বৈচিত্র্যময় পাশের দেশ 21/04/2016



প্রবাদ আছে, ভারত দেখলে, দেখা হয়ে যায় অর্ধেক পৃথিবী। ২৯ রাজ্যের মানুষের ভাষা, আচার-ব্যবহার, কৃষ্টি-কালচার, চিন্তা-ভাবনা, পোশাক-পরিচ্ছদ সব কিছুই আলাদা। ভারতের প্রতি রাজ্যের মানুষের আলাদা আলাদা স্বকীয়তা রয়েছে। রাজ্যভেদে প্রকৃতিও যেন ভিন্ন! আবহাওয়াতেও ভীষণ পার্থক্য। এক প্রান্তের মানুষ প্রচণ্ড দাবদাহে মারা যাচ্ছে, একই সময়ে আরেক প্রান্তে হিমাঙ্কের নিচে তাপমাত্রা থাকায় জনজীবন বিপন্ন হচ্ছে। অন্য প্রান্তে আবার ঝড়, বৃষ্টি, বন্যা-জলোচ্ছ্বাস। আরেক প্রান্তে চলছে বসন্ত। ভারত যেন বৈচিত্র্যময় এক দেশ।

টি-২০ বিশ্বকাপ ক্রিকেটের জন্য ভারতের এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে যাওয়ার সৌভাগ্য হয়। কলকাতা থেকে শুরু করে দিল্লি, চণ্ডীগড়, ধর্মশালা, বেঙ্গালুরু, মুম্বাই শহরের নানা চিত্র দৃষ্টিগোচর হয়েছে। ক্রিকেটের বাইরে বিভিন্ন রাজ্যের মানুষ, প্রকৃতি, সংস্কৃতি ও ভাষার সঙ্গেও পরিচয় হয়েছে…

পাহাড়ের সঙ্গে মেঘ, বরফ ও রোদ্রের মিতালী—স্থির চিত্রে ধর্মশালাকে দেখেই মন ছুঁয়ে যায়। বাস্তবে দেখার সৌভাগ্য হয়, ৮ মার্চ। একদিন পরেই ছিল ‘বাংলাদেশ বনাম নেদারল্যান্ডস’ ম্যাচ। টি-২০ বিশ্বকাপের প্রথম রাউন্ডের তিন ম্যাচ কভার করতেই ধর্মশালায় যাওয়া। জেলার নাম কাঙগ্রা। তারই শহর ধর্মশালা। হিমাচল প্রদেশের ছোট্ট ছিমছাম পাহাড়ি এক শহর। পাশেই পৃথিবীর ভূ-স্বর্গ জম্মু-কাশ্মীর। আরেক পাশে তিব্বত। এক পাশে রয়েছে শিমলা। এই শিমলাই হচ্ছে হিমাচল প্রদেশের রাজধানী। তিব্বতের প্রবাসী ১৬তম দালাইলামার অস্থায়ী কার্যালয় ধর্মশালায় হওয়ায় ছোট্ট শহরটি বিশ্বব্যাপী পরিচিত। টি-২০ বিশ্বকাপে প্রথম রাউন্ডে বাংলাদেশের তিনটি ম্যাচই ছিল ধর্মশালায়। টাইগারদের ম্যাচ কাভার করতে ঢাকা থেকে রওনা হয়েছিলাম ৭ মার্চ। রাতের ফ্লাইট। শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে কলকাতার সুভাষ চন্দ্র বোস বিমানবন্দর। রাতটা কলকাতাতেই কাটাতে হয়। পরের দিন ভোরের ফ্লাইটে দিল্লি। তারপর দিল্লি, সেখান থেকে ধর্মশালা, বিমানে যেতে সময় লেগেছিল ঘণ্টা খানেক। বাংলাদেশে থেকে ধর্মশালায় সরাসরি কোনো ফ্লাইট নেই। দিল্লি থেকেও দিনে মাত্র একটি বিমান যাওয়া আসা করে। পর্যটকের ভিড় থাকায় দিল্লি থেকে ধর্মশালার বিমানের টিকিট পাওয়াই কঠিন! কোনো ইভেন্ট থাকলে কয়েকগুণ বেশি দামে কিনতে হয় টিকিট। কখনো কখনো ৭ হাজার রুপির ভাড়া হয়ে যায় ২০-২২ হাজার রুপি পর্যন্ত। তবে দিল্লি থেকে সড়ক পথেও যাওয়া যায়। সেক্ষেত্রে সময় লাগবে ১৪-১৫ ঘণ্টা।

