গাজীপুরের যত কৃর্তী 12/05/2016



ঢাকার কাছের শহর গাজীপুরে এমন অনেক কিছুই আছে যা কালের ইতিহাস হয়ে দাড়িয়ে আছে। ঢাকা থেকে কাছে হওয়ায় একদিনের ভ্রমনের জন্য আদর্শ স্থান গাজীপুর। গাজীপুরের দেখারমতো স্থানের মধ্যে রয়েছে ভাওয়াল রাজবাড়ী, ভাওয়াল জাতীয় উদ্যান , নুহাশ পল্লী, বলিয়াদী জমিদার বাড়ী, নাগরী, নিকোলাস চার্চ ও বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্ক, ভাওয়াল রাজবাড়ী ছাড়াও গাজীপুরের প্রত্নসম্পদ এর মধ্যে রয়েছে জয়দেবপুর, ইন্দ্রাকপুর (প্রাচীন রাজধানী), শ্রীপুর, বলধার জমিদার বাড়ী, বাড়ীয়া, টোক বাদশাহী মসজিদ, কাপাসিয়া, পূবাইল জমিদার বাড়ী, পূবাইল, সেন্ট নিকোলাস চার্চ, কালীগঞ্জ, বলিয়াদী জমিদার বাড়ী, ভাওয়াল রাজ শ্মশানেশ্বরী, জয়দেবপুর, শৈলাট, শ্রীপুর, কাশিমপুর জমিদার বাড়ী, গাজীপুর সদর,দত্তপাড়া জমিদার বাড়ী, টঙ্গী, কপালেশ্বর ধ্বংসপ্রাপ্ত পুরাকীর্তি, রাজা শিশু পালের রাজধানী, একডালা দুর্গ, কাপাসিয়া, মীর জুলমার সেতু, টঙ্গী, সাকাশ্বর স্তম্ভ, কালিয়াকৈর ইত্যাদি নানা ঐতিহাসিক কৃর্তী । নীচে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরা হলো ।

লিখেছেন জাহাঙ্গীর আলম শোভন

 

ভাওয়াল রাজবাড়ী

ব্রিট্রিশভারতে এক পরিচিত নাম ভাওয়াল রাজবাড়ী। বিংশ শতকের প্রথম দিকে একটি বিশ্ববিখ্যাত মামলা হয়েছিল যা ভাওয়ালের জমিদার বংশের রাজকুমার রমেন্দ্রনারায়ণ রায়কে ঘিরে ও ভাওয়ালের সন্ন্যাসী মামলা নামে খ্যাত। এ ঘটনা থেকে কবিতা উপন্যাস এমনকি যাত্রাপালা তৈরী হয়েছিলো। তৈরী হয়েছে ছবিও। ১৮৭৮ সালে এই পরিবারের জমিদার কালীনারায়ণ রায়চৌধুরী ব্রিটিশ সরকারের কাছ থেকে বংশানুক্রমিক ‘রাজা’ উপাধি লাভ করেন। কালীনারায়ণের পুত্র রাজা রাজেন্দ্রনারায়ণ রায়চৌধুরী এই জমিদারির আরও বিস্তৃতি ঘটান। রাজা নিজেই সরাসরি জমিদারি পরিচালনা সেই ভাওয়ালের রাজবাড়ী এখনো দাড়িয়ে আছে কালের স্বাক্ষী হয়ে। এই রাজবাড়ীর আওতায় ভাওয়াল এস্টেট প্রায় ৫৭৯ বর্গমাইল (১,৫০০ কিমি) এলাকা জুড়ে ছিল । ভাওয়াল এস্টেট পরিধি এবং আয়ের দিক থেকে পূর্ব বাংলায় নওয়াব এস্টেটের পরেই দ্বিতীয় বৃহত্তম । সম্পূর্ণ জমিদারিটি কয়েকটি সার্কেলে বিভক্ত ছিল। বর্তমানে ভাওয়াল এস্টেটের কর্মকাণ্ড গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের ভূমি সংস্কার বোর্ড পরিচালনা করে ।

