স্বর্ণের শহর 18/04/2016



দুবাই কে বলা হয় “বার্জ আল-আরব’ । এই শহরটি যেন সত্যিই মরুভূমির মধ্যে গড়ে ওঠা এক টুকরা সোনার শহর। কি নেই এই শহরে? মধ্যপ্রাচ্যের প্রাণকেন্দ্র বলা হয় দুবাইকে। উষর মরুভুমি সিক্ত করে বানানো হয়েছে দুবাই শহর। দুবাই আরব আমিরাতের সাতটি প্রদেশের মধ্যে একটি প্রদেশ। এটি পারস্য উপসাগরের দক্ষিণ তীরে আরব উপদ্বীপে অবস্হিত। দুবাইয়ের প্রধান রাজস্ব আয় হচ্ছে পর্যটন ,রিয়েল এস্টেট এবং অর্থনৈতিক সেবা। প্রতি বছর প্রায় ৭.৬ মিলিয়ন পর্যটক ভ্রমন করে দুবাই।

মনে প্রশ্ন জাগা স্বাভাবিক কেন প্রতি বছর দূর দুরান্ত থেকে এত মানুষ এত বিস্তর খরচা পাতি করে দুবাই শহরটিতে ভ্রমন করে , কেনই বা আপনি দুবাই যাবেন,আর প্রাচুর্যের এই শহরে কেন আপনি জীবনে একবার হলেও ঘুরতে যাবেন, তার উত্তরটা যেন রয়েছে এই শহরের অলিতে গলিতে।

 পৃথিবীর সব থেকে বড় ফুলের বাগান দুবাইতেঃ

মানুষ প্রিয়জনকে ফুল উপহার দেয়। আর উৎসব-উদযাপনে ফুলের কদরতো কয়েক গুণ বেড়ে যায়। ফুল পছন্দ করে না এমন মানুষ পাওয়া খুবই দুষ্কর। তাই অনেকে বাড়ির আঙিনায় ফুলের বাগান করেন। কেউ আবার জায়গার অভাবে এক চিলতে বারান্দা বা ছাদই বেছে নেন তবুও বাগান করতেই হবে। আমাদের মধ্যে অনেকেই আছেন শৌখিন প্রকৃতির। এদের বাড়িতে রয়েছে বড় বড় ফুলবাগান। আবার অনেকেই আছেন ফুল ব্যবসার জন্য ফুলের বাগান করে থাকেন।

পৃথিবীতে মানুষের হাতে গড়া এরকম হাজার হাজার ফুল বাগান রয়েছে।তবে সব বাগানকেই হার মানাবে মধ্য প্রাচ্যের সংযুক্ত আরব আমিরাতে অবস্থিত ‘দুবাই মিরাকল গার্ডেন’। অবশ্য হবে নাই বা কেন? এটাই যে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ফুলবাগান। এই ফুল বাগান দুর-দুরান্ত থেকে আনেক পর্যটক দেখতে আসেন।

দুবাইয়ের এ বাগানটির আয়তন ৭২ হাজার বর্গমিটার। এখান রয়েছে ৪৫ মিলিয়নেরও বেশি ফুল। সেসব ফুলের অনেকগুলোই আবার এ অঞ্চলে প্রথম লাগানো হয়েছে। বাগানটিকে সাজানো হয়েছে নানা রকম রঙিন ফুলের গাছ লাগিয়ে। ফুল গাছগুলোকে তারা, হার্ট, গাড়ি, ইগলু, পিরামিডসহ বিভিন্ন আকৃতি দিয়েছে।

বুর্জ খলিফা পৃথিবীর সব থেকে উঁচু বিল্ডিং:

বুর্জ খলিফা পৃথিবীর সেরা স্থাপত্যের মধ্যে একটি। পৃথিবীর সবচেয়ে লম্বা টাওয়ারের মধ্যে একটি। এটির উচ্চতা ৮২৮ মিটার এবং ১৬৩ তলা বিশিষ্ট ভবন। বর্তমানে পৃথিবীর গগনচুম্বী অট্টালিকা বা উচ্চতম ভবন যা ৪ঠা জানুয়ারী ২০১০ তারিখে উদ্বোধন করা হয়েছে। এটি আরব আমিরাতের দুবাই শহরে অবস্থিত। এটি “দুবাই টাওয়ার” নামেও পরিচিত। নির্মাণকালে এর বহুল প্রচারিত নাম বুর্জ দুবাই থাকলেও উদ্বোধনকালে নাম পরিবর্তন করে “বুর্জ খলিফা” রাখা হয়।

পাম গাছ আকৃতির দ্বীপ:

