পাহাড়ের গায়ে হেলান দিয়ে আকাশ ঘুমায় যেখানে 28/03/2016



মেঘ দেখতে আমরা দার্জিলিং যাই, শিলং যাই; কিন্তু কে জানত, দেশের মধ্যেই এমন জায়গা আছে, যেখানে সত্যিকারের মেঘ এসে নিত্য ভিজিয়ে দেয়, ঝাপসা করে দেয় চারদিক !

জায়গাটার নাম সাজেক।মায়ার রাজ্য এই সাজেক। অবস্থান রাঙামাটি জেলায়। কিন্তু যেতে হয় খাগড়াছড়ি হয়ে। সাজেক যাওয়ার পথটাও দেশের সবচেয়ে উঁচু সড়ক। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সদস্যরা কিছুদিন আগেই রাস্তাটা বানিয়ে শেষ করেছে। খাগড়াছড়ি শহর থেকে দীঘিনালা, তারপর বাঘাইহাট হয়ে সাজেক। পুরো রাস্তাটাই অপূর্ব, আশপাশের দৃশ্য বড় মনোরম। বেশির ভাগ সময় রাস্তাটাকে রোলার কোস্টারই মনে হয়।

সাজেকে সকাল আসে স্নিগ্ধতার পরশ ছুঁয়ে উপত্যকাজুড়ে সাদা -মেঘের  লুকোচুরি খেলা খেলতে খেলতে। ভোরের সাজেক যেন সাদা মেঘের ভেলার আচ্ছাদন।
পূর্ণিমার আলোয় আলোকিত পুরো পাড়া। সহস্র নক্ষত্রে ঢাকা সাজেকের বিস্তৃত আকাশ আর নক্ষত্রের আলোয় নিচের পৃথিবী, ধবধবে জ্যোৎস্না গায়ে মেখে আলোয় আলোকিত উপত্যকার পুরো রাজ্য।
জ্যোৎস্না রাতের আলোয় কাছে দূরের পাহাড়ের ভাঁজে ভাঁজে জেগে উঠছে ঘন সাদা কুয়াশা। এমনই ঘন যে কুয়াশাকে মনে হয় মেঘের ভেলা। এ রকমই মেঘের ভেলায় ডুবে যাওয়া পাহাড়ের চূড়াকে মনে হচ্ছিল সমুদ্রের পানিতে দাঁড়িয়ে থাকা বিচ্ছিন্ন দ্বীপ। বিভ্রম জাগে, এ কি আমাদের চেনা বাংলাদেশ !

সবুজে মোড়ানো প্রকৃতির মাঝে আঁকাবাঁকা সর্পিল পথ বেয়ে দুঃসাহসিক এই ভ্রমণ যেখানে ফুরাবে, সেটাই সাজেকের মূল কেন্দ্র। নাম রুইলুইপাড়া। ছবির মতো পথঘাট। পথের দুপাশে লাল-সবুজ রঙের বাড়ি। কাছে-দূরের সব পাহাড়ের ভাঁজে ভাঁজে মেঘ জমে আছে।

রুইলুইপাড়া থেকে আরেকটু দূরে কংলাকপাড়া। টেনেটুনে ২০টি ঘর। হেঁটে যেতে আধঘণ্টা। সেখানে থেকে সাজেক ভ্যালির বড় অংশটা দেখা যায়।

সাজেকের আনন্দ বারান্দা বা খোলা জায়গায় বসে বা শুয়ে মেঘের আনাগোনা দেখা। হঠাৎ হঠাৎ এক টুকরো মেঘ অথবা বৃষ্টি এসে  ভিজিয়ে দিয়ে যায়। এভাবেই বদলে যায় দৃশ্যপট। হঠাৎ হঠাৎ সব এমনই ফকফকা যে সীমান্তের ওপারে পাহাড়ের ঘরবাড়ি, ঝরনা, মন্দির পর্যন্ত দেখা যায়। কিছুক্ষণ বাদেই হয়তো মেঘ এসে ঢেকে দেয় চারদিক।

রুইলুইপাড়ায় রোজ সকাল আর বিকেলের দিকে আদিবাসী ঘর থেকে ভেসে আসে সুমধুর গান। তাদের নিজস্ব ভাষা ও সুরের।

ভ্রমণকাল: ২ দিন ৩ রাত

জনপ্রতি মাত্র ৫,৫০০ টাকা 

যোগাযোগের ঠিকানা : ০১৮১১৪৮০৮৩৩, ০১৮১১৪৮০৮৩২

ভ্রমণের বিবরণী :  

বৃহস্পতিবার (২৮ এপ্রিল) রাতের বাসে খাগড়াছড়ির উদ্দ্যেশে যাত্রা

১ম দিন :
সকালে হোটেল ফ্রেশ হবো,সকালের নাস্তা করে রওনা করবো সাজেকের পথে, দুপুর নাগাদ  পৌঁছাব সাজেক ভ্যালীতে ।
দুপুরের অাহার শেষ করে বিকেলে ঘুরে অাসবো কংলাক পাড়ায়,পাড়া থেকে সূর্যাস্ত দেখে ফিরে অাসবো রুইলুই পাড়ায় ।
রাত যাপন -সাজেক ভ্যালীতে ( রির্সোট )

২য় দিন :
সকালে সূর্যোদয় দেখবো তারপর সকালের নাস্তা করে রওনা হবো খাগড়াছড়ির উদ্দেশ্যে । দুপুরের অাহার অাদিবাসী রেস্তোরাঁয় সেরে ফেলবো ।
সারা দিন ঘোরাঘুরি করে রাতের অাহার শেষ করে রওনা করবো ঢাকার পথে ।

খাবার মেন্যু-
সকালের নাস্তা -ডিম +সবজি +পরটা +চা (২ বেলা)
দুপুরের অাহার -দেশী মোরগ /মাছ+সবজি +ডাল
রাতের অাহার - দেশি মোরগ/মাছ +সবজি +ডাল
সাজেকে বার -বি -কিউ

স্পেশাল ডিনার : মাশরুম + ফিশ ফ্রাই +ভর্তা +মুরগী /হাঁস +থানকুনির সালাদ +ডাল +সাদা ভাত

যা যা দেখব :১. সাজেক ভ্যালী ২.কংলাক পাড়া ৩.দিঘিনালা বন বিহার. ৪ কৃষি গবেষণা কেন্দ্র ৫. অালুটিলা তারেং ৬.রিছাং  ঝরনা ৭. অালুটিলা রহস্যময় সুড়ঙ্গ ৮.সাকংসস নগর বৌদ্ধ মন্দির ৯.জেলা পরিষদের পার্ক

খরচ - ৫৫০০ জনপ্রতি

খরচের অন্তভুর্ক্ত :
* ঢাকা -খাগড়াছড়ি-ঢাকা ননএসি বাস
*অভ্যন্তরীন পরিবহন (খাগড়াছড়ি -সাজেক -খাগড়াছড়ি)
* ৬ বেলা খাবার ( ২ ব্রেকফাস্ট, ২ দুপুরের অাহার, ২ বেলা রাতের খাবার)
* রির্সোটে রাতযাপন
* অাসা -যাওয়ার পথে হোটেলে ফ্রেস হওয়া
* প্রবেশ ফি

যোগাযোগের ঠিকানা : ০১৮১১৪৮০৮৩৩, ০১৮১১৪৮০৮৩২

 

You might like