রাঙ্গামাটির সাজেক ভ্যালীতে নাকি সূর্য ওঠে ৩.৩০ মিনিটে ! 23/07/2016



ঢাকার আকাশে সূর্য মামার দেখা মেলে ভোর সাড়ে পাঁচটা থেকে ৬টার মধ্যেই আর আমাদের স্বপ্নের  সাজেক ভ্যালীতে নাকি সূর্য ওঠে ৩.৩০ মিনিটে ! কি অবাক হচ্ছেন ? জীবনেও হয়তো এমন অদ্ভূত গল্প শুনেন নাই, তাই না !! সূর্য ওঠার অন্যরকম পাগলামির গল্পটা আজ শুনুন তাহলে । 

সাজেকে এর আগেও অনেকবার গিয়েছি কিন্তু সূর্যাস্ত দেখার তৃষ্ণাটা এখনো মেটেনি । তাই এবার একরোখা একটা জেদ মনের মধ্যে চেপে রেখে লাঞ্চ করতে বসলাম । আমার মতোই অবস্হা আমার বন্ধুদের ।

তাই এবার আর যাই হোক এই অপার্থিব দুটি মুহূর্ত কিছুতেই মিছ করা যাবেনা বলেই সবাই বেশ এক রোখা আর প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হয়ে আছি।

কিন্তু লাঞ্চ করতে করতেই দেরি হয়ে গেল সূর্যাস্ত দেখা হল গাছ, পাতা আর আদিবাসীদের আবাসের ফাঁক ফোঁকর থেকে যে যেভাবে আর যতটুকু পারে। সন্ধায় দুপুরের খাবার খেতে খেতে সবাই মিলে সিদ্ধান্ত নিল, সূর্যাস্ত ঠিকঠাক পেলাম না সেটা নাহয় মানলাম। কিন্তু আগামী কালের সূর্যোদয় কিছুতেই মিছ করা যাবেনা। বেশ আগে ভাগেই হ্যালিপ্যাডে গিয়ে পৌছাতে হবে।

রাতের খাবার সেই ১১:৩০ টায়। সন্ধায় ভর পেট খেয়ে এর আগে আর খাওয়াও সম্ভব নয়। রাতের খাবার খেতে খেতে আলোচনা হচ্ছিল… ঠিক কটা নাগাদ উঠলে সূর্য উদয় উপভোগ একটুকুও বাদ যাবেনা? অনেক আলাপ আলোচনা আর যুক্তি তর্কের শেষে ঠিক হল, ভোঁর ৪ টায় ওঠা হবে। ৪:৪৫ এ সূর্য উঠবে! সেভাবেই আলোচনার শেষ হল এবং রাতের খাবারেরও।

ভ্রমনে এসে যতই খাই, আড্ডার ছলে একটু চা না খেলে কি হয়? তাই রাতের খাবারের ক্লান্তি দূর করতে একটু জিরিয়ে, চায়ের ফরমায়েস দেয়া হল। চা চক্রের ভিতরেই কোত্থেকে কে যেন শুনে এলো যে সাজেকে সূর্য নাকি অনেক আগে থেকেই দেখা যায়! একেবারে পাহাড়ের উপরে থেকে দেখবো বলে নাকি আরও আগেই আকাশ লাল-নীল-কমলা, মোট কথা “বেণীআসহকলা” রঙ ধারন করে!

তবে কখন উঠতে হবে? এই নিয়ে সবাই মহা দুশ্চিন্তায় পড়ে গেল। এরই ভিতরে আরও একটা খবর কানে এলো, সেটা হল… হ্যালিপ্যাডে যদি আগে আগে পৌঁছানো না যায়, তবে সামনে যায়গা পাওয়া যাবেনা। আর সূর্য উদয় ও ঠিক মত দেখা যাবেনা? পিছন থেকে নাকি লাফিয়ে লাফিয়ে সূর্য দেখতে হবে! তবে ছবি তোলা? তার কি হবে? এইসব ভাবনায় আগের দুশ্চিন্তা কয়েকগুণ বেড়ে টেনশন আর মানসিক অস্থিরতায় রূপ নিল!

