৌকাগুলো আপনার মনে দিয়ে যাবে এক সূর লহরীর ছোঁয়া। রাতের সৈকতে দাড়ালে বিন্দু বিন্দু আলোকণা ভেসে বেড়াতে দেখবেন নদীতে। মাছধরা নৌকাগুলো কেমন যেন এক ছন্দ রেখে আকাশের তারার বিন্যাসের মতো হেলেদুলে চলেছে। আর আলোর ছায়াগুলো নাচতে থাকে রাতের কালো জলে। সে এক অন্যরকম দৃশ্যের অবতারণা।

মুছাপুর, নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় অবস্তিত। এতদিন একটি একটি সাদামাটা সুইসগেট থাকলেও বর্তমানে স্থানীয় ভ্রমণ পিপাসুদের কাছে এটি বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। এখানে সবুজ শ্যামল প্রকৃতি, নিবিড় বন, গ্রামীণ পরিবেশ, পাখির কোলাহল, মৎস্যজীবি মানুষদের জীবন সব মিলিয়ে অন্যরকম এক দোতনা সৃষ্টি করে প্রকৃতিপেমী মানুষদের মনে। ফেনী নদীর উপর নির্মিত ক্লোজার, ২৩ ভেন্ট রেগুলেটর, পানির ছল ছল আর  বিশাল আকাশের নিচে আপনার অবস্থান, অবারিত বাতাসের সামনে দাড়িয়ে মাথার চুলে বিলি কাটুন এমন নির্মল বাতাস আর সবুজ বনানী আপনাকে হাতছানি দিয়ে ডাকছে।


ফেনী ও নোয়াখালী জেলার সীমানায় এর অবস্থান। দুই জেলার ভ্রমণপ্রিয় লোকেরা প্রতিদিন ভিড় করেন এখানে। ছুটির দিনে প্রচুর লোকসমাগম হয়। মজার ব্যাপার হলো এক বছর আগে আমি এবং ওয়ালেটমিক্স এর হুমায়ন কবীর ভাই যখন গিয়েছিলাম তখন আমরা ছাড়া আর কাউকে দেখিনাই। মাঝে মধ্যে দুই একজন যেত অবশ্য। সেখান থেকে এসে আমি নেটে জায়গাটা সম্পর্কে কোনো তথ্য না পেয়ে কয়েকটা লেখা লিখি। আলাদা এবং নোয়াখালী জেলার পর্যটন স্থানসমূহের সাথে একসাথে। এর মধ্যে বেড়িবাঁধে কিছু উন্নয়নমূলক কাজও হয়েছে। ‍আজকাল ফেসবুকও একটা ব্যাপার কেউ ভ্রমনে গিয়ে একটা ছবি তুলে পোস্ট করলে ট্যুরিজম ভেন্যুগুলো জনপ্রিয় হয়ে যায়।

১৯৬৯ সালে এখানে বনবিভাগ বনায়ন শুরু করে। মুছাপুর ক্লোজার এলাকায় চরের মধ্যে দক্ষিণ মুছাপুর মৌজায় ৮শ ২১ দশমিক ৫৭ একর, চরবালুয়া (দিয়ারা) মৌজায় ১হাজার ৮শ ৬১ দশমিক ১০ একর ও চরবালুয়া মৌজায় ৬শ দশমিক ১৫ একর সর্বমোট ৩হাজার ২শ ৮২দশমিক ৮২একর বনবিভাগের জমি জুড়ে এই বনাঞ্চল ।  বাগানে রয়েছে ঝাউ, কেওড়া, পিটালী, খেজুর, লতাবল, গেওয়া, শনবলই, বাবুলনাটাই, আকাশমনিসহ বিভিন্ন ছোট প্রজাতির গাছও রয়েছে। শীতের মৌসুমে সাইবেরিয়া থেকে আসা অতিথি পাখিদেরও দেখা যায় এখানে।  শিয়াল, বন বিড়াল, সাপসহ বিভিন্ন প্রজাতির প্রাণী। বনের সরু রাস্তা ধরে হাঁটতে হাঁটতে একটু ভেতরে প্রবেশ করলে পাবেন শীতল ছায়া ও কোথাও কোথাও খোলা জায়গা তার পাশেই দেখা যাবে দিগন্তজোড়া সৈকত।

এখানে কতৃপক্ষের তেমন কোনো নির্দেশনা নেই। নেই নিয়ন্ত্রনও ফলে রাস্তায় যানজট ছাড়াও এখানে মাঝে মধ্যে নৌকাডুবিতে পর্যটকদের প্রাণহানি ঘটে। বনের মধ্যে নিরাপত্তা ব্যবস্থাও ভালো নয়।

নদীর তীরে এখন পাকা ব্লক লাগানো হয়েছে। তাতে মনের আনন্দে ঘুরুন নাচুন কাঁদা লাগবেনা।  মাঝে মাঝে চরে বেড়ানো গরু ছাগল। ‍মাঠের কুল ঘেষে গ্রামের বাড়ীগুলো তার মধ্য দিয়ে এঁকে বেঁকে গেছে কালো পিচঢালা পাকারাস্তা। নদীর ভাঙনে রাস্তাটি এখন বেশ ঝুকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে।

এখানে চা নাস্তা খাওয়ার জন্য দোকানপাট ছাড়া আর কিছুই নেই। সরকারীভাবে একে এখনো ‍পর্যটন কেন্দ্র বলে ঘোষনা করা হয়নি। এখানে কোনো পাবলিক টয়লেট না থাকায় ভ্রমণকারীদের খুব বিপাকে পড়তে হয়। বৃহত্তর নোয়াখালীতে তেমন কোনো আর্কষণীয় স্পট না থাকায় ঈদ মৌসুমে এখানে প্রচন্ড ভিড় হয়। হাজার হাজার মানুষ বেড়াতে যায়। রাস্তায় তৈরী হয় প্রচন্ড যানজট। অথচ এটা মহামায়া, সীতাকুন্ড, নিঝুম দ্বীপ, ময়নামতি, কুমিল্লা বার্ড কোনোটার মতই সুবিধাসমৃদ্ধ স্পট নয়।

মুছাপুর ক্লোজারে যেতে হলে। যেতে হবে নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে বা বসুর হাটে এখান থেকে সিএনজিতে যাওয়া যায়। ২০ কিলোমিটারের কম হবে। সর্বশেষ বাজার হলো বাংলাবাজার তাও ৪/৫ কিলোমিটার দূরে হবে। ওখানে কয়েকটি টং দোকান ছাড়া আর কিছুই নেই। খালি জায়গা আছে পিকনিক পাটি গেলে রান্না করে খেতে পারবে। সেখানে জেলেদের কাছ থেকে মাছ কিনতে পাওয়া যাবে খেপের সময় গেলে।

থাকার জন্য কোম্পানীগঞ্জেও এখনো কোনো আবাসিক হোটেল গড়ে উঠেনি। নির্ভর করতে হবে ফেনী শহরের উপর। ফেনী থেকে মুছাপুর ক্লোজার ৫০ কিলোমিটারের কিছু কম হয়ে থাকবে। রাস্তা খুব প্রশস্ত না হলেও ভালো আছে।

 

যেভাবে আসবেন
নোয়াখালী জেলা শহর থেকে যে কোন গাড়িতে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা বসুরহাট বাজারে চলে আসতে হবে। বসুরহাট থেকে যাতায়াতে মুছাপুর ক্লোজার পর্যন্ত দুই-তিনটি পাকা সড়ক রয়েছে। ফেনী জেলার সোনাগাজী উপজেলা হয়েও আসা যায়।