জেনে নিন বাই রোডে কিভাবে ভুটান যেতে পারবেন

  • Shamima Akter Atika 91604 09/08/2016

ভূটানকে বলা হয় সৌন্দর্যের নগরী । ভূটানে যেতে যেহেতু বাংলাদেশীদের ভিসা লাগে না তাই অসংখ্য পর্যটক প্রতিবছরই ভূটান পাড়ি জমায় । অনেকেই আমাদের কাছে জানতে চেয়েছেন যে কিভাবে ভূটান যেতে হয় বাই রোডে । আজকের আয়োজনটা থাকছে আপনাদের প্রশ্নগুলোকে কেন্দ্র করে । আশা করি এই লেখনির মাধ্যমে অনেকেই উপকৃত হবেন ।

বাবার মুখে যখন প্রথম শুনেছিলাম তখন মনে হয়েছিলো এ যেন এক স্বপ্নের দেশকিন্তু বাস্তব যখন সামনে এসে দাঁড়ালো তখন  দেখলাম ভূটান একটি সাজানো গোছানো পরিচ্ছন্ন ছবির মতো চোখ ধাঁধানো সৌন্দর্য নিয়ে বসে আছে । ভূটানে বাই রোডে কিভাবে যাবেন তা তুলে ধরা হলো ।

স্বপ্নের লীলাভূমি ভূটানে যেতে প্রথমেই আপনার ট্রানজিট ভিসা লাগবে । ট্রানজিট ভিসা আপনি শুধুমাত্র ঢাকার গুলশান শাখা থেকেই করিয়ে নিতে পারবেন । ট্রানজিট ভিসার বিস্তারিত বিবরণ আপনি নিচের লিঙ্কটিতে পাবেন ।

(https://www.facebook.com/…/mai…/permalink/10153409845671790/

রাতে শ্যামলী এস আর বাসে উঠে পড়ুন । কল্যাণপুর থেকে রাত ৯ টায় এবং আরামবাগ থেকে রাত ৮ টায় ছাড়ে এই বাস । সকাল ৭-৮ টার মধ্যেই আপনি বুড়িমারি সীমান্তে পৌঁছে যাবেন । সকাল ৯ টায় ইমিগ্রেশনের অফিস খুলবে তখন আপনি ইমিগ্রেশন সংক্রান্ত সকল কার্যাদি সম্পন্ন করে ভারতে প্রবেশ করতে পারবেন । দুই বর্ডারের প্রয়োজনীয় কাজ সমাপ্ত হলে আপনি নির্দিষ্ট বাসে উঠে পড়ুন । 

এবার ইন্ডিয়া থেকে ভূটান যাবার জন্য ময়নাগুড়ি নামক জায়গায় নেমে অন্য একটি বাসে আপনাকে উঠতে হবে । ভাড়া পড়বে জনপ্রতি ৩০ রুপি । ভূটান-ইন্ডিয়া বর্ডারের কাছাকাছি যাবার জন্য এবার আপনাকে সাফারি নামক গাড়িতে উঠে পড়তে হবে । এরপর ৭ টাকা ভাড়া দিয়ে আপনাকে অটোতে উঠে বসতে হবে । অটোটি আপনাকে জয়গাও ইন্ডিয়ান ইমিগ্রশন অফিসে নামিয়ে দেবে । ইমিগ্রশন অফিসে এক্সিট সীল লাগিয়ে আপনি ভূটানে প্রবেশ করতে পারবেন । মনে রাখবেন কোন প্রকার ভূল তথ্য দেয়া যাবে না । 

কোন সমস্যাই হয় না ভূটান-ইন্ডিয়া বর্ডার পার হতে । ইমিগ্রশন পর্ব শেষ করেই সোজা চলে যাওয়া যায় ভূটানে ।  খাওয়া দাওয়াটাও চাইলে আপনি এখানেই সেরে নিতে পারেন, আমারমতে সেটাই ভালো হবে । তারপর আপনি আপনার নিজের ইচ্ছামতো পছন্দের শহরে চলে যেতে পারবেন ।

এখানে ঘুরে দেখার মতো রয়েছে থিম্পু, পারু, পোখারা এবং পুনাখা শহর ।

প্রথমই দিনই থিম্পু থেকে Punakha নামক শহরে যাওয়ার permit করিয়ে রাখলে পরবর্তীতে কোন সময় নষ্ট হবে না ।

অফিসিয়াল কাজ শেষে থিম্পুতে  Zoo, Dzhong, Monestry ছিল কিন্তু বুদ্ধা পয়েন্ট মনে রাখার মতন ১টা জায়গা। অসম্ভব সুন্দর ১টা শহর। দেখলেই মন ভরে যায়।