নুহাশ পল্লী

নুহাশ পল্লী ঢাকার অদুরে গাজীপুর শহর থেকে ২০ কিলোমিটার দূরে গাছপালা পারিবারিক বিনোদন কেন্দ্র। জনপ্রিয় কথাশিল্পী হুমায়ূন আহমেদ এর বাড়ী বলা যায় একে। সেখানকার নানা স্থাপনা আর অসংখ্য ফলজ, বনজ গাছের পাশাপাশি তিনি বানিয়েছেন ঔষধি গাছের বাগান। শৈল্পিক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে তিনি নুহাশ পল্লীকে এক স্বপ্নজগত করে তুলেছেন । এখানে রয়েছেআড়াইশ প্রজাতির বিভিন্ন গাছগাছালি। আছে স্যুটিং স্পট, দিঘি আর তিনটি সুদৃশ্য বাংলো। শানবাঁধানো ঘাটের দিঘির দিকে মুখ করে বানানো বাংলোর নাম ‘ভূত বিলাস’। দুর্লভসব ঔষধি গাছ নিয়ে যে বাগান তৈরি করা হয়েছে তার পেছনেই প্রতৃকিৃতি আকারে রয়েছে রূপকথার মৎস্যকন্যা আর রাক্ষস। আরো রয়েছে পদ্মপুকুর, অর্গানিক ফর্মে ডিজাইন করা অ্যাবড়োথেবড়ো সুইমিং পুল। ৪০ বিঘা জায়গা নিয়ে নুহাশ পল্লী তৈরি করেন হুমায়ুন আহমেদ।

 

ভাওয়াল জাতীয় উদ্যান

এই উদ্যানটি রাজধানী ঢাকা থেকে উত্তরে প্রায় ৪০ কিলোমিটার দূরে গাজীপুর জেলার গাজীপুর সদর ও শ্রীপুর উপজেলায় অবস্থিত। বাংলাদেশ সরকার ১৯৭৪ সালে বাংলাদেশ

বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইন (১৯৭৪) অনুযায়ী ৫,০২২ হেক্টর জায়গা জুড়ে ভাওয়াল শালবনে এই উদ্যান গড়ে তোলে। ১৯৮৫ সালে এ বনে খেঁকশিয়াল, বাগদাস, বেজী, কাঠবিড়ালী, সহ ৬৪ প্রজাতির প্রাণী রয়েছে যার মধ্যে ৬ প্রজাতির স্তন্যপায়ী, ৯ প্রজাতির সরীসৃপ, ১০ প্রজাতির উভচর ও ৩৯ প্রজাতির পাখি রয়েছে। ভাওয়াল জাতীয় উদ্যান মূলত ক্রান্তীয় পতনশীল পত্রযুক্ত বৃক্ষের বনভূমি। এ বনে ২২১ প্রজাতির উদ্ভিদ রয়েছে যার মধ্যে ২৪ প্রজাতির লতা, ২৭ প্রজাতির তৃণ, ৩ প্রজাতির পামজাতীয় বৃক্ষ, ১০৫ প্রজাতির ঔষধি, ১৯ প্রজাতির গুল্ম, ৪৩ প্রজাতির বৃক্ষ। শাল, (Shorea robusta) এ উদ্যানের প্রধান বৃক্ষ।

 

এছাড়া এ বনে কৃত্রিমভাবে ইউক্যালিপটাস আর রাবারের বনায়ন করা হয়েছে। এখানে বেশ কয়েকটি পিকনিক স্পট রয়েছে। স্পটগুলোর হলো: আনন্দ, কাঞ্চন, সোনালু, অবকাশ, অবসর, বিনোদন। এখানকার কটেজগুলো হলো: বকুল, মালঞ্চ, মাধবি, চামেলী, বেলী, জুঁই ইত্যাদি। এখানে ১৩টি কটেজ ও ৬টি রেস্টহাউজ রয়েছে। তবে রাত্রি যাপনের জন্য এখানে অনুমতি দেওয়া হয় না।

