দেখে আসুন রয়াল ডিস্ট্রিক্ট নোয়াখালীর দর্শনীয় স্থান 27/06/2016



নোয়াখালী শব্দটা শুনলে আমার মনে পড়ে যায় আশির দশকে মোহাম্মদ হাশেমের গাওয়া নোয়াখালীর আঞ্চলিক গান ‘‘ আঙ্গো বাই নোয়াখালি রয়্যাল ডিস্টিক্ট ভাই’’ একজন বড় কাউকে জিজ্ঞেস করেছিলাম রয়াল ডিস্টিক্ট মানে কি? তিনি এর ব্যাখায় বলেছিলেন রয়াল ডিস্ট্রিক্ট মানে হলো ‘‘ যে জেলায় সব কিছু পাওয়া যায়’’ তখন অতোশত বুঝিনি। রাজকীয় জেলার মর্যাদা কি?

নদীগর্ভে মূল শহর বিলীন হয়ে গেলে ১৯৫০ সালে জেলার সদর দপ্তর  মাইজদীতে স্থানান্তর করা হয়।  নোয়াখালী জেলার প্রাচীন নাম ছিল ভুলুয়া। এখনো পুরনো কাগজ পত্রে ভুলুয়া পেরগনার উল্লেখ পাওয়া যায়। ১৬৬০ সালে এখানকার কৃষি উন্নয়নের জন্য বিশাল খাল খনন করা হয়, এরপর এই এলাকা নতুনখাল বা নোয়াখাল থেকে  "নোয়াখালী" হিসাবে পরিচিতি লাভ করতে শুরু করে ।

নিঝুম এক দ্বীপের কথা

নিঝুম দ্বীপ : বঙ্গোপসাগরের কোলো জেগে ওঠা এক নিঝুম অঞ্চল। প্রথমে স্থানীয় জেলেরা দ্বীপটি আবিষ্কার করে।  শীতকালে এখানে হাজার হাজার অতিথি পাখির সমাবেশ ঘটে। জেলেদের ধরা নানারকম মাছ শুকানোর জন্য এটি একটি আদর্শ স্থান হিসেবে ব্যবহারহয়। বাংলাদেশ সরকারের বন বিভাগ নিঝুম দ্বীপে উপকূলীয় বনাঞ্চল গড়ে তুলেছে। এখানে বনবিভাগের একটি বাংলোও রয়েছে।এখানকার বন এলাকায় প্রায় পাঁচ হাজারের বেশী চিত্রা হরিণ আছে। গাছগাছালির মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য গাছ কেওড়া, যা স্থানীয়ভাবে কেরফা নামে পরিচিত। মূলত দ্বীপের দুই প্রান্তে রয়েছে দুইটি লোকালয়। নিঝুম দ্বীপ নোয়াখালী হাতিয়া উপজেলার জাহাজমারা ইউনিয়েনের একটি ওয়ার্ড মাত্র। কিন্তু এর লোকসংখ্যা দিন দিন বেড়ে চলেছে। পাশাপাশি পর্যটক বেড়ে যাওয়ার কারণে এখানে জিনিসপত্রের দামও বাড়ছে। বন্দরটিলা নামক এলাকাটা মূলত পর্যটন এলাকা হিসেবে চিহ্নিত এখানে আছে একটি পুলিশ ক্যাম্প, বনবিভাগের একটি বাংলা, এবং সাম্পতিক কালের একটি বেসরকারি গেস্ট হাউস। এখানকার বাজারে সব দ্রব্যাদি কিনতে পাওয়া যায়। শীতের দিনে এখানকার খেজুরের গুড়ে ভাজা জিলাপীর স্বাধ অসাধারণ।২০০১ সালে বাংলাদেশ সরকার নিঝুম দ্বীপের বনাঞ্চলকে জাতীয় উদ্যান ঘোষণা করেছে।
ঢাকার সদরঘাট থেকে প্রতিদিন  হাতিয়ার উদ্দেশে লঞ্চ ছাড়ে সন্ধ্যা ৬টায়। নিঝুম দ্বীপে পর্যটকদের থাকার জন্য অবকাশ পর্যটন নির্মাণ করেছে বন বিভাগের বাংলো ছাড়াও নিঝুম রিসোর্ট  এবং নামার বাজার মসজিদ কতৃপক্ষ নির্মাণ করেছে মসজিদ বোর্ডিং।  

