রঙে ভরা বৈশাখ 29/03/2016



কিছুদিন পরেই বাঙ্গালীর প্রাণের উৎসব পহেলা বৈশাখ ১৪২৩। পহেলা বৈশাখের আয়োজন নিয়ে সবার মধ্যে যে উদ্দীপনা তৈরি হয়েছে তা কিন্তু পথেঘাটে বের হলেই চোখে পড়ছে। বিশেষত শপিং সেন্টারগুলোর লাল-সাদার আয়োজন বলেই দেয়, যে বৈশাখ চলে এসেছে দোরগোড়ায়। বিশেষ এই দিনে হয়ত অনেকে বাড়িতে বসে বন্ধু-বান্ধব কিংবা আত্মীয়-পরিজন নিয়ে কাটিয়ে দেবেন। কারণ, বাড়ির বাইরে ঝকঝকে রোদ। আবার অনেকেই আছেন যারা এই দিনে ঘোরাঘুরিটাই সবচেয়ে আনন্দ মনে করেন। ভোরের আলো ফোটার সঙ্গে সঙ্গে বাড়ি থেকে বেরিয়ে পড়েন। সারাদিন এদিক-সেদিক ঘুরে পহেলা বৈশাখকে উপভোগ করেন তুমুল উৎসাহে। কিন্তু এমন অনেকেই আছেন যারা বেড়ানোর উদ্দেশে বাড়ি থেকে বের হলেও বুঝতে পারেন না কোথায় বেড়াবেন? 

রমনা বটমূল

নগরীর রমনা পার্কে অবস্থিত বটমূলে বসে পহেলা বৈশাখের প্রধান সাংস্কৃতিক উৎসব। ছায়ানটের আয়োজনে এ উৎসবে যোগ দেবেন দেশের বরেণ্য সাংস্কৃতিক ব্যক্তিরা। ভোরের আলো ফোটার সঙ্গে সঙ্গে 'এসো হে বৈশাখ, এসো এসো' গানের মাধ্যমে বরণ করে নেয়া হবে নতুন বছরকে। তারপর দিনব্যাপী চলবে গান, নৃত্য, আবৃত্তি, আলোচনা ও বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। পহেলা বৈশাখে চলে যেতে পারেন সেখানে। দিনব্যাপী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপভোগের পাশাপাশি আশপাশের কোনো দোকানে বসে পান্তা ইলিশ খেয়ে বাড়ি ফিরতে পারবেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে হৈচৈ করা

বিশ্ববিদ্যালয়কে বলা হয় চির-বসন্তের বাগান। আর আমাদের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় হল সেই বাগানের মধ্যে বাগান। বাংলাদেশের ক্রিকেট খেলায় জয়লাভ থেকে শুরু করে যে কোন জাতীয় উৎসবে এই প্রাঙ্গণটি হয়ে ওঠে রঙ্গিন। তাই যারা হৈচৈ করতে পছন্দ করেন তারা চলে আসতে পারেন চারুকলার শোভাযাত্রায়, টি এস সি বা কলা ভবনের অনুষ্ঠানে। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে পেয়ে যাবেন গ্রাম বাংলার মেলার পরিবেশ। মানুষ চালিত নাগর দোলায় দোল খেতে পারেন আপনার শিশুকে নিয়ে। আর ভাগ্য ভাল থাকলে পেয়ে যাবেন কুলফি আইসক্রিম।

চারুকলার মঙ্গল শোভাযাত্রা  

পহেলা বৈশাখ সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ প্রতিবারের মতো এবারও বের করবে মঙ্গল শোভাযাত্রা। বরেণ্য শিল্পী-সাহিত্যিক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিদের পাশাপাশি এতে যোগ দেবেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রী ও সংস্কৃতিমনা লোকজন। আপনিও যোগ দিতে পারেন এতে। পুরনো সব অমঙ্গল দূর হয়ে যেন নতুন ও মঙ্গলজনক কিছু প্রাপ্তি হয় এ প্রত্যাশায়ই শোভাযাত্রার আয়োজন।


 

পুরান ঢাকায় পেট পূজা

ঠাটারি বাজারের স্টার এর খাসির লেগ-রোস্ট, ফালুদা
নাজিরা বাজারের গরুর চাপ, হাজির বিরিয়ানি
নাজিরা বাজার থেকে বঙ্গবাজারের দিকে আসতে বিঊটির প্রাণ জুড়ানো লেবুর শরবত, দাম পড়বে ১৫ টাকা
লাল বাগের কেল্লার কাছে নান্নার স্পেশাল মোরগ পোলাও বা রয়েলের পেস্তাবাদামের শরবত।
চকবাজারে নুরানির শরবত, লাচ্ছি। লাচ্ছি পড়বে ১৫ টাকা আর আপনি যদি স্পেশাল লাচ্ছি খেতে চান তাহলে দাম পড়বে ২৫ টাকা
যেহেতু পুরান ঢাকার বেশীরভাগ মানুষ ব্যবসায়ী, তাই, আমাদের পহেলা বৈশাখের সবচেয়ে ঐতিহ্যবাহী কর্মকাণ্ড-হালখাতার সাথে আপনার পরিচয় হয়ে যেতে পারে।