দ্য পাম আইল্যান্ড । নিউ ডাচ ড্রেজিং প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি করা হয়েছে এই প্রকান্ড দ্বীপটি । এটি বিশ্বের সর্ববৃহত কৃত্রিম দ্বীপ যা কিনা স্পেসশীপ থেকেও দেখা যায় । তিনটি পাম দ্বীপের মধ্যে এটিই সবচেয়ে বড় ।

মানুষের তৈরি পৃথিবী আকৃতির কৃত্রিম দ্বীপ:

দ্য ওয়ার্ল্ড আইল্যান্ড । ৩০০ টি কৃত্রিম দ্বীপের সমন্বয়ে তৈরি এই পৃথিবী আকৃতি দ্বীপ । প্রতিটি দ্বীপ তৈরিতে খরচ পরেছে প্রায় ২৫-৩০ মিলিয়ন ডলার ।

বার্জ আল আরব” পৃথিবীর একমাত্র ৭ তারকা হোটেল:

এটি বিশ্বের সবচেয়ে উঁচু হোটেল । দুবাইতে অবস্থিত ‘বার্জ আল-আরব’ হোটেলটি বর্তমানে পৃথিবীর সর্বোচ্চ হোটেল হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে। হোটেলটি উচ্চতায় ৩২১ মিটার। সমুদ্র তীর থেকে ২৮০ মিটার দূরে মানব সৃষ্ট কৃত্রিম দ্বীপে এ হোটেলের অবস্থান।

পৃথিবীর সর্বোচ্চ উচ্চতায় অবস্থিত টেনিস কোর্ট:

”বার্জ আল আরব” হোটেলের উপরে অবস্থিত, পৃথিবীর সর্বোচ্চ উচ্চতায় অবস্থিত টেনিস কোর্ট।

চালক বিহীন দুবাই মেট্রো:

দুবাই শহরের পর্যটকদের অন্যতম আকর্ষণ ও দ্রুত যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত পাবলিক পরিবহন দুবাই মেট্রো। এই মেট্রো প্রায় ৭৫ কিলোমিটার রাস্তা চালকবিহীন চলাচলের কারণে বিশ্বের দীর্ঘতম ড্রাইভারলেস মেট্রো ট্রেন হিসেবে গীনিস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে স্থান করে নিয়েছে। ৯টি ভূগর্ভস্থ স্টেশন সহ মোট ৪৭টি শীতাতাপ নিয়ন্ত্রিত স্টেশন নিয়ে ‘দুবাই মেট্রো’ নামে এই পাবলিক পরিবহনের পথচলা শুরু হয় ৯ সেপ্টেম্বর ২০০৯ সালে।

প্রায় ২৮ কোটি আরব আমিরাত দিরহাম ব্যয়ে ‘দুবাই মেট্রো’ নির্মিত হয়েছে মাত্র ৪ বছরে। ৩০ হাজার শ্রমিকের অক্লান্ত পরিশ্রমে ৫টি বিশ্বখ্যাত নির্মাণ প্রতিষ্ঠান ও দেড়’শ সহযোগী ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের তত্ত্বাবধানে নির্মিত হয় ৭৪.৬ কিলোমিটার দীর্ঘ এ রেললাইন। প্রতিদিন এ ট্রেনে প্রায় ১২ লাখ যাত্রী ভ্রমণ করতে পারে ।

‘দুবাই মেট্রো’র প্রত্যেকটি ট্রেনে তিনটি করে ক্লাস রয়েছে। এর মধ্যে ভিআইপিদের জন্যে গোল্ডেন ক্লাস, মহিলা ও শিশুদের জন্যে উইমেন এন্ড চিলড্রেন ক্লাস এবং সাশ্রয়ী ভাড়ায় সিলভার ক্লাস।এমনকি প্রকৃতিক বিপর্যয়ের কথা মাথায় রেখে তৈরি করা প্রত্যেক কম্পার্টমেন্টে প্রতিবন্ধীদের জন্যে রয়েছে আলাদা আসন।

দৈনিক ভোর ৫.৩০ থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত প্রতি ৫ মিনিট পর দুটি রুটে মেট্রো চলাচল করে। প্রতি স্টেশনে ৩০ সেকেন্ড থেকে ১মিনিট থামে এ ট্রেন। ছুটির দিন ও শুক্রবারে প্রচুর ভিড় থাকায় ছুটির দিনগুলোতে এর সময় পরিবর্তন করা হয়ে থাকে।

এত সুন্দরের সমাহার, এত বিখ্যাত স্থাপত্য যেন হাতছানি দিয়ে ডাকছে। ঘুরতে যাবার জন্য এবার প্রস্তুতীটা নিয়েই ফেলুন। দুবাই বলে কথা যার নামেই রয়েছে “City Of Gold”.

You might like