মেধা কচ্ছপিয়া: জীবন যেখানে সবুজে সজীব 20/09/2016



মেধা কচ্ছপিয়া: জীবন যেখানে সবুজে সজীব

শাল সেগুনের সাথে  গর্জন গাছ আজও মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে এখানে। বসন্তে মাটিতে পড়ে থাকে গর্জনফুল। ফুলের গন্ধে মেতে থাকে চারদিক। যেন ফুলেল গালিচা বিছানো পথ বনের ভেতর দিয়ে চলে গেছে বহুদুর। বনের পাশে রয়েছে বিভিন্ন সময়ে এখানে পূর্ণবাসিত মানুষদের বসতি। তাদের উঠোন আঙিনায় সক্কালবেলায় ঝরে পড়ে থাকে গাছের ফুলগুলো। যেন বনের রানী সুপ্রভাত জানিয়ে ঘুম থেকে তুলছে তাদের। মাটির ঘরে শুয়ে বনের কিনারে বসতি সেইসব কাঠুরেদের জীবন এখনো বননির্ভর হয়ে আছে। যদিও বনবিভাগের সাথে যৌথভাবে কাজ করছে জাইকা যাতে করে লোকেরা এখানে বিকল্প জীবিকা গ্রহণ করতে পারে। এটি কক্সবাজার জেলার চকরিয়া উপজেলায় অবস্থিত। এর মধ্যে মোট আয়তন ৩৯৫.৯২ হেঃ। এখানকার বনের প্রকৃতি হলো ক্রান্তীয় চিরহরিৎ বন। এ উদ্যানটি কক্সবাজার উত্তর বন বিভাগের নিয়ন্ত্রনাধীন

বনের পাশ দিয়ে হাঁটার সময় কখনো মনে হয়না নিরবতা কিংভা একাকীত্ব চারদিকে সবুজ গাছালী আর মাথা উচু করে দাড়িয়ে থাকা গর্জনকে মনে হয় চলার পথের সাথি।  পায়ে হেঁটে তেঁতুলিয়া থেকে টেকনাফ ভ্রমনের সময় এই এলাকা পার হওয়ার সময় আমার অন্তত তাই মনে হয়েছিলো। একবারও নিজেকে একা মনে হয়নি। মনে হয়েছিলো গাছেরা যেন সঙ্গ দিচ্ছে, কথা বলছে, স্বাগত জানােচ্ছে আর সাহস জোগাচ্ছে। প্রকৃতিকে ভালোবাসতে পারলে আর কাছে যেতে পারলে প্রকৃতির অন্তরের ধ্বনি শুনতে পাওয়া যায়। ঢাকা বা চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার যাওয়ার পথেই পড়বে এই বন। চারদিকে সবুজে ভরা বনের ভেতর দিয়ে চলে  গেছে আঁকাবাঁকা মহাসড়ক। এখানে জাতীয় উদ্যান প্রতিষ্ঠার পেছনে মূল উদ্দেশ্য হল শতবর্ষী গর্জন বনকে রক্ষা করা। এই জাতীয় উদ্যানের প্রধান বৃক্ষরাজির মধ্যে বিশালাকৃতির গর্জন ছাড়াও রয়েছে ঢাকিজাম, ভাদি, তেলসুর ও চাপালিশ।

বনযেন বলছে ‘‘ ওহে পথিক একটু খানি জিরিয়ে নাও, মম ছায়াতলে’’ কচ্ছপিয়া জাতীয় উদ্যানটি ২০০৪ সালে সংরক্ষিত বন ঘোষনা পায়।  বন ছাড়াও এখানকার জনগোষ্ঠি কৃষিকাজ, লবন চাষ ও মৎস্য চাষের উপর নির্ভরশীল। বিগত বছরে মায়ানমারে মুসলিম নির্যাতন বেড়ে যাওয়ায় শরনার্থীরা এখানে বসতি স্থাপন করছে।

এখানে আসার জন্য কক্সবাজারের পরিবহন ভরসা। কক্সবাজার যাওয়ার পথেই চোখে পড়বে মেধা কচ্ছপিয়ার নাম ফলক। এখানে থাকার আলাদা ব্যবস্থা নেই। কক্সবাজারে থেকেই এটা ভ্রমণ করা যাবে। অথবা যাওয়ার পথে দুদন্ড বিশ্রাম নিতে পারেন। এখানে বনবিভাগের অনুমতি নিয়ে ভেতরে হাঁটা যাবে। পায়ে হাঁটার জন্য রয়েছে মসৃণ পথ। চাইলে তার একটা ম্যাপও পাওয়া যাবে। তাহলে পথ হারানোর ভয় থাকবেনা।  বনে বানর, হনুমান, হাতি, বেজি ও শেয়াল রয়েছে। 

লেখা ও ছবি: জাহাঙ্গীর আলম শোভন

( পায়ে হেঁটে তেঁতুলিয়া থেকে টেকনাফ ভ্রমনের সময় তোলা)
 

You might like