এবং সিন্ধান্ত নেয়া হল সবাই রাত তিনটায় ঘুম থেকে উঠে একটু ফ্রেস হয়ে, রাত ৩:৩০ এর মধ্যে বেরিয়ে হ্যালপ্যাডের একদম সামনের যায়গা দখল করতে নেব! কিন্তু এই রাত ১২:৩০ ঘুমোলে কি আর ৩:৩০ ওঠা যাবে?

এই কথা শুনে এক বদ্ধ ভ্রমন উন্মাদ প্রস্তাব দিল… আজকে না হয় নাই ঘুমাই? কি দারুণ তারা ভরা আকাশ, অর্ধ কিন্তু ঝকঝকে চাঁদ, জোনাকির ঝিকিমিকি, পোকা মাকড়ের ভিন্ন ব্যাঞ্জনা, মেঘেদের সমুদ্র সাজানো, কুয়াশার চাঁদর জড়ানো, আর? আবেগে আবেশে ভেসে যাওয়ার মত মুহূর্ত! কি এমন হবে একরাত না ঘুমোলে? এমন রাত, এমন মুহূর্ত আর এমন বন্ধু বেষ্টিত ক্ষণ কি বার বার আসে? তাই আজ নাহয় জেগেই থাকি?

এইসব বর্ণনা শুনে একটু আবেগি না হয়ে কি পারা যায়? বাঁধা কি যায় দেয়া, উপভোগের অনুভূতিকে? যায়না বোধহয়, তাই বেশ কয়েকজন সহমতও পোষণ করলো, এই রাত জেগেই কাটাবে। রাস্তায় হেটে, আকাশ দেখে, তারা গুণে, জোনাকির আলো নিয়ে খেলা করে, চাঁদের সাথে কথা বলে, আর পাহাড়ে হেলান দিয়ে ! বাহ কি দারুণ !

কিন্তু শেষমেশ রাত একটার পরে আর কাউকেই পাওয়া গেলনা, শুধু সেই বদ্ধ ভ্রমন উন্মাদ ছাড়া। সবাই রুমে, ঘুমে। আর এক বদ্ধ ভ্রমন উন্মাদ যা বলেছে সে ভাবেই রাস্তায় হেটে হেটে, পাহাড়ের চুড়ায় শুয়ে বসে। ভালোবাসার জনের সাথে একা একা কথা বলে, মেঘ-কুয়াশায় জড়িয়ে গিয়ে, গান শুনে, মনে মনে গল্প লিখে রাত ৩ বাজিয়ে দিল।

এরপর সবাইকে ডেকে তোলার দায়িত্বও নিল। এবং সেভাবেই রাত তিনটায় প্রায় সবাইকেই জাগালো। গোছগাছ হয়ে সবাই বের হতে হতে ৪:১৫ পেরিয়ে গেল। গল্প-কথা আর গানে গানে হ্যালিপ্যাডে পৌঁছানোর আগেই সেনাবাহিনীর বাঁধা ! এতো রাতে কোথায় যাচ্ছি? কেন সূর্যদোয় দেখতে? এতো রাতে? পাগল নাকি আপনারা। সূর্য কয়টায় ওঠে জানেন না? আপনারা সবাইতো শিক্ষিত, পরিপক্ক মানুষ, একবারও ভাবলেন না যে সূর্য তো সব জায়গাতেই একই সময় ওঠে !

৫:৪০ এ সূর্য উঠবে। আর এখন বাজে ৪:৩০ টা ! বুঝলেন কিছু। কতটা ঝুঁকিপূর্ণ পথ হেটে এসেছেন আপনারা ? আপনাদের নিয়ে আর পারিনা আমারা। ইত্যাদি ইত্যাদি কথা শুনে সবাই শুধু এঁকে অন্যের দিকে বেকুবের মত তাকিয়ে ছিলাম। তারপর ইনিয়ে-বিনিয়ে দুই চারটা ফালতু আর অগ্রহণযোগ্য যুক্তি তুলে ধরে মুক্তি পেয়ে হ্যালিপ্যাডে গিয়ে পৌছালো সবাই।

এরপর পরবর্তী এক ঘণ্টা পূবের আকাশে চাতক পাখির মত করে তাকিয়ে থেকে, অপেক্ষা অপেক্ষা আর অপেক্ষা… বর্ণিল সূর্যের জন্য অধীরতা, আকুলতা আর অমোঘ আকাঙ্ক্ষা। ক্ষণে ক্ষণে আকাশ হাসছে, তার রঙ পরিবর্তন করছে, কখনো গোলাপি, কখনো হালকা হলুদ, কখনো কমলা, কখনো লাল আবার কখনো বেগুনী !

