প্রকৃতিক সৌন্দর্যে ঘেরা শ্রীভূমি সিলেট 07/08/2016



এমন দেশটি কোথাও খুঁজে পাবে নাকো তুমি সকল দেশের রাণী সে যে আমার জন্মভূমি..... এমন করেই হয়তো গেয়ে উঠবে আপনার মনটা হঠাৎ । কারণ সিলেট তার লাস্যময়ী সৌন্দর্য নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে আপনাকে আলিঙ্গন করতে ।

সিলেটের প্রকৃতিক সৌন্দর্যের বর্ণনা করে শেষ করা যায় না, এই সৌন্দর্য শুধুই উপভোগ করার। তাইতো এর সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে কবি গুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সিলেটকে ‘শ্রীভূমি সিলেট’ নামে আখ্যায়িত করেছিলেন।



সবুজ সুনিবিড় সৌন্দর্য উপভোগ করতে অনেকেই ঈদের ছুটিতে ছুটে আসবেন সিলেটের অনিন্দ্য সুন্দর পর্যটন স্পটগুলোতে। জৈন্তিয়া পাহাড়ের অপরূপ দৃশ্য, জাফলংয়ের মনোমুগ্ধকর সৌন্দর্য, রাতারগুলের জলারবন, পানতুমাইয়ের ঝরণাধারা, বিছনাকান্দির স্বচ্ছ জলের হাতছানি, লোভাছড়ার মন মাতানো সৌন্দর্য আর সারি সারি পাথরের স্তূপ পর্যটকদের টেনে আনে বার বার।

পর্যটকদের সুবিধার জন্য কয়েটি পর্যটন এলাকার পরিচয় ও ভ্রমণপথ তুলে ধরা হলো-

একমাত্র জলারবন রাতারগুল : সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার ফতেহপুর ইউনিয়নে অবস্থিত বাংলাদেশের একমাত্র জলারবন (সোয়াম্প ফরেস্ট) রাতারগুল। চারদিকে নদী ও হাওর বেষ্টিত এ বনের বেশির ভাগ এলাকাজুড়ে রয়েছে প্রাকৃতিকভাবে বেড়ে ওঠা হিজল-করচ গাছ। ৪ থেকে ফুট পানির মধ্যে ভাসা এই জলারবন দেখলে যে কারো ভালো লাগার কথা। ‘সিলেটের সুন্দরবন’ খ্যাত প্রায় ৩৩১ একর আয়তনের রাতারগুল বনে বর্ষাকালে পর্যটকদের ভিড় ব্যাপকভাবে লক্ষ করা যায়।

যেভাবে যাবেন : সিলেট থেকে রাতারগুলের দূরত্ব মাত্র ৩০ কিলোমিটার। শহর থেকে সরাসরি কোনো যানবাহন নেই। তবে শহর থেকে সিএনজি অটোরিকশা কিংবা মাইক্রোবাস নিয়ে যেতে পারেন সেখানে। ভাড়া পড়বে ৭০০ থেকে ১ হাজার টাকা। 



বিছানাকান্দি : ওপারে ভারত আর এপারে বাংলাদেশের বিছনাকান্দি। ভারত থেকে প্রবল বেগে শীতল জলস্রোত ধেয়ে আসছে বাংলাদেশের দিকে, মিশে যাচ্ছে বিছনাকান্দির রূপবতী নদীতে। স্রোতেরা বয়ে যাচ্ছে ছোট-বড় অসংখ্য পাথর পেরিয়ে। সেই পাথরে মাথা রেখে শীতল জলে গা ডুবিয়ে-ভাসিয়ে শুয়ে থাকছে মানুষ, ভাসিয়ে দিচ্ছে যাপিত জীবনের চিরায়ত ক্লান্তি- এটি বিছনাকান্দির এক নৈমিত্তিক দৃশ্য।

