মাধবপুর লেকের মায়াবী মায়া 27/04/2016



মাথার ওপর সুনয়না আকাশ, চির তরুন সবুজ পাহাড়, আঁকাবাঁকা ছবির মতো রাস্তা, যেন শিল্পীর রং তুলিতে আঁকা  মনোরম চা বাগানের দৃশ্যে হারিয়ে যাই আপন মনে। চারিদিকে সুউচ্চ পাহাড়ের মাঝখানে অবস্থিত লেকটি তার  অপূর্ব মায়া ছড়িয়ে বসে আছে আনমনে । লেকের টলটল পানি, ছায়া সুনিবিড় পরিবেশ, শাপলা শালুকের উপস্থিতি পরিবেশটাকে আরও মনোমুগ্ধকর করে তুলেছে। আস্তে আস্তে যতই সামনের দিকে এগুতে থাকবেন ততই ভাল লাগবে। মাঝে মাঝে বানর ও হনুমানের লাফালাফির দৃশ্যও চোখে পড়ে। মাধবপুর লেকে গিয়ে পৌঁছতেই সবুজ পাতার গন্ধ যে কারো মনকে চাঙ্গা করে তুলবে। চারদিকে সবুজ পাহাড়।

মানুষের জীবনের জন্য যেমন খাবার দাবার প্রয়োজন তেমনি প্রয়োজন অবসর। কেননা একটানা দীর্ঘদিন বিরতীহীন কাজ মানুষের মন বং মস্তিস্কের উপর বিরুপ প্রভাব ফেলে। মনের এমন ক্লান্তি দুর করতে পরিবারের মানুষদের নিয়ে কিংবা বন্ধু বান্ধবদের নিয়ে ঘুরে আসতে পারেন কোথাও থেকে। অবসন্ন মন সুন্দর কিছু স্মৃতি জমা করে নিতে পারে।

প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্যের লীলাভুমি মৌলভীবাজার জেলায় অবস্থিত মাধবপুর লেক দেশী বিদেশী পর্যটকদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয় একটি স্থান। এটি মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলার মাধবপুর ইউনিয়নের পাত্রখলা চা বাগানে অবস্থিত। মৌলভীবাজার থেকে ৪০ কিলোমিটার ও শ্রীমঙ্গল থেকে ১৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই মনোরম লেকটি।

 

পাশাপাশি উঁচু উঁচু টিলা। সমতল চা বাগানে গাছের সারি। হয়তো এরই মাঝে একঝাঁক পাখি অতিথিদের আমন্ত্রণ জানাবে তাদের সুরের মুর্চ্ছনা দিয়ে। পাহাড়ী পাখির গান আর নৃত্য ছাড়াও দেখা যায় নানান প্রজাতির বন্যপ্রাণী। মাধবপুর লেক যেন প্রকৃতির নিজ হাতে অঙ্কিত মায়াবী নৈসর্গিক দৃশ্য। সুনীল আকাশ আর গাঢ় সবুজ পাহাড়, শিল্পীর তুলিতে আঁকা ছবির মত চা বাগানের এই মনোরম দৃশ্য আকর্ষন করে নিয়ে যাবে ভিন্ন জগতে। চারদিকে সুউচ্চ পাহাড়ের মাঝখানে অবসি’ত লেকটি খুবই চমৎকার। প্রতিদিনই পর্যটকরা আসছেন মাধবপুর লেকে। শত শত বিনোদন প্রিয় পর্যটকদের পদভারে পুরো বছরই মুখরিত থাকে লেক।

শ্রীমঙ্গলের সব দর্শনীয় স্থান ঘুরে দেখতে হলে অন্তত ৩-৪ দিন সময় নিয়ে এলেই ভালো হয়। তাহলে আর দেরী না করে হাতে ৩/৪ দিন সময় নিেয় বেড়িয়ে পড়ুন শ্রীমঙ্গলের পথে প্রকৃতির মাঝে হারিয়ে যেতে।