ভাওয়াল রাজ শ্মশানেশ্বরী

বর্তমানে বাংলাদেশের প্রত্নঐতিহ্যের ভাওয়াল রাজ শ্মশানেশ্বরী। ভাওয়ালজমিদার পরিবারের সদস্যদের শবদাহ, সৌধ নির্মাণ ও নামফলক স্থান। জায়গাটি চিলাই নদীর দক্ষিণ তীরে

জোড়পুকুর হতে প্রায় এক কি মি উত্তরে ভুরুলিয়া রাস্তার পাশে অবস্থিত। বলিয়াদী জমিদার বাড়ী এই জমিদার বাড়ী অন্যান্য জমিদার বাড়ীর মতো ব্রিট্রিশ আমলের ঐতিহ্য নয়,এটা মূলত চারশো বছরের পুরনো স্মৃতি বহন করে চলেছে। বলিয়াদী এস্টেট মুঘল সম্রাট জাহাঙ্গীর ফরমান বলে প্রতিষ্ঠিত হয় ইংরেজী ১৬১২ খৃস্টাব্দে। ইসলাম জগতের প্রথম খলিফা হযরত আবু বকর সিদ্দিকী (রাঃ) বংশধর বলিয়াদী নবাব কুতুব উদ্দিন সিদ্দিকীর পুত্র সাদ উদ্দিন সিদ্দিকী বলিয়াদী এস্টেটের প্রথম কর্ণধর ছিলেন। নাগরী সেইন্ট নিকোলাস চার্চ এদেশে অধিকাংশ জায়গায় খ্রিষ্টান ঐতিহ্য ব্রিটিশ আমলের হলেও এই গীর্জা মুগল আমলের। উপজেলার দক্ষিণ পশ্চিম প্রান্তে  বালু ও শীতলক্ষ্যা নদীর তীরে অবস্থিত। নাগরীতে ষোড়শ শতকের শেষ দিকে পুর্তগীজ খ্রীস্টানরা আস্তানা গাড়ে এবং সম্রাট জাহাঙ্গীরের অনুমতিক্রমে ১৬৬৪ সনে তারা প্রথম গীর্জা স্থাপন করেন। পরে ১৬৮০ সনে পাকা ইমারত হয় নাগরীর সেন্ট নিকোলাস টলেন্টিনো চার্চ। এখান থেকে কালীগঞ্জের আঞ্চলিক বাংলা ভাষার প্রথম বাইবেল অনুদিত হয়। সর্বপ্রথম বাংলা ভাষার দ্বিভাষিক অভিধান ও প্রথম গদ্য ছাপার বইও প্রকাশিত হয়। এজন্য ভারতবর্ষজুড়ে এর বিশেষ স্থান রয়েছে।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারী পার্ক, গাজীপুর

গাজীপুর জেলার শ্রীপুর উপজেলাধীন মাওনা ইউনিয়নের বড় রাথুরা মৌজা ও সদর উপজেলার পীরুজালী ইউনিয়নে ৪৯০৯.০ একর বন ভূমি ছোট বড় বিভিন্ন প্রজাতির প্রাণির জন্য নিরাপদ আবাসস্থল হিসাবে পরিচিত।

এর মধ্যে ৩৮১০.০ একর এলাকাকে সাফারী পার্কের আওতাভূক্ত করা সাফারী পার্কটি দক্ষিণ এশীয় মডেল বিশেষ করে থাইল্যান্ডের সাফারী ওয়ার্ল্ড এবং ইন্দোনেশিয়ার বালি সাফারী পার্কের কতিপয় ধারনা সন্নিবেশিত করা হয়েছে। এতে দেশী/বিদেশী বন্যপ্রাণীর বংশবৃদ্ধি ও অবাধ বিচরণের সুযোগ সৃষ্টি করা হয়েছে যাতে পর্যটকগণ চলমান যানবাহনে অথবা পায়ে হেঁটে ভ্রমণ করে শিক্ষা, গবেষণা ও চিত্তবিনোদনের করতে পারেন। 