সে যাই হোক, ধর্মশালায় বিমান যখন অবতরণ করছিল তখন জানালা দিয়ে বাইরে তাকিয়ে মনে হচ্ছিল, ‘এ যেন ছবির থেকেও সুন্দর’। পাশের পাহাড়ে রোদ পড়ায় বরফগুলো চিক চিক করছে। দুষ্টু ‘সাদা মেঘ’ পাহাড়ের গায়ে চুম্বন এঁকে দিয়ে দৌড়ে পালাচ্ছে। বিমান থেকে নামার পর মনে হচ্ছিল যেন প্রতি কদমেই স্বপ্ন সিঁড়ি বেয়ে যাচ্ছি।

গন্তব্য ছিল হিমাচল প্রদেশ ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন স্টেডিয়াম। কাঙগ্রা বিমানবন্দর (ধর্মশালা) থেকে স্টেডিয়ামের দূরত্ব মাত্র ১২ কিলোমিটার। আঁকাবাঁকা পাহাড়ি পথ। টেক্সি ক্যাবে ভাড়া ৭০০ থেকে ৮০০ রুপি। ইন্টারনেট থেকে ধর্মশালার সম্পর্কে একটা আবছা ধারণা আগেই নিয়েছিলাম। তারপর টেক্সিচালক গল্পে গল্পে বর্ণনা করলেন, ধর্মশালার আদিঅন্ত সব!

অ্যাক্রিডিটেশন কার্ড নেওয়া ও নিরাপত্তার ঝক্কি ঝামেলা কাটিয়ে ধর্মশালা স্টেডিয়ামের প্রেসবক্সে যখন পৌঁছি তখন সন্ধ্যা। শুরু হয়ে যায় নিউজ পাঠানোর টেনশন। লম্বা ভ্রমণের ক্লান্তি, ক্ষুধা তখন গৌণ! পর্যটকদের সঙ্গে সাংবাদিকদের পার্থক্য বুঝি এখানেই, পর্যটকরা খোঁজে শুধু প্রকৃতির সৌন্দর্য আর সাংবাদিককে প্রকৃতির সৌন্দর্যের সঙ্গে নিজের অ্যাসাইনমেন্টের গুরুদায়িত্বও পালন করতে হয়। ডেড লাইনের আগেই পাঠাতে হয় প্রতিবেদন।

হোটেলে পৌঁছতে পৌঁছতে রাত সাড়ে ১০টা। ততক্ষণে ধর্মশালার আরেকটি রূপের সঙ্গে পরিচিত হয়ে যাই। দিনে যেখানে গরমে-ঘামে গা ভিজে যাচ্ছিল, রাতে সেখানে প্রচণ্ড শীতে গা কাঁপছে। মোটা-গরম কাপড়েও শীত নিবারণ হয় না!  ধর্মশালায় সকাল হাজির হয় যেন অনন্য রূপ বৈচিত্র্য নিয়ে। আমি যে হোটেলে ছিলাম, তার পাশেই ছোট একটি পাহাড়, নাম— ধলাধর! দুপুর ও বিকালে পাহাড়টি সবুজ, কিন্তু সকালে বরফ জমে ধবধবে সাদা। ধর্মশালার আবহাওয়া যেন ‘দ্য ভিঞ্চির’ আঁকা রহস্যময়ী ‘মোনালিসা’ প্রতিচ্ছবি। প্রচণ্ড রোদ, আর মুহূর্তের মধ্যেই নেমে যেতে পারে বৃষ্টি। সকালের আবহাওয়া এক রকম, বিকালে অন্যরকম, রাতে আবার সম্পূর্ণ ভিন্ন!

ধর্মশালার খাবার বৈচিত্র্যে ভরপুর। আর এই বৈচিত্র্যের পুরোটাই নিরামিষ কেন্দ্রিক। নিরামিষ খাবারই সেখানে বিখ্যাত। ছোট ছোট হোটেলে শত শত আইটেমের নিরামিষ। দুই একটি হোটেলে আমিষও পাওয়া যায়। তবে ‘ডিম’ পাওয়া যায় সব হোটেলেই। ধর্মশালার মানুষদের কাছে ডিম নিরামিষের মতোই। সবচেয়ে মজার খাবার হচ্ছে চাপাতি (বিশেষ এক ধরনের রুটি) ও পনিরের বিভিন্ন ধরনের তরকারি। সবজি পোলাওয়ের স্বাদ অসাধারণ। সকালের নাস্তা যেন জমেই না আলু পরাটা ছাড়া। সবজি দেওয়ায় ডিমের অমলেটের স্বাদ বেড়ে যায় কয়েকগুণ।