দ্বিতীয় দিন: যাত্রা করুন পুনাখার উদ্দশ্যে। সকাল ১০টায় রওনা দিলে ২-২:৩০ ঘণ্টার মতন সময় লাগে পৌছাতে। যাওয়ার পথে Duchala, Punakha Dzhong, এবং Suspension Bridge তো মাথা নষ্ট করে দেয়। আবহাওয়া অন্য শহর থেকে একটু ভিন্ন কিন্তু খুবই উপভোগ্য। কেউ ভূটান গেল, কিন্তু পুনাখা গেল না, তাহলে তার ভূটান যাত্রাই অপূর্ণ। সারাদিন ঘুরে রাতে আবার থিম্পুতে ফিরে আসাটাই ভাল হবে কারন পুনাখাতে থাকার মতন ভাল হোটেল নেই। আর থিম্পু হয়ে যেহুতু পারোতে যেতে হবে তাই থিম্পুতে চলে যাওয়াটাই ভাল সিদ্ধান্ত।

তৃতীয় দিন: থিম্পু এবং পুনাখা দেখা শেষে যাত্রা করতে পারেন স্বপ্নের শহর Paro এর উদ্দেশে। Hotel Dragon এটা ইন্ডিয়ান হোটেল খুব সম্ভবত এর মালিক কলকাতার লোক । তাই এখানে সর্ব ধরনের বাঙালি খাবার পাওয়া যায়। যেমন; সাদা ভাত, আলু ভর্তা, আলু ভাজি, শুকনা মরিচ দিয়া আলু ভর্তা, খাসির তরকারি, মুরগির তরকারি, সবজি এক কথায় পুরা ১৬ আনা বাঙালি খাওয়া তবে দাম একটু বেশি। 

এখন আসি আসল কথায়, পারো হচ্ছে ভুটানের সবচেয়ে সুন্দর শহর, এই শহরেই ওদের একমাত্র আন্তর্জাতিক এয়ারপোর্ট আছে। থিম্পু থেকে আসার পথে অনেক সুন্দর সুন্দর যায়গা আছে যা না দেখলেই নয়। এদের মধ্যে অন্যতম হল Case bridge. এটা যেমন মজার তেমনই ভয়ঙ্কর। 


চতুর্থ দিন:  এবার আপনি যেতে পারেন পারোর সব থেকে বড় আকর্ষণ Tiger Nest/ taksin. যেটা ওদের ধর্মীয় এবং পর্যটনের দিক থেকে সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ দিক। তিন হাজার ফুট হেটে উঠতে হবে আবার নেমে আসতে হবে। পায়ে হাটার বিকল্প কোন ব্যবস্থা নাই। উঠতে সময় লাগতে পারে প্রায় ৩:৩০ ঘণ্টার মতন আবার নামতে সময় লাগে ১ ঘণ্টার বেশি। দিন শেষে এটাই হবে আপনার সব থেকে মজার এবং সারা জীবন মনে রাখার মতন একটা ঘটনা।

খরচাপাতি : 

জনপ্রতি আপনার খরচ পড়বে ১৫-১৬ হাজার টাকা (শপিং ছাড়া)।

মনে রাখা ভালো, সময় স্বল্পতার জন্য আপনি হয়তো হাভেলি ও বুম্থাং-এর মতো আকর্ষণীয় জায়গায় যেতে পারেননি। হাভেলি, বুম্থাং ঘুরলে খরচ কিছুটা বাড়বে। 

আর সব কিছুতে ট্যাক্সি বাদ দিয়ে পাবলিক বাসে ঘুরলে খরচ কিছু কম পড়বে কিন্তু সময় বেশি লাগবে।

কিছু লক্ষণীয়
১. ভারতীয় ভিসাসহ পাসপোর্টের ফটোকপির কয়েক কপি, আর পাসপোর্ট সাইজের ছবি সঙ্গে রাখবেন।

২. ন্যাশনাল আইডি কার্ডের দু-তিনটি ফটোকপি। 

৩. চাকরিজীবী হলে NOC (No Objection Certificate) ও স্টুডেন্ট হলে আইডি কার্ডের দু-এক ফটোকপি।

৪. ভুটানে সরকারি ছুটি অনেক বেশি, তাই সরকারি ছুটির লিস্ট দেখে ভ্রমণ প্লান করলে ভালো।

৫. ভুটানে কোথাও কোনো মসজিদ ও মুসলিম রেস্টুরেন্ট আপনার চোখে পড়বে না। ভুটানিজ ভাত, ডাল, সবজি খুবই মজার। তারপরও আপনার প্রয়োজন মনে হলে, বাংলাদেশ থেকেই কিছু, আচার, চাটনি, বিস্কুট নিয়ে যেতে পারেন।

৬. ও হ্যাঁ, আরেকটা কথা, ভুটান শতভাগ ধূমপানমুক্ত দেশ। কিন্তু সবার জন্যই খোলা। কোথাও কোনো সিগারেট কিনতে পাবেন না, ধূমপানের মতো বদভ্যাস থাকলে সিগারেট সঙ্গে করে নিয়ে নেবেন। পরবর্তী সময়ে তা বারে (smoking zone), হোটেলে অথবা পাহাড়ে ধূমপান করতে পারবেন, কিন্তু ধরা পড়লে কোনো কথা নেই, নগদ মোটা অঙ্কের জরিমানা। তবে ধূমপান না করাই ভালো।

৭. নিজস্ব প্রয়োজনীয় ওষুধপত্র বাংলাদেশ থেকেই নিয়ে গেলে ভালো।



You might like