কোথা থেকে এই স্বচ্ছ শীতল জলের উৎপত্তি, তা দেখার উপায় নেই মোটেই। ওপাশেই যে ভারত, সীমারেখায় বিচ্ছিন্ন হয়ে থাকা ভিন্ন জনপদ! এপাশে বিজিবি’র সশস্ত্র আনাগোনা আর ওপাশে বিএসএফের সতর্ক চোখ। সীমানা পেরোলেই গর্জে উঠতে পারে রাইফেল! তাই অনেকটা স্বাধীন আর অনেকটা সীমাবদ্ধ অবস্থানে থেকে গিলে খেতে হয় বিছনাকান্দির অপার সৌন্দর্যকে। পাথুরে জলে নিজেকে সঁপে দেয়া আপনাকে দেবে এক ভিন্ন প্রশান্তি, নিয়ে যাবে এক অপার্থিব জগতে। মেঘলা দিনে বিছনাকান্দি গেলে দেখা পেতে পারেন পাহাড়ের গায়ে ভেসে থাকা মেঘমালা। 

সুন্দরের ছড়িয়ে থাকাটা অবশ্য বিছনাকান্দির পথে পথে। সড়কপথের দু’পাশে চা বাগান, নদী, অবারিত সবুজ মাঠ আর ছোটখাটো বনাঞ্চল দৃষ্টিকে দেবে অন্যরকম সুখ। সড়কপথ ফুরিয়ে যখন নৌকায় চাপবেন, তারপরই মনে হবে- ‘একি! ঘরের দুয়ারে এমন জায়গাও আছে !



সরু নদীর দুপাশে পাথরের সাম্রাজ্য আর সবুজের গালিচা পেছনে রেখে যতোই সামনে এগোবেন, ততোই আপনার চোখের সামনে উন্মুক্ত হতে থাকবে ওপারের বিশাল সব মেঘে ঢাকা পাহাড়, যেনো কোনো শিল্পীর আঁকা বিশাল ক্যানভাস কেউ বসিয়ে দিয়েছে যত্ন করে! এভাবেই মুগ্ধ বিস্ময়ের ঘোর না কাটতেই নৌকা আপনাকে নামিয়ে দেবে বিছনাকান্দিও শেষ অথচ কাঙ্ক্ষিত সেই সুন্দরের কেন্দ্রে। ইচ্ছে হলেই পাথুরে জল ভেঙ্গে ছুটে যেতে পারেন সে সুন্দরের দিকে আর নিজেকে ভাসিয়ে দিতে পারেন আপাদমস্তক, তবে ইচ্ছে হলেই ফিরতে পারবেন না হয়তো!

নৌকা করে হাদারপাড় থেকে বিছনাকান্দি যেতে পড়বে এমন সুন্দর খাল যাদের এখনো দুই পা ফেলে দেখা হয়নি মায়াময় বিছনাকান্দি, তারা এই না ফেরার ঝুঁকিটা নিয়েই ফেলুন! 

যেভাবে যাবেন : সিলেট থেকে বিমানবন্দর সড়ক ধরে তারপর সালুটিকর মোড় ঘুড়ে সব মিলিয়ে দেড় ঘণ্টার পথ পাড়ি দিলেই বিছানকান্দি চলে যাওয়া য়ায়। সালুটিকর থেকে সরু সড়কপথে প্রায় বিশ কিলোমিটার পাড়ি দিয়ে হাদারপাড়া বাজাওে থেমে যায় গাড়ি। বাকিপথ হেঁটে অথবা নৌকায় যেতে হয়। এই পথ মাত্র দুই কিলোমিটার। এর পরেই পাথুরে পথ মারিয়ে যেতে হয় বিছানাকান্দি। ভাড়া সিএনজি অটোরিকশায় চারশ’ থেকে সাতশ’ টাকা। 

