ঘুরে আসুন নিবিড় অরন্য রাজেশপুর ইকোপার্ক 30/08/2016


রাজেশপুর ইকোপার্কে ভ্রমণ করার জন্য আপনাকে কোনো ভ্রমণ প্লান করতে হবে না। নিতে হবেনা বড়ো কোন প্রস্তুতি। ঢাকা থেকে সকালে গিয়ে বিকেলেই ফিরে আসতে পারবেন। মাত্র একশ কিলোমিটারের মত রাস্তা।  ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক থেকে মাত্র ২.২ কিলোমিটারের মধ্যেই অবস্খিত রাজেশপুর ইকোপার্ক । আপনি ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম বা চট্টগ্রাম থেকে ঢাকা অথবা ফেনী, কুমিল্লা, নোয়াখালী, চাঁদপুর কোথাও ভ্রমণে গেলে রাজেশপুরের নামটাও আপনার ভ্রমণ লিস্টে যোগ করে নিতে পারেন।এটি কুমিল্লা জেলা সদর থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্ব দিকে কুমিল্লা  সদর  জোড় কানন ইউনিয়নের অন্তগর্ত বনভূমি রাজেশপুর ইকোপার্ক।

‘‘দেখবো বাংলাদেশ গড়বো বাংলাদেশ” এই স্লোগান নিয়ে গত ১২ ফ্রেব্রুয়ারী থেকে ২৮ মার্চ পর্যন্ত পাঁয়ে হেটে টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া ভ্রমন করেন জাহাঙ্গীর আলম শোভন । পায়ে হেঁটে দেশ দেখা প্রকল্পের স্পন্সর হিসেবে আমরা ট্যুর.কম.বিডি সর্বক্ষণ তার সঙ্গেই ছিলাম । অনিন্দ্য বাংলাদেশের বাঁকে বাঁকে যে ঐতিহাসিক কিংবা দর্শনীয় স্থানগুলো রয়েছে যা অনেকেরই অজানা, সেই স্থানগুলিকে সবার দৃষ্টিসীমার মধ্যে নিয়ে আসার জন্যই ট্যুর.কম.বিডির এই আপ্রাণ প্রচেষ্টা । পাঁয়ে হেটে দেশ ভ্রমণ শেষে জাহাঙ্গীর আলম শোভন জানিয়েছেন রাজেশপুর ইকোপার্কের বিস্তারিত তথ্য ।

রাজেশপুর ইকোপার্কে ছোট আয়োজণে আপনি পাবেন এক রাজকীয় ভ্রমণের স্বাদ। কারণ এখানে একসময় অবিভক্ত ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের রাজা বীরচন্দ সেন মানিক্য বাহাদুর  শিকারে আসতেন। তখন বাঘ, ভালুক, হরিণ নানা প্রানীতে ভরপুর থাকলেও এখন তেমন একটা নেই। তবে  রাজেশপুর ইকো পার্ক  ত্রিপুরা রাজ্যের গহীন অরণ্যের সাথে   যুক্ত। ফলে মাঝে মাঝে হরিণ, বাঘ সহ নানা পশু এই পার্কের ভিতরে চোখে পড়ে এই ইকো পার্কে ৮৪ প্রজাতির উদ্ভিদ এবং ১৩৫ প্রজাতির প্রাণীর মধ্যে ৬ প্রজাতির উভচর, ৪০ প্রজাতির সরীসৃপ এবং ১২৯ প্রজাতির পাখি রয়েছে ।প্রায় ১০ কিলোমিটার এলাকা নিয়ে গঠিত এ বনের গহিন অরন্যে রয়েছে প্রচুর প্রাকৃতিক বৈচিত্র্য। কুমিল্লা সামাজিক বন বিভাগের আওতাধীন কুমিল্লার রাজেশপুর ইকো পার্ক এর আয়তন ৫৮৭.৮৯ একর । সাধারণ ভাবে এটি একটি ক্ষয়িষ্ণু শালের পত্রঝড়া বন হলেও তেলসুর, গর্জন, কাজু বাদাম, লোহা কাঠ,শোভাবর্ধনকারী গাছ, বাঁশ ঝাড়, কদম, ঝারুল ছাড়াও ৩০৬ একর শালবনের পাশাপাশি ৮৭ একর উডলট বাগান, ৭৩ একর কৃষিবন বাগান, ২৬০ একর বেত বাগান প্রাকৃতিক সম্পদে ভরপুর। এখানে বিভিন্ন দেশ থেকে আগত পাখিদের জন্য একটি নিরাপদ অভয়ারন্য ।

সুবজে সবুজে ঘেরা শালবনের সরু পথ ধরে হেঁটে যেতে মন চাইবে বহুদূর। প্রতিদিন বিকেলে হাজার হাজার তোতা পাখি দল বেঁধে এখানে আসে রাত্রী যাপন করার জন্য। তবে দর্শনার্থীরা দিনের বেলায় বিশ্রাম নিতে পারলেও তাদের জন্য এখানে রাত যাপনের কোনো ব্যবস্থা নেই। থাকার জন্য কুমিল্লা শহর ছাড়াও বিশ্বরোডে রয়েছে হোটেল নূরজাহান। এছাড়া শুয়াগাজি ও মিয়াবাজারে বেশকিছু হাইওয়ে রেস্টুরেন্টে রয়েছে থাকা ও খাবারের ব্যবস্থা।


পর্যটকদের জন্য রয়েছে পিকনিক শেড এবং বনশ্রী বিশ্রামাগার। শালবন আর কাজু বাদাম বাগানের মধ্যে স্খাপিত হেলানো বেঞ্চ।আগত বিনোদন পিপাসুদের জন্য শাল, গর্জন ও বৈশাখী নামের তিনটি পিকনিক শেড।  প্রাণীর মডেল সহজেই ভ্রমণপিপাসুদের আকর্ষণ করবে।এছাড়া বিভিন্ন বন্য প্রাণীর মডেল, স্লিপার, দোলনা, শিশু কর্ণার, বসার জন্য হেলানো চেয়ার, সাইনবোর্ড, গাইড ম্যাপ ইত্যাদি স্খাপন করা হয়েছে কৃত্রিমভাবে সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্য।


 
পিকনিক শেডের সরকার নির্ধারিত ভাড়া ১০০০ টাকা আর বনশ্রী নামের বন বিশ্রামাগারটির ভাড়া ধরা হয়েছে ১৫০০ টাকা অনুমতি সাপেক্ষে ফি দিয়ে এক দিনের জন্য ব্যবহার করা যাবে।বিদ্যুৎ ও পানির সার্বক্ষনিক ব্যবস্খা রয়েছে এখানে।

কিভাবে যাবেন: ঢাকা থেকে প্রথমে কুমিল্লায় যেতে পারেন বাস বা ট্রেনে। কুমিল্লা শহর থেকে অথবা কুমিল্লা পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড থেকে সিএনজিতে যেতে পারেন রাজেশপুর ইকোপার্কে ।

লেখক : জাহাঙ্গীর আলম শোভন 



Quick Search