একজন বীরশ্রেষ্ঠ মোহাম্মদ রুহুল আমীন ও তার স্মৃতিচিহ্ন


মোহাম্মদ রুহুল আমিন ১৯৩৫ সালে নোয়াখালী জেলার সোনাইমুড়ি উপজেলার বাঘপাঁচড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা আজহার পাটোয়ারী এবং মায়ের নাম জোলেখা খাতুন। তিনি ছিলেন বাবা মায়ের প্রথম সন্তান। তাঁরা ছিলেন ছয় ভাইবোন। তিনি বাঘচাপড়া প্রাইমারী স্কুলে পড়াশোনা শেষ করে আমিষাপাড়া হাই স্কুলে ভর্তি হন। এখান থেকে এসএসসি পাশ করে ১৯৫৩ সালে জুনিয়র মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার হিসাবে পাকিস্তান নৌ-বাহিনীতে যোগদান করেন।

ডিসেম্বর  ১৯৭১, মুক্তিবাহিনী যশোর সেনানিবাস দখলের পর 'পদ্মা', 'পলাশ'  নামে দুটি জাহাজ এবং ভারতীয় মিত্রবাহিনীর একটি গানবোট 'পানভেল' খুলনার মংলা বন্দরে পাকিস্তানি নৌ-ঘাটিঁ পি.এন.এস. তিতুমীর দখলের উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ-এ প্রবেশ করে। ১০ ডিসেম্বর দুপুর ১২ টার দিকে গানবোটগুলো খুলনা শিপইয়ার্ডের কাছে এলে অনেক উচুঁতে তিনটি জঙ্গি বিমানকে উড়তে দেখা যায়। শত্রুর বিমান অনুধাবন করে পদ্মা ও পলাশ থেকে গুলি করার অনুমতি চাওয়া হয়। কিন্তু অভিযানের ক্যাপ্টেন মনেন্দ্রনাথ ভারতীয় বিমান মনে করে গুলিবর্ষণ থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেন। এর কিছুক্ষণ পরে বিমানগুলো অপ্রত্যাশিত ভাবে নিচে নেমে আসে এবং আচমকা গুলিবর্ষণ শুরু করে। প্রথম গোলা এসে পড়ে 'পদ্মা'য় এবং পরবর্তীতে 'পলাশে'। গোলা সরাসরি 'পদ্মা' এর ইঞ্জিন রুমে আঘাত করে ইঞ্জিন বিধ্বস্ত করে। হতাহত হয় অনেক নাবিক। 'পদ্মা'-র পরিণতিতে পলাশের অধিনায়ক লে. কমান্ডার রায় চৌধুরী নাবিকদের জাহাজ ত্যাগের নির্দেশ দেন। রুহুল আমিন  তার বিমান আক্রমন না করার সিদ্ধান্তে  ক্ষিপ্ত হন এবং তিনি উপস্থিত সবাইকে যুদ্ধ বন্ধ না করার আহ্বান করেন। কামানের ক্রুদের বিমানের দিকে গুলি ছুড়ঁতে বলে ইঞ্জিন রুমে ফিরে আসেন। কিন্তু অভিযানের ভারতীয় অধিনায়কের আদেশ অমান্য করে তারা বিমানগুলোকে চ্যালেঞ্জ করেনি। এই সুযোগে বিমানগুলো উপূর্যপুরি বোমাবর্ষণ করতে থাকে। এতে পলাশের ইঞ্জিনরুম  বিকল হয়ে আগুণ ধরে যায়  তখনো অসীম সাহসী রুহুল আমীন একাই তিনটি যুদ্ধ বিমানের সাথে প্রতিরোধ চালিয়ে যাছ্ছিলেন। একপর্যায়ে শত্রুর গোলার আঘাতে রুহুল আমিনের ডান হাতটি সম্পূর্ণ উড়ে যায়। অবশেষে পলাশের ধ্বংশাবশেষ পিছে ফেলেই আহত রুহুল আমিন ঝাঁপিয়ে পড়েন রূপসা নদীতে। প্রাণশক্তি-তে ভরপুর এ যোদ্ধা এক হাতে সাতার কেটে মারাত্মক রক্তক্ষরণকে উপেক্ষা করে একসময় পাড়ে-ও এসে পৌছান। কিন্তু ততক্ষণে সেখানে ঘৃণ্য রাজাকারের দল অপেক্ষা করছে তার জন্য। আহত এই বীর সন্তান কে তারা বেয়নেট দিয়ে খুঁচিয়ে হত্যা করে রূপসা-র পাড়ে-ই।তিনি শহীদ হলেন।  তাঁর বিকৃত মৃতদেহ বেশকিছুদিন সেখানে পড়ে ছিলো অযত্নে, অবহেলায়। পরবর্তীতে স্থানীয় জনসাধারণ বাগমারা গ্রামে রূপসা নদীর পাড়ে তাঁকে দাফন করে এবং সেখান একটি স্মৃতিস্তম্ভ নির্মান করা হয়। আর তার গ্রামের বাড়ীতে নির্মাণ করা হয় স্মৃতি জাদুঘর ও পাঠাগার। (উইকি পিডিয়া থেকে)