জাফলং : সুদৃশ্য পাহাড় চুড়া, স্বচ্ছ জলরশি আর নানান রঙের নুড়ি পাথরের এক অপূর্ব সমন্বয় সিলেটের জাফলং। নগর সভ্যতার যান্ত্রিক কোলাহল ছেড়ে জীবন এখানে এসে মাথা লুকোয় একটু শান্তির খোঁজে। প্রকৃতির মায়াবী পরশে আনন্দে নেচে ওঠে মন। তাই ঈদের ছুটিকে পরিপূর্ণ করে তুলতে যে কেউ আসতে পারেন পাহাড়, পানি ও পাথরভরা রূপকথার রাজ্য জাফলংয়ে।

সিলেট স্পেশাল ভ্রমণ প্যাকেজ (৩ রাত/ ৩ দিন)
প্যাকেজ মূল্য ৬,৮০০ টাকা জন প্রতি (১ রুমে ২/৩ জন)
গ্রুপ ট্যুর: ২৪শে আগস্ট থেকে ২৭ শে আগস্ট ২০১৬ইং
বুকিং হটলাইন:
০১৮১১৪৮০৮৩৩  ০১৮১১৪৮০৮৩২, 
ভ্রমনের সময়কাল: ৩ রাত/ ৩ দিন
২৪ আগস্ট – রাত ১২টায় নন এসি বাসে ঢাকা থেকে সিলেট এর উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু ।
২৫ আগস্ট- ভোরে আমরা সিলেট পৌঁছে সকালের নাস্তা করবো । তারপর সিলেটের অত্যন্ত মনোরম পরিবেশে অবস্হিত হোটেলে গিয়ে উঠবো (রিফ্রেশমেন্টের জন্য ২টা রুম থাকবে) । 
সকাল ৮ টায় নাস্তা সেরে নিয়ে আমরা জাফলং এর উদ্দেশ্যে রওনা দেব । ২.০০ টায় হোটেলে ফিরবো । দুপুরের খাবার খেয়ে ৪টায় আমরা হোটেল ত্যাগ করবো দরগা শরীফ এর উদ্দেশ্যে। হোটেলেই রাত্রিযাপন করবো ।
২৬ আগস্ট- ভোর ৬.৩০ শে আমরা যাবো বাংলাদেশের অত্যন্ত চমৎকার জায়গা বিছানাকান্দি যেখানে বিছানো আছে সারি সারি পাথরের বিছানা । পাথরের রাজত্ব থেকে বের হয়ে তারপর আমরা রওনা করবো বাংলাদেশের অন্যতম ব্যাকওয়াটার রাতারগুল এবং বাংলাদেশের সবচেয়ে চমৎকার গ্রাম পানতুমাই এর উদ্দেশ্যে । বর্ষাকাল রাতারগুল এবং পানতুমাই ভ্রমণের উপযুক্ত সময় । রাতারগুল থেকে ফিরে হোটেলে রাত্রি যাপন করবো ।
২৭ আগস্ট- সকালের নাস্তা সেরে আপনারা কিছুটা ফ্রি সময় পাবেন শপিং করার জন্য ।১১টার মধ্যেই আমরা হোটেলে ফিরে আসবো ।দুপুর ১২ টায় আমরা হোটেল থেকে বেরিয়ে পড়বো ।দুপুরের খাবার খেয়ে বাসে উঠে পড়বো । রাতেই আমরা ঢাকায় এসে পৌছাবো ।
প্যাকেজের অন্তর্ভুক্ত:
* ঢাকা-সিলেট-ঢাকা নন এসি বাস টিকেট 
* ৩টি সকালের নাস্তা, ২টি দুপুরের খাবার, ২টি রাতের খাবার 
* এসি হোটেল ( হোটেল সুপ্রীম/ব্রিটানীয়া হোটেল)
* এসি প্রাইভেট ট্রান্সপোর্টে সাইটসিয়ীইং 
* গাইড সার্ভিস
দর্শনীয় স্থান: 
বিছানাকান্দি, রাতারগুল, পানতুমাই, দরগা শরীফ, জাফলং এবং আশেপাশের দর্শনীয় স্থান সমূহ। 
======বুকিং পলিসি======
আমাদের এখানে আপনি ২ ভাবে বুকিং দিতে পারবেন ।
বুকিং কনফার্ম করতে জনপ্রতি ন্যুনতম ৩,৫০০ টাকা জমা দিতে হবে নিম্নোক্ত ব্র্যাক ব্যাংক একাউন্ট অথবা বিকাশ এঃ
ব্রাক ব্যাংক:
Brac Bank Account Name : Tour.com.bd
Brac Bank Account Number : 1512203027806001
বিকাশ নাম্বার: ০১৮১১৪৮০৮২৬ (Personal)
টাকা জমা দেয়ার পর অবশ্যই নিচের নাম্বারে যোগাযোগ করে আপনার নাম, মোবাইল নাম্বার জানিয়ে দেবেন।
======শিশু পলিসি======
০-৩ বছর কোন খরচ লাগবে না (বাবা মায়ের সাথে থাকবে, বাবা মায়ের সাথে খাবে)
======কাপল পলিসি=======
কাপলদের জন্য আলাদা রুম দেয়া হবে ।


