চলার পথে ক্লান্তি দূর করবে বলাকা উদ্যান 03/09/2016



জীবনানন্দ দাস বলেছিলেন ‘‘আমারে দদুন্ড শান্তি দিয়েছিলো নাটোরের বনলতাসেন’’ আমাকে ফাগুনের মৃদু তাপে কিছুটা প্রশান্তি দিয়েছিলো ঠাকুর গাঁয়ের বলাকা উদ্যান। গত ১২ ফ্রেব্রুয়ারী থেকে ২৮ মার্চ পায়ে হেঁটে তেতুলিয়া থেকে টেকনাফ ভ্রমনের সময় আমি বলাকা রিসোর্টে কিছুক্ষণের জন্য বিশ্রাম নিয়েছিলাম।

তবুও একটু ফিরে আসতে চাই জীবনানন্দের কবিতা থেকে -

''আমি ক্লান্ত প্রাণ এক, চারিদিকে জীবনের সমুদ্র সফেন,

আমারে দুদণ্ড শান্তি দিয়েছিল নাটোরের বনলতা সেন।''

শুধু ফাল্গুন আর বৈশাখ নয়। ভাদ্রের ভ্যাপসা গরম কিংবা চৈত্রের খরতাপে উত্তরাঞ্চলের প্রকৃতি যখন কিছুটা রুষ্ট হয়ে পড়ে তখন উত্তরবঙ্গের জেলাগুলোতে বেড়াতে গেলে আপনাকে দুদণ্ড শান্তি দিতে পারে বলাকা উদ্যান । পৌষ মাঘের শীতেও সেখানে নিশ্চয় বেড়াতে বাঁধা নেই। চারদকি সবুজ শ্যামল মাঠের মাঝখানে মনে হবে একটি সুশোভিত দ্বীপ যেন। চারদিকে অসংখ্য গাছগাছালির মাঝখানে একটি বিশাল দিঘী। রয়েছে শিশুপার্ক ও নানা প্রানীর ভাস্কর্য । ঠাকুরগাঁও শহর থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার আগে কুমিল্লাহাড়ি নামক এলাকায় বলাকা উদ্যান অবস্থিত ।  ঢাকা থেকে যাওয়ার সময় রাস্তার বাম পাশে পড়বে বলাকা । মহাসড়ক থেকে পাঁচশো গজ দূরের একটি বিশাল দিঘীকে ঘিরে গড়ে উঠেছে এই বিনোদন কেন্দ্র ।

ঠাকুরগাঁয়ে অন্যকোনো বিনোদন ব্যবস্থা না থাকায় এখানে ছুটির দিনে ছেলে বুড়োরা আসে ঘুরতে আর নানা রাইডে চড়তে ।  দিঘীর চারদিকে নানাফুলের সমারোহ । পরিকল্পিত বৃক্ষশোভা ও ফুলেল সমারোহ তৈরী করা হয়েছে। দিঘীতে ঘুরে বেড়ানোর জন্য রয়েছে প্রমোদতরী নাম টাইটানিক। দিঘীর বিভিন্ন পাশে বিনোদন আর অবকাশের নানা আয়োজন রয়েছে ।  দিঘীর অন্যপারে রয়েছে বসার জায়গা এবং পিকনিক এর ব্যবস্থা । খোলামেলা ছায়া সুনিবিড়ি শান্তির নীড় বলাকা রিসোর্টে গাছের ছায়ায় ঘুরে বেড়ানোর জন্য রয়েছে প্রচুর খোলা জায়গা। সারি সারি গাছ আর ফুল বাগানের ছায়াপড়ে দিঘীর জলে তৈরী অন্যরকম এক ক্যানভ্যাসের দোতনা । দিঘীর চারদিকে ঘুরে বেড়ানোর আনন্দই আলাদা।


শিশুদের নাগরদোলা, ট্রেন ও জাহাজসহ কিছু রাইড। শিশুদের পাশাপাশি তরুণ-তরুণী, বৃদ্ধরাও উপভোগ করেন উদ্যানের সৌন্দর্য । শিশুদের বিনোদনের জন্যএখানে বসানো হয়েছে নাগরদোলা, ট্রেন, স্লিপার, দোলনা ও জাহাজসহ ৭টি রাইড। আরো দুটি রাইড বসানোর কাজ চলছে । বিকেল হতেই উদ্যানে নামে মানুষের ঢল । দূর-দূরান্ত থেকে কিশোর-কিশোরী, তরুণ-তরুণীসহ নানা বয়সের নারী-পুরুষে পরিপূর্ণ উদ্যানটি মিলন মেলায় পরিণত হয় । প্রকৃতি আর কৃত্রিম সুবিধার এক ছোট মেলবন্ধন এই বলাকা রিসোর্ট। বলাকা রিসোর্টে নেই বিলাসী আর উন্নত রাইডের আয়োজন । কিন্তু উত্তরবঙ্গের গ্রামীন প্রকৃতির মাঝে এক পশলা অবসরের লগন এনে দিতে পারে বলাকা ।

এখানে রয়েছে বিশ্রাম কক্ষ। যে কেউ চাইলে এখানে রাত্রীযাপন করতে পারে ভাড়া পরিশোধ করে। রয়েছে নিজস্ব কিচেন ও বাবুর্চির মাধ্যমে খাবারের আয়োজন। পিকনিক পার্টি চাইলে নিজেরা রান্না করেও খেতে পারবে । আর হালকা নাস্তা করার জন্য উদ্যানের সামনে রয়েছে বাগান। সূতরায় যারা কাছে রয়েছেন অথবা ঈদে বাড়ি যাবেন। অথবা যাদের চলার পথে পড়বে বলাকা উদ্যান। তারা ঢুঁ মেরে আসতে পারেন এক ঝলক।

বুকিং এর জন্য যোগাযোগ: ০১৭৩৭ ৪২৪৬৪৫

লেখক :  জাহাঙ্গীর আলম শোভন