ভ্রমণের জন্য ব্যাগপ্যাক তৈরি ও কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় 09/05/2016



একদিন বা কয়েকদিন , ব্যাগ সাথে নিতেই হয়। প্রতিবার ভ্রমণের সময় নতুন করে লিস্টি করা , তারপরও দেখি প্রয়োজনীয় কিছু একটা ফেলে গেছি । তাই এই পোস্টটা আমার সাথে সাথে ভ্রমন পিয়াসি বা প্রয়োজনে ভ্রমণকারী সকলের কাজে আসবে ।
কোথাও যাওয়ার আগে একটি পরিপূর্ণ ব্যাগপ্যাক তৈরি অত্যন্ত জরুরি। প্রয়োজনের সময় সব কিছু যেন হাতের নাগালে থাকে।
 

কেমন ব্যাগ কিনবেন :
ভ্রমণের জন্য ২ কাঁধে ঝুলানো যায় এমন ব্যাগ নেয়াই ভালো । ব্যাগ কেনার সময় জেনে নিবেন কত কেজি নেয়া যায় এবং ফুল লোড হলে আপনি তা নিতে পারবেন কিনা । আমি সাধারণত ১৫-২০ কেজির ব্যাগ কিনি । ব্যাগ অবশ্যই যেন ওয়াটার প্রুফ হয়। এখন ফায়ার প্রুফ ও পাওয়া যায়। চেইন গুলো দেখে নিন । লম্বাটে হলে ভালো আর পকেট কয়েকটা থাকা ভালো ।
ট্র্যাকিং আর জন্য ব্যাগ রয়েছে , সাইক্লিং এর জন্য ও ছোট ঝুলানো ব্যাগ আছে ।
কম দামে ভালো কিনতে হলে নিউমার্কেট আর বিদেশি লাইফ টাইম গ্যারান্টি কিনতে শাহবাগ , গুলশানের সিটি কর্পোরেশন মার্কেট ।

প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র :
*গামসা ( তোয়ালা ওজন বাড়ায়) *প্যান্ট ও টি-শার্ট বা শার্ট (হালকা রঙের) যত কম নেয়া যায় *ব্রাশ *ছোট একটা পেস্ট *রাবারের স্যান্ডেল
*কেডস *চশমা অতিরিক্ত ১টি বা সানগ্লাস *টর্চ ( ব্যাটারির হলে ভালো) *মোবাইল ও ক্যামেরার অতিরিক্ত ব্যাটারি ও চার্জার *পেনড্রাইভ ও ডাটাক্যাবল *ছোট তালা *পারলে সকল অপারেটরের একটি করে সচল সিমকার্ড *ডিজিটাল ক্যামেরা গলায় ঝুলানোর জন্য বড় ফিতা *মাল্টিপ্লাগ *মোটা মোজা *মোবাইলে ইন্টারনেট সংযোগ ও পর্যাপ্ত ব্যালেন্স *পকেট ডায়রি ও কলম *ক্যাপ *কাপড়ের বেল্ট *পলিব্যাগ
*সুইস নাইফ*৮/১০ হাত লম্বা ১টা দড়ি(প্যারাকর্ড)*সানস্ক্রিন লোশন*সুতা লাগানো একটা সুই, ২টা বোতাম,২/৩টা সেফটিপিন*গুড়ো সাবান

ক্যাম্পিং এ গেলে ২/৩ জনের জন্য তাবু ২৫০০-৬০০০ টাকা , ট্র্যাকিং সটীক , আগুন ধরানোর ব্যবস্থা , স্লিপিং ব্যাগ ইত্যাদি।

প্রয়োজনীয় ঔষধ :
নাপা এক্সট্রা বা প্যারাসিটামল সাথে এর এনটাসিড+ অবশ্যই খাবেন । সেকলো বা লসেকটিল (গ্যাস্ট্রিক থাকলে) , মুভ/ ভলটারিন/ডিপ হিট(আঘাত পেলে) , এমোডিস৪০০/ফ্লাজিল৪০০/ইমোটিল(পেটে সমস্যা হলে)
ওডমাস(মশা হতে রক্ষা পেতে) , এ্যানথিসান মলম(পোকা কামড়ালে) , ওরাডিন/লোরাটিন(অ্যালার্জি জন্য) , ওরস্যালাইন বা গ্লুকোজ , কাপড়ের ব্যান্ডেজ ও স্ট্রিপ ব্যান্ডেজ , নেবানল পাউডার (কেটে রক্ত বের হলে), স্যাভলন ক্রিম এবং নিয়মিত কোন ঔষধ খেলে ।




কিছু প্রয়োজনীয় কথা :

" বিশ্বাস বা পরনির্ভরশীলতা নয় , উপযুক্ত প্রমাণ সম্বলিত তথ্য আপনার ভ্রমণকে সুন্দর করতে পারে ।" -- আমার মতে

*কোথাও যাওয়ার আগে (প্রথমবার যাচ্ছেন), সেখানে কীভাবে যাবেন , কোথায় থাকবেন , কি খাবেন , সেখানে নিরাপত্তা কেমন , ইত্যাদি বিষয় সেখানে পূর্বে গমনকারী কারো কাছে থেকে জেনে নিতে পারেন , তবে তা নিজে যাচাই করে , নিজে সবকিছু ঠিককরে ভ্রমণ করাই ভালো ।