ধর্মশালা থেকে দিল্লির দূরত্ব প্রায় ৫০০ কিলোমিটার। আকাশ পথে মাত্র এক ঘণ্টা সময় লাগলেও আঁকাবাঁকা পাহাড়ি পথ বেড়ে ১৪-১৫ ঘণ্টা জার্নির পর পৌঁছে যাই ভারতের রাজধানী শহর দিল্লিতে। ধর্মশালার আসল সৌন্দর্য দেখা যায় সড়ক পথেই। ট্যাক্সি ধীরে ধীরে পাহাড়ের গা বেয়ে নিচের দিকে নামতে থাকে। প্রায় ২৫০ কিলোমিটার এভাবেই আসতে হয়। বিকালে পৌঁছে যাই পাঞ্জাবের রাজধানী চণ্ডীগড়ে। মজার বিষয় হচ্ছে, লম্বা পথ ট্যাক্সিতে বসে থাকার পরও কোনো ক্লান্তি আসেনি। চণ্ডীগড়ে এক রেস্টুরেন্টে ঘণ্টা দুয়েক বিশ্রাম। আসলে ঠিক বিশ্রাম নয়, প্রতিবেদন তৈরির জন্য বিরতি আর কি !

চণ্ডীগড় থেকে দিল্লি আসার সময় ট্যাক্সি যখন ঐতিহাসিক যুদ্ধক্ষেত্র পানিপথের ভিতর দিয়ে চলছিল তখন মনে রোমাঞ্চ কাজ করছিল। ১৫২৬ সালে এই পানিপথেই প্রথম যুদ্ধে মুঘল সম্রাট পরাজিত করেছিল দিল্লির সুলতান ইব্রাহিম লোদিকে। ১৫৫৬ সালে দ্বিতীয় যুদ্ধে মুঘল সম্রাট আকবর পরাজিত করে হিমুকে। ১৭৬১ সালে তৃতীয় যুদ্ধে আফগান অধিপতি আহমেদ শাহ আবদালি পরাজিত করে মারাঠি সম্রাট বালাভিল বাজি রাওকে। তারপর আরেকটি ঐতিহাসিক যুদ্ধক্ষেত্রে কুরুক্ষেত্র প্রান্তর পার করে পৌঁছে যাই দিল্লিতে।

রাত যাপনের পর সকালে দিল্লি থেকে এয়ার ইন্ডিয়ার সকালের ফ্লাইডে পৌঁছে যাই কলকাতা। সুপার টেন-এ বাংলাদেশের প্রথম ম্যাচ ইডেন গার্ডেনে। ১৯৯০ সালের পর প্রথমবারের মতো ক্রিকেটের নন্দন কাননে খেলতে নামছে টাইগাররা। প্রতিপক্ষ পাকিস্তান। রোমাঞ্চকর একটা ভাব সবার মধ্যে।

ইডেন গার্ডেন। বিদেশের মাটিতে টাইগারদের সবচেয়ে কাছের ভেন্যু। তারপরেও ভারতীয়দের অনিচ্ছার কারণেই সেখানে টেস্ট ও ওয়ানডে মর্যাদার পর কোনো ম্যাচই খেলার সুযোগ হয়নি বাংলাদেশের।

তবে ধর্মশালার ৬-৭ ডিগ্রি তাপমাত্রা থেকে বেরিয়ে হঠাৎ কলকাতার ৩৫-৩৬ ডিগ্রি তাপমাত্রায় মানিয়ে নেওয়ার বিষয়টি ছিল খুবই কষ্টকর। কিন্তু একটা মজার বিষয় হচ্ছে, কলকাতায় আসার পর সব কিছুকেই কেমন যেন খুবই আপন মনে হচ্ছিল। রাস্তায় বের হলেই পরিচিত মানুষের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। দোকানপাট, অধিকাংশ বাড়িঘর— সব কিছুই প্রায় ঢাকার মতোই। ভাষাও এক। কলকাতায় এত বেশি পরিচিত মানুষের সঙ্গে দেখা হয়েছে যে ঢাকাতেও হয়তো এত বেশি মানুষের সঙ্গে দেখা হয় না।

কলকাতার নিউমার্কেট এলাকার সব কিছুই যেন বাংলাদেশের মতোই। সেখানের হোটেলে পাওয়া যাচ্ছে গরুর কালো ভুনা। গ্রিল, নান রুটি, শিক কাবাব, বার-বি-কিউ সবই আমাদের মতো। বাঙালি বাঙালি মিল না থাকলে কী আর হয়!

