এক রিসোর্টে অনেক আয়োজন: মেঘনা ভিলেজ হলিডে রিসোর্ট 29/08/2016



একটি ছোট এলাকার মধ্যে আপনি যদি চান বিনোদনের অনেক আয়োজন তাহলে আপনার জন্য মেঘনা ভিলেজ হলিডে রিসোর্ট। অথবা আপনি যদি চান ঢাকার কাছেও কোথাও গিয়ে একদিন পরিবার নিয়ে ঘুরে আসবেন তাতেও মেঘনা ভিলেজ হলিডে রিসোর্ট। আপনি যদি সকালে গিয়ে সারাদিন মাস্তি করে বিকেলে ঢাকায় ফিরে আসার কথা ভাবেন তাও আপনার জন্য মেঘনা ভিলেজ হলিডে রিসোর্ট। আর কর্পোরেট মিটিং কিংবা এজিএম এসবের কথাতো আর বলার অপেক্ষা রাখেনা। সব ব্যবস্হাই এখানে আছে । 

‘‘দেখবো বাংলাদেশ গড়বো বাংলাদেশ” এই স্লোগান নিয়ে গত ১২ ফ্রেব্রুয়ারী থেকে ২৮ মার্চ পর্যন্ত পাঁয়ে হেটে টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া ভ্রমন করেন জাহাঙ্গীর আলম শোভন । পায়ে হেঁটে দেশ দেখা প্রকল্পের স্পন্সর হিসেবে আমরা ট্যুর.কম.বিডি সর্বক্ষণ তার সঙ্গেই ছিলাম । অনিন্দ্য বাংলাদেশের বাঁকে বাঁকে যে ঐতিহাসিক কিংবা দর্শনীয় স্থানগুলো রয়েছে যা অনেকেরই অজানা, সেই স্থানগুলিকে সবার দৃষ্টিসীমার মধ্যে নিয়ে আসার জন্যই ট্যুর.কম.বিডির এই আপ্রাণ প্রচেষ্টা । পাঁয়ে হেটে দেশ ভ্রমণ শেষে জাহাঙ্গীর আলম শোভন জানিয়েছেন মেঘনা ভিলেজের বিস্তারিত তথ্য ।

ঢাকা চট্টগ্রাম মহাসড়কে নারায়নগঞ্জ পার হওয়ার পর এক কিলোমিটারের মধ্যে রাস্তার ডান পাশে (ঢাকা থেকে গেলে) ৩০ বিঘা জমির উপর ফুল ফল বৃক্ষশোভিত এক অন্যন্য বিনোদন কেন্দ্র মেঘনা ভিলেজ হলিযে রিসোর্ট। ঢাকা থেকে আনুমানিক ৩৫ কিলোমিটার দূরত্বের মধ্যেই এর অবস্থান। মেঘনা ব্রিজ পার হওয়ার পরই দেখা পাবেন রাস্তার পাশে। এর প্রবেশ পথেই আপনাকে একটি ডাইনোসর এর ভাস্কর্য স্বাগত জানাবে ও তার সাথে লেখা ফলকে পরিবেশ বিষয়ক বার্তা দেবে। ভেতরে প্রবেশ করার পর আপনি এর সঠিক স্বার্থকতা দেখতে পাবেন। পুরো জায়গাজুড়ে নানা আয়োজন রয়েছে। কিন্তু গাছহীন কোনো জায়গা নেই। গাছগুলোর গায়ে গাছের পরিচিতি ও মাহত্ম বর্ণনা করে নানা লেখা রয়েছে। দেখবেন ডাইনোসরের মুখের ভেতর থেকে হঠাৎ করে ফুড়ুৎ করে উড়ে যাবে চড়ুই।

 ডাইনোসর এর ভাষ্কর্যে লেখা রয়েছে: উপরে তাকিয়ে দেখুন, ভাস্কর্যের এই উড়ন্ত টিরাসোনোরাসটি তার পদতলে ব্যাঘ্রসম মুখটিকে পদদলিত করে আমাদের চিৎকার করে জানিয়ে দিচ্ছে, পরিবশে ধ্বংসকারী এই দুস্কৃতিকারীদের কারণে ৫০০০ বছর আগেই পৃথিবী থেকে বিলুপ্ত হয়ে গেছে তারা। আরো নানা বার্তা রয়েছে যা দেখতে পাবেন ভেতরে প্রবেশের পর। এখানে প্রবেশ মূল্য ৫০ টাকা।  আর শিশুদের জন্য ১০ টাকা। পায়ে হেঁটে তেঁতুলিয়া থেকে টেকনাফ ভ্রমনের সময় আমাকে বিনামূল্যে প্রবেশের সুযোগ দেয়ায় কতৃপক্ষকে ধন্যবাদ।