* ট্যুরের জন্য ৫-৬ জন দল ভালো । এতে খরচ গড়ে কম পরে ।আর ট্র্যাকিং এ ১০-১২ জন ।
* ভ্রমণের পরিবেশের অনুপযোগী কাউকে না নেওয়াই ভালো ।
* মহিলা বা পুরুসসঙ্গী যেই হোক না কেন তার সুবিধার কথা ভেবে দেখবেন।
যাত্রার পূর্বেই সিদ্ধান্ত নিবেন তিনি পরিবেশের সাথে খাপ খাওয়াতে পারবে কিনা ।
* একজন অঘোষিত দলনেতা থাকা উচিত । কারন বিপদ এ পরলে সবাই একসাথে পরবেন এবং একসাথেই মুক্ত হবেন ।
* মেজরিটি যা বলে তাই করা উচিত। ধরুন আপনি পানিতে নামতে বা লাফ দিতে চাইছেন , , মেজরিটি না চাইলে তা না করাই ভালো, , আপনার জন্য সবাই বিপদে পরতে পারে ।
*প্রয়োজনীয় মোবাইল নাম্বার গুলো নিয়ে নেন এবং কাগজে লিখে সাথে রাখবেন ।
* খাবারের বেপারে সাবধান থাকবেন । যত সাদামাটা খাওয়া যায় ততই ভালো ।
* তবে স্থানীয় ঐতিহ্যবাহী খাবার খেতে ভুলবেন না ।
*পাগলা পানি খেতে মানা নেই তবে পুরো টাল না হওয়াই ভালো ।
* হোটেলে থাকলে চারপাশের পরিবেশ দেখুন , , নিম্নমানের হোটেলে না থাকাই ভালো । কিছু টাকা বাঁচানোর জন্য পুলিশের বিপদে পরতে পারেন ।
* নতুন মানুষের সাথে পরিচিত হবেন তবে বেশি দূর আগাবেন না।
* কারো সাথে ঝগড়া বিবাদ , কথা কাটাকাটি করবেন না । ভালো না লাগলে সরে পরুন। চুক্তির চেয়ে বেশি টাকা চাইলে মাথা গরম না করে তা সমাধানের চেষ্টা করুন ।
* অপরাধ বা নিয়ম ভঙ্গ করবেন না , , তাহলে বিপদে পরবেন না ।
*পুলিশ বা আর্মির কাছে বা হোটেলে এন্ট্রি করার সময় ভুল তথ্য দিবেন না ।
*আপনি বান্দরবান যাওয়ার পূর্বেই ঢাকা থেকে ফোনে সেখানকার গাইড বা জীপ ড্রাইভারের সাথে কথা বলে রেখেছেন ।
বান্দারবান গিয়ে তাদের সাথে না যাওয়াই ভালো ।
*উপজাতিদের ফটু জিজ্ঞাসা না করে তুলবেন না ।
*সমুদ্রে গেলে জোয়ার ভাঁটার সময় জেনে নিন ।
*লাইফ জ্যাকেটে এর চেয়ে আমি আমার সল্প সাঁতার জ্ঞানে বিশ্বাসী ।
*সুন্দরবন গেলে সাথে পানি ও শুকনা খাবার রাখা ভালো ।
*সরকারী বনে ক্যাম্প করতে হলে অনুমতি নিতে ভুলবেন না ।
*নতুন জায়গায় যাওয়ার সময় , , যেই রাস্তা দিয়ে যাচ্ছেন কিছুদূর পর পর জায়গার নাম গুলো লিখে রাখুন । ফিরে আসার সময় কাজে দিবে। ডাইরেক্ট বাস লঞ্ছ না পেলেও ভেঙ্গে ভেঙ্গে আসতে পারবেন ।
 

টাকা-পয়সা বিষয়ক
*টাকা খরচ করার সময় হুশ করে খরচ করুন , , ভবিষ্যতে কত টাকা লাগবে আরও , , বাড়ি ফেরার ভাড়া আছে তো !!
*ঘুরতে গেলে প্রিয়মানুষদের জন্য টুকিটাকি কিনলেও বেশি অর্থ খরচ করার পক্ষে আমি নই , , কারণ রাস্তায় যেকোনো ধরণের বিপদে পড়তে পারেন ।
*একসাথে সব টাকা রেখে ২-৩ ভাগে রাখা উচিৎ ।
*এটিএম কার্ড এ কিছু টাকা বিপদের জন্য নিয়ে যেতে পারেন।
*যে কোন সময় টাকা শেষ হয়ে না পকেট মাইর/ছিনতাই হতে পারে । বিচলিত না হয়ে মাথা ঠাণ্ডা রাখুন। আশেপাশে আত্মীয়স্বজন আছে কিনা ভাবুন । বড় ভাই, বোন , বাবা, মা কে জানান ও তাদের কোন কলিগ বা ক্লায়েন্ট থাকলেও টাকার ব্যবস্থা হবে।

You might like