ফাঁসিয়াখালী অভয়ারন্য: বনের সাথে মনের কথা 20/09/2016



ফাঁসিয়াখালী অভয়ারন্য: বনের সাথে মনের কথা

লেখা ও ছবি: জাহাঙ্গীর আলম শোভন

 

 হেলাল হাফিজের একটি কবিতার চরণ - নষ্ট রাখীর কষ্ট নিয়ে অতোটা পথ একলা এলাম/ পেছন থেকে কেউ বলেনি করুণ পথিক/দুপুর রোদে গাছের নিচে একটু বসে জিরিয়ে নিও,/ কেই বলেনি ভালো থেকো সুখেই থেকো/ যুগল চোখে জলের ভাষায় আসার সময় কেউ বলেনি/মাথার কসম আবার এসো/ জন্মাবধি ভেতরে এক রঙিন পাখি কেঁদেই গেলো/ শুনলো না কেউ ধ্রুপদী ডাক,/ চৈত্রাগুনে জ্বলে গেলো আমার বুকের গেরস্থালি/বললো না কেউ তরুন তাপস এই নে চারু শীতল কলস।(যাতায়াত)

কক্সবাজারের ফাঁসিয়াখালী অভ্যরান্য এর পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় আমার মনে হয়েছিলো। এখানকার শাল সেগুন আর গজারী গাছ যেন আমার হাতছানি দিয়ে ডাকছে। ডেকে বলছে। ওহে শ্রান্ত পথিক পথের ধারে গাছের ছায়ায় আজ কি একটু জিরিয়ে নেবে/ আজ কি একটু গন্ধ নেবে শাল সেগুন আর গর্জনবনের। / আজ তবে কইবো কথা পথিক তোমার কষ্টা ভোলাতে। //এখানে সবুজ শ্যামলিমা প্রান্তরে দু:খবোলায় পথভোলাদের।/ এখানে পাহাড় চুড়ায় সবুজ দিগন্ত, মনহরিনি নির্ঝরিনি একলা কাঁদে বনের ভেতর/ পথিক পেলে কইবে কথা,? নইলে কথা সুপ্ত রবে মনের ভেতর// দূরের পথিক দূরের পথের ভীষন ক্লান্তি, / আজ তবে ক্লান্তি ভোলো, নাইতে চলো/ পাহাড়গিরির মিস্টি জলে/ ওহে পথিক একটু বসো ছায়ার তলে, পড়বে তোমার প্রতিচ্ছবি পাহাড়ীছড়ার স্বচ্ছ জলে/ পথিক তুমি পথ ভুলে যাও/ সঙ্গে নাও মহুয়া স্মৃতি/ পথিক তুমি নাও বিরতি (পথিক- জাহাঙ্গীর শোভন)

এমনবন মনহরণ আর কাব্যিক অনুভূতি এনেদিতে পারে বিজন বনে নির্জন পথে অচেনা পথিকের মনে। ফাঁসিয়াখালী অভয়ারণ্য কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলায়।ডুলাহাজরা সাফারী পার্ক ও মেধাকচ্ছপিয়া জাতীয় উদ্যানের কাছেই। ফলে ফাঁসিয়াখালি যেতে আলাদা আয়োজনের প্রয়োজন নেই। ২০০৭ সালে বন সবুজে শ্যামলে ছোয়া এই বনকে অভয়ারন্য ঘোষনা করা হয়। এই । ফাঁসিয়াখালি বনের  মোট আয়তন ১৩০২ হেক্টর।  গর্জন ছাড়াও  লতা গুল্ম রয়েছে, রয়েছে প্রাকৃতিক বেত ও বাঁশ । নানা প্রজাতির ছোট ছোট গাছও।  অভয়ারণ্য প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর বসতি গুলো এখনো সেখানে বিদ্যমান থাকলেও তাদেরকে বনের প্রাণী শিকার ও গাছকাটার অধিকার থেকে রহিত করা হয়।
এ বনে রয়েছে বানর, হনুমান, বুনোশুয়র, চিত্রা হরিণ ইত্যাদি।  এছাড়াও দেখা মিলবে বুনো হাতির পালের কখনো কখনো তারা রাস্তা পার হয়ে মহাসড়ক ডিঙিয়ে। বনবিভাগ থেকে বনের মধ্যে চলাচলের ব্যাপারে সর্তক করা হয় যাতে কেউ হাতির পালের মুখোমুখি না হয়। এছাড়া চাইলে এতে পায়ে হাঁটার জন্য কয়েককিলোমিটারের রাস্তা রয়েছে। মহাসড়ক থেকে একদিকে থেকে প্রবেশ করে অন্যদিক দিয়ে বের হওয়া যায় অনায়াসে। তবে পথ না হারানো ও নিরাপত্তার আশংকা থাকলে বনবিভাগের অনুমতি নিয়ে প্রবেশ করা ভালো তাছাড়া কাঠচোর বনদস্যুরাও থাকতে পারে ভেতরে। যদিও বনবিভাগের বনচৌকিতে পাহারায় থাকে লোকেরা।

চারদিকে অনিন্দ সুন্দর সবুজ, আর পাখির কিচির মিচির শব্দের ভেতর দিয়ে বনের ভেতর প্রবেশের মজাই আলাদা। রয়েছে দুএকটি পাহাড়ী ছড়া। সেগুলোতে বর্ষাকালে পানি থাকে। ৩ মিটার থেকে দশমিক ৫ মিটার ছড়া বনের পথগুলো। কয়েকটা সাপ থাকতে পারে। মানুষের আওয়াজ পেলে সাপেরা সাধারণত পালিয়ে যায়। এছাড়া বনের ভেতর ভ্রমণ খুব আন্দদায়ক। স্থানীয় অধিবাসীদের কিশোর ছেলেরা পাতা ও শুকনো কাঠ সংগ্রহ করতে বনে যায়। কাঠুরেরাও যায় কাঠ কাটতে যদিও কাঠ কাটা নিষেধ।


অবস্থিত। সড়ক পথে চট্টগ্রাম বা কক্সবাজার  চকোরিয়ার কাছাকাছি ফাঁসিয়াখালী নেমে এবনে যাওয়া যায়। এখানে মহাসড়কে চা নাস্তা খাওয়ার জন্য দোকানপাট রয়েছে। আর থাকার জন্য কক্সবাজারই ভরসা। কারণ এটা কক্সবাজার থেকে বেশ কাছে। তবে ডুলাহাজরা সাফারী পার্কের ফটকে কয়েকটা সাধারণমানের রেস্টহাউস রয়েছে। কক্সবাজার থেকে এর দূরত্ব প্রায় ৫০ কিলোমিটার।

 

You might like