বিনোদনের নানা আয়োজনে ঠাসা এই রিসোর্টটি, এতে সময় কাটানোর ব্যাপার নিয়ে আপনাকে ভাবতেই হবেনা।: এতে রয়েছে রয়েছে পেন্ডুলাম পাইরেট শিপ, প্যাডেল বোট, নাগরদোলা, মেরিগো রাউন্ড, সাইকেল চালনা, ব্যাটারী কার ও মিকি মাউস বাইক। এগুলো ১০ টাকা থেকে ৩০ টাকা ফি এর বিনিময়ে। এছাড়া এখানে সংরক্ষিত কুমির, মিনি ছিড়িয়াখানার পাখি ও জীবজন্তু দেখা আর বিশেস সময়ে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে নাচ গান দেখার জন্য কোনো ফি দিতে হয়না। তাদের রয়েছে নিজস্ব জামদানী তাঁত ও সবজি ক্ষেত। যেকেউ চাইলে এগুলো কিনতেও পারেন আবার ঘুরে দেখতে পারেন।

রয়েছে সুন্দর সুন্দর কটেজ, যেগুলো ফুলের বাগান দিয়ে ঘেরা। অন্যান্য সুযোগ সুবিধার মধ্যে রয়েছে ১০টি এসি/ ননিএসি কটেজ। কটেজগুলোর সামনে ফুলশোভিত বাগান। শীততাপ নিয়ন্ত্রিত রেস্তোরা ও মেইলিস ডাইনিং, রয়েছে খেলার মাঠ এবং মাছ ধরার জন্য দুটো পুকুর। শকুনো মৌসুমে অবশ্য এগুলোতে পানি কমে যায়।

চিড়িয়া খানায় রয়েছে, চিত্রাহরিণ, টিয়ে, লাভ বার্ডস, বানর, হসুমান, খরগোষ, বেজী, কলিমপাখি, কোয়েল, রাজহাস, তিতির একুরিয়াম ফিস ও কুমীর। এসব দেখার জন্য আলাদা টিকেটের প্রয়োজন হয়না।

শিশুদের জন্য রয়েছে, শিশুকিশোর কর্ণার এখানে আছে: কম্পোসিলিন্ডার স্লাইড, সাধারণ স্লাইড, দোলনা, সিসো, ভিডিও গেম, ইলেকট্রিক গাড়ি, বাই সাইকেল ও ট্রাইসাইকেল।

গাছে গাছে ঘেরা। ফলশোভিত আর ছায়া সুনিবিড় এই  এই অবকাশ যাপনকেন্দ্র সব দিক থেকে নিরাপদ। আসলে একটি বাগানবাড়ীর মতোই। এখানে বৃহৎ দুটি ফোয়ারা আর নানা রাইড সাথে বিভিন্ন প্রাণীর ভাস্কর্য তার সাথে মাছ ধরার যাতীয় আয়োজন  সগুযোগতা প্রদান করে কতৃপক্ষ। রয়েছে ইন্টারনেট সুবিধাও। খাবারের তালিকাও বেশ দীর্ঘ। নানারকম খাবার পাবেন এখানে। এখানে অনেক কিছু সাথে আপনি চাইলে কিনতে পারবেন ঢেঁকি চাটা চাল।

বিলাসী লোকদের জন্য রয়েছে খাবারের নানা স্পেশাল ‍আইটেম। এছাড়া বারবি কিউ কিচেন ও বারবি কিউ গার্ডেন। রয়েছে ক্যাজওয়ে ব্রিজ, গার্ডেন রেস্টুরেন্ট, স্ন্যাক্স কর্ণার ও কপি শপ, পিকনিক কিচেন। বটতলা, ব্যাডমিন্টন কোর্ট ও সুইমিং পুল। আর কি চাই। একই সাথে এ্কই সাথানে এত রকম আয়োজন খুব কম রিসোর্টেই মিলতে পারে। রয়েছে তাদের নিজস্ব মিস্টি ফ্যাক্টরীরর মিস্টি চেখে দেখার সুযোগ। একটি সূভেনির শপ রয়েছে। দেশী বিদেশী নানা খাবারের সুবিধা রয়েছে এখানে। রিসোর্টে থাকার জন্য শিশুসহ ৫ জনের প্যাকেজ ৮,০০০ টাকা মাত্র।

মেঘনা ভিলেজ রিসোর্টের নতুন সংযোজন: ২০ জনের ৩ডি সিনেপ্লেক্স। প্রতিদিন ৩টি পূর্দৈর্ঘ মুভি প্রদর্শন করা হয়। টিকেটের দাম মাত্র ৩০ টাকা। শীঘ্রই আসছে নদীতে বোট চালানোর সুবিধা ও নতুন কিছু খেলার মাঠ।

ঢাকা থেকে বুকিং দিতে চাইলে: স্যুট ৫১২, লেবেল ৫, ইব্রাহিম ম্যানশন, ১১ পুরানা পল্টন, ঢাকা ১০০০। ফোন: ৯৫৭০৭৮২, ০১৫৫২৩০৮৮৪৯

অগ্রিম বুকিং করতে চাইলে নাম্বার: ০১৭১২২০৩৩৩৬।

বিস্তারিত জানার জন্য: ০১৭১৮৪৭১৯৬১, ০১৮১৭ ১০৪১২৬,

আমাদের প্যাকেজগুলো দেখতে এখানে ক্লিক করুন http://tour.com.bd/tours

আমাদের বান্দরবান প্যাকেজটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন http://tour.com.bd/tours/bandarban-group-tour?

বুকিংয়ের জন্য কল করুন ০১৮১১৪৮০৮৩৩, ০১৮১১৪৮০৮৩২

লেখক :  জাহাঙ্গীর আলম শোভন