আকাশের নীলাভ ছায়াতলে নির্লীপ্ত শান্ত জলরাশির মহামায়া 28/07/2016



চারদিকে থই থই পানি আর অতিথি পাখির মিলন মেলা স্বচোখে দেখার এখনই উপযুক্ত সময় । আকাশের নীলাভ ছায়াতলে নির্লীপ্ত  শান্ত জলরাশি তার মহামায়া ছড়িয়ে দিয়ে বসে আছে পর্যটকদের হৃদয় মাঝে । যার ডাকে সাড়া না দিয়ে পারা যায় না । বাংলাদেশের মোহণীয় রূপের প্রতিচ্ছবি এই হাকালুকি হাওড়  ।

বর্ষাকালে হাকালুকি হাওড় এক অনন্য রূপ ধারণ করে । শীতকালে এই হাওড়ের অন্য রূপ পরিলক্ষিত হয় । চারপাশ জুড়ে চেনা-অচেনা পাখিদের মিলন মেলা শীতের ভ্রমণের জন্য অন্যতম  । শীতের সময়ে বিভিন্ন দেশ থেকে উড়ে আসা পাখিদের কলতানে মুখরিত হয়ে থাকে আমাদের দেশের তথা এশিয়ার বৃহত্তম হাকালুকি হাওর ।

কিভাবে যাবেন ?

ঢাকা থেকে সড়ক ও রেলপথে সরাসরি সিলেটে যেতে হবে। ঢাকার কমলাপুর ও রেলস্টেশন থেকে প্রতিদিন ৩টা ট্রেন ছাড়ে । এছাড়াও ফকিরাপুল ও সায়েদাবাদ থেকে বিভিন্ন পরিবহনের বাস ছেড়ে যায় সিলেটের উদ্দেশ্যে । ভাড়া পড়বে প্রকারভেদে ৩৫০-৭০০ টাকা। হানিফ, শ্যামলী, এনা, সোহাগ, আরো একাধিক বাস প্রতিদিন সিলেটে যাওয়া আসা করে । 

এ ছাড়া কমলাপুর থেকে মঙ্গলবার ও বুধবার ছাড়া প্রতিদিনই পেয়ে যাবেন পারাবত এক্সপ্রেস, জয়ন্তিকা এক্সপ্রেস ও উপবন এক্সপ্রেস। ভাড়া ১৫০-৭০০ টাকা। সিলেট শহর থেকে যে কোনো স্থানেই ভ্রমণের জন্য বাস, সিএনজি, অটোরিকশা, রিকশা পেয়ে যাবেন।

 

সিলেট স্পেশাল ভ্রমণ প্যাকেজ (৩ রাত/ ৩ দিন)
প্যাকেজ মূল্য ৬,৮০০ টাকা জন প্রতি (১ রুমে ২/৩ জন)
গ্রুপ ট্যুর: ২৪শে আগস্ট থেকে ২৭ শে আগস্ট ২০১৬ইং
বুকিং হটলাইন: ০১৮১১৪৮০৮৩৩, ০১৮১১৪৮০৮৩২ 
বুকিংয়ের শেষ সময়: ০৫ই আগস্ট ২০১৬ ইং 
ভ্রমনের সময়কাল: ৩ রাত/ ৩ দিন
২৪ আগস্ট – রাত ১২টায় নন এসি বাসে ঢাকা থেকে সিলেট এর উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু ।
২৫ আগস্ট- ভোরে আমরা সিলেট পৌঁছে সকালের নাস্তা করবো । তারপর সিলেটের অত্যন্ত মনোরম পরিবেশে অবস্হিত হোটেলে গিয়ে উঠবো (রিফ্রেশমেন্টের জন্য ২টা রুম থাকবে) । 
সকাল ৮ টায় নাস্তা সেরে নিয়ে আমরা জাফলং এর উদ্দেশ্যে রওনা দেব । ২.০০ টায় হোটেলে ফিরবো । দুপুরের খাবার খেয়ে ৪টায় আমরা হোটেল ত্যাগ করবো দরগা শরীফ এর উদ্দেশ্যে। হোটেলেই রাত্রিযাপন করবো ।

২৬ আগস্ট- ভোর ৬.৩০ শে আমরা যাবো বাংলাদেশের অত্যন্ত চমৎকার জায়গা বিছানাকান্দি যেখানে বিছানো আছে সারি সারি পাথরের বিছানা । পাথরের রাজত্ব থেকে বের হয়ে তারপর আমরা রওনা করবো বাংলাদেশের অন্যতম ব্যাকওয়াটার রাতারগুল এবং বাংলাদেশের সবচেয়ে চমৎকার গ্রাম পানতুমাই এর উদ্দেশ্যে । বর্ষাকাল রাতারগুল এবং পানতুমাই ভ্রমণের উপযুক্ত সময় । রাতারগুল থেকে ফিরে হোটেলে রাত্রি যাপন করবো । 

