হিমছড়ি: সমুদ্রের গা ঘেষে এক অনন্য পাহাড়ী বন 19/09/2016



হিমছড়ি: সমুদ্রের গা ঘেষে এক অনন্য পাহাড়ী বন

জাহাঙ্গীর আলম শোভন

এইযে সাগর বনবনানী, এইযে নীল আকাশ, এইযে সবুজে ঘেরা পৃথিবী, এইযে চাঁদের আলো, এই বৃষ্টির ফোঁটা। একদিন সবই অর্থহীন মনে হবে। যখন আপনি নিজে পৃথিবীতে থাকবেন না। কবি বলেছেন ‘‘ মরিতে চাহিনা আমি সুন্দর ভূবনে’’ আসলেই কেউ মরতে চায়না। যদিও মরতে হবে একদিন। তার আগেই দেখে নিন পৃথিবীর সুন্দরগুলো যতটুকু সম্ভব।

আমরা যারা কক্সবাজার যাই তারা সাধারণত হিমছড়ি যেতে কখনো ভুলিনা। পাহাড়ীবন হিমছড়ি যেন সাগরবেলার এক অনন্য প্রতিমা। পাহাড়ের গা বেয়ে সবুজ সারি সারি, তার মধ্য দিয়ে আঁকা বাঁকা বালিভেজা পথ। চাইলে হেঁটে আসতে পারেন বহুদূর। কক্সবাজার  কলাতলী বিচ থেকে মিনেট দশেকের রাস্তা। হিমছড়ি পাহাড়ের উপর থেকে সমুদ্র দেখার আনন্দই আলাদা। দূর থেকে দেখা সমুদ্র দেখে আপনার মন বলে উঠবে-

‘‘ওই দূর নীলিমায়- যতদূর চোখ, যেখানে আকাশ ছোঁয় সাগরের ঢেউ, চলো না সেখানে যাই’’

 এখানে বনের ভেতর রয়েছে একটি ঝর্ণা, একে কৃত্রিম ভাবে সজিব করা হয়েছে। রয়েছে কয়েক কিলোমিটারের গিরিপথ চাইলে ঘুরে আসতে পারেন পাহাড়ী বনের গভীর থেকে। তবে এজন্য স্থানীয় কতৃপক্ষের অনুমিতর প্রয়োজন হতে পারে। সাপ থেকে একটু সাবধান থাকতে পারলে আর কোনো ভয় নেই।  হিমছড়িকে জাতীয় উদ্যান  ঘোষনা করা হয় ১৯৮০সালে।   ১৭২৯ হেক্টর আয়তনের  ক্রান্তিয়  চিরহরিৎ বন। । হিমিছড়ি একটি সংরক্ষিত বনাঞ্ছল। এখানে প্রবেশের জন্য ফি দিতে হয়। জনপ্রতি ২০ টাকা।

 প্রথমদিকের পাহাড়গুলোতে উঠার জন্য রয়েছে সিড়ি। উপরে দোকানপাট এবং রেস্ট নেয়ার জন্য রয়েছে বসার ব্যবস্থা। সাগরকে পেছনে রেখে পাহাড়ে দাড়িয়ে ছবি তুললে সেটা স্মরনীয় হয়ে থাকতে পারে। সাহস থাকলে অন্যপাহাড়ে ঘুরে আসতে পারেন। তবে অভ্যাস  এবং এডভেঞ্চারাস ,মানষিকতা না থাকলে না যাওয়াই ভালো। পাহাড়ে চড়ার সময় সতর্ক থাকা উচিত এবং এখানে ময়লা ফেলা থেকে বিরত থাকা উচিত।

এ উদ্যানে ৫০টির ও বেশী প্রেজাতির গাছ দেখা যায় এবং বহু ঔষধি গুন সম্পন্ন লতাগুল্ম পাওয়া যায়। এখানে প্রায় ৫৫ প্রজাতির বন্যজন্তু দেখা যায় যেমন বানর, হনুমান ইত্যাদি উল্লেখ যোগ্য। ২৮৬ প্রজাতির পাখি দেখা যায়। যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো-পাহাড়ী ময়না, টিয়া ইত্যাদি। প্রায় ৫৬টি প্রজাতির সরিসৃপ ও উভয় চর প্রাণীর দেখা পাওয়া যায় বলে বনবিভাগের তথ্যভান্ডার থেকে জানা যায়। কক্সবাজার থেকে টেকনাফমুখী মেরিনভ্রাইভ রোডের পাশে এর অবস্থান। পাশে নৌবাহিনীর একটি দপতর আছে বলে এখানে ভ্রমণ সবসময় নিরাপদ।


 সাধারণত যারা কক্সবাজার বেড়াতে যান তারা হিমছড়ি যেতে ভোলেননা। কলাতলী থেকে অটোতে গেলে বনপ্রতি ২০ টাকা রিজার্ভ নিলে ১০০ বা দেড়শ কখনো তারও কম হয়।  এটা কলাতলী থেকে এত কাছে যে এখানে আলাদা থাকার জায়গায় প্রয়োজন হয়না। কক্সবাজারের যেকোনো হোটেলে থাকলেই আপনি সহজে হিমছড়ি যেতে পারবেন। আর কক্সবাজার বেড়াতে গেলে অবশ্যই হিমছড়ি ঘুরে আসতে ভুলবেন না। হিমছড়িতে ভালো ভালো কয়েকটা রেস্টুরেন্ট রয়েছে এগুলোর খাবারের মান বেশ ভালো রয়েছে একটি শপিং স্পট। 

You might like