যেখানে দিগন্তের কাছে দিনের শেষে সূর্য মুখ লুকায় নীল হৃদয়ের রাজ্যে 18/07/2016



যেখানে দিগন্তের কাছে দিনের শেষে সূর্য মুখ লুকায় নীল হৃদয়ের রাজ্যে, হঠাৎ যেখানে কানে বেজে ওঠে উত্তাল সমুদ্রের সুর মাখানো মাঝি মল্লারদের গান, যেখানে মেশানো থাকে অসীম মায়া, যায় ছুটে সেখানে আমার হিয়া । সারি সারি ঝাউবন, বালুর নরম বিছানায় সাদা মেঘের ছায়া, তারই  সামনে পড়ে রয়েছে বিশাল সমুদ্রের হাতছানি ।

বিশালতার মাঝে নিজেকে খুজে ফেরার তাড়নায় উৎকন্ঠিত আর সারি সারি ঝাউ বনের ফাকে তপ্ত রোদে গরম বালুর পরশ। সব মিলিয়ে এক অনাবিল,অন্যরকম মোহ কাজ করে নিজের মাঝে। ছুটিতে বেড়িয়ে আসার জন্য পৃথিবীর সর্ববৃহৎ সমুদ্রসৈকত কক্সবাজারের তুলনা হয় না।  

কক্সবাজার গেলে সকাল-বিকাল সমুদ্রতীরে বেড়াতে মন চাইবে। আর রয়েছে নীল জলরাশির গর্জন। মহেশখালী, কুতুবদিয়া, সোনাদিয়া, শাহপরী, সেন্টমার্টিন কক্সবাজারকে করেছে দৃষ্টিনন্দন ও আকর্ষণীয়। এ জেলার ওপর দিয়ে বয়ে গেছে মাতা মুহুরী, বাঁকখালী, রেজু, কুহেলিয়া ও নাফ নদী। পর্যটন, বনজসম্পদ, মৎস্য, শুঁটকি, শামুক, ঝিনুক ও সিলিকাসমৃদ্ধ বালুর জন্য কক্সবাজারের অবস্থান তাই ভ্রমণবিলাসী পর্যটকদের কাছে সবার শীর্ষে।

হিমছড়ি ও ইনানী বিচ কক্সবাজারের অন্যতম পর্যটন আকর্ষণ কেন্দ্র । পর্যটকেরা তাই কক্সবাজারে এলে এই ২ টি স্থান ঘুরে যেতে ভোলেন না । কক্সবাজারের ১২ থেকে ২২  কিলোমিটার দূরত্বের মধ্যে রয়েছে এ দুটি আকর্ষণীয় পর্যটন স্থান। যারা ঢাকা থেকে সরাসরি কক্সবাজার যেতে চান তারা ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম হয়ে কক্সবাজার অথবা সরাসরি বাসে কক্সবাজারে যেতে পারেন। এসি ও নন এসি, ডিলাক্স ও সাধারণ বাস সরাসরি পরিবহনের ভাড়া পড়বে ৩৯০-৭৩০ টাকা পর্যন্ত। বিচ কক্সবাজারে রয়েছে আন্তর্জাতিক মানের বেশকটি হোটেল, রিসোর্ট ও মোটেল। সর্বনিম্ন ৫০০ টাকা থেকে সর্বোচ্চ সাত হাজার টাকায় কক্সবাজারে রাতযাপন করা যায়। অন্যান্য হোটেল রেস্ট হাউসের ভাড়া প্রায় নির্ধারিত।

একসময় হলুদ ফুলে ছেয়ে ছিল গোটা কক্সবাজার। তাই নাম হয়ে ছিল এর প্যানোয়া যার অর্থ-হলুদ ফুল। হলুদ ফুলে ঝকমক করত তাই পরবর্তীতে নাম হয় পালংকী।

স্থানীয় বাসিন্দারা এই সমুদ্র সৈকতের সৌন্দর্য সম্পর্কে ছিলেন উদাসীন। ব্রিটিশ শাসনামলে একজন ইংরেজ ক্যাপ্টেন হিরাম কক্স অষ্টাদশ শতকে পালতোলা কাঠের জাহাজে করে এখানে এসে নামেন।* ১৭৯৯ সালে তিনি এখানে একটি বাজার স্থাপন করেন। পরবর্তীতে হিরাম কক্সের নামানুসারেই এলাকাটির নামকরণ করা হয় কক্সবাজার নামে।

বিট্রিশদের দেখানো সুন্দর্য্যে আস্তে আস্তে এটি হয়ে উঠে সুন্দরের লীলাভূমি।

মহেশখালী, কুতুবদিয়া, সোনাদিয়া, মাতার বাড়ি, শাহপরী, সেন্টমার্টিন, কক্সবাজারকে করেছে আরো আকর্ষণীয় ও দৃষ্টিনন্দন। এ জেলার উপর দিয়ে বয়ে গেছে মাতা মুহুরী, বাঁকখালী, রেজু, কুহেলিয়অ ও নাফ নদী। পর্যটন, বনজসম্পদ, মৎস্য, শুটকিমাছ, শামুক, ঝিনুক ও সিলিকাসমৃদ্ধ বালুর জন্য কক্সবাজারের অবস্থান তাই ভ্রমণবিলাসী পর্যটকদের কাছে সবার শীর্ষে।

তবে কক্সবাজার ভ্রমণের আগে ফোনে যোগাযোগ করে বুকিংমানি পাঠিয়ে আবাসন ব্যবস্থা নিশ্চিত করাই বুদ্ধিমানের কাজ হবে।

সেন্টমার্টিন :

এ ছাড়া আপনি চাইলে বেড়াতে যেতে পারেন পৃথিবীর বৃহত্তম প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিন।  আকাশের নীল আর সমুদ্রের নীল সেখানে মিলেমিশে একাকার। তীরে বাঁধা নৌকা, নান্দনিক নারিকেল গাছের সারি আর ঢেউয়ের ছন্দে মৃদু পবনের কোমল স্পর্শ- এটি বাংলাদেশের সেন্টমার্টিন প্রবাল দ্বীপ।

বাংলাদেশের যে কোনো স্থান থেকে সেন্টমার্টিন যাওয়ার জন্য আপনাকে প্রথমে যেতে হবে কক্সবাজার। কক্সবাজার থেকে প্রথমে জিপে চড়ে টেকনাফ, টেকনাফ থেকে সি-ট্রাক, জাহাজ কিংবা ট্রলারে চড়ে পৌঁছবেন সেন্টমার্টিন।

কোথায় থাকবেন?

থাকার জন্য বেশ উন্নতমানের কয়েকটি হোটেল ও কটেজ রয়েছে। এছাড়া আরও আছে বিচ ক্যাম্প। এখানে থাকার জন্য আপনি নিম্ন মানের হোটেলও পাবেন কিন্তু সেগুলোতে না থাকাই ভালো বিশেষ করে মেয়েদের জন্য ।   সেন্টমার্টিন এ বিখ্যাত বার্মিজ আচার এবং অন্যান্য পণ্য সামগ্রী পাওয়া যায় । 

Visit Our Web Site for Excellent Tour packages http://tour.com.bd/tours