কলকাতা থেকে ঢাকা এবার যেতে পারবেন লাক্সারি ক্রুজে 23/06/2016



পর্যটকদের জন্য সুখবর। কিছু দিনের মধ্যেই শুরু হতে চলেছে কলকাতা-ঢাকা লাক্সারি ক্রুজ সার্ভিস। বিশেষ এই পরিষেবা চালু করার লক্ষ্যে চুক্তি সম্পাদনের পথে ভারত ও বাংলাদেশ সরকার।

ভারতীয় জাহাজ মন্ত্রকের অধীনে অন্তর্দেশীয় জলপথ পরিবহণ নিগমের সহকারী অধিকর্তা অরবিন্দ কুমার জানিয়েছেন, 'বর্তমানে দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের জেরে সীমান্ত পেরিয়ে মালবাহী জাহাজ চলাচল করে। কিন্তু অদূর ভবিষ্যতে জলপথে যাত্রী পরিবহণ পরিষেবা চালু করতে চুক্তি সাক্ষর হওয়ার কথা চলেছে।' সূত্রে খবর, এই বিষয়ে চূড়ান্ত আলোচনা চলেছে এবং সব কিছু ঠিকঠাক থাকলে চলতি বছরের শেষ থেকেই এই পরিষেবা চালু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। জানা গিয়েছে, ভারতের তরফে অভ্যন্তরীণ জলপথ পরিবহণ নিগম এবং বাংলাদেশের পক্ষে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ জলপথ পরিবহণ কর্পোরেশন বিষয়টি দেখাশোনা করবে।

উল্লেখ্য, কলকাতা থেকে ঢাকা যেতে এই মুহূর্তে পর্যটকরা বাস, রেল বা বিমানে যাতায়াত করে থাকেন। দুই দেশের মধ্যে কয়লা ও ফ্লাই অ্যাশ নিয়ে পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল করে। জানা গিয়েছে, জলপথে ৯০০ কিমি পাড়ি দিয়ে কলকাতা থেকে ঢাকা পৌঁছতে সময় লাগবে ১৪ দিন।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, পর্যটকদের প্রথমে নদিয়ার শান্তিপুরে তাঁত শিল্পীদের কাজ দেখাতে নিয়ে যাওয়া হবে। পথে যেতে পড়বে দক্ষিণেশ্বর মন্দির, চন্দন নগর, ব্যান্ডেলের মতো দ্রষ্টব্যস্থান। শান্তিপুর থেকে মুখ ঘুরিয়ে পর্যটন জাহাজ সুন্দরবনের ভারতীয় অংশের উদ্দেশে যাত্রা করবে। এরপর হেমনগরে সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করবেন পর্যটকরা। সেখান থেকে জাহাজ পৌঁছবে বাংলাদেশি সুন্দরবনের মংলায়। পর্যটকদের নিয়ে যাওয়া হবে সোনারগাঁও ও চাঁদপুরের প্রাচীন মত্‍স্যবন্দর আটঘর খুরিয়ানায়। এখানে মিলবে সেরা মানের ইলিশ।

ভারতীয় অন্তর্বর্তী জলপথ পরিবহণ নিগমের এক কর্তা জানিয়েছেন, 'এখনও পর্যন্ত এই জলপথ ভ্রমণের ভাড়া নির্দিষ্ট হয়নি। তবে বিলাসবহুল ক্রুজ হিসেবে খরচের পরিমাণ কিছুটা বেশি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।'