বলধা জমিদারবাড়ি 

বলধার জমিদার ছিলেন রাজ কিশোর রায় চৌধুরী। তার দত্তক পুত্র ছিলেন জমিদার হরেন্দ্র নারায়ণ রায় চৌধুরি। ধারণা করা হয়, হরেন্দ্র নারায়ণ রায় চৌধুরী এ জমিদার বাড়িটি

নির্মাণ করেন। জমিদার বাড়িটি ছিল ৪০ কামরা বিশিষ্ট।এ এলাকায় যে এককালে জমিদারিত্ব চিল তার অস্তিত্ব প্রমাণ করে। কালী বাড়িটি ছয় কক্ষ বিশিষ্ট ‘ভি’ আকৃতির একতলা পাকা ভবন। সেগুলোও এখন ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে। সেখানে কেবল বলধার জমিদার বাড়ির ধংসাবশেষ ছড়িয়ে আছে। পূর্বপাশে প্রায় আড়াই শ’ ফুট লম্বা, দুই ফুট প্রশস্ত এবং কোথাও ২-

৩ আবার কোথাও ৫-৭ ফুট উঁচু একটি দেওয়ালও রয়েছে।

কাসিমপুর জমিদার বাড়ী

কাশিমপুর কারাগারের রয়েছে এক পরিত্যাক্ত জমিদার বাড়ী। কাশিমপুরের জমিদার রায়বাহদুর কেদারনাথ লাহিড়ী’র এই জমিদার ইতোমধ্যে এর অর্ধেক ‘গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ

সরকার’ এর ‘সমাজসেবা অধিদফতর’ এর ‘সরকারী আশ্রয় কেন্দ্র’ হিসেবে ব্যাবহৃত হচ্ছে।

দত্তপাড়া জমিদার বাড়ী

দোতলা ডার্ক পিংক কালারের পলেস্তরা করা একটি স্থাপনা। সামনে আবার লোহার বিমের উপর প্লাস্টিকের টিনের ছাউনি। দত্ত সাহেব ছিলেন গাজীপুরের ভাওয়াল রাজার নাতি এবং চৌষট্টি’র রায়টের পর তিনি তার প্রায় দুইশত একর জমিদারী এক ব্যবসায়ীর সাথে বিনিময় করে ভারতে চলে যান। বর্তমানে জমিদার বাড়ীটি একটি এনজিও লিজ নিয়ে

হাসপাতাল হিসেবে ব্যবহার করছে।

কপালেশ্বর

বিশাল বাউন্ডারি দেয়া এলাকার অর্ধেক মাঠ, অর্ধেক একটি দীঘি, দীঘি ঘেঁষে একটি স্কুল । আগে পুরো এলাকাজুড়ে ছিল দীঘিটি, দীঘির পাড় ঘেঁষে ছিল প্রাচীন সব বৃক্ষসমূহ, যেগুলোর বেড় ছিল খুব বেশী। একটা কড়ই গাছ ছিল যা প্রায় বিঘা’খানেক এলাকা ছায়াময় করে রাখতো। কিছু প্রভাবশালী’র ছত্রছায়ায় সব জমি দখল হয়ে গেছে। গাছগুলো বনখোকোর দলের পেটে চলে গেছে হয়তোবা আর বাকী অংশ নিয়ে দীঘিটি এখনো সরকারী লিজে আছে।

সাকাশ্বর বৌদ্ধস্তম্ভ

এটি কালিয়াকৈর অবস্থিত। এটি মৌর্য শাসন আমলে মহামতি সম্রাট অশোক কর্তৃক নির্মিত ৮৪ হাজার স্তম্ভের একটি। এটি প্রায় আড়াই হাজার বৎসের পূর্বে তৈরি মৌর্য আমলের সূচনা স্তম্ভ। স্তম্ভ খুব বড়ো না হলেও এর ঐুতহাসিক গুরুত্ব রয়েছে।

