শ্রীলংকার আলোর শহর 12/03/2016



শ্রীলংকা দক্ষিন এশিয়ার একটি দ্বীপ রাষ্ট্র। এর সরকারী নাম গনপ্রজাতন্ত্রিক সমাজতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্য়ী শ্রীলঙ্কা। ১৯৭২ সালে আগে এই দ্বীপ সিলন নামেও পরিচিত ছিল। এর রাজধানীর নাম শ্রী জয়াবর্ধনপুর কোট। এর প্রধান শহর কলম্বো। ভারতের দক্ষিন উপকূল হতে ৩১ কিলোমিটার দুরে অবস্থিত। প্রাচীনকাল থেকেই শ্রীলংকা বৌদ্ধধর্মাবম্বলীদের তীর্থস্থান হিসেবে পরিচিত। শ্রীলংকা চা, কফি, নারিকেল, রাবার উত্‍পাদ ও রপ্তানিতে বিখ্যাত। নয়নাভিরাম সৌন্দর্য্য সম্বলিত সমুদ্র সৈকত, সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য শ্রীলংকাকে সারা পৃথিবীর পর্যটকদের কাছে অত্যান্ত আকর্ষনীয় করে তুলেছে।

গরমের দেশ শ্রীলংকাতে প্রশান্তিময় জায়গা হল নুওয়ারা এলিয়া। শীতের আবহাওয়ার এ স্থানটি খুবই সাস্থ্যকর আবহাওয়ার জন্য পরিচিত। এখানকার বিশেষত্ব হল এখানে সারা বছর ধরে শীতের তীব্রতা। কলোম্বোতে যখন তাপমাত্রা ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তখন এখানে তাপমাত্রা কখনো কখনো ৪/১০ ডিগ্রি সিলসিয়াস বিরাজ করে। এখানকার আবহাওয়া, পর্বত উপাতক্যার মনোরম দৃশ্য, ঘাসের মাঠ সমূহ আপনাকে পথে যেতে মুগ্ধ করবে। কলোম্বো থেকে এর দুরত্ব ১৮০ কিলোমিটার। শীতের একটি কারন এটি সমুদ্রতল থেকে অনেক উঁচুতে অবস্থিত। সমুদ্র সমতল থেকে এর উচ্চতা প্রায় ১৯৮০ মিটার পর্যন্ত। পথে যেতে যেতে পাহাড়ী উঁচু-নীচু পথ মুগ্ধ করবে এবং চোঁখে পড়বে চায়ের বাগান। শ্রীলংকান ভাষায় “Nurwara” শব্দের অর্থ হচ্ছে “শহর” আর “Eliya”শব্দের অর্থ হচ্ছে “আলো”। আর তাই Nuwara Eliya শব্দের অর্থ দাড়ায় “আলোর শহর” (City of lights). চারিদিকে যেন আলোর ঝলকানি। নবুয়রা এলিয়া শ্রীলংকার একটি জেলা। এটি আবার লিটল ইংল্যান্ড নামেও পরিচিত।

এখানে বেড়াতে এলে যে জিনিসগুলো  বিশেষভাবে দেখা যেতে পারে তা হচ্ছেঃ
* Haggala Botanical Garden
* Queen Victoria Park
* Horton Palains
* Nuwara Eliya Golf Club
* Galway’s Land Bird Sanctuary
* Gregory Lake

বৃটিশ শাসন আমলে ইংরেজরা একে ইংল্যান্ডের আদলে একটি গ্রাম বানাতে চেয়েছিল। সেই গ্রাম এখন এক শহর। এখানকার পুরাতন ইটের পোস্ট অফিস, ১৮ হোলের গলফ কোর্স, রেস কোর্স ইত্যাদি যেন সেই আমলের ইংল্যান্ডের কথাই পর্যটকদের মনে করিয়ে দেয়।

রাজধানী কলম্বো হতে যেতে যেতে যখনই নুওয়ারা এলিয়াতে পৌছোবেন চোখে পড়বে সারি সারি গাছ,পাহাড়ী ঝর্না ও ছোট ছোট জলপ্রপাত।যে কোন নতুন জায়গায় সবকিছুই আসলে দেখার বিষয় কেননা নতুন জায়গায় গেলে সবকিছুই ভাল লাগে।

# উপমহাদেশের দ্বীপ রাষ্ট্র শ্রীলংকায় যেতে চাইলে প্রয়োজন হয় ভিসার। বাংলাদেশে অবস্থিত দূতাবাস থেকে ভিসা প্রদান করা হয়ে থাকে। কলোম্বো আসার পর বাসে বা ট্রেনে শ্রীলংকার যে কোন জায়গায় যেতে পারবেন। থাকার জন্য সব দামের হোটেল পাবেন। দিনে শেষেও থেকে যায় সৌন্দর্য্যের আলো শ্রীলংকার এই আলোর শহরে। ঘুরতে যাওয়ার তালিকায় এবার না হয় আলোর শহরটাকে অন্তর্ভূক্ত করুন। শুভ হোক আপনাদের যাত্রা। ঘোরাঘুরি টিম থেকে রইলো শুভ কামনা।

সৌজন্যঃ ঘোরাঘুরি ডট কম

 
 

You might like