কিন্তু সবচেয়ে বড় অমিলটা দেখা গেল ১৬ মার্চ ইডেন গার্ডেনে। পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ম্যাচে যেখানে ইডেনের গ্যালারি থাকার কথা ছিল বাংলাদেশের দখলে, যেখানে উল্টো চিত্র। গ্যালারি পাকিস্তানি সমর্থকে ভর্তি। আফ্রিদির ছক্কা-চারে উল্লাস হচ্ছে, সাকিব-তামিমদের বাউন্ডারিতে গ্যালারি নীরব। বড় অদ্ভুত দৃশ্য! চিরশত্রু পাকিস্তানকে তারা সমর্থন করছে!

কলকাতা নাইট রাইডার্সে খেলার কারণে সাকিব আল হাসান কলকাতায় ব্যাপক জনপ্রিয়। পান দোকানদার থেকে শুরু করে দিনমজুর সবাই সাকিবকে এক নামে চেনে। কিন্তু বাংলাদেশের হয়ে সাকিব যখন খেলছিলেন তখন ইডেনে তিনি যেন কেবল এক অতিথি ক্রিকেটার মাত্র। ওই ম্যাচে পাকিস্তানের কাছে বাংলাদেশ হেরেও যায় বাজেভাবে।

কলকাতা থেকে বাংলাদেশের পরের মিশন বেঙ্গালুরু। সিলিকন ভ্যালির শহর। ভারতের তথ্য প্রযুক্তির রাজধানী। কলকাতা থেকে বেঙ্গালুরুর দূরত্ব প্রায় তিন হাজার কিলোমিটারের মতো। বিমানে যেতে সময় লাগে পৌনে তিন ঘণ্টা। ট্রেনে গেলে ৩৬-৪০ ঘণ্টা। ২০ মার্চ বেঙ্গালুরু বিমানবন্দরে নেমেই মনে প্রচণ্ড ধাক্কা লাগে! সত্যি এটা ভারতের কোনো শহর তো! নাকি ভুল করে বিমান ইউরোপে নামিয়ে দিল। সব কিছু ঝকঝকে তকতকে। কলকাতার মতো ঘিঞ্জি নয়। যেখানে-সেখানে ময়লা-আবর্জনা নেই। সাজানো গোছানো ছবির মতো এক শহর। পোশাক পরিচ্ছদ সব কিছুই ভিন্ন। রাস্তা-ঘাটে ছেলে-মেয়ে, বুড়ো-বুড়ি অর্ধ-নগ্ন পোশাকে চলাফেরা করছে। ইভ টিজিং করা তো দূরের কথা কেউ কারও দিকে তাকাচ্ছেও না। বেঙ্গালুরুতে প্রচুর বার রয়েছে। মধ্য রাত পর্যন্ত ড্রিংকস করে যে যার মতো মজা করছে। নিরাপত্তার ভয় নেই।

বেঙ্গালুরুতে সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে খাবার ও ভাষায়। অধিকাংশ খাবারেই সেখানে নারিকেল ব্যবহার করা হয়। স্বাদটাও ভিন্ন রকম। হিন্দি সেখানে খুব বেশি মানুষ বোঝে না। সবাই কথা বলে কান্নাডা ভাষায়। হিন্দির চেয়ে সেখানকার মানুষ দ্বিতীয় ভাষা হিসেবে ইংলিশকেই বেছে নিয়েছে।

বেঙ্গালুরুর সব কিছু পশ্চিমা ধাঁচে গড়া। স্কুল, কলেজ, অফিস-আদালত —সব কিছু! তাই বেঙ্গালুরুকে ‘ভারতের ইউরোপ’ বলাই যায়। সেই বেঙ্গালুরুতে গিয়েই বিশ্বকাপ স্বপ্ন ভঙ্গ হয়ে যায় টাইগারদের। সেখানে গিয়েই তাসকিন আহমেদ ও আরাফাত সানির নিষিদ্ধ হওয়ার খবরটি পায় বাংলাদেশ দল।  মূলত বেঙ্গালুরুতেই টাইগারদের বিশ্বকাপ মিশন শেষ হয়ে যায়। তারপরেও গ্রুপের শেষ ম্যাচে কলকাতায় নিউজিল্যান্ডের মুখোমুখি হয়েছিল বাংলাদেশ। ওই ম্যাচে দল হারলেও ক্যারিয়ার সেরা বোলিং করেন কাটার মাস্টার মুস্তাফিজুর রহমান। মাত্র ২২ রানে নেন পাঁচ উইকেট।