একডালা দুর্গ

কাপাসিয়া উপজেলা থেকে প্রায় ৫ কিলোমিটার দূরে বানার, শীতলক্ষ্যা এবং ব্রহ্মপুত্র নদের পশ্চিমে, আনুমানিক ৬০০ খ্রিষ্টাব্দের দিকে জনৈক হিন্দু রাজা এই দুর্গটি নির্মাণ করেছিলেন। দুর্গটির দৈর্ঘ্য ছিল ৫ কিলোমিটার আর প্রস্থে ছিল ২ কিলোমিটার। ইতিহাস থেকে জানা যায়, ইলিয়াস শাহ ১৩৫২ খ্রিষ্টাব্দের দিকে দুর্গটির সংস্কার সম্পন্ন করেন। ১৩৫৩ খ্রিষ্টাব্দে ফিরোজ তুঘলক বাংলা আক্রমণ করলেও একাডালা দুর্গ অধিকার করতে পারেন নি। ১৩৫৭ খ্রিষ্টাব্দে ইলিয়াস শাহ-এর মৃত্যুর পর, এর প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য, ফিরোজ তুঘলোক পুনরায় বাংলা আক্রমণ করেন। এবারও পিতার মতো সিকান্দার শাহ একডালা দুর্গে আশ্রয় নিয়ে রক্ষা পান। এরপর ১৫১৮ খ্রিষ্টাব্দ হতে ১৫৩২ খ্রিষ্টাব্দের ভিতরে আলাউদ্দিন হোসেন শাহের পুত্র নাসির উদ্দিন শাহ পুনরায় দুর্গটি সংস্কার করেন। রায়েদ ইউনিয়নে কালী বানার নদীর পূর্ব তীরে অবস্থিত দ্বার-ই দরিয়া (দরদরিয়া) দুর্গ ছিল একডালা দুর্গের শাখা দুর্গ। মোগল সম্রাট আকবরের সময়ে রাজা টোডরমল এ অঞ্চলকে ভাওয়াল পরগণায় অন্তর্ভুক্ত করেন। ক্রমে ক্রমে এই দুর্গটি পরিত্যাক্ত হয়ে যায় ।

মীর জুমলার সেতু

ঢাকায় পৌছার (১৬৬০) অল্প কিছুদিনের মধ্যেই মীর জুমলা বাংলার সুবেদার নিযুক্ত হন।মীর জুমলা'র নাম ঢাকায় দুইটি রাস্তা এবং দুইটি সেতু নির্মানের সাথে জড়িয়ে আছে।

সৈন্য, গোলাবারুদ দ্রুত চলাচলের জন্য এবং জনকল্যানে তিনি এগুলো নির্মান করেন। সড়ক দুইটির একটি ঢাকার সাথে এর উত্তরের জেলাগুলিকে সংযুক্ত করে, যা বর্তমানে ময়মনসিংহ রোড নামে পরিচিত। রাস্তাটি জামালপুর পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। জামালপুরে একটি দূর্গ এবং টঙ্গীতে তুরাগ নদীর উপর এই টঙ্গী ব্রিজ তিনি তৈরী করেন। এছাড়া সারাবছর রাজবাড়ীর সামনের মাঠ এবং গাজীপুর চিড়িয়াখানা প্রাঙ্গন এখানকার নানা সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডে মুখরিত থাকে। জমিদারী ঐতিহ্যের পাশাপাশি গাজীপুরে রয়েছে কিছু পুরনো জলাধার যেমন, হায়দ্রাবাদ দীঘি- হায়দ্রাবাদ পূবাইল। ভাওয়াল কলেজ দীঘি- গাজীপুর সদর, রাহাপাড়া দীঘি- গাজীপুর পৌরসভা, টেংরা দীঘি – শ্রীপুর, তেলিহাটী দীঘি- শ্রীপুর, সিঙ্গার দীঘি (পাল রাজাদের রাজধানী নগরী) , শ্রীপুর (মাওনা অদূরে), সিঙ্গারদীগি কাউছি টিহর, কেওয়া, শ্রীপুর, কর্ণপুর দীঘি- শ্রীপুর, চৌড়াদীঘি, কালীগঞ্জ, মাওনা দীঘি-শ্রীপুর,