রবীন্দ্র সরোবরে সন্ধ্যা কাটানো

যারা ভাবছেন, এত রোদের মধ্যে ঘোরাঘুরি করার কি দরকার? তারা সারাদিন বাসায় কাটিয়ে চলে আসতে পারেন বিকেলে ধানমন্ডীর লেকের পাশে রবীন্দ্র সরোবরে। সন্ধায় মুক্ত মঞ্চে চলবে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, আর আপনি সেটা উপভোগ করবেন গরু বা মুরগির চাপ সাথে গরম লুচি, অথবা চটপটী ফুচকা দিয়ে। আর গরুর দুধের এলাচ চা তো আছেই সেই সাথে। সত্যি কথা বলতে আপনার সময়টা খারাপ যাবে না।

জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়

যারা মানুষের ভিড় ছেড়ে একটু খোলা হাওয়ায় যেতে চান তাঁদের জন্য সবচেয়ে ভাল হবে জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়। সেখানে আপনি প্রকৃতির কাছাকাছি থেকে নতুন বছরকে বরণ করে নিতে পারবেন। আর যাদের সময় আছে তাঁরা ইচ্ছা করলে সন্ধ্যায় নানা রকম সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপভোগ করতে পারেন।

সোনারগাঁও লোকশিল্প যাদুঘর

সত্যি বলতে বাংলাদেশের ঐতিহ্য আর সংস্কৃতিকে ধারণ করে আছে ঢাকার অদূরে সোনারগাঁও এর লোক শিল্প যাদুঘর। সেই সাথে আপনি যেতে পারেন পানাম নগরে যা আপনাকে নিয়ে যাবে আমাদের সোনালী অতীতে। জামদানি শাড়ী কিভাবে হয় তা নিজের চোখে দেখে আসতে পারবেন আর ইচ্ছা করলে কিনতেও পারবেন। পহেলা বৈশাখের সবচেয়ে বড় মেলা গুলোর মধ্যে একটিও দেখা হয়ে যাবে আপনার।

কিন্তুু শুধু ঘুরে বেরালেই চলবে না। কিছু টিপসও মেনে চললে পহেলা বৈশাখের দিন বিপদে পড়ার সম্ভাবনা কম থাকে। আসুন তাহলে জেনে নেয়া যাক পহেলা বৈশাখের জন্য কিছু টিপস সম্পর্কে। 

  • বাইরে বের হওয়ার আগে অবশ্যই এক বোতল পানি নিয়ে নিন সঙ্গে।
  • পহেলা বৈশাখের দিন অনেক হাঁটাহাঁটি করতে হয়। তাই এইদিন উঁচু হিল জুতা না পরাই ভালো।
  • খুব বেশি জবড়জং কাপড় পরবেন না এই দিনে। কারণ রোদের মধ্যে গেলে জবড়জং কাপড় পরে আপনার সাজ পোশাক পুরোটাই নষ্ট হয়ে যাবে এবং সেই সঙ্গে প্রচন্ড অস্বস্তি লাগবে।
  • বাইরে বের হওয়ার সময় কিছু শুকনো খাবার নিয়ে নিন ব্যাগে। পহেলা বৈশাখে অনেক খাওয়ার দোকান থাকে পথেঘাটে। কিন্তু সেগুলোর অধিকাংশ গুলোতেই থাকে বাসি খাবার যা পেটের অসুখ সৃষ্টি করার সম্ভাবনা থাকে।
  • পহেলা বৈশাখের দিন অতিরিক্ত গরম ও রোদ থাকে। তাই বাইরে বের হওয়ার আগে সঙ্গে নিন ছাতা, ছোট হাত পাখা ও একটি সানগ্লাস।
  • পহেলা বৈশাখে অধিকাংশ যায়গাতেই বসার যায়গা থাকে না। আর সাদা কাপড় পরে তো যেখানে সেখানে বসাও যায় না। তাই সঙ্গে একটি পুরোনো খবরের কাগজ রাখুন। তাহলে যেকোনো যায়গায় খবরের কাগজ বিছিয়ে বসে বিশ্রাম নিতে পারবেন।
  • নারীরা সাথে অবশ্যই সেফটিপিন ও চিরুনি রাখুন।
  • পকেটে পর্যাপ্ত ভাংতি টাকা নিয়ে বের হবেন।
  • বাচ্চাদের নিয়ে সকালে বের হলে ১২ তার আগেই বাসায় ফিরে আসুন, কিংবা বিকালে বেড়াতে যান।
  • হুজুগে পড়ে অস্বাস্থ্যকর পান্তা-ইলিশ খেয়ে অসুস্থ হবেন না যেন।
  • ভিড়ের মাঝে নিজের দামী মোবাইল বা ল্যাপটপ সম্পর্কে খুব সাবধান, বাচ্চাদের হাত একটু জন্যও ছাড়বেন না।

আশা করি আপনার পহেলা বৈশাখ অনেক আনন্দে কাটবে। 

You might like