প্রকৃতি কন্যা হিসেবে সারা দেশে এক নামে পরিচিত সিলেটের জাফলং। খাসিয়া জৈন্তা পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত জাফলং প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অপরূপ লীলাভূমি। পিয়াইন নদীর তীরে স্তরে স্তরে বিছানো পাথরের স্তুপ জাফলংকে করেছে আকর্ষণীয়।

সীমান্তের ওপারে ভারতীয় পাহাড়-টিলা, ডাউকি পাহাড় থেকে অবিরাম ধারায় প্রবহমান জলপ্রপাত, ঝুলন্ত ডাউকি ব্রিজ, পিয়াইন নদীর স্বচ্ছ হিমেল পানি, উঁচু পাহাড়ের গহীন অরণ্য ও প্রকৃতির শুনশান নীরবতা পর্যটকদের দারুণভাবে মোহাবিষ্ট করে। তাই যান্ত্রিক সভ্যতার সকল ব্যস্ততা ভুলে গিয়ে কিছুটা সময়ের জন্য হলেও প্রকৃতির কাছে নিজেকে সঁপে দিতে প্রতিদিনই দেশি-বিদেশি হাজারো পর্যটক ছুটে আসেন প্রকৃতিকন্যা জাফলংয়ে।



প্রকৃতি কন্যা ছাড়াও বিউটি স্পট, পিকনিক স্পট, সৌন্দর্যের রানিসহ বাহারী নামে পর্যটকদের কাছে পরিচিত জাফলং। ভ্রমণ পিয়াসীদের কাছে জাফলংয়ের আকর্ষণ যেন সম্পূর্ণ আলাদা। তাই সিলেট ভ্রমণে আসলে জাফলং না গেলে ভ্রমণই যেন অপূর্ণ থেকে যায়। 

যেভাবে যাবেন : সিলেট কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল (কদমতলি) থেকে বাস/মাইক্রোবাস/অথবা ধোপাদিঘীরপাড় ওসমানী শিশু উদ্যানের সামনে থেকে সিএনজি চালিত অটোরিকশা/হিউম্যান হলারে (লেগুনা) যেতে পারেন জাফলং। সময় লাগবে দেড় থেকে ২ ঘণ্টা। ভাড়া ৬০ টাকা। মাইক্রোবাস-২ হাজার টাকা থেকে ২ হাজার ৪০০ টাকা। সিএনজি অটোরিকশা ১০০০ টাকা। 

যেখানে থাকবেন : জাফলংয়ে থাকার তেমন সুব্যবস্থা নেই। উল্লেখ করার মধ্যে রয়েছে নলজুরী এলাকায় জেলা পরিষদের সরকারি রেস্ট হাউস (পূর্ব অনুমতি নিতে হবে), শ্রীপুর পিকনিক স্পট, শ্রীপুর বাংলো। এছাড়া জাফলংয়ে থাকার জন্য ব্যক্তি মালিকানাধীন সাধারণ মানের স্থানীয় কয়েকটি হোটেল রয়েছে। তবে সিলেট শহরে এসে থাকা যাবে ভালোমানের হোটেলে।