নোয়াখালী শহর থেকে ২০ কিলোমিটার দূরে সোনাইমুড়ী উপজেলা। সেখান থেকে সাত কিলোমিটার পশ্চিমে বাগপাঁচড়া গ্রামকে লোকজন আমিননগর নামেই চেনে। ২০ জুলাই ২০০৮ সালে এখানে রুহুল আমিন গ্রন্থাগার ও স্মৃতি জাদুঘর স্থাপন করা হয়। ঢাকা থেকে চৌমুহনি বা মাইজদির বাসে চৌমুহনী মাইজদি বা চৌরাস্তা থেকে সিএনজি বা বাসে যাওয়া যাবে সোনাইমুড়ি। চাইলে সোনাইমুড়ি থেকে রিক্সা নিয়ে যাওয়া যায় বাগপাঁচড়া গ্রামে।

 

গান্ধী আশ্রম

গান্ধী আশ্রম নোয়াখালীর একটি দর্শনীয় ঐতিহাসিক নিদর্শন। ১৯৪৬- এরশেষভাগে সারা ভারতবর্ষের সাম্প্রদায়িকতার বিষবাষ্প ছড়িয়ে পড়ে। তখনপশ্চিমবঙ্গের সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার প্রভাব এসে পড়ল নোয়াখালীতে। এজন্য এখানে আগমন করে মহাত্মা গান্ধী। নোয়াখালী জেলা সদর মাইজদী কোর্ট হতে প্রায় ২৫ কিঃমিঃ উত্তরে সোনামুড়ী উপজেলার জয়াগ বাজারের কাছে অবস্থিত। তৎকালীন জমিদার  ব্যারিস্টার হেমন্ত কুমার ঘোষের বাড়িতে উক্ত গান্ধী আশ্রম প্রতিষ্ঠিত হয়।

চৌমুহনি বা মাইজদী বা চৌরাস্তা থেকে সোনাইমুড়ি হয়ে জয়াগ বাজার।

বজরা শাহী মসজিদ

নোয়াখালী জেলার অন্যন্য কৃতি এই বজরা শাহী মসজিদ। জমিদার আমান উল্যাহ্ তাঁর বাড়ীর সামনেই ৩০ একর দিঘীর পশ্চিমে ৩ গম্বুজ বিশিষ্ট প্রায় ১১৬ ফুটদৈর্ঘ্য ৭৪ ফুট প্রস্থ এবং প্রায় ২০ ফুট উঁচু দিল্লীরবিখ্যাত জামে মসজিদের  ১৭৪১ সালে এই বজরাশাহী মসজিদ নির্মাণ করেন যা আজও মোগল স্থাপত্য শিল্পের এক অনন্য নিদর্শনহিসেবে দেশী-বিদেশী পর্যটকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে আসছে। মোগলসম্রাট মোহাম্মদ শাহের বিশেষ অনুরোধে পবিত্র মক্কা শরীফের বাসিন্দাতৎকালীন অন্যতম বুজুর্গ আলেম হযরত মাওলানা শাহ আবু সিদ্দিকী এ ঐতিহাসিকমসজিদের প্রথম ইমাম হিসেবে নিয়োজিত হন। তাঁর বংশধরগণ যোগ্যতা অনুসারে আজো এ মসজিদের ইমামের দায়িত্ব পালন করে আসছেন।সুদৃশ্য মার্বেল পাথর দ্বারা গম্বুজগুলো সুশোভিত করা হয়। মসজিদে প্রবেশের জন্য রয়েছে ৩টি ধনুকাকৃতি ।

