স্বপ্ন নগরী কলকাতার অপরূপ সৌন্দর্য 27/03/2016



কলকাতা, ভারতের পূর্বাঞ্চলের বৃহত্তম শহর। ঔপনিবেশিক শহরটিকে পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী বলা হয়ে থাকে। প্রাচীন ঔপনিবেশিক সংস্কৃতির অদ্ভুত মিশ্রণ, বাংলা সংস্কৃতির স্পন্দন, ঐতিহাসিক ব্রিটিশ স্থাপনা আর ব্রিটিশ উপমহাদেশীয় অভিব্যক্তি সমৃদ্ধ শহর। পাশ্চাত্য শিল্পের মিশ্রণ এবং প্রাচীন শিল্পশৈলীতে ভরপুর আধুনিক কলকাতা পর্যটন রাজ্যের অন্যতম একটি শহর। ব্রিটিশ আমলের সুদীর্ঘ লাল দালানে ভরপুর কলকাতা শহর। বাঙালিয়ানা সংস্কৃতি, ভাষার ঐক্য আর ভৌগোলিক অবস্থান সব মিলিয়ে কলকাতা ভ্রমণ পর্যটকদের বিশাল প্রাপ্তি।

কলকাতা (পূর্ব নাম ক্যালকাটা) হলো পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী। কলকাতা ভারতের বুকে এক বাংলা। বৈচিত্র্যময় একটি শহর। পাশ্চাত্য শিল্পের মিশ্রণ, প্রাচীন স্থাপত্য এবং শিল্পশৈলীতে ভরপুর কলকাতা ভ্রমণপিপাসুদের কাছে স্বপ্নের নগরী। এখানকার মানুষের শিক্ষা, সংস্কৃতি আর ঐতিহ্য এবং আতিথেয়তা বেশ মজার। ৩০০ বছরের প্রাচীন ঐতিহ্য এবং স্পন্দনশীল সাংস্কৃতিক পটভূমিসহ হূদয়স্পর্শকারী মনোমুগ্ধকর শহর কলকাতা।

কলকাতার ইতিহাস : ইতিহাস ঘাঁটলেই মিলবে কলকাতা নামের বৈচিত্র্যতা আর ইতিহাস। দাদাদের কলকাতা ব্রিটিশ শাসনামল থেকেই গোটা উপমহাদেশের কর্তাদের শহর হিসেবে পরিচিত ছিল। কথিত আছে, কিংবদন্তি শিবের স্ত্রীর দেহচ্ছেদের পর তার আঙ্গুল যে স্থানে পড়েছিল তা বর্তমানে কালীঘাটের কালীমন্দির নামেই বেশ পরিচিত। মন্দিরটির নামানুসারেই সম্ভবত কলিকাতার নামকরণ করা হয়। তবে, ব্রিটিশদের দেওয়া নাম ছিল ক্যালকাটা, যা কলিকাতার ইংরাজি রূপান্তর। ব্রিটিশরা গোটা উপমহাদেশকে এখান থেকেই পরিচালনা করতেন।

কীভাবে যাবেন : বাংলাদেশি পর্যটকদের জন্য কলকাতায় বিমান, সড়ক এবং রেলপথে খুব সহজেই পৌঁছানো যায়। ঢাকা থেকে বিমানে সুভাষ চন্দ্র বসু বিমানবন্দরে যাওয়া যাবে। রেলপথে ঢাকা-কলকাতার ‘মৈত্রী এক্সপ্রেস’-এ করে কলকাতায় পৌঁছাতে পারবেন। ঢাকা থেকে বাই রোডে শ্যামলী পরিবহনে সরাসরি কলকাতায় পৌঁছাতে পারবেন। ঢাকার কল্যাণপুর, শ্যামলী ও গাবতলীতে বাস সার্ভিস রয়েছে। ঢাকা থেকে ছেড়ে যাওয়া বাস কলকাতার নিউমার্কেটে গিয়ে থামে।

ভিসা প্রসেসিং : ভারতে ভ্রমণকারীদের জন্য ভারত সরকার বিভিন্ন মেয়াদের ভিসা প্রদান করে থাকে। ভিসা প্রসেসিং করার জন্য সবার আগে ই-টোকেন সংগ্রহ করতে হয়। ই-টোকেন আবেদনের তিন কার্যদিবসের মধ্যে ভিসা প্রদান করে থাকে। তবে ভিসার আবেদন প্রক্রিয়াকরণ ও সিদ্ধান্তের বিষয়টি নির্ভর করে ভারত হাইকমিশনের ওপর। ঠিকানা : ভারত হাইকমিশন, লেক ভিউ, বাড়ি ১২, সড়ক ১৩৭, গুলশান-১, ঢাকা-১২১২।

Tourist-Visa-Documents

প্রয়োজনীয় কাগজপত্র : ভারত ভ্রমণের ভিসা প্রসেসিং-এর জন্য প্রয়োজন বৈধ পাসপোর্ট, সাদা ব্যাকগ্রাউন্ডের ২ কপি ছবি, কর্মস্থলের ছুটির সার্টিফিকেট, ভ্রমণ ভিসার অনুমোদনপত্র, বিদ্যুৎ বিলের মূল কপি, বিমানের টিকিট ও হোটেল বুকিংয়ের কপিসহ ছয় মাসের ব্যাংক স্টেটমেন্ট ইত্যাদি।

থাকা-খাওয়া : প্রতি বছর লাখ লাখ মানুষ ছুটিতে, ব্যবসা ও শিক্ষা-সংক্রান্ত সফরে দেশের এক ব্যস্ততম শহর কলকাতায় ভ্রমণ করতে আসেন। পুরনো স্থাপত্যশৈলীতে নির্মিত হোটেলগুলো শহরের স্পন্দনশীল জীবনধারার একটি আভাস দেয়। ঔপনিবেশিক আমলের ইংরেজদের দ্বারা নির্মিত ও পরিকল্পিত এক কাঠামোয় আপনি বাস করতে পারেন অথবা আপনি আধুনিক পরিকাঠামোযুক্ত কোনো বাসস্থানও বেছে নিতে পারেন। রয়েছে দেশি-বিদেশি মজাদার খাবারের ব্যবস্থা।

কেনাকাটা : কলকাতা পর্যটকদের ‘কেনাকাটার স্বর্গোদ্যান’ বলা হয়ে থাকে। এ শহরজুড়ে বহু বাজার রয়েছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য থেকে ফ্যাশনের অনেক কিছুই একই ছাদের নিচে পাওয়া যায়। কলকাতার নিউমার্কেট, বিগবাজার ও সিটিহার্ট শপিং সেন্টারগুলো বেশ জনপ্রিয়।

জেনে রাখুন
কলকাতায় খাবারের দাম দেখে তাজ্জব হয়ে যান বহিরাগতরা। কাঁচা বাজার তো বটেই, রেস্তোরাঁও তেমন খরচ হয় না এখানে। সর্বোপরি এ শহরে বিভিন্ন স্তরের ফুড জয়েন্টা থাকায় অপশন অনেক বেশি।
কলকাতায় গাড়ি ভাড়াও বেশ কম। মিটার ট্যাক্সি কলকাতায় দাপিয়ে বেড়ায়। তা ছাড়া মেট্রোর ভাড়াও একবারেই কম।
জামা-কাপড়, বিশেষত শাড়ি কেনাকাটার ব্যাপারে আমাদের দেশের পর্যটকরাও কলকাতাকেই পছন্দের তালিকায় রাখেন।

দর্শনীয় স্থান : প্রাচীন ঔপনিবেশিক শহুরে লাল ইটের দালান আর ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের বহু নিদর্শন কলকাতাবাসীর কাছে বেশ তাত্পর্যপূর্ণ। বিখ্যাত সব স্থাপনা ও অত্যাশ্চর্য সব প্রাচীন ঐতিহাসিক মন্দির নিয়ে কলকাতার ঐতিহ্য বেশ পুরনো।

ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল : রানী ভিক্টোরিয়ার স্মৃতিতে নির্মিত ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল কলকাতার ঐতিহাসিক স্থান। ব্রিটিশরা ১৯২১ সালে এটি নির্মাণ করে। কল্পিত এ জাদুঘরে ব্রিটিশদের বহু নিদর্শন বিদ্যমান। গোটা উপমহাদেশ শাসনের অনেক স্মৃতি এখানে সংরক্ষিত। জাদুঘরে রয়েছে ২৫টি গ্যালারি। বিভিন্ন অ্যান্টিক নিদর্শন এবং হস্তনির্মিত শিল্পকর্ম এখানে প্রদর্শিত হয়।

হাওয়ার্ড ব্রিজ : কলকাতায় খিলানের ওপর নির্মিত সেতু রয়েছে।  ঐতিহাসিক হাওয়ার্ড সেতুটি বিশ্বের সবচেয়ে বড় লোহার সেতু। হুগলি নদীর ওপর নির্মিত সেতুটি রবী সেতুও বলা হয়।

জোড়াসাকোঁ ঠাকুরবাড়ি : বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বংশদত্ত বাড়িটিকে কলকাতায় জোড়াসাকোঁ ঠাকুরবাড়ি বলা হয়। বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের দাদা দ্বারকানাথ ঠাকুর ১৮শ শতাব্দীতে বাড়িটি নির্মাণ করেন। বর্তমানে এটি রবীন্দ্র ভারতী বিশ্ববিদ্যালয় এবং বিশ্ব কবির জাদুঘর হিসেবে পরিচিত।

পার্ক স্ট্রিট : এটি কলকাতার অন্যতম আড্ডাখানা। পার্কস্ট্রিট আবার ফুড স্ট্রিট নামেও বেশ পরিচিত। সন্ধ্যায় এখানে প্রায় ৭০-৮০টি স্পটে বেশ জমজমাট আড্ডা চলে। পর্যটকরা এখানে বেড়াতে এলে সন্ধ্যায় আড্ডায় মেতে ওঠে। রাতের কলকাতা দেখতে পাবেন এখানে।

ইন্ডিয়ান মিউজিয়াম : উপমহাদেশের বিশ্বমানের জাদুঘরের অন্যতম উদাহরণ কলকাতার ইন্ডিয়ান মিউজিয়াম। এটি এশিয়ার অন্যতম সংগ্রহশালা, যা এশিয়াটিক সোসাইটি ১৮১৪ সালের ২ ফেব্রুয়ারি নির্মাণ করে। এখানে বিশ্বের বহু নিদর্শন বিদ্যমান।

বিরলা মন্দির : ভারতের সম্ভ্রান্ত বিরলা পরিবার মন্দিরটি নির্মাণ করেন। ১৯৭০ সালে দেবতা কৃষ্ণ এবং রাধাকে উৎসর্গ করে মন্দিরটি নির্মিত। মন্দিরের নির্মাণশৈলী এবং শান্ত পরিবেশ বেশ রোমাঞ্চকর।

কালীঘাট কালী মন্দির : এটি কলকাতার দেবী কালী ভক্তদের মন্দির এবং প্রতিদিন হাজারেরও বেশি ভক্ত, দর্শনার্থী মন্দিরে আসেন।

মার্বেল প্যালেস ম্যানশন : ১৮৩৫ সালে এ প্রাসাদসম ভবনটি রাজা রাজেন্দ্রমল্লিক নির্মাণ করেছিলেন। নির্মাণশৈলী আধুনিকতা এবং প্রাচীন স্থাপত্য ধারার মিশেলে নির্মিত ভবন। এর কাছেই রয়েছে একটি চিড়িয়াখানা, যা মার্বেল প্যালেস চিড়িয়াখানা নামে পরিচিত।

ইডেন গার্ডেন : ইডেন গার্ডেন বিশাল ধারণক্ষমতা সম্পন্ন ক্রিকেট স্টেডিয়াম। এটি ভারতের সবচেয়ে বড় এবং বিশ্বের ৩য় বৃহৎ স্টেডিয়াম। 

সৌজন্যে : বাংলাদেশ প্রতিদিন