লালাখাল : জাফলং যাওয়ার পথে জৈন্তাপুর উপজেলার সারিঘাটের কাছেই অবস্থিত লালাখাল। নির্জন মনকাড়া লালাখালের স্বচ্ছ নীল জলরাশি আর দুই ধারের অপরূপ সৌন্দর্য, দীর্ঘ নৌ-পথ ভ্রমণের সাধ যেকোনো পর্যটকের কাছে এক দুলর্ভ আকর্ষণ। 

ভারতের চেরাপুঞ্জির ঠিক নিচে লালাখালের অবস্থান। চেরাপুঞ্জি থেকে এ নদী বাংলাদেশে প্রবাহিত। এবার ঈদে লালাখালে ভিড় থাকবে পর্যটকের। 

যেভাবে যাবেন : সিলেট শহর থেকে লালাখালের দূরত্ব ৩৫ কিলোমিটার। অনেক ভাবেই যাওয়া যায়। শহর থেকে বাস, টেম্পু মাইক্রোযোগে পৌঁছা যায়। এছাড়া সারিঘাট থেকে ভারতের  চেরাপুঞ্জি পাহাড় থেকে উৎপন্ন হওয়া সারি নদীর স্বচ্ছ নীল  জলরাশির উপর দিয়ে নৌকা অথবা স্পিডবোটে করেও যেতে পারেন লালাখাল।

পানতুমাই : বাংলাদেশের কোল ঘেঁষে প্রতিবেশী ভারতের মেঘালয়ের গহীন অরণ্যের কোলে বাংলাদেশ পানে নেমেছে অপরূপ এক ঝরণাধারা। সুউচ্চ পাহাড় থেকে নেমে আসছে জলরাশি। সফেদ জলধারা লেপ্টে আছে সবুজ পাহাড়ের গায়ে। দেখলে মনে হবে সবুজের বুকে কেউ হয়তো বিছিয়ে রেখেছে সাদা শাড়ি। 
ভারতের মেঘালয় পাহাড় থেকে নেমে আসা এই ঝরণাধারাটি স্থানীয়ভাবে মায়ামতি ও ফাটাছড়া ঝরণা হিসেবে পরিচিত। আর পর্যটকদের কাছে জলপ্রপাতটির পরিচিতি ‘পাংথুমাই ঝরনা’ নামে। 

যেভাবে যাবেন : সিলেট শহর থেকে পাংথুমাইয়ের দূরত্ব প্রায় ৪৫ কিলোমিটার। সিলেট শহর থেকে মাইক্রোবাস বা সিএনজি অটোরিকশা যোগে যাওয়া যাবে পাংথুমাইয়ে। শহরের আম্বরখানা থেকে অটোরিকশা নিয়ে সরাসরি যাওয়া যাবে পাংথুমাই। 

এছাড়া নগরীর যে কোনো স্ট্যান্ড থেকে মাইক্রোবাস নিয়েও যাওয়া যাবে পাংথুমাইয়ে।  নগরীর আম্বরখানা থেকে সালুটিকর বাজার, সালুটিকর বাজার থেকে গোয়াইনঘাট সড়ক দিয়ে গোয়াইনঘাট ডিগ্রি কলেজের পূর্বপাশের আহারকান্দি রাস্তা দিয়ে সোজা যাওয়া যাবে পাংথুমাই।

