ঘুরতে ঘুরতে কক্সবাজারের সৈকতে 28/03/2016



বাংলাদেশের দক্ষিণ পূর্বাঞ্চলের একটি পর্যটন শহর হচ্ছে কক্সবাজার। নৈসর্গিক সৈন্দর্যের জন্য বিশ্বের বৃহত্তম এই সমুদ্র সৈকতটিতে প্রতি বছর হাজার হাজার দেশি-বিদেশি পর্যটকের সমাগম হয়। প্রাকৃতিক বালুময় সৈকতটি কক্সবাজার শহর থেকে বদরমোকাম পর্যন্ত ১২০ কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত।

সাধারণত বিকেলে পর্যটকদের ভীড় বেশি হয়। তারা কেউই সন্ধ্যায় সূর্যাস্ত দেখার সুযোগ হাতছাড়া করতে চায় না। বিস্তৃর্ণ বেলাভূমি, সারি সারি ঝাউবন, সৈকতের বিশাল ঢেউ ইত্যাদির সৌন্দর্য উপভোগ করতে আসতে পারেন এখানে।

কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের লাবণী পয়েন্টকে প্রধান হিসেবে ধরা হয়। এই পয়েন্টটি শহরের সবথেকে নিকটে অবস্থিত। কক্সবাজার বেড়াতে এসে শুধু লাবণী পয়েন্টে থেমে থাকবেন না। এখান থেকে ১২-১৪ কিলোমিটার দক্ষিণে দেখতে যাবেন হিমছড়ি। এখানে রয়েছে দেশের একমাত্র শীতল পানির ঝরনা। যাওয়ার পথে একপাশে রয়েছে বিশাল জলরাশি, অন্যপাশে সবুজে ঘেরা পাহাড়। হিমছড়ির পাহাড় চূড়ায় অবশ্যই উঠবেন। সেখান থেকে পুরো সমুদ্র এক নজরে দেখা যায়।

হিমছড়ি যখন এসেই পড়েছেন সেখান থেকে আরো ৮-১০ কিলোমিটার পূর্বদিকে যাবেন। সেথায় ইনানী সৈকত আপনার জন্য তার সৌন্দর্য সাজিয়ে রেখেছে। একে মিনি সেন্টমার্টিনও বলা হয়। বিস্তৃত পাথুরে সৈকতে রয়েছে প্রচুর প্রবাল।

যেভাবে যাবেন: কক্সবাজার আসতে হলে চট্টগ্রাম শহর থেকে ১৫২ কিলোমিটার দক্ষিণে আসতে হবে। ঢাকা থেকে এর দূরত্ব ৪১৪ কিলোমিটার। সড়ক পথ, আকাশপথেও আসা যায়।

লাবণী পয়েন্ট থেকে হিমছড়ি যাওয়ার জন্য ব্যাটারি চালিত অটোরিকশা (স্থানীয়রা বলে টমটম), লেগুনা ইত্যাদিতে যাবেন। চালকরা আপনাকে বোঝাবে রিজার্ভ যেতে। কিন্তু রিজার্ভ নিবেন না। বলবেন লোকাল যাব। ভাড়া পর্যটকদের কাছে বেশিই চায়। কক্সবাজার-চট্টগ্রামের ভাষায় কথা বললে সঠিক ভাড়া চাইবে।

থাকার ব্যবস্থা: কক্সবাজারে প্রায় পাঁচশত এর মত হোটেল মোটেল, রিসোর্ট ও কটেজ রয়েছে। বন্ধুরা মিলে আসলে কলাতলীর দিকে ৫০০-১০০০ টাকাতেই থাকার মত রুম পাবেন। ফ্যামিলি সহ আসলে ৪-৫ হাজার থেকে বেশি ভাড়ায় হোটেল নিবেন। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ফোনের মাধ্যমেই বুকিং দেয়া যায়। কয়েকটির নাম ও ফোন নাম্বার দিলাম:

  • মোটেল শৈবাল (বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশন পরিচালিত): ০৩৪১-৬৩২৭৪
  • হোটেল নিরিবিলি: ০৩৪১-৬৩১৯৪
  • সিগাল হোটেল: ০৩৪১-৬২৪৮০-৯১
  • হোটেল মিডিয়া ইন্টারন্যাশনাল: ০৩৪১-৬২৮৮১-৮৫ ইত্যাদি।

হোটেলগুলো বুকিং না দিলেও সমস্যা নেই। কক্সবাজার এসেও দেখে শুনে ভাড়া করা যাবে।

সতর্কতা: ভাঁটার সময় পানিতে নামবেন না, নির্ধারিত স্থান ও সময়েই নামবেন। সৈকতে ছাতার নিতে ৩০ টাকা ঘন্টায় ঘুমাতে পারেন তবে মোবাইল ক্যামেরা সাবধান। সবকিছু দরদাম আগেই ঠিক করে নিবেন। নিজস্ব ক্যামেরা থাকলে ভাল। 

না থাকলে সৈকতে পর্যটন কর্পোরেশন অনুমোদিত ফটোগ্রাফারদের কাছে উঠবেন, কত কপি উঠবেন, কত টাকা লাগবে তা ঠিক করে নিবেন। কোন অতিরিক্ত ফটো তুলতে দিবেন না। কারণ পরে ওগুলোরও টাকা নিবে। আপনার যেকোন সমস্যা কোস্টগার্ড ও ট্যুরিস্ট পুলিশকে অবহিত করবেন। শুনেছি এদের সেবার মান ভাল।

ছুটির দিনে, অবসরে বা প্রিয়জনের আবদার মেটাতে চলে আসতে পারেন কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে। আর যদি সুযোগটি করে নিতে পারেন বিশেষ বিশেষ দিন যেমন স্বাধীনতা দিবস, বিজয় দিবস, পহেলা বৈশাখ তাহলে আরো বেশি আনন্দ পাবেন। এই সময়গুলোতে ওপেন কনসার্ট থাকে। তো আজই আসুন। না আসতে পারলে ঠিক করে রাখুন পরবর্তীতে কখন আসবেন।

You might like