জেলা শহর থেকে সোনাইমুড়ী গামী যেকোন লোকাল বাস সার্ভিস/ সিএনজি অটোরিক্সাযোগে বজরা হাসপাতালের সম্মুখে নেমে রিক্সা বা পায়ে হেঁটে ২০০ গজ পশ্চিমে গেলে বজরা শাহী মসজিদে পৌঁছা যাবে।

মুসাপুর বেড়ীবাঁধ:

কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা হেডকোয়াটার থেকে আনুমানিক ২০ কিলোমিটার দূরে বাংলাবাজার পার হয়ে মুছাপুর বেড়িবাঁধ, স্লুইসগেট, নদী, কৃত্রিমবন এবং গ্রামীণপটভূম মিলে এক সুন্দর নয়নাভিরাম ল্যান্ডস্ক্যাপ চোখে পড়ে।জায়গাটা সাধারণ, ধান নদী, খাল ঝোপজাতীয় বন। দূরে আকাশের গায়ে হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যাবে চট্টগ্রামের মিরশ্বরাইতে অবস্থিত ছোট ছোট পাহাড়ের সারি।

নোয়াখালী জেলার কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা সদর বসুরহাট থেকে বাসে বাংলাবাজার যাওয়া যায়, সেখান থেকে রিক্সা বা সিএনজিতে বেড়িবাঁধ। বসুরহাট থেকেও সিএনজি রিজার্ভ করে যেতে পারেন।

নোয়াখালীর মেলা

নলদিয়া দরগাহ মেলা: ইয়ামেন থেকে আগত আধ্যাত্মিক পুরুষ দেওয়ান ফকির আবদুর রশিদ (রহ.) এর ওফাত দিবস উপলক্ষে  ফেনী  ও নোয়াখালী জেলার মিলনস্থল দাগনভূঞা উপজেলার ইয়াকুবপুরে দীর্ঘদিন ধরে বছরের ১ মাঘ থেকে সপ্তাহব্যাপি এ মেলার আয়োজন হয়ে আসছেএকসময়এ মেলায় প্রতিদিন লক্ষ লক্ষ লোকের সমাগম ঘটতো। শত বছরের ঐতিহ্যবাহী এ মেলা গত কয়েক বছর যাবত বিভিন্ন কারনে ভাটার মধ্যে রয়েছে। ফেনী-নোয়াখালীর বিখ্যাত হোটেলগুলো এসে এ মেলাকে যেমন আলোকিত করতো তেমনি যাত্রা, সার্কেস, নাগরদোলা, শিশুদের পুতুল নাচ, খেলনা দোকান, সাগরের বড় বড় মাছ এবং ঐতিহাসিক কাঠের ফার্ণিচার এ মেলার প্রধান বাণিজ্য ছিল। সরকারী দস্তাবেজ অনুসারে ১৯২৩ সালে এই মেলার কথা উঠে আসলেও বয়স্ক লোকেরা বলেন তারা তাদের বাপ দাদার কাছেও এই মেলার কথা শুনেছেন। এই মেলায় পাওয়া যেতনা এমনকোনো পন্য নেই। আশপাশের এলাকার মানুষের জীবনের অংশ এই মেলা। মেলার সময় বউরা বাপের বাড়ী থেকে স্বামীর বাড়ী চলে আসে। আর এলাকার ঝিয়েরা চলে আসে বাপের বাড়ীতে। জামাই বেড়াতে যায় মেলা থেকে বড়ো মাছটি নিয়ে শ্বশুরবাড়ী আর মেয়েজামাইবাড়ীতে মেলার ফল মিষ্টি পাঠানো ছিলো এলাকার রেওয়াজ। বিগত কয়েক বছর ধরে কাঠের ফার্নিচার ক্রয় বিক্রয়ের জন্য এই মেলা দেশব্যাপী প্রসিদ্ধি লাভ করেছে।