লোভাছড়া : সীমান্তের বড় বড় পাহাড় ছুঁয়ে নেমেছে ঝরণা। চারদিকে সবুজ বেষ্টিত চা বাগান, সারি সারি গাছ, পাহাড় আর বালু সমৃদ্ধ স্বচ্ছ পানির বহমান নদী। অনেকটা লোকচক্ষুর আড়ালে প্রাকৃতিক নৈসর্গের আরেক রূপ। নাম ‘লোভাছড়া’। সিলেটের সীমান্তবর্তী কানাইঘাট উপজেলায় অবস্থিত মনোমুগ্ধকর অপূর্ব এই সৃষ্টি। প্রকৃতি যেখানে তার সৌন্দর্যের মোহ ছড়ায়! রাঙ্গামাটির মতোই একটি ঝুলন্ত ব্রিজ রয়েছে এই লোভাছড়ায়। ব্রিজটি নির্মিত হয় ১৯২৫ সালের এপ্রিল মাসে। 

যেভাবে যাবেন :  দেশের যেকোনে জায়গা থেকেই সিলেট এসে বাসে করে ৬০ টাকা দিয়ে যাওয়া যাবে কানাইঘাট। অথবা সিলেট থেকে সিএনজি রিজার্ভ করেও যাওয়া যাবে। এক্ষেত্রে ভাড়া নেবে ছয়শ’ টাকার মতো। কানাইঘাট থেকে নৌকা করে লোভাছড়ায় যেতে জনপ্রতি ভাড়া নেবে ৩০-৪০ টাকা করে।

মালনীছড়া চা বাগান : ওপরে বড় বড় ছায়া বৃক্ষ। নিচে আধো আলো আধো ছায়ায় দুটি পাতা একটি কুঁড়ির সবুজ চাদর। যেন শৈল্পিক কারুকাজ। সিলেটের চা-বাগানের এ প্রাকৃতিক দৃশ্য পর্যটকের মন ছুঁয়ে যায়।
১৫০০ একর জায়গার ওপর অবস্থিত উপমহাদেশের প্রথম চা বাগান মালনীছড়ায় পর্যটকদের কাছে আরেক বিস্ময়। সিলেটের চায়ের রঙ, স্বাদ এবং সুবাস অতুলনীয়। বর্তমানে বেসরকারি তত্ত্বাবধানে চা বাগান পরিচালিত হয়ে আসছে। 

চা বাগানের পাশাপাশি বর্তমানে এখানে কমলা ও রাবারের চাষ করা হয়। এই বাগানের পাশেই বিশ্বের অন্যতম সুন্দর স্টেডিয়াম। যেখানে ২০১৪ সালের বিশ্ব টি-২০ খেলা অনুষ্ঠিত হয়।

মালনীছড়া চা বাগান ছাড়াও সিলেটে লাক্কাতুরা চা বাগান, আলী বাহার চা বাগান, খাদিম আহমদ টি স্টেট, লালাখান টি স্টেট, বরজান টি স্টেট উল্লেখযোগ্য। 

যেভাবে যাবেন : মালনীছড়া এবং লাক্ষতুরা চা বাগান দুটোই সিলেট শহরের উপকণ্ঠে অবস্থিত। শহরের কেন্দ্রস্থল জিন্দাবাজার পয়েন্ট থেকে যে কোনো গাড়ি দিয়ে মাত্র ১৫ মিনিটে যাওয়া যায় চা বাগান দু’টিতে।


ঐহিত্য আর পবিত্র স্থানসমূহ : এছাড়াও সিলেটের শাহজালাল (র.) এবং শাহপরান (র.) এর মাজার এবং নাজিমগড় রিসোর্ট, জাকারিয়া সিটি, সিলেট নগরীর শেখ ঘাটে ঐতিহ্যবাহী জিতু মিয়ার বাড়ি, ঐতিহ্যবাহী ক্বিন ব্রিজ, টিলাগড়ে অবস্থিত এমসি কলেজসহ অন্যান্য পর্যটন কেন্দ্রও ঘুরে দেখতে পারেন। তাই ঈদের ছুটিতে এবার না হয় চলুন সিলেটে।

আমাদের সিলেট প্যাকেজটা দেখতে লিঙ্ক এ ক্লিক করুন ।

https://www.facebook.com/events/1096385697109006/?active_tab=posts