জ্যোস্না দেখার বেলা 18/05/2016



জ্যোস্না ভালোবাসেন না এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। আবার অনেকে আছেন জ্যোস্না বলতে পাগল।  আবার জ্যোস্না রাত মাঝে মাঝে যে কাউকে পাগল করে দেয়। তবে ঢাকা বা বড় শহরগুলোতে জোছনা দেখার সুযোগ কম। তবু চেষ্টা থাকলে কি না হয়। তবে ঢাকার কাছাকাছি রয়েছে জোছনা দেখার জন্য কয়েকটি স্থান। সময় পেলেই আপনি চলে যেতে পারেন। তাই আপনিও যেকোনো জোছনা রাতে বন্ধু বা প্রিয়তমাকে নিয়ে চলে যান নিচের যেকোনো জায়গায়

১. ঢাকার আগারগাঁওয়ে অবস্থিত শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস

 

ঢাকার সবচে সেরা স্থান এটি জোছনা দেখার জন্য। বঙ্গবন্ধু সম্মেলন কেন্দ্রের সামনে নেমে রিকশায় সোজা পশ্চিম দিকে রাস্তা। এখানকার কয়েকটি স্থান আছে :

দক্ষিণ দিকের গেট দিয়ে ঢুকে একেবারে উত্তর দিকে যেতে হবে। এরপর একটু পূর্ব দিকে এগোলেই একটা বড় পুকুর। এ পুকুরের জংলা ঘাটটায় বসে পড়ুন।

মূল ভবন (সম্ভবত রেজিস্ট্রার ভবন)-এর সামনে ধানক্ষেতের মাঝে বড় বাঁধানো চত্বরটায় লেডিস হলের কাছে গাছপালা ঘেরা জায়গাটায়।

এসব জায়গায় এক বক্স ভুনা খিচুরি, এক ফ্লাক্স চা আর কিছু স্নাক্স নিয়ে কয়েকটা ঘণ্টা কাটান কোনো এক চাঁদনি রাতে, বাঁচতে ইচ্ছে করবে আরো হাজার বছর। তবে হ্যা, এলাকাটি যেহেতু সংরক্ষিত তাই ঢোকার আগে অনুমতি নিয়ে নেবেন আর নিরাপত্তার ব্যাপারে সচেতন থাকবেন।

২. কাছের গ্রাম  উলাইলের চর

 

ঢাকার গাবতলী থেকে মাত্র ১৮ কিলোমিটার দূরের মানিকগঞ্জের সিঙ্গাইরের ধল্লা ইউনিয়নের চর উলাইল গ্রাম। এখানে কিছু অতিথিবৎল মানুষ আছেন। তাঁদের সহায়তা নিয়ে ছোট নদী ধল্লেশ্বরীর তীরের এক বাড়ির উঠোনে শুয়েও সারারাত জোছনা দেখতে পারেন। মধ্যরাতে উঠোনের চারপাশের গাছপালা ভেদ করে চাঁদটা যখন মাথার উপরে উঠে আসবে, পারবেন তো সে অপার্থিব রূপ সইতে?

কীভাবে যাবেন

ঢাকার মিরপুর ১০ নম্বর থেকে ইতিহাস পরিবহন বা গাবতলী থেকে সাভারগামী যেকোনো বাসে উঠে ২০ মিনিট পর নেমে যান হেমায়েতপুর। ভাড়া নেবে ২০ টাকা। এরপর একটা অটো নিয়ে ধল্লা বাজার। ভাড়া নেবে ১৫০ টাকা। ধল্লা নেমে ছোট ধল্লেশ্বরী নদীটা পার হয়ে উলাইলের চর চলে যাবেন। ওখানে গিয়ে টুকুর বাড়িটা খুঁজে বের করবেন। বাকি দায়িত্ব তিনিই নিয়ে নেবেন। সবাই মিলে খরচটা শেয়ার করে নিন আর ফেরার সময় মানুষটাকে একটু খুশি করে আসুন।

৩. রকেট স্টিমার

বিকেল সাড়ে ৬টার সময় চড়ে বসুন বরিশালগামী রকেট স্টিমারে। কেবিন নয়, মাস্টারের অনুমতি নিয়ে সোজা চলে যান স্টিমারটির ছাদের সামনের দিকে। মুন্সীগঞ্জ পার হওয়ার পর মনে হবে একি পৃথিবী নাকি স্বর্গ নেমে এসেছে দুনিয়াতে। সময় কম থাকলে রাত ১১টার দিকে চাঁদপুর নেমে যান তারপর ফিরতি রকেটে (রাত ২টায়) ঢাকায় ফিরে আসুন। এ ট্রিপটা শুধু চাঁদনী রাত নয়, অন্ধকার রাতগুলোতে করতে পারেন। তখন দেখবেন অনন্ত নক্ষত্ররাজি।

৪. পদ্মা নদীতে ফেরির ছাদে

মাওয়া চলে যান বিকেলের দিকে। ইলিশ মাছ ফ্রাই দিয়ে গরম ভাত খেয়ে একটা ফেরির ছাদে উঠে বসুন (রো রো ফেরিতে উঠবেন না, উঠবেন ডাম্প ফেরিতে। ডাম্প ফেরি মানে যে ফেরিগুলো অন্য একটি টাগবোট টেনে নেয়।) টাগবোটের ৩ তলার মাস্টার ব্রিজের সামানে একটা নামাজের জায়গা আছে। আকাশের দিকে মুখ করে সোজা শুয়ে পড়ুন। ঘণ্টা আড়াই পরে পৌছাবে কাওরাকান্দি ঘাটে। ফিরতি ফেরিতে আবার ফিরে আসুন। ভাড়া নেবে মাত্র ২০ টাকা করে। বিশ্বাস করুন স্রেফ একটা ট্যুরই জীবন সম্পর্কে আপনাকে নুতন করে ভাবতে বাধ্য করবে।

৫. আড়াই হাজারের মেঘনার চরে

নারায়ণগঞ্জ জেলার অন্তর্গত আড়াইহাজারের মেঘনা নদীর চরগুলো হতে পারে আপনার জোছনা দেখার গন্তব্য। আড়াহাজার উপজেলা পার হয়ে কয়েক কিলোমিটার গেলেই মেঘনা নদী। আর সে নদীতে অসংখ্য চর জেগে আছ আপনার অপেক্ষায়। খাগকান্দা ঘাট থেকে ট্রলার নিয়ে স্থানীয় কোনো মানুষকে সাথে রেখে কাছের কোনো চরে চলে যান। পুরো রাত চাঁদের আলোতে স্নান করুন। সকালে ফিরে আসুন ঢাকা।

কীভাবে যাবেন

ঢাকার সায়েদাবাদ থেকে অভিলাষ পরিবহনে উঠে যেতে পারবেন আড়াইহাজার। এ ছাড়া কলাবাগান থেকে মেঘলা পরিবহনে উঠে ভুলতা নেমে যাবেন। এরপর রাস্তা পার হয়ে সিএনজিতে করে আড়াইহাজার। এ ছড়া পূর্বাচল যাবার ৩০০ ফুট রাস্তা দিয়ে শেয়ারড কারেও যাওয়া যায় ভুলতা। ভাড়া জনপ্রতি ৮০ টাকা। এরপর সিএনজিতে জনপ্রতি ৩৫ টাকা।

৬. উয়ারী বটেশ্বর

নরসিংদীর উয়ারী বটেশ্বরে বিরাট এক ধানক্ষেতের পাশে একটি সরকারি গেস্ট হাউস আছে। এটির বৈশিষ্ট্য হলো ২য় তলায় বিশাল রুমটির সামনে বিরাট একটি খোলা ছাদ। অসাধারণ একটি জায়গা। এই গেস্ট হাউজটিতে বুকিং দেওয়া একদম সোজা, ভাড়াও কম। বাজার ও রান্নার দায়িত্ব অনায়াসে দেওয়া যায় এর কেয়ারটেকারের ওপর। রাতের খাবার খেয়ে রুমের সামনে খোলা জায়গাটিতে বসে যান। রাত কখন শেষ হবে টেরও পাবেন না।

তবে হ্যাঁ যাওয়ার আগে যোগাযোগ করে কথা বলে নিন।