২৭ আগস্ট- সকালের নাস্তা সেরে আপনারা কিছুটা ফ্রি সময় পাবেন শপিং করার জন্য ।১১টার মধ্যেই আমরা হোটেলে ফিরে আসবো ।দুপুর ১২ টায় আমরা হোটেল থেকে বেরিয়ে পড়বো ।দুপুরের খাবার খেয়ে বাসে উঠে পড়বো । রাতেই আমরা ঢাকায় এসে পৌছাবো ।
প্যাকেজের অন্তর্ভুক্ত:
* ঢাকা-সিলেট-ঢাকা নন এসি বাস টিকেট 
* ৩টি সকালের নাস্তা, ২টি দুপুরের খাবার, ২টি রাতের খাবার 
* এসি হোটেল ( হোটেল সুপ্রীম/ব্রিটানীয়া হোটেল)
* এসি প্রাইভেট ট্রান্সপোর্টে সাইটসিয়ীইং 
* গাইড সার্ভিস
দর্শনীয় স্থান: 
বিছানাকান্দি, রাতারগুল, পানতুমাই, দরগা শরীফ, জাফলং এবং আশেপাশের দর্শনীয় স্থান সমূহ। 
======বুকিং পলিসি======
আমাদের এখানে আপনি ২ ভাবে বুকিং দিতে পারবেন ।
বুকিং কনফার্ম করতে জনপ্রতি ন্যুনতম ৩,৫০০ টাকা জমা দিতে হবে নিম্নোক্ত ব্র্যাক ব্যাংক একাউন্ট অথবা বিকাশ এঃ
ব্রাক ব্যাংক:
Brac Bank Account Name : Tour.com.bd
Brac Bank Account Number : 1512203027806001
বিকাশ নাম্বার: ০১৮১১৪৮০৮২৬ (Personal)
টাকা জমা দেয়ার পর অবশ্যই নিচের নাম্বারে যোগাযোগ করে আপনার নাম, মোবাইল নাম্বার জানিয়ে দেবেন।
** বুকিং এর জন্য কল করুন : ০১৮১১৪৮০৮৩৩, ০১৮১১৪৮০৮৩২ 
======শিশু পলিসি======
০-৩ বছর কোন খরচ লাগবে না (বাবা মায়ের সাথে থাকবে, বাবা মায়ের সাথে খাবে)
======কাপল পলিসি=======
কাপলদের জন্য আলাদা রুম দেয়া হবে ।
http://tour.com.bd/tours/Sylhet-City-of-Tea-Estates

 

কোথায় থাকবেন ?

হাওড় ঘুরে এসে আপনাকে সিলেটের কোন হোটেলে উঠতে হবে কারণ আশেপাশে থাকার জন্য তেমন কোনো ভালো ব্যবস্থা নেই। সারা দিন বেড়ানোর পর সিলেটের মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, সুনামগঞ্জ, শ্রীমঙ্গল শহরসহ আশপাশে অনেক হোটেল-মোটেল বা রিসোর্ট পাবেন। এসব হোটেল-রিসোর্টে ৫০০-৫০০০ টাকা পর্যন্ত ভাড়ায় রুম পাওয়া যাবে।

থই থই জল আর হিজল বনের রূপকথার গন্ধ মিলবে হাকালুকিতে। বাংলাদেশের একটি অন্যতম বৃহৎ মিঠাপানির জলাভূমি । পশ্চিমে ভাটেরা পাহাড় ও পূর্বে পাথারিয়া মাধব পাহাড় বেষ্টিত হাকালুকি হাওর সিলেট ও মৌলভীবাজার জেলার পাঁচটি উপজেলায় বিস্তৃত। ছোট-বড় প্রায় ২৩৮টিরও বেশি বিল ও ছোট-বড় ১০টি নদী নিয়ে গঠিত হাকালুকি হাওর বর্ষাকালে প্রায় ১৮ হাজার হেক্টর এলাকায় পরিণত হয়।

ঘন কুয়াশার সকাল, তপ্ত দুপুর আর লাল গোধূলি এখন এই অপরূপের দেশে। ধানের ক্ষেত হাওয়ায় দোলে, জলাশয়ে ছোট্ট ডিঙি, রাখালের গরুর পাল নিয়ে হেঁটে চলা এ যেন সেই বাংলা, যা হারিয়ে যেতে বসেছে।

হাকালুকি হাওরকে জীববৈচিত্র্যের ভাণ্ডারও বলা যায়। বিভিন্ন ধরনের উদ্ভিদ ও প্রাণী পাওয়া যায় এই হাওরে। হাওরে ৫২৬ প্রজাতির উদ্ভিদ, ১১২ প্রজাতির অতিথি পাখি, ৩০৫ প্রজাতির দেশীয় পাখি, ১৪১ প্রজাতির বন্যপ্রাণী ও ১০৭ প্রজাতির মাছের দেখা মিলবে। হাওয়াবন্যা ছাড়াও হাওরখাল বিল ও পিংলা বিলে হাজার হাজার পাখির দেখা মিলবে।