যেভাবে যেতে হবে

প্রথমে আপনাকে যেতে হবে শ্রীমঙ্গল।

শ্রীমঙ্গলে(মৌলভীবাজার)গ্রুপ ট্যুর - ২ দিন / ১ রাত
গ্রুপ ট্যুর : ২০-২১ মে, ২০১৬
জনপ্রতি ৫,০০০ (১ রুমে ৪ জন), জনপ্রতি ৫,৫০০ (১ রুমে ২ জন)
যোগাযোগ: ০১৮১১৪৮০৮৩২, ০১৮১১৪৮০৮৩৩
শুক্রবার ২০ মে : এসি মাইক্রো/হাইএচে করে ভোর ৬.০০ টায় ঢাকা থেকে মৌলভীবাজারের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু ।
পুরো ২ দিন সবুজে ঢাকা চা বাগান,আশপাশে ঘোরাঘুরি, চায়ের রাজ্যে হারিয়ে যাওয়া ।
শুক্রবার ২০ মে: শ্রীমঙ্গল চা বাগান (চা কন্যা), মাধবপুর লেক এবং লাউয়াছড়া বন ভ্রমন ।
শনিবার ২১ মে: মাধবকুন্ড ইকোপার্ক, মাধবকুন্ড জলপ্রপাত এবং লাউয়াছড়া বন ভ্রমন।
প্যাকেজে আরও যা যাঃ
- শ্রীমঙ্গল রিসোর্টে এ/সি রুমে রাত্রিযাপন
- এ/সি ট্রান্সপোর্টে যাতায়াত
- সাইটসিং
- ১ টা সকালের নাস্তা
- ২ টা দুপুরের খাবার
- ১ টা বার বি কিউ ডিনার

বাস সার্ভিসঃ

বাসে যেতে চাইলে আপনাকে যেতে হবে সায়েদাবাদ বাস টার্মিনালে। রয়েছে শ্যামলী পরিবহন (এসি, নন-এসি), সিটিলিংক, হানিফ, মৌলভীবাজার সিটি (এসি, নন-এসি), তাজ, মিতালী (এসি নন এসি) বাস।

এটি শ্রীমঙ্গল থেকে ১৫ কি: মি: পূর্বে শ্রীমঙ্গলের পাশ্ববর্তী কমলগঞ্জের মাধবপুর চা বাগান। লাউয়াছড়া প্রবেশের মুখে হাতের ডান দিকে নুরজাহান চা বাগানের ভিতর দিয়ে অথবা ভানুগাছ বাজার হয়ে সেখানে যাওয়া যায়।

কোথায় থাকবেন

কোলাহল মুক্ত পরিবেশে থাকতে চাইলে উঠতে পারেন চা বাগানের ভিতর বিটিআরআই রেস্ট হাউজ অথবা টি রিসোর্ট-এ। এছাড়া মনোরম পরিবেশে একটু আয়েসে থাকার জন্য রয়েছে “ভ্যাকেশন রিসোর্ট”, হবিগঞ্জ মেইন রোডেই রয়েছে এই সুন্দর রিসোর্টটি। রিসোর্টে থাকা-খাওয়া থেকে শুরু করে আপনার কাঙ্খিত ট্যুরের সকল ধরনের সহযোগীতা পাবেন।

এ ছাড়া শ্রীমঙ্গল শহর ও শহরতলীতে গড়ে উঠেছে অনেকগুলো রেস্ট হাউজ ও আবাসিক হোটেল । শ্রীমঙ্গলের সব দর্শনীয় স্থান দেখতে হলে আপনাকে কমপে ৩/৪ দিন সময় নিয়ে আসতে হবে। শহরে খাওয়া দাওযার জন্য প্রচুর হোটেল রয়েছে। এর মধ্যে নুর ফুড্স, নোয়াখালী হোটেল, শাহ হোটেল, ঢাকা বিরানি হাউজ, হোটেল মধুমিতা-এর যে কোন একটিতে স্বল্প খরচে খাওয়ার কাজ সেরে নিতে পারেন।

ভাড়া

ঢাকা থেকে শ্রীমঙ্গলে ট্রেন চেয়ার কোচের ভাড়া ১৩৫ টাকা, ১ম শ্রেণীর চেয়ার ২০০ টাকা, শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কোচে ৩০০ টাকা এবং স্লিপিং কোচে ৩৬০টাকা। টিকিট সংগ্রহ করা যাবে কমলাপুর রেল স্টেশন থেকে।

বাসে ভাড়া পড়বে ৪০০ টাকা।

নিকটবর্তী দর্শনীয় স্থান

পরিকুন্ড জলপ্রপাত