বিশ্বকাপ তখন শেষ পর্যায়ে। বাকি কেবল তিন ম্যাচ। দুই সেমিফাইনাল ও ফাইনাল। দুই সেমিফাইনাল আবার দুই শহরে। প্রথমটি দিল্লি, দ্বিতীয় মুম্বাই। দুই সেমিফাইনালের মাঝে কোনো গ্যাপ নেই বলে দুই সেমিফাইনাল কাভার করার উপায়ও নেই। তাই মুম্বাইয়ের ম্যাচটিই বেছে নেই।

আমরা ছিলাম মুম্বাইয়ের মিঠাই পাড়া খ্যাত এলাকায়। মোহাম্মদ আলী রোডের দুই পাশে যেন শুধুই খাবারের দোকান। রস মালাই, রসগোল্লা, বিভিন্ন ধরনের বরফি, লাড্ডু, হালভা (আইসক্রিমের হালুয়া), জাবেরি, নানা রকমের পিঠা, মাইশুর প্যাক (বেসন, ঘি, চিনি দিয়ে তৈরি), শন পাপড়ি, পিস্তা, মালাই পুরি, মালাই বরফি, পাইন অ্যাপল হালুয়া— আর শত শত রকমের মিষ্টান্ন। সেখানকার সবচেয়ে মজার খাবার হচ্ছে বিশেষ ধরনের ফালুদা। মোহাম্মদ আলী রোডের ফালুদা না খেলে যেন মুম্বাইয়ে যাওয়াই বৃথা!

সূর্য পশ্চিমাকাশে ঢলে পড়তে না পড়তেই মোহাম্মদ আলী রোড লোকে লোকারণ্য। গোটা মুম্বাই শহরের লোকজন যেন মিষ্টির স্বাদ নেওয়ার জন্য সেখানে হামলে পড়ে। অবকাশ যাপন করতে মুম্বাইয়ের মানুষ মধ্যরাত পর্যন্ত আড্ডা দেয় মেরিন ড্রাইভে। পাড় বাঁধানো এই সড়কটি আরব সাগর থেকে মুম্বাই শহরকে আলাদা করেছে। এত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন যে গোটা মেরিন ড্রাইভে যেন এক বিন্দু ময়লাও খুঁজে পাওয়া যাবে না। কোনো ভাসমান দোকান নেই। পান সিগারেটের কোনো হকারকেও খুঁজে পাওয়া যাবে না। সাগর পাড়কে যে এত সুন্দর করে রাখা যায়, তা মুম্বাইয়ের মেরিন ড্রাইভে না গেলে বোঝাই যাবে না! এই মেরিন ড্রাইভের পাশেই তাজ হোটেল। যে হোটেলে ২০০৮ সালে সন্ত্রাসী হামলায় মারা গিয়েছিল ১৬৬ জন সাধারণ মানুষ। আহত হয়েছিল প্রায় ৬০০ জন। পাশেই ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়াম। ইডেন গার্ডেন যদি নন্দন কানন হয়, তবে ওয়াংখেড়ে অবশ্যই স্বর্গ তুল্য। স্টেডিয়ামের গ্যালারি থেকে সাগর দেখা যায়। বিশ্বকাপের ফাইনাল ম্যাচ কভার করতে আবারও চলে আসি কলকাতায়। সেমিফাইনালে ভারত বাদ পড়ে যাওয়ায় বিশ্বকাপের আমেজটাই নষ্ট হয়ে যায়। বাংলাদেশ নেই, উপমহাদেশের কোনো দেশও ফাইনালে নেই! তাই চাপও নেই। এই সুযোগে কলকাতা দেখার সুযোগ হয়।

রবী ঠাকুরের জোড়াসাঁকোর বাড়ি যাওয়া, মান্না দের বিখ্যাত কফি হাউসের গানের সেই কফি হাউসে আড্ডা দেওয়ার মজাই আলাদা। রাতে হাওয়া ব্রিজের সৌন্দর্য যেন পাগল করে দেয়। দিনে কলকাতাকে যত ঘিঞ্জি মনে হোক না কেন রাতের কলকাতা যেন স্বপ্নপুরী! সেই সুখস্মৃতি নিয়ে রাতেই কলকাতা থেকে দেশে ফিরি। 

সৌজন্যে : বাংলাদেশ প্রতিদিন

You might like