ভারতের ডায়েরি 28/04/2016



গতমাসে ট্রেনে ভারতের ৬টি প্রদেশ ভ্রমনের সুযোগ আমার হয়েছে। মালয়েশিয়া থেকে জরুরী প্রয়োজনে একদিনের সিদ্ধান্তে কোলকাতার টিকেট না পেয়ে কেরালা আসি। আরব সাগরের উপকূলে কেরালা ভারতের দক্ষিনে অবস্থিত। কেরালার ওপাড়ে সৌদি আরব, ওমান, ইথোপিয়া, সোমালিয়া ইত্যাদি রাষ্ট্র।

অপরিচিত শহর কেরালার কোচিন এ এসে ভাষাগত সমস্যায় পড়লাম অনেকে ইংরেজী বুঝে না। হুট করে মনে হলো হিন্দী তো চলবে। হ্যাঁ, মোটামুটি সবাই হিন্দী জানে। তবে কেরালার ভাষা মালায়ালম। ট্রেনে যাবো কোলকাতা। দু’দিনের বেশী পথ। কেরালা, তামিলনাডু, অন্দ্রপ্রদেশ, উড়িষ্যা, পশ্চিম বাংলা, ঝাড়খন্ড একেকটি প্রদেশের আয়তন প্রায় বাংলাদেশের সমান। এই ৬টি প্রদেশ ভ্রমনে আমার নতুন অভিজ্ঞতা হলো। ভাষা, আবহাওয়া, সংস্কৃতি একেক প্রদেশের একেক রকম। আমি অবাক হলাম একই সময়ে এটা কি করে সম্ভব?

কেরালা ভাষা –  মালায়ালম
আবহাওয়া – গরম
তামিলনাডু ভাষা – তামিল
আবহাওয়া –  বর্ষা
অন্দ্রপ্রদেশ ভাষা –  তেলেগু
আবহাওয়া –  নাতিশীতোষ্ণ
উড়িষ্যা ভাষা –  ঊড়িয়া
আবহাওয়া – বসন্ত
পশ্চিমবঙ্গ ভাষা –  বাংলা
আবহাওয়া – শীত
ঝাড়খন্ড ভাষা –  হিন্দি
আবহাওয়া – শীত

কি বিচিত্র ভারত। একদেশে কত ভাষা, কত প্রকার আবহাওয়া। একদিকে মানুষ গরমে ভুগছে, আরেকদিকে বৃষ্টিতে ভিজছে, অপরদিকে শীতে কাঁপছে। তামিলনাডুতে সে সময় দু’মাস ধরে নাকি সূর্য্যের মুখ দেখেনি কেউ। এক’শ বছরের মধ্যে ভয়াবহ প্রাকৃতিক বিপর্যয়। বন্যায় বন্ধ হয়ে গেছে বিমান বন্দর। পথ ঘাট। রেল পথও বন্ধ হবার উপক্রম। সাড়ে তিন’শ মানুষের মৃত্যু হয়েছে। তামিল আমার নিত্য পরিচিত ভাষা। আমার ছেলেমেয়েরা সে ভাষাতেই ঘরে কথা বলে। যদিও ওরা কেঊ কখনো তামিল নাডু দেখেনি। চেন্নাই (মাদ্রাজ) নামটি সেই ছেলেবেলা থেকেই শুনে এসেছি। বৃষ্টির জন্য দেখা হয়নি চেন্নাই। প্রায় তিনদিন ট্রেনে শুয়ে বসে ভারতের সেই অপরূপ দৃশ্য মুগ্ধ নয়নে দেখেছি। তাই মন বার বার ভারতে ছুটে যায়। ভারতের উত্তর, দক্ষিন, পূর্বদিক ভ্রমন আমার হয়েছে। গতবছর ঠিক এভাবেই বাংলাদেশের তিনদিক আমি ঘুরেছি। কোলকাতা থেকে আসাম মেঘালয় হয়ে ত্রিপুরার আগরতলায় গিয়েছি।

 

শুধু ভাষা ও অবহাওয়ার বৈচিত্রই দেখিনি। দেখেছি মানুষের রং, চেহারা ও পোষাকেও। যেমন চেন্নাই ও অন্দ্রপ্রদেশে দেখেছি ভদ্রলোকেরা লুঙ্গীর মতো সাদা ধুতি সাদা শার্ট পড়েন। কোলকাতার বাংলা ভাষা বাংলাদেশের ভদ্রলোকের ভাষার মতোই শুদ্ধ। ত্রিপুরার ভাষা অবিকল কুমিল্লার আঞ্চলিক ভাষায় মানুষ কথা বলে।

এরপর ভারতের মধ্য ও পশ্চিম অঞ্চলের প্রদেশ ভ্রমনের ইচ্ছা আছে। দিল্লির তাজমহল, মুম্বাই, কাশ্মীর। এভাবেই বিশ্বভ্রমনের প্রাথমিক স্বাদ নেব ভারত থেকেই। ভারত ঘুরলেই নাকি বিশ্বভ্রমন হয়ে যায়। যতটুকু ঘুরেছি তাতেই মনে হচ্ছে আমি যেন অর্ধবিশ্বভ্রমন শেষ করেছি। আবার বাংলাদেশ থেকে ঘুরতে ঘুরতে যাচ্ছি কেরালা। তারপর ৮ জানুয়ারী যাচ্ছি আমার প্রিয় মালয়েশিয়ায়। আমার পরবর্তী প্রজন্মের স্বদেশ।

সৌজন্যে : গৌতম রায়

You might like