অপরূপ সৌন্দর্যের প্যারিস 15/05/2016



ফ্রান্সের প্যারিস শহরটা শুধু দেখার জন্য নয়, অনুভবের জন্য নয়। রাত যত গভীর হতে থাকে, প্যারিস তত জেগে উঠতে থাকে। নিশি সুন্দরী প্যারিসের রূপদর্শনে দলে দলে বেরিয়ে পড়েন পর্যটকরা। দিনের চেয়ে রাতের প্যারিস অনেক সৌন্দর্যমন্ডিত।
সন্ধ্যা হলেই নাইট ক্লাব, পাব, বার থেকে আইফেল টাওয়ার পর্যন্ত আলোর ঝলকানির শুরু হয়। বাঙালিরাই এক প্যারিস বলে। কিন্তু ইউরোপে শহরটির নাম পারি। প্যারিসের আইফেল টাওয়ার, ল্যুভর মিউজিয়াম, মেট্রো লাইন, রেস্তোরাঁ, ফ্যাশন- সব কিছুতেই অনন্য এক আর্টিস্টিক, ক্রিয়েটিভ, রোমান্টিক মনের ছাপ পাওয়া যায়।
১৮০০ শতকে শিক্ষা ও জ্ঞানের কেন্দ্র হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা এবং রাস্তায় বৈদ্যুতিক বাতি লাগানোর ক্ষেত্রে পৃথিবীর প্রথম শহর হওয়ায় প্যারিসকে বলা হয় ‘সিটি অফ লাইট। যার মানে দাঁড়ায় আলোর শহর।


ফরাসিরা শিল্প-সংস্কৃতির মহান পৃষ্ঠপোষক কবিতা ভালোবাসে, একটু ভাবুক, খামখেয়ালিও বটে। ইউরোপের সবচেয়ে বেশি মাল্টিকালচারাল শহর এটি। বহু দিন যাবৎ প্যারিসে বসবাস করে এশিয়া, আফ্রিকা ও অন্যান্য ইউরোপীয় দেশ থেকে লোকজন। তাদের মধ্যে জাতিগত এক সুষম সংমিশ্রণ চোখে পড়ে। এশিয়া মহাদেশের লোকজনের সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে।
প্যারিসের আইফেল টাওয়ার পৃথিবীর বিখ্যাত কাঠামোর একটি এবং ফ্রান্সের অন্যতম একটি প্রতীক। ফরাসি ইঞ্জিনিয়ার গুস্তাভো আইফেলের নির্মিত ৩০০ মিটার (৯৮৬ ফুট) উচ্চতার এইটাওয়ার। ১৯৩০ সালে নিউইয়র্কে ‘ক্রাইসলার বিল্ডিং’টির নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার আগে পর্যন্ত আইফেল টাওয়ারই ছিল পৃথিবীর সর্বোচ্চ স্থাপনা। আইফেল, রেলের জন্য সেতু ডিজাইন করতেন- টাওয়ারটি নির্মাণে তিনি সেই অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়েছিলেন। তার নামানুসারেই মিনারটির নাম রাখা হয়েছিল ‘আইফেল টাওয়ার’।
জানা গেছে, ১৮ হাজার ৩৮টি লোহার বিভিন্ন আকৃতির ছোট ছোট কাঠামো জোড়া লাগিয়ে এ টাওয়ার তৈরি করতে ৩০০ কর্মী কাজ করেছিলেন। ১৮৮৯ সালের ৩১ মার্চে মাত্র ২ বছর, ২ মাস, ২ দিনে টাওয়ারটির নির্মাণ কাজ শেষ হয়েছিল। ১৯০৯ সালে এর চূড়ায়ে বসানো হয় একটি বেতার অ্যান্টেনা। ফলে এর উচ্চতা বেড়ে হয় ২০.৭৫ মিটার। সেই থেকে আইফেল টাওয়ারকে বেতার তরঙ্গ প্রেরণের জন্যও ব্যবহার করা হচ্ছে।
পরে আইফেল টাওয়ারে একটি টিভি অ্যান্টেনাও সংযোজন করা হয়েছে। ২০১৪ সালে প্যারিসের আইফেল টাওয়ার পার ১২৭ বছর অতিক্রম করেছে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আইফেল টাওয়ারের জনপ্রিয়তা বাড়তে থাকে এবং টাওয়ারই ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিস নগরীর বিশেষ মর্যাদা এনে দিয়েছে।


আরো জানা যায়, প্রায় ১৪টি মেট্রো লাইনে ৩৮০টি মেট্রো স্টেশন নিয়ে প্যারিসের মেট্রো ইউরোপের দ্বিতীয় বৃহত্তম সাবওয়ে। এটি ১০০ বছরের পুরনো। প্যারিসে বসবাসরত লোকজনের যাতায়াতের জন্য এ মেট্রো লাইনের বিকল্প নেই। এ ছাড়া যাতায়াতের জন্য রয়েছে ট্রাম, আরিয়ার ও এসএনসিএফ।
প্যারিসের ল্যুভর মিউজিয়াম পৃথিবীর বৃহত্তম আর্ট মিউজিয়াম। এর বিশালত্ব, দেয়ালের অলঙ্করণ, অমূল্য স্থাপত্য, ভাস্কর্য, পেন্টিংয়ের সম্ভার যে কোনো মানুষকে অবাক করবে। মিউজিয়ামের ভেতর ম্যাপ নিয়ে প্ল্যানিং করেই সবাই চলাচল করে। মিউজিয়ামটি ঘুরে দেখতে তিন দিন সময় লাগে।
এ মিউজিয়ামে একটি বড় হলঘরের মাঝে বুলেট প্রুফ কাচের মধ্যে মোহিনী হাসি হাসছে লিওনার্দো দ্য ভিঞ্চির ঐতিহাসিক ছবি ‘মোনালিসা’। প্রতিদিন হাজার হাজার দর্শনার্থীর পদচারণায় মুখর হয়ে ওঠে এ মিউজিয়াম।

You might like