ঢাকা থেকে বসুরহাটগামী ড্রিমলাইন বাসে উঠতে হবে। নামতে হবে বসুরহাটের আগে দুধমুখা বাজারে। বাসভাড়া ২৭০-২৮০ টাকা। এখান থেকে নিএনজিতে বা রিক্সায় যাওয়া যায়। রিক্সাভাড়া ২০ টাকা। এখানে মেলার সময় ভিড় হলেও অনেকে মাজারেও যায়।


আমতলী মেলাঃ

পাকিস্তান আমলের প্রথম দিকে একটি কৃষি মেলার আয়োজন থেকে এই মেলার শুরু। বাংলা মাঘ মাসের ৫-১০ তারিখ পাঁচ দিনব্যাপী এই মেলা অনুষ্ঠিত হয়।মেলার পাশে বিশাল আকারের একটি আমগাছ ছিল বিধায় মেলার নামকরণ করা হয় আমতলী কৃষি প্রদশনী মেলা। পরে এটি একটি বহুমাত্রিক মেলায় পরিণত হয়। ঘোড় দৌড়, বায়োস্কোপ, পুতুল নাচ ছিল এই মেলার বিশেষ আকর্ষণ। বর্তমানে নাগরদোলা, সার্কাস, মোটর রেস ইত্যাদি নানা বিনোদন আয়োজন থাকে। আগে যাত্রাপালা হলেও এখন তা একরকম উঠে গেছে।

চৌমুহনি বা বেগমগঞ্জ থেকে সিএনজি বা বাসে মেলায় যাওয়া যায়। তবে যে কেউ যেকোনো মেলায় যাওয়ার জন্য। নির্দিষ্ট তারিখে মেলা অনুষ্ঠিত হচ্ছে কিনা আগেই খোজ খবর নিয়ে যাবেন।


সেনবাগ এর ভূঞার দিঘী:

জেলার সেনবাগ থানায় মহাসড়কের পাশে কেশারপাড়িইউনিয়নে একটি মাঝার সংলঘ্ন এই দিঘী। চারপাশ উঁচু চলাচলের রাস্তা এই দিঘীতে একসময় লোকেরা বিভিন্ন মানত করে গোসল করতো। তার পাশ্ববতী মোহাম্মপুর ইউনিয়নে রয়েছে কাকু দরবেশের মাজার , মতিমিয়ার হাট এলাকায় রয়েছে কাদরার কিল্লা,  আছে  বীরকোটের বীরের মুর্তি কুশাগাজীর মসজিদ প্রাচীন কীর্তি, কল্যান্দি বাজারের পাশে ধ্বংসপ্রাপ্ত ইংরেজকুঠি।

ফেনী থেকে নোয়াখালী গামী বাসে সেনবাগ রাস্তার মাথার আগেই মোহাম্মদপুর ইউনিয়নে অবস্থিত। ভূঞার দিঘীর পাড় বললেই বাস থেকে নামা যাবে।

যথেষ্ট শক্তিশালী এবং সমৃদ্ধ নোয়াখালীর লোকসাহিত্য। এখানকার পালাগান, সৎভাই, আপনদুলাল, বান্দরের কিচ্চা, সয়ফুল মুলুক বদিউজ্জামান, কানির কিচ্চা খুবই সমৃদ্ধ। এসব ক্রমশ হারিয়ে যাচ্ছে জানি না আদৌ এসব উদ্ধার করা যাবে কিনা। রাখালী পত্রিকা এবং ফোকলেন বাংলাদেশ এর পক্ষ থেকে বেশ কয়েকবার এসব উদ্ধার করার উদ্বেগ নিয়েছি কিন্তু পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে সেটা সম্ভব হয়নি।

বর্তমানে নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ, সদর, পূর্বাঞ্চল, সুবর্নচর, সোনাপুর এসব এলাকায় নতুন সেনানিবাস, বিশ্ববিদ্যালয় ও অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা হওয়ার মাধ্যমে কৃষিভিত্তিক খামার প্রতিষ্ঠা, পর্যটন ও কাঠামোগত উন্নয়ন ত্বরান্বিত হচ্ছে।  

লেখা: জাহাঙ্গীর আলম শোভন: ছবি: সংগ্রহ

You might like