ঢোল সমুদ্র দীঘি ও পুরাকীর্তি- কালিয়াকৈর, রাজবিলাসী দীঘি, কোটামুনির ডিবি ও পুকুর – ডাকুরাইল, মনই বিবি-রওশন বিবির দীঘি (চান্দরা), চন্দ্র (চান্দরা) কালিয়াকৈর, মকেশ্বর বিল- কালিয়াকৈর, বিল বেলাই- গাজীপুর সদর, উষ্ণোৎস, শালদহ নদী, গঙ্গা (সরোবর) তীর্থক্ষেত্র- শ্রীপুর, ভাওয়াল রাজ শ্মশানেশ্বরী ও টোক বাদশাহী মসজিদ ছাড়াও আরো কিছু ধর্মীয়স্থান ও সমাধিক্ষেত্র, যেমন: সমাধিক্ষেত্র (কবরস্থান)- চৌড়া, কালীগঞ্জ, সাকেশ্বর আশোকামলের বৌদ্ধ সত্মম্ভ (ধর্মরাজিকা)- কালিয়াকৈর , পানজোড়া গীর্জা- কালীগঞ্জ, ব্রাহ্ম মন্দির- কাওরাইদ, সমাধিক্ষেত্র, গুপ্ত পরিবার- কাওরাইশ, শ্রীপুর, সেন্ট নিকোলাস (চার্চ)- নাগরী, কালীগঞ্জ, বক্তারপুর, ঈশা খাঁর মাজার- কালীগঞ্জ, তিমুলিয়া গীর্জা- কালীগঞ্জ সরকারী ও বেসরকারীভাবে গাজীপুরে রয়েছে বেশকিছু পিকনিক স্পট: গাজীপুর সদর, ছাতিয়ানী বটবৃক্ষ- জাঙ্গালিয়া, কালীগঞ্জ, রাথুরার জঙ্গল - শ্রীপুর , চন্দ্রা শালবন, কালিয়াকৈর, কেওয়া বটবৃক্ষ (প্রায় ২০ বৎসরের প্রাচীন)- শ্রীপুর, কৃষি খামার (সর্ববৃহৎ)- কাশিমপুর, বরমী বাজার (বানর বিচরণ ক্ষেত্র ও প্রাচীন বাজার)-শ্রীপুর, গাজীপুর, নুহাস চলচ্চিত্র ও পর্যটন কেন্দ্র – মির্জাপুর, হোতাপাড়া স্যুটিং স্পট- গাজীপুর সদর, জীবন্ত স্বর্গ- শ্রীপুর, পুষ্পদাম- শ্রীপুর, অনন্তধারা পর্যটন বিনোদন কেন্দ্র - রাজেন্দ্রপুর, গাজীপুর  সদর, সীগার্ল-শ্রীপুর, অঙ্গন- সুর্য্যনারায়নপুর, কাপাসিয়া, নন্দন- কালিয়াকৈর।

বি: দ্র: গত ১২ ফ্রেব্রুয়ারী থেকে ২৮ মার্চ পর্যন্ত পাঁয়ে হেটে টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া ভ্রমন করেন জাহাঙ্গীর আলম শোভন। এই পোগ্রামটি স্পন্সর করেছেন ট্যুর ডট কম ডট বিডি ।তার ভ্রমণ পরবর্তী কাজের অংশ হিসেবে ভ্রমনে পদচিহ্ন রাখা ১৮টি জেলা নিয়ে লেখার অংশ এটি ।