অদ্ভুত সব রঙের বর্ণিল খেলা খেলতে খেলতে একসময় সূর্য উদয়ের সময় পেরিয়ে যায়, কিন্তু সূর্য আর ওঠেনা ! কেন কি হল? আকাশের রঙও যেন তার বর্ণিলতা হারালো। সূর্য আছে বোঝা যাচ্ছে কিন্তু দেখা মিলছেনা ! আসলে পূবের আকাশ মেঘে ছেয়ে গিয়ে সূর্যকে আড়াল করে রেখেছে !

এরপর যখন সূর্যকে দেখা গেল, সেদিকে আর তাকানোর উপায় ছিলনা। আলোর বিচ্ছুরণ বা তেজ এতই ছিল !

কিন্তু সেই অধীর আগ্রহ আর অপেক্ষার মোহময় সূর্যদোয় অধরাই থেকে গেল…………

স্পেশাল সাজেক-খাগড়াছড়ি গ্রুপ ট্যুর (৩ রাত/ ২ দিন)
জনপ্রতি মাত্র ৫,৫০০ টাকা (১ রুমে ৩/৪ জন)
জনপ্রতি মাত্র ৬,৫০০ টাকা (১ রুমে ২ জন)
বুকিংযের জন্য কল করুন ০১৮১১৪৮০৮৩৩,
গ্রুপ ট্যুর: ২৮ শে জুলাই  ২০১৬ ইং 

গ্রুপ ট্যুর: ১১-১৪ই আগস্ট ২০১৬ইং

গ্রুপ ট্যুর: ২৪ শে আগস্ট- ২৭ শে আগস্ট ২০১৬ ইং
ভ্রমণ বৃত্তান্ত :
রাত ৯ টার বাসে ঢাকা থেকে খাগড়াছড়ির উদ্দ্যেশে যাত্রা
১ম দিন :
সকালে হোটেল ফ্রেশ হবো, সকালের নাস্তা করে রওনা করবো সাজেকের পথে
দুপুর নাগাদ পৌছাব সাজেক ভ্যালীতে । দুপুরের আহার শেষ করে বিকেলে ঘুরে অাসব কংলাক পাড়ায়,পাড়া থেকে সূর্যাস্ত দেখে ফিরব আসব রুইলুই পাড়ায় ।
রাত যাপন - সাজেক ভ্যালীতে (ইকো রিসোর্ট)
২য় দিন :
সকালে সূর্যোদয় দেখবো, সকালের নাস্তা করে রওনা হবো খাগড়াছড়ির উদ্দেশ্যে ।
দুপুরের আহার আদিবাসী রেস্তোরাঁয় । সারা দিন ঘোরাঘুরি করে রাতের আহার শেষ করে রওনা করবো ঢাকার পথে ।
খাবার মেন্যু :
সকালের নাস্তা ডিম+ সবজি +পরটা +চা অথবা খিচুরি+ডিম ভুনা 
দুপুরের আহার -মুরগীর মাংস /মাছ+সবজি +ডাল +সাদা ভাত 
রাতের আহার - মুরগীর মাংস/মাছ +সবজি +ডাল+সাদা ভাত
যা যা দেখবো :
সাজেক ভ্যালী, কংলাক পাড়া, দিঘিনালা বন বিহার, রিছাং ঝরনা, আলুটিলা রহস্যময় গুহা,.সাকংসস নগর বৌদ্ধ মন্দ ,.ঝুলন্ত ব্রীজ( জেলা পরিষদের পার্ক )
খরচের অন্তভুর্ক্ত :
* ঢাকা -খাগড়াছড়ি-ঢাকা ননএসি বাস
* অভ্যন্তরীন পরিবহন (খাগড়াছড়ি -সাজেক -খাগড়াছড়ি)
* ৬ বেলা খাবার( ২ ব্রেকফাস্ট, ২ দুপুরের আহার, ২ বেলা রাতের খাবার) 
* রির্সোটে রাত যাপন
* আসা -যাওয়ার পথে হোটেলে ফ্রেস হওয়া( গ্রুপ রুম)
* প্রবেশ ফি
*এছাড়া সব ধরনের লোকাল ট্রান্সপোর্ট সুবিধাও পাচ্ছেন । 
======বুকিং পলিসি======
আমাদের এখানে আপনি ২ ভাবে বুকিং দিতে পারবেন ।
বুকিং কনফার্ম করতে জনপ্রতি ন্যুনতম ২,৫০০ টাকা জমা দিতে হবে নিম্নোক্ত ব্র্যাক ব্যাংক একাউন্ট অথবা বিকাশ এঃ
ব্রাক ব্যাংক:
Brac Bank Account Name : Tour.com.bd
Brac Bank Account Number : 1512203027806001
বিকাশ নাম্বার: ০১৮১১৪৮০৮২৬ (Personal)
টাকা জমা দেয়ার পর অবশ্যই নিচের নাম্বারে যোগাযোগ করে আপনার নাম, মোবাইল নাম্বার জানিয়ে দেবেন।
** বুকিং এর জন্য কল করুন : ০১৮১১৪৮০৮৩৩, ০১৮১১৪৮০৮৩২
======শিশু পলিসি======
০-৩ বছর : কোন খরচ লাগবেনা (বাবা মার সাথে থাকবে, বাসে বাবা মার সাথে বসবে, আলাদা খাবার পাবেনা )
৪-১০ বছর : ৫,০০০ টাকা জনপ্রতি (বাসে আলাদা সীট, বাবা মার সাথে থাকবে হোটেলে, আলাদা খাবার পাবে )
======কাপল পলিসি=======
কাপলদের জন্য সাজেকে থাকার আলাদা কোন বাবস্থা নেই। যদি সম্ভব হয় তবে আলাদা রুম দেয়া হবে, না হলে অন্যদের সাথে রুম শেয়ার করতে হবে । তবে খাগড়াছড়িতে থাকতে চাইলে কাপল রুম দেয়া যাবে ।


** যা যা সঙ্গে রাখবেন :
-যথাসম্ভব হালকা ব্যাকপ্যাকে ৩ দিন এর ভ্রমন উপযোগী কাপড় চোপড় সাথে নিতে হবে।
-রোঁদ বৃষ্টির সতর্কতা স্বরূপ লুঙ্গী, গামছা, সানগ্লাস, ক্যাপ ও ছাতা ( মোবাইল, ক্যামেরা বৃষ্টির হাত থেকে বাচানোর জন্য পলিথিন) সাথে নিবেন।
সতর্কতাসমুহঃ
-যেহেতু সাজেক পাহাড়ি এলাকা তাই কিছুটা অসুবিধা হতে পারে, সবকিছু আপনার মনের মত নাও হতে পারে । তাই সবকিছু মেনে নেবার মনমানসিকতা থাকাটা অত্যন্ত জরুরি এবং যেকোনো প্রয়োজন বা অসুবিধার বিষয়ে দলনেতার সাথে কথা বলে নিবেন। ভ্রমণ সঙ্গীদের সাথে যথা সম্ভব ভাল আচরন করবেন, সব থেকে ভাল হয় যদি বন্ধুত্ব করে ফেলতে পারেন। এতে আপনার ভ্রমনটাই আনন্দদায়ক হয়ে উঠবে ।
-স্থানীয়দের (উপজাতিদের) সাথে কোনো প্রকার ঝামেলায় নিজেকে জড়াবেন না ।
-সাজেকে গ্রামীণ ফোন, বাংলালিংক ও এয়ারটেল এর নেটওয়ার্ক নাই বিধায় আপনার ফোন টা যদি সচল রাখতে চান তাহলে রবি অথবা টেলিটকের সিম সাথে রাখবেন।
-সর্বোপরি সবচেয়ে জরুরি হল পাহাড়ি পরিবেশের সাথে নিজেকে মানিয়ে নেয়ার এবং একটা ভ্রমন পিপাসু মন মানসিকতা থাকতে হবে। 

Visit our web site for excellent packages http://tour.com.bd/tours/listing?

Visit Us on Facebook https://www.facebook.com/tour.com.bd/

You might like