ভ্রমণ হবে বৃষ্টিতে 04/06/2016



বৃষ্টির দিন বলতেই আমরা ধরে নিই কাদা, পানি, স্যাঁতস্যাঁতে অবস্থা। এর মধ্যে আবার বেড়ানো? ছাদে গিয়ে বৃষ্টিতে ভেজা পর্যন্ত ঠিক আছে। কিন্তু দূরে কোথাও ভ্রমণের কথা মাথায়ই আসে না আমাদের। অথচ আপনি জানেন কি, কিছু জায়গা রয়েছে এমন যার রূপ খোলে বর্ষাতেই? গ্রীষ্ম বা শীতে শুকিয়ে কাঠ, কিন্তু বর্ষা এলেই প্রাণ ফিরে পায় জায়গাগুলো।
 
আমাদের দেশের উত্তর থেকে দক্ষিণে সমগ্রটাই সবুজে সেজে ওঠে বর্ষায়। ঝর্ণা, জলপ্রপাত, বন সবই যেন নেচে ওঠে আনন্দে। তাই আসছে বর্ষায় ব্যাগ গুছিয়ে নেমে পড়ুন ভ্রমণে। তার আগে জেনে নিন, কোথায় কোথায় গেলে সবচেয়ে উপভোগ্য হবে আপনার বৃষ্টিবিলাস!
 
১। বিছানাকান্দি
ছবি দেখেই নিশ্চই আন্দাজ করতে পারছেন বিছানাকান্দির রূপ। কয়েক বছরে বেশ জনপ্রিয় হয়েছে জায়গাটি। তবে বর্ষা ছাড়া অন্য ঋতুতে গেলে হতাশ হতে হবে আপনাকে। বিছানাকান্দি ভারত এবং বাংলাদেশের বর্ডার এলাকায় অবস্থিত। প্রায় ১০০ গজ দূরে থাকা লাল পতাকাগুলোর সারি জানান দেয় যে ওপাশেই ভারত। এখান থেকে সহজেই ভারতীয় জলপ্রপাত গুলো দেখা যায় যা থেকে পানি বয়ে আসে বিছানাকান্দি পর্যন্ত। পাথর, পানি, পাহাড় আর আকাশ। পা ডুবিয়ে বসে থাকতে থাকতে মনে হয়, জীবনে বোধ হয় আর কিছু চাওয়ার নেই। তবে ভীড় এড়াতে ছুটির দিনগুলোয় না যাওয়াই ভাল।
 
২। রাতারগুল
রাতারগুল বাংলাদেশের একমাত্র সোয়াম্প ফরেস্ট বা জলাবন। উত্তরে মেঘালয় থেকে নেমে আসা স্রোতস্বিনী গোয়াইন নদী, দক্ষিণে বিশাল হাওর। মাঝখানে রাতারগুল। বর্ষায় বনে পানি থাকে, অন্য সময় শুকিয়ে যায়। তাই রাতারগুলের রূপ অবলোকন করতে হলে বর্ষাই শ্রেষ্ঠ সময়। এ সময় ছোট নৌকায় করে ভেসে বেড়াতে পারবেন বনে। উপভোগ করতে পারবেন জলে বনের প্রতিবিম্ব। অসংখ্য নাম না জানা গাছের সমারোহ এখানে। একদম নীরব পরিবেশে ঘুরে বেড়ানোর সময় চোখে পড়বে বানর, সাপ সহ নানান রকম প্রাণী।
 
৩। হাম হাম ঝর্ণা
জলপতনের যে শব্দ স্হানীয় ভাষায় তার উচ্চারন - হাম হাম ।৭ হাজার ৯শ ৭০ একর আয়তনের রাজকান্দি সংরক্ষিত বনাঞ্চল -শ্রীমঙ্গলের কুরমা বন বিটের পাহাড়ের পশ্চিম প্রান্তে অবস্থিত ন্যাশনাল টি কোম্পানির চাম্পারায় চা বাগান আর পূর্ব-দক্ষিণে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের সীমান্তাঞ্চল। শ্রীমঙ্গল শহর থেকে প্রায় ৬০ কিলোমিটার পূর্ব দিকে দুর্গম পথের শেষে বনের মাঝে অবস্থিত এ জলপ্রপাতটি। বর্ষায় প্রচন্ড জলের ধারা মুগ্ধ করবে আপনাকে। অন্য ঋতুতে গেলেও হাম হাম দেখতে পাবেন। কিন্তু বর্ষার তুলনায় তা কিছুই নয়।
 
৪। জাফলং
পাহাড়, টলটলে স্বচ্ছ পানির ধারা আর পাথরের মিতালী জাফলং। ছবিতে যে ব্রীজটি দেখতে পাচ্ছেন এর নাম ডাউকি ব্রীজ। দুই পাহাড়ের মাঝে সংযোগ তৈরি করতে বানানো হয়েছে ব্রীজটি। জাফলং এর ঘন সবুজ বনাঞ্চল মুগ্ধ করবে আপনাকে। পাশেই আছে খাসিয়ে পল্লী, ঘুরে আসতে পারেন সেখান থেকেও।

 আপনি চাইলে আমাদের সিলেট প্যাকেজটি নিয়েও ঘুরে আসতে পারেন। আপনাদের জন্য লিংকটি দেয়া হলঃ http://tour.com.bd/tours/Sylhet-City-of-Tea-Estates

You might like