ভ্রমণের টুকিটাকি 08/03/2016



পৃথিবীর অধিকাংশ মানুষের প্রিয় শখ ভ্রমণ করা। ভ্রমণে মানুষ বাস্তব জ্ঞান অর্জনের পাশাপাশি সৃষ্টির সৌন্দর্য দেখতে পান। সৌন্দর্য আবিষ্কারের অর্থই হলো ভালোবাসাকে ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে দেখা। আপনি যেখানেই ঘুরতে বা বেড়াতে যান না কেন, সেখানে কোনো কিছুর অপূর্ণতা আপনাকে দারুণ কিছু থেকে বঞ্চিত করবে হয়তো। তাই ভ্রমণের আগে ও ভ্রমণের সময় কিছু প্রয়োজনীয় বিষয় আপনাকে সাহায্য করতে পারে। 
 

১. পরিকল্পনা : কোনো কাজের সঠিক পরিকল্পনা ওই কাজের অর্ধেক সফল করে। অনেক সময় আমরা হঠাৎ করেই ভ্রমণের জন্য বেরিয়ে পড়ি। কিন্তু এভাবে বেরিয়ে পড়লে অনেক কিছু নেয়া বাদ থেকে যেতে পারে। তাই পরিকল্পনা করা আবশ্যক। 

২. স্থান ও সময়জ্ঞান : যে স্থানে ভ্রমণে যাবেন, সে স্থানের আবহাওয়া, প্রাকৃতিক অবস্থান, যাতায়াতের ব্যবস্থা, খাবার ও খাবারের দাম সম্পর্কে ধারণা। আবাসিক অবস্থা, ওই স্থানের মানুষের মানসিক অবস্থা ইত্যাদি বিষয় সম্পর্কে আপনার আগেই ধারণা নেয়া দরকার।  
ভ্রমণে কতদিন থাকবেন সে অনুসারে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র এবং যাওয়া-আসার সময় হরতাল, অবরোধ, অথবা স্থানীয় কোনো সমস্যা আছে কিনা জেনে নেয়া দরকার। 

৩. ভ্রমণে যেসব জিনিস নিতে ভুলে গেলে চলবে না : প্রথমেই আসে ক্যামেরার কথা। ভ্রমণের ফ্রেমে ফ্রেমে বাঁধা স্মৃতি আপনার বিষণ্ন সময়গুলোকে মধুর করে তুলবে, তাই ক্যামেরা নিতে ভুলবেন না। ঋতু অনুসারে পোশাক, হঠাত্ অসুস্থ হলে প্রয়োজনীয় ওষুধ, যেমন—খাবার স্যালাইন, মেট্রো বা ফ্লাজিল, প্যারাসিটামল, হিস্টাসিন ইত্যাদি, খাবার পানির বোতল, স্যান্ডেল, রাতে ঘুমানোর জন্য আরামদায়ক পোশাক, মোবাইল ফোন ও চার্জার, চশমা, টুথপেস্ট, টুথব্রাশ, শেভ করার সরঞ্জাম এবং আপনাকে সুন্দর ও পরিপূর্ণ করার জন্য যা যা প্রয়োজন তাই সঙ্গে নেবেন। 

৪. ভ্রমণে যে কাজগুলো করবেন না : প্রয়োজনের বেশি অতিরিক্ত খাবার খাবেন না, এতে আপনি অসুস্থ হয়ে যেতে পারেন। তাছাড়া পেটের সমস্যা হতে পারে, তাই বাইরের খাবার খাবেন না। কারণ পর্যটন এলাকায় বাইরের খাবারের ছড়াছড়ি থাকে, তাই একটু সাবধান থাকবেন। স্থানীয় লোকদের সঙ্গে কোনো অবস্থায় যেন আপনার কোনো বিষয়ে সমস্যা তৈরি না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখবেন। পর্যটন এলাকায় নিষিদ্ধ স্থানে বা নিষিদ্ধ কোনো কাজ কোনো অবস্থায়ই করবেন না। অনেক সময় ধরে রোদে বা পানিতে থাকবেন না। প্রয়োজনের অতিরিক্ত জিনিসপত্র সঙ্গে নেবেন না। এতে আপনার লাগেজসংখ্যা বাড়বে এবং বেড়াতে বাধার সৃষ্টি করবে, তাই অতি প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র সঙ্গে নেবেন। 

৫. ভ্রমণে কোনো সমস্যা হলে যা করবেন : ভ্রমণে আপনার কিংবা আপনার সঙ্গীদের যে কোনো সমস্যা সৃষ্টি হলে সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয় প্রশাসন ও স্থানীয় জনগণের সাহায্য নেবেন। 

৬. কোন ঋতু বা কোন সময় কোথায় ভ্রমণ : বাংলাদেশ অপরূপ সৌন্দর্যের এক লীলাভূমি। আপনি যেখানেই যান, কোনো স্থানকে ছোট করে দেখবেন না। সবকিছুর মাঝেও কিছু বিশেষত্ব থাকে। সাধারণত ইংরেজি মাসের জানুয়ারি, ফেব্রুয়ারি ও মার্চে ঘুরে আসতে পারেন বাংলাদেশের চট্টগ্রাম বিভাগের বিভিন্ন পর্যটন স্থানগুলো। এছাড়া যেতে পারেন সুন্দরবন, কুয়াকাটা ইত্যাদি স্থানে। যারা বৃষ্টি ভালোবাসেন, যারা বৃষ্টির ফোঁটায় ফোঁটায় ছন্দ খোঁজেন তারা যেতে পারেন হাওর অঞ্চলে কিংবা সিলেটের শ্রীমঙ্গলে। এছাড়া আপনার সময়-সুযোগ আপনাকে নিয়ে যাবে আপনার যে কোনো প্রিয় স্থানে। 

৭. ভ্রমণ থেকে যা আনবেন : প্রতিটি এলাকাই বিশেষ কিছুর জন্য বিখ্যাত, যেমন—বগুড়ায় দই, কুমিল্লায় রসমালাই, নাটোরের কাঁচাগোল্লা, নোয়াখালীর নারিকেল-সুপারি, সুন্দরবনের মধু, সিলেটের চা, ঢাকার বাখরখানি, কক্সবাজার-সেন্টমার্টিনের শুঁটকি-শামুক, চাঁদপুরের ইলিশ ইত্যাদি। আসলে সব জেলার বিশেষ কিছু থাকেই। আপনার জন্য কিংবা পরিবার ও প্রিয়জনের জন্য নিয়ে আসতে পারেন পর্যটন এলাকার বিশেষ কিছু। আপনার নিয়ে আসা ছোট্ট একটি উপহার পেয়ে প্রিয় মানুষের হসিমাখা মুখ আপনাকে ভরিয়ে দেবে নিবিড় এক প